নামাজের আগে বার বার ওযু ভেঙ্গে গেলে কী করব?

Salah-Prayer · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 662
Questioner: BlueFf 22
Question Asked: 24 May 2026, 01:24 PM
Reviewed & Published: 24 May 2026, 03:29 PM
Views: 34
Tokens: 2,231
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম, নামাজে যাওয়ার আগে বার বার অযু ভেংগে যায়। করনিয় কি?

Answer

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

নামাজে যাওয়ার আগে বারবার অযু ভেঙে যাওয়ার সমস্যাটি সাধারণত ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) বা শারীরিক অসুস্থতা (যেমন: প্রস্রাব-পায়খানার বেগ নিয়ন্ত্রণে অক্ষমতা, বাতাস নির্গমন ইত্যাদি) কারণে হতে পারে। নিচে উভয় অবস্থার সমাধান কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে দেওয়া হলো।


১. যদি ওয়াসওয়াসা (সন্দেহ) হয়:

অনেক সময় শয়তান নামাজ থেকে বিরত রাখার জন্য অযু ভাঙার সন্দেহ সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে করণীয়:

  • অযু পুনরায় করবেন না, যতক্ষণ না নিশ্চিত হন যে অযু ভেঙেছে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

    إِذَا وَجَدَ أَحَدُكُمْ فِي بَطْنِهِ شَيْئًا فَأَشْكَلَ عَلَيْهِ أَخَرَجَ مِنْهُ شَيْءٌ أَمْ لَا فَلَا يَخْرُجَنَّ مِنَ الْمَسْجِدِ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا
    “তোমাদের কেউ যদি নিজের পেটে কিছু অনুভব করে এবং তার সন্দেহ হয় যে, তা থেকে কিছু বের হয়েছে কি না, তবে সে যেন মসজিদ থেকে বের না হয়, যতক্ষণ না সে শব্দ শুনে অথবা গন্ধ পায়।”
    (সহিহ মুসলিম: ৩৬২)

  • নামাজ শুরু করুন এবং ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন। শয়তানকে তিরস্কার করে বলুন: أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (আমি শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)।

  • শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন:

    ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তি যদি নিশ্চিত না হয় যে তার অযু ভেঙেছে, তবে সে যেন অযু না করে। কারণ মূলনীতি হলো অযু অক্ষুণ্ণ থাকা, যতক্ষণ না নিশ্চিতভাবে বিপরীত প্রমাণিত হয়।”
    (মাজমূ‘ ফাতাওয়া: ২১/২২২)

  • আর যদি রোগের কারণে বারে বারে অযু ভেঙে যায় (যেমন: প্রস্রাব অনিয়ন্ত্রিত হওয়া), তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য আলাদা অযু করবেন এবং এক অযু দিয়ে একাধিক ফরজ নামাজ পড়বেন না। তবে নফল নামাজ পড়তে পারবেন।


২. যদি শারীরিক অসুস্থতা (যেমন: বাতাস বা পেশাবের অনিয়ন্ত্রণ) হয়:

  • প্রত্যেক ফরজ নামাজের সময় শুরু হলে অযু করবেন এবং সেই অযু দিয়ে শুধু ফরজ নামাজ আদায় করবেন। নামাজের ভেতর যদি কিছু বের হয়, তাতে নামাজ নষ্ট হবে না, কারণ এটি মাজুর (অক্ষম) ব্যক্তির জন্য ক্ষমার যোগ্য।

    আল্লাহ বলেন: فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ
    “সুতরাং তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় কর।” (সূরা আত-তাগাবুন: ১৬)

  • শাইখ ইবন বায (রহ.) বলেন:

    “যে ব্যক্তির অযু অনবরত ভেঙে যায় (যেমন: বায়ু নির্গমন, প্রস্রাব ফোঁটা), সে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য অযু করবে এবং এক অযু দিয়ে একাধিক ফরজ নামাজ পড়বে না। তবে ঐ অযু দিয়ে নফল পড়তে পারবে।”
    (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবন বায: ১০/১৫৫)

  • শাইখ আলবানী (রহ.) উল্লেখ করেন:

    “যদি কোনো ব্যক্তি বারে বারে অযু ভাঙার অসুস্থতায় ভোগে, তবে তার জন্য ওজর (অক্ষমতা) গণ্য হবে। সে নামাজের সময় হলে অযু করবে এবং নামাজ আদায় করবে, যদিও নামাজের ভেতর তার থেকে কিছু বের হয়।”
    (সিলসিলা সহিহাহ: ২১৭১)


৩. সাধারণ সতর্কতা ও পরামর্শ:

  • অযথা অযু পুনরায় করবেন না। কারণ অযু ভাঙার ব্যাপারে নিশ্চিত না হলে অযু করা বিদ‘আত বা বাড়াবাড়িতে গণ্য হতে পারে।

    রাসূল (ﷺ) বলেছেন: لَا يَزَالُ الشَّيْطَانُ بِأَحَدِكُمْ حَتَّى يُوقِعَهُ فِي الْوَسْوَسَةِ
    “শয়তান তোমাদের কাউকে ওয়াসওয়াসায় ফেলে দেয়, যতক্ষণ না সে (অযু ভাঙার) সন্দেহে পড়ে।” (সহিহ মুসলিম: ৩৬২)

  • আল্লাহর কাছে দো‘আ করুন ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির জন্য। দো‘আটি পড়ুন:

    اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ

  • চিকিৎসা নিন যদি এটি শারীরিক রোগ হয়ে থাকে।


সারসংক্ষেপ:
• সন্দেহ হলে অযু করবেন না, নামাজ শুরু করুন।
• নিশ্চিত হলে শুধু ফরজ নামাজের জন্য নতুন অযু করুন।
• অসুস্থতার কারণে বারবার ভাঙলে প্রত্যেক ফরজের সময় অযু করে নামাজ পড়ুন, ভেতরে কিছু বের হলেও নামাজ সহিহ হবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও তাওফিকদাতা।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.