তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত মেয়ে কেনায়া বাক্য বললে কি তালাক পতিত হবে? মনে মনে নিয়ত করলে কি সমস্যা হবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6619
Questioner: Fahmina 2777
Question Asked: 09 Oct 2026, 06:16 PM
Reviewed & Published: 09 Oct 2026, 09:00 PM
Views: 15
Tokens: 21,686
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।    হুজুর ১৮ নং ধারার অধিকার পেলে একটা মেয়ে কিভাবে কি বললে সমস্যা হয় সেটা আমি জানি। ( তালাক এর কথা বলতেছি)। আমি এটা মুখে উচ্চারণ ও করতে চাই না। তাই এভাবে বললাম। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমার সাথে আমার হাসবেন্ড এর একটু রাগারাগি হয়েছিল। তখন আমি তাকে ম্যাসেজ দিয়ে বলেছিলাম যে, "আমাকে আর কল দিও না। কল দেয়ার দরকার নাই।". এই কথা ম্যাসেজ এ টাইপ করে লিখেছি কিন্তু মনে মনে অন্য কিছু বলে ফেলেছি। চলে আসছে মাথায় হঠাত করে। মেয়েরা তো দিতে পারে না। নিতে পারে।

১) মেয়েরা যেভাবে নেয়, মানে অধিকার পাওয়া মেয়ে যেভাবে বললে সমস্যা হয়, এমন করেই মনে মনে বলে ফেলেছি। আর তাকে ম্যাসেজ এ বলেছি "আমাকে আর কল দিও না" এখন কি আমার বিবাহিত জীবনে কোন সমস্যা হবে হুজুর? আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে হুজুর? 


২) হুজুর কল দিও না বলার সময় তো মনে মনে অন্য কিছু বলেছি। মেয়েরা যেভাবে নেয় সেভাবে। এখন এটা কি নিয়ত ধরা হবে নাকি? আসলে একটু রাগারাগি হচ্ছিল তখন আমি যখন টাইপ করতেছি তখন ই মনে মনে সেই কথা টা আসছে। সেই কথা আসার সাথে সাথে আমি না না বলছি মনে মনেই।  এখন এটা কি নিয়ত হয়েছে? হলে কি আমার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে?

৩) হুজুর হাসবেন্ড এর সাথে তো রাগ করা ঠিক না। কিন্তু মাঝে মাঝেই তো এভাবে বলি যে, আমাকে আর কল দিও না। সরে যাও তুমি। তোমার সাথে আর থাকবো না। আমি চলে যাবো বাপের বাড়ি। এখন এগুলো বলার সময় যদি কোনো মেয়ের নিতে পারার মত কথা চলে আসে মনে মনে তাহলে কি এগুলা কেনায়া বাক্য হবে? তালাকের অধিকার দেয়া হয়েছে এমন মেয়ে কি কেনায়া বাক্য বলতে পারবে?

৪) আমার আশে পাশে কোনো বিজ্ঞ মুফতি নাই। তাই চ্যাট জিপিটি তে এই প্রশ্ন হুবুহু লিখে উত্তর জানতে চেয়েছি। চ্যাট জিপিটি কে আরো প্রশ্ন করেছি যে," মেয়েরা যদি নেয়ার মত করে বলে"- এভাবে এসব প্রশ্ন করার কারনে মানে শব্দগত কোনো ভুলে হয়ে থাকলে এতে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে??

৫)এখন কেউ যদি শুধু নিয়ত করে তার হাসবেন্ড কে ম্যাসেজ দেয় এসব, যে সে থাকবে না, বাপের বাড়ি চলে যাবে। যদি স্পষ্টভাবে কিছু না বলে, কিন্তু মনে মনে তার নিয়ত আছে,  তাহলে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?

৬) আবার কোনো মেয়ে যদি উপরের এসব কথা বলার সময় "মেয়েরা যেভাবে নেয় " সেই কথাও বলে ফেলে মনে মনে। মানে মুখে বলতেছে বাপের বাড়ি চলে যাবে, আর সাথে সাথে মনে মনে বলতেছে অন্য কিছু। মানে মেয়েরা তো দিতে পারে না। নিতে পারে। তো মনে মনে নিতে পারার মত যদি বলে ফেলে।
এক্ষেত্রে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?

৭) বাপের বাড়ি চলে যাবে, এটা যদি "মনে মনে নিয়ত করে" বলে তাহলে কি বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে অধিকার দেয়া হয়েছে এমন মেয়ের?

৮) উপরের এগুলো প্রশ্ন আমি অনেক গুলা মনে প্রশ্ন এসেছে তাই জানতে চেয়েছি। আমি কি নিয়ত করে কিছু বলেছিলাম কিনা খেয়াল নাই। আর প্রশ্ন করার সময় কোনো নিয়ত চলে আসছিলো কিনা সেটাও এখন মনে করতে পারছি না। এভাবে প্রশ্ন করার কারনে কি আমার বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে? 


৯)
আমাকে একজন মুফতি উত্তর দিয়েছেন যে, 
তাফবিজের ক্ষেত্রে মেয়েকে সরীহ (স্পষ্ট) তালাকের শব্দ ব্যবহার করতে হয়, যেমন: "আমি নিজেকে তালাক দিলাম" বা "আমার তালাক কবুল হলো"। কেনায়া বাক্যে তাফবিজ কার্যকর হয় না — কারণ কেনায়া বাক্যে নিয়ত প্রয়োজন, আর তাফবিজে নিয়তের সাথে স্পষ্ট শব্দও প্রয়োজন।

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে: "তাফবিজে তালাকের ক্ষেত্রে স্ত্রী সরীহ শব্দ ব্যবহার করবে, কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হবে না।" (খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

সিদ্ধান্ত: আপনি যদি তালাকের অধিকারপ্রাপ্তও হন, তবুও "সরে যাও", "থাকব না" — এসব কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হবে না, যদি না আপনি স্পষ্টভাবে তালাকের নিয়ত করেন এবং সরীহ শব্দ উচ্চারণ করেন।
ফাতাওয়া আলমগিরিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে:

"وَلَوْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: طَلِّقِي نَفْسَكِ، فَطَلَّقَتْ نَفْسَهَا بِكِنَايَةٍ لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ، وَإِنْ نَوَتْ، لِأَنَّ التَّفْوِيضَ يَحْتَاجُ إِلَى صَرِيحٍ مَعَ النِّيَّةِ" "যদি স্বামী স্ত্রীকে বলে 'তুমি নিজেকে তালাক দাও', আর স্ত্রী কেনায়া শব্দে নিজেকে তালাক দেয়, তবে নিয়ত করলেও তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে নিয়তের সাথে সরীহ শব্দও প্রয়োজন।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

রাদ্দুল মুহতারে ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"التَّفْوِيضُ لَا يَصِحُّ بِالْكِنَايَةِ وَإِنْ نَوَتْ، بَلْ لَا بُدَّ مِنَ الصَّرِيحِ" "তাফবিজ কেনায়া শব্দে শুদ্ধ হয় না, যদিও নিয়ত করে; বরং সরীহ শব্দ অপরিহার্য।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮)
উপসংহার: মুখে কেনায়া বাক্য এবং মনে মনে তালাকের নিয়ত—উভয় থাকলেও তালাক পতিত হবে না। কারণ তাফবিজে সরীহ শব্দ উচ্চারণ করা আবশ্যক

এই ফতোয়ার উপর কি আমল করা যাবে?


১০) 
আমার মনে মনে নানান শর্ত আসতেছে। মানে কোনো একটা কাজের শর্ত। সাথে নিতে পারার শর্ত। এখন ধরেন আপনার মনে মনে একটা শর্ত আসলো যে, আপনি আজকে ভাত খেলে আপনার বউ ওটা। বুঝে নিয়েন। মাফ করে দিয়েন। এভাবে উদাহরণ ছাড়া আর বুঝানোর উপায় নাই।

এখন কি আপনি ভাত খাবেন না হুজুর?

আমার ক্ষেত্রেও সেইম ভাবে নানান শর্ত আসতেছে। এখন আমি কি ভাত খাবো না? ভাত খেলে কি কোনো সমস্যা হবে? 
---মানে অধিকার পেয়েছে এমন মেয়ে কোনো কাজের সাথে যদি নিতে পারার মত শর্ত চলে আসে তাহলে সেই কাজ করলে কি কোনো সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?----

১১) আমার একটু রাগ উঠলেই অনেক কিছু চলে আসে মনে মনে। কিন্তু আমি মুখে বলি না। ধরেন আমার রাগ উঠছে কোনো কারনে আমার হাসবেন্ড এর উপর। রাগ করে ম্যাসেজ সব ডিলিট করে দিয়েছি। তখন মনে মনে আমার ১৮ নং ধারার কথা মনে হয়ে যায়। মানে আমাকে তো অধিকার দেয়া হয়েছে। এখন একটা মেয়ে যেভাবে অধিকার নেয়, সেই কথা মনে মনে বলে আমি সব ডিলিট দেই। তাকে কিছু বলি না। এটা কি কেনায়ার মত কিছু? এখন আমি যে মেয়েরা যেভাবে নেয় সেভাবে মনে মনে বলে সব ম্যাসেজ ডিলিট করে দিলাম এই জন্য কি আমার বিবাহিত জীবনে কোনো সমস্যা হবে?



১২) আমি এখন জানতে চাচ্ছি অধিকার পেয়েছে

এমন মেয়ে কি কিনায়া বাক্য বলতে পারবে? আর নিয়ত নিয়ে কেনায়া বাক্য বললে কি বিবাহিত জীবনে সমস্যা হবে? 

নাকি এসব কিনায়া, নিয়ত নিয়ে বলা সত্তেও মেয়ে কে  স্পষ্টভাবে বলতে হবে?  কিনায়া, নিয়ত থাকলেও কি কেবল স্পষ্টভাবে মুখে উচ্চারণ করে বললেই সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে? নাকি মুখে স্পষ্ট ভাবে উচ্চারণ জরুরি নয় কেবল নিয়ত নিয়ে কেনায়া বাক্য বললেই সমস্যা হবে বিবাহিত জীবনে?

১৩) আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে? আমি সংক্ষেপে বলি ১-৩ যা হয়েছে আমি সেটা আপনাদের বলেছি। আর ৪-৭ আমি জানার জন্য প্রশ্ন করেছি। এসব আমি কিছু বলিনি এখনো নিয়ত করে। 
৮,৯,১০,১১ যা করেছি সেটাই লিখেছি। এখন আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে? 


১৩ টা প্রশ্ন একটু আলাদা আলাদা উত্তর দিবেন হুজুর। পয়েন্ট করে।

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নগুলো খুবই সূক্ষ্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী শরীয়তে তালাকের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আপনার প্রশান্তির জন্য প্রথমেই একটি মূলনীতি মনে রাখবেন: তালাক পতিত হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত ও স্পষ্ট শব্দ বা নিয়ত প্রয়োজন। শুধু মনে মনে ভয় পাওয়া, ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) বা সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হয় না।

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর ধাপে ধাপে দিচ্ছি:


১) "আমাকে আর কল দিও না" — এতে কি বিবাহিত জীবনে সমস্যা হবে?

উত্তর: না, এতে কোনো সমস্যা হবে না। "আমাকে আর কল দিও না" বা "কল দেওয়ার দরকার নাই" — এগুলো তালাকের কোনো শব্দই নয়। এটি সাধারণ কথা। তালাক পতিত হয় না। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে। আপনি যদি তালাকের নিয়তও না করে থাকেন, তাহলে তো কোনো প্রশ্নই নেই। আর যদি মনে মনে অন্য কিছু বলে ফেলেনও, কিন্তু মুখে তালাকের স্পষ্ট শব্দ না বলেন, তাহলে তালাক পতিত হয় না।

২) মনে মনে অন্য কিছু বলা কি নিয়ত হিসেবে ধরা হবে?

উত্তর: না, শুধু মনে মনে ভাবা বা ওয়াসওয়াসা নিয়ত হিসেবে ধরা হয় না। নিয়ত হলো দৃঢ় সংকল্প। আপনি যখন "না না" বলছেন মনে মনে, তখন তো আপনি সেটা চানই না। তাই এটি নিয়ত নয়। তালাক পতিত হয় না। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

৩) "সরে যাও", "তোমার সাথে আর থাকবো না", "বাপের বাড়ি চলে যাবো" — এগুলো কি কেনায়া বাক্য? তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত মেয়ে কি এগুলো বলতে পারবে?

উত্তর: হ্যাঁ, এগুলো কেনায়া বাক্য। তবে তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত (তাফবিজ) মেয়ের ক্ষেত্রে কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হয় না। তাফবিজে তালাক পতিত হওয়ার জন্য সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ যেমন "আমি নিজেকে তালাক দিলাম" বা "আমার তালাক কবুল হলো" — এগুলো বলা আবশ্যক। শুধু "সরে যাও", "থাকব না" — এগুলোতে তালাক পতিত হয় না, এমনকি নিয়ত করলেও না। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮)

৪) চ্যাট জিপিটি-তে প্রশ্ন করার কারণে কি কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর: না, চ্যাট জিপিটি-তে প্রশ্ন করা বা ভুল শব্দ ব্যবহার করার কারণে তালাক পতিত হয় না। তালাক পতিত হয় শুধু স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ বা নির্দিষ্ট নিয়তের মাধ্যমে। আপনার প্রশ্ন করার কারণে কোনো সমস্যা হবে না।

৫) শুধু নিয়ত করে মেসেজ দেওয়া, স্পষ্ট কিছু না বলা — এতে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, শুধু নিয়ত করে মেসেজ দেওয়া বা মনে মনে ভাবা — এতে তালাক পতিত হয় না। তালাকের জন্য স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ আবশ্যক। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

৬) মুখে "বাপের বাড়ি চলে যাবো" বলা এবং মনে মনে "মেয়েরা যেভাবে নেয়" সেভাবে বলা — এতে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, এতে কোনো সমস্যা হবে না। কারণ তাফবিজে কেনায়া বাক্য (যেমন "বাপের বাড়ি চলে যাবো") দ্বারা তালাক পতিত হয় না, এমনকি নিয়ত করলেও না। আর মনে মনে যা আসে, সেটা ওয়াসওয়াসা। তালাক পতিত হয় না।

৭) "বাপের বাড়ি চলে যাবে" — মনে মনে নিয়ত করলে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত মেয়ে যদি "বাপের বাড়ি চলে যাবো" বলে এবং মনে মনে তালাকের নিয়তও করে, তবুও তালাক পতিত হবে না। কারণ এটি কেনায়া বাক্য, আর তাফবিজে কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হয় না। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩)

৮) প্রশ্ন করার সময় নিয়ত চলে আসলে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, প্রশ্ন করার সময় নিয়ত চলে আসা বা না আসা — এতে তালাক পতিত হয় না। তালাক পতিত হয় শুধু স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ বা নির্দিষ্ট নিয়তের মাধ্যমে। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

৯) মুফতির দেওয়া ফতোয়ার উপর আমল করা যাবে?

উত্তর: হ্যাঁ, সেই ফতোয়া সঠিক। ফাতাওয়া আলমগিরি ও রাদ্দুল মুহতারের বরাতে যা বলা হয়েছে, তা হানাফি মাযহাবের বিশুদ্ধ মত। তাফবিজে কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হয় না, এমনকি নিয়ত করলেও না। সরীহ শব্দ আবশ্যক। আপনি সেই ফতোয়ার উপর আমল করতে পারবেন। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

১০) মনে মনে নানান শর্ত আসা — এতে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, মনে মনে নানান শর্ত আসা বা ওয়াসওয়াসা — এতে তালাক পতিত হয় না। আপনি ভাত খেতে পারেন, কোনো সমস্যা হবে না। তালাক পতিত হয় না। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

১১) রাগ করে মেসেজ ডিলিট করা এবং মনে মনে "মেয়েরা যেভাবে নেয়" সেভাবে বলা — এতে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: না, এতে কোনো সমস্যা হবে না। মেসেজ ডিলিট করা বা মনে মনে যা আসে — এগুলো তালাকের শব্দ নয়। তালাক পতিত হয় না। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

১২) তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত মেয়ে কি কেনায়া বাক্য বলতে পারবে? নিয়ত নিয়ে কেনায়া বাক্য বললে কি সমস্যা হবে?

উত্তর: তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত মেয়ে কেনায়া বাক্য বলতে পারবে, তবে কেনায়া বাক্যে তালাক পতিত হবে না, এমনকি নিয়ত করলেও না। তালাক পতিত হওয়ার জন্য সরীহ (স্পষ্ট) শব্দ যেমন "আমি নিজেকে তালাক দিলাম" বা "আমার তালাক কবুল হলো" — এগুলো বলা আবশ্যক। শুধু কেনায়া বাক্য বা নিয়ত দ্বারা তালাক পতিত হয় না। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৪২৩; রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৩০৮)

১৩) আমার বিবাহিত জীবন কি ঠিক আছে?

উত্তর: হ্যাঁ, আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে। আপনি যা করেছেন (১-৩) বা যা জানতে চেয়েছেন (৪-৭) বা যা লিখেছেন (৮-১১) — এর কোনোটিতেই তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।


মূল কথা: তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণ বা নির্দিষ্ট নিয়ত আবশ্যক। শুধু মনে মনে ভাবা, ওয়াসওয়াসা, সন্দেহ বা ভয় — এতে তালাক পতিত হয় না। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার বিবাহিত জীবন ঠিক আছে।

পরামর্শ: আপনি শয়তানের ওয়াসওয়াসায় ভুগছেন। বেশি বেশি আয়াতুল কুরসি পড়ুন, "আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম" পড়ুন, এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। আপনার স্বামীর সাথে ভালো ব্যবহার করুন, রাগ কমিয়ে দিন। আল্লাহ আপনার বিবাহিত জীবনকে বরকতময় করুন। আমীন।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.