গর্ভাবস্থায় স্বামীর সাথে সাধারণ চ্যাটিংয়ের সময় মনে মনে তালাকের চিন্তা এলে কি তালাক পতিত হয়?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6587
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 08 Oct 2026, 10:27 PM
Reviewed & Published: 09 Oct 2026, 02:20 AM
Views: 23
Tokens: 6,168
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
মুফতি সাহেব, আমি একজন বিবাহিত নারী এবং বর্তমানে গর্ভবতী। কিছুদিন আগে আমার স্বামীর সাথে মেসেঞ্জারে/হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের মধ্যে কিছু চ্যাটিং হয়েছিল। আমাদের পুরো কথোপকথনটি বাংলা অর্থে নিচে তুলে ধরা হলো:
• স্বামী: এটা দেখো ছেলেরা কীভাবে দেখে। (রাত ৯:০০)
• আমি: প্রেগন্যান্সিতে (গর্ভাবস্থায়) মুখ ঢাকতে পারি না। (রাত ৯:০৭)
• আমি: নাহলে তো আগেই ঢাকতাম। (রাত ৯:০৭)
• আমি: শুনো। (রাত ৯:১০)
• আমি: আগের কথা বলছি। (রাত ৯:১১)
• আমি: আগে তো মাস্ক ইউজ (ব্যবহার) করতাম। (রাত ৯:১১)
• স্বামী: আর দেখলে তো মেডিকেলে গিয়ে ওই লোকগুলো কীভাবে দেখছিল। (রাত ৯:১১)
• আমি: হুম। (রাত ৯:১১)• আমি: তুমিও খেয়াল করছো। (রাত ৯:১১)
আমার সমস্যা ও মানসিক অবস্থা:
এই সম্পূর্ণ সাধারণ বিষয় (গর্ভাবস্থায় মুখ ঢাকা এবং মাস্ক পরা) নিয়ে চ্যাট করার সময় আমার (স্ত্রীর) মাথায় অনবরত তালাকের চিন্তা আসছিল। এখন আমার মনে তীব্র সংশয় ও ভয় তৈরি হয়েছে যে—আমি হয়তো মনে মনে তালাকের নিয়ত বা উদ্দেশ্য নিয়েই কথাগুলো লিখছিলাম। এমতাবস্থায়, স্বামীর সাথে এই স্বাভাবিক চ্যাটিং করার সময় আমার মনে মনে তালাকের চিন্তা বা নিয়ত আসার কারণে কি আমাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়েছে? এগুলো কি কোনোভাবে কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর দ্বারা কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে?অধিকার (তালাকের অধিকার) থাকলেও কি কোনো সমস্যা হবে কি?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

না, আপনার বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো ক্ষতি হয়নি। কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার মনে যে চিন্তা ও সংশয় এসেছিল, তা শুধু ওয়াসওয়াসা (শয়তানের কুমন্ত্রণা) — যা তালাক হিসেবে গণ্য হয় না।


বিস্তারিত দলিলসহ ব্যাখ্যা

১. তালাকের জন্য সুস্পষ্ট ইচ্ছা ও সংকল্প (নিয়ত) শর্ত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»

"নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।"

— সহীহ বুখারী: ১, সহীহ মুসলিম: ১৯০৭

তালাক একটি আমল। তাই তালাক পতিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা ও সংকল্প থাকা আবশ্যক। শুধু মনের ভেতর চিন্তা আসা বা সংশয় সৃষ্টি হওয়া তালাক নয়।

২. ওয়াসওয়াসা (মনের কুমন্ত্রণা) তালাক হিসেবে গণ্য নয়

ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন:

"الوسواس والخطرات التي لا يستقر عليها القلب ولا يتكلم بها اللسان ولا يعمل بها البدن لا حكم لها بالإجماع"

"যে ওয়াসওয়াসা ও মনের চিন্তা অন্তরে স্থির হয় না, জিহ্বা তা উচ্চারণ করে না এবং শরীর তা কার্যকর করে না — ইজমা' অনুযায়ী তার কোনো হুকুম নেই।"

— মাজমূ'উল ফাতাওয়া: ১৮/৬৫

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন:

"الحديث النفس لا يؤاخذ به العبد إذا لم يتكلم به أو يعمل به"

"মনের কথাকে বান্দা পাকড়াও হবে না, যতক্ষণ না সে তা বলে বা কার্যকর করে।"

— ইগাসাতুল লাহফান: ১/১৪০

৩. আপনার কথাগুলো কিনায়া তালাকের শর্ত পূরণ করে না

কিনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য দুটি শর্ত:

  1. নিয়ত — তালাকের স্পষ্ট ইচ্ছা
  2. অথবা قرينة حال (পরিস্থিতির সাক্ষ্য) — যা তালাকের দিকে স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে

আপনার কথাগুলো ছিল:

  • "প্রেগন্যান্সিতে মুখ ঢাকতে পারি না"
  • "আগে তো মাস্ক ইউজ করতাম"
  • "তুমিও খেয়াল করছো"

এগুলো তালাকের সাথে সম্পর্কহীন সাধারণ কথাবার্তা। এগুলো কিনায়া তালাকের শব্দই নয়, বরং সাধারণ আলাপ। উপরন্তু আপনার নিয়তও তালাকের ছিল না — বরং তালাকের চিন্তা এসেছিল (যা ওয়াসওয়াসা)।

৪. ইবনু উসাইমীন রহ.-এর ফতোয়া

শাইখ ইবনু উসাইমীন রহ. বলেন:

"إذا كان الإنسان يحدّث نفسه بالطلاق دون أن يتلفظ به، فإنه لا يقع به طلاق، حتى لو عزم على ذلك ما لم يتكلم به"

"যদি কেউ মনে মনে তালাকের কথা ভাবে কিন্তু মুখে উচ্চারণ না করে, তাহলে তালাক পতিত হবে না — এমনকি সে সংকল্প করলেও, যতক্ষণ না মুখে বলে।"

— ফাতাওয়া নূরুন আলাদ দারব (তালাক অধ্যায়)

৫. রাসূল ﷺ-এর হাদীস — উম্মতের ওয়াসওয়াসা মাফ

«إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا، مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ»

"নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের সেই সব (পাপ) ক্ষমা করেছেন যা তাদের মন বলে, যতক্ষণ না তারা তা করে বা বলে।"

— সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭


আপনার করণীয়

  1. নিশ্চিন্ত থাকুন — আপনার বিবাহ সম্পূর্ণ বৈধ ও অটুট আছে।
  2. ওয়াসওয়াসা দূর করুন — শয়তান আপনাকে সংশয়ে ফেলতে চায়। আউযুবিল্লাহ পড়ুন, তাওহীদের উপর অবিচল থাকুন।
  3. ভবিষ্যতে সতর্ক থাকুন — তালাকের চিন্তা এলে সাথে সাথে তা দূর করুন এবং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান।
  4. স্বামীর সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখুন — কোনো দূরত্ব বা সন্দেহ তৈরি করবেন না।
  5. যদি ওয়াসওয়াসা অতিরিক্ত হয় — তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেমের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

উপসংহার

আপনার প্রশ্নের উত্তর: না, কোনো তালাক পতিত হয়নি। আপনার বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ সুস্থ ও বৈধ। আপনার মনে আসা চিন্তা ছিল শুধু ওয়াসওয়াসা, যা ইসলামে কোনো প্রভাব ফেলে না। তালাকের অধিকার থাকলেও এই পরিস্থিতিতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ তালাকের শর্তই পূরণ হয়নি।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.