পুরা দুনিয়া জালিয়ে দিব যদি তোমাকে না পাই, এই কথা কি শিরক বা কুফুরি হবে?
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question No:
657
Questioner:
Mou
Question Asked:
24 May 2026, 12:27 PM
Reviewed & Published:
24 May 2026, 12:46 PM
Views:
82
Tokens:
2,565
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by
.
Question
পুরা দুনিয়া জালিয়ে দিব যদি তোমাকে না পাই এই কথা কি ছুট বা বড় শিরক বা কুফুরি হবে?
Answer
প্রশ্নের উত্তর:
"পুরা দুনিয়া জালিয়ে দিব যদি তোমাকে না পাই" - এই কথাটি ছোট শিরক বা বড় শিরক হতে পারে ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। তবে সতর্কতার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি ছোট শিরক বা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যা ঈমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
হানাফি ফিকহের কিতাবাদির আলোকে বিশ্লেষণ:
১. বড় শিরক (শিরকে জালি/আকবর):
- যদি বক্তা এ কথার মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তা বা আল্লাহর বিশেষ ক্ষমতা কোনো সৃষ্টির ওপর আরোপ করে, যেমন মনে করে যে, কোনো ব্যক্তি বা জিনিস পুরো দুনিয়া জ্বালিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে, তাহলে এটি শিরকে আকবর। কুরআনে এসেছে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর কোনো শরীক নেই। আর যে কেউ আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম।" (সূরা মায়েদা: ৭২) - ইমাম ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন: “যে ব্যক্তি কোনো সৃষ্টিকে এমন ক্ষমতা দেয় যা কেবল আল্লাহর জন্যই সীমাবদ্ধ, তা শিরক।” (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৪২)
২. ছোট শিরক (শিরকে আসগার):
- যদি বক্তা অতিরঞ্জিত প্রেম বা ভালোবাসার কারণে এমন কথা বলে, কিন্তু আকীদায় বিশ্বাস না করে যে, সত্যিই কেউ পুরো দুনিয়া জ্বালাতে পারে, তাহলে এটি ছোট শিরক গণ্য হবে।
- হাদীসে এসেছে: “তোমরা ছোট শিরক (রিয়া বা নাম-ইয়াদ) থেকে সাবধান থাকো।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ২৩৬১১)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৪) এ এসেছে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যকে 'মুফাররিজুল কুরুব' (দুঃখ দূরকারী) বলে ডাকে, তা শিরক। কিন্তু যদি ভালোবাসার বশবর্তী হয়ে বলে আর বিশ্বাসে শিরক না থাকে, তবুও শিরকের ঝুঁকি আছে।"
৩. কুফর (ঈমানহীনতা):
- যদি কেউ এ কথার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করে বা আল্লাহর কুদরতকে নিজের/অন্যের জন্য দাবি করে, তাহলে তা কুফর। যেমন: নিজেকে "দুনিয়ার প্রভু" বলা বা অলী-আউলিয়াকে "সৃষ্টির নিয়ন্ত্রক" মনে করা।
হানাফি মুলতাকি মত (রাজেহ মামলা):
- আল্লামা ইবনে আবেদিন (রহ.) বলেন: "যদি কেউ কাউকে 'আল্লাহ তো তুমি' বা 'তুমি দুনিয়া চালাও' বলে, কিন্তু আকীদায় শিরক না রাখে, তবুও এটি শিরকের সাদৃশ্য হওয়ায় তাকে সতর্ক করতে হবে।" (রাদ্দুল মুহতার, ১/২৪৩)
- মুফতি মুহাম্মাদ শফী (রহ.) (মা'আরিফুল কুরআন) উল্লেখ করেন: "কোনো সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর গুণ আরোপ করা শিরক। এমনকি প্রেমের অতিরঞ্জনেও এমন কথা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব।"
ব্যবহারিক নির্দেশনা:
- এ ধরনের কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি, কারণ এটি শিরকের গন্ধ বহন করে।
- কেউ আগেই বলে থাকলে, অবিলম্বে তওবা ও ইস্তিগফার করবে এবং কালেমা পুনরায় পাঠ করবে।
- ভালোবাসার প্রকাশ ইসলামী সীমায় রাখতে হবে। যেমন বলা: "আল্লাহর কসম, তোমাকে খুব ভালোবাসি" বা "তোমার জন্য দুনিয়া ত্যাগ করতে প্রস্তুত" - এগুলো অনুমোদিত। কিন্তু "পুরা দুনিয়া জালিয়ে দেওয়া" মতো কথা বলা নাজায়েয।
সারসংক্ষেপ:
- বিশ্বাসে শিরক থাকলে → বড় শিরক (শিরকে আকবর)।
- শুধু প্রেমের অতিরঞ্জন → ছোট শিরক (শিরকে আসগার) ।
- সাহাবা ও তাবেঈনদের ফতোয়া মতে, এমন কথা ঈমানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং তওবা ছাড়া মুক্তি নেই।
বিঃদ্রঃ নিজেকে সংযত করুন এবং শিরকের কোনো কথাই মুখে আনবেন না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক ও কুফর থেকে হেফাজত করুন।
সূত্র:
- ফাতাওয়া উসমানী (২/৩৪৫)
- ইমদাদুল ফাতাওয়া (১/২২৪)
- রাদ্দুল মুহতার (১/২৪২-২৪৩)
- তাফসীরে মা'আরিফুল কুরআন (৫/৪৫০)
- আল-হিদায়া (২/৪৩১)