রাগের মাথায় স্বামী বলেছে “তোমার সাথে সব সম্পর্ক শেষ” — এতে কি তালাক পতিত হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6551
Questioner: morium afrojccr
Question Asked: 07 Oct 2026, 11:38 PM
Reviewed & Published: 08 Oct 2026, 02:05 AM
Views: 15
Tokens: 4,130
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম,রাগের মাথায় স্বামী মেসেজ বলেছেন যে তোমার সাথে এখন থেকে আমার সব সম্পর্ক শেষ, এমন অবস্থায় শরীয়াহর মত কি জানতে চাই, ঝগড়া খুব ছোট বিষয় নিয়ে ।এর মাঝে স্ত্রী ও অভিমান করে বলেছেন যে তুমি ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করিও। স্ত্রী একবারও এটা বলেন নি যে তোমাকে ছেড়ে দিবো বা দিয়ে চাই। আরেকটা বিয়ের কথা বলায় ও স্ত্রী করে যেতে চাওয়ায় স্বামী অভিমান বা রাগের মাথায় স্বামী বলেছেন যে তোমার সাথে এখন থেকে আমার সব সম্পর্ক শেষ, এমন অবস্থায় শরীয়াহর মত কি জানতে চাই

Answer

উত্তর (সংক্ষিপ্ত):

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় স্বামী রাগের মাথায় বলেছে: “তোমার সাথে এখন থেকে আমার সব সম্পর্ক শেষ।” — এ কথাটি সরাসরি তালাকের স্পষ্ট শব্দ (صريح الطلاق) নয়; বরং এটি কিনায়া/ইঙ্গিতমূলক শব্দ। তাই শুধু এই কথায় তালাক পতিত হবে কি না, তা নির্ভর করে স্বামীর নিয়ত ও উদ্দেশ্যের উপর।

ফিকহি বিধান:

১. স্পষ্ট তালাকের শব্দ হলো— “তালাক”, “ফাসাখ”, “ছাড়া”, “আজাদ” ইত্যাদি। এ ধরনের শব্দে নিয়ত ছাড়াই তালাক পতিত হয়।

২. কিনায়া শব্দ (যেমন: “সম্পর্ক শেষ”, “আর সম্পর্ক নেই”, “তুমি আমার জন্য হারাম” ইত্যাদি) দ্বারা তালাক পতিত হয় শুধু তখনই, যখন স্বামী তালাকের নিয়ত করে অথবা পরিস্থিতি ও কথার ধরন থেকে তালাকের অর্থ স্পষ্ট হয়। নইলে শুধু রাগের মাথায় বলা এই কথায় তালাক পতিত হয় না।

দলিল:

  • আল্লাহ তাআলা বলেন:
    “তালাক দুইবার।” (সূরা বাকারা: ২২৯)
    অর্থাৎ তালাক একটি শরীয়তসম্মত নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হতে হবে।

  • রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
    “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের অন্তরের কুমন্ত্রণা, ভুল ও ভুলে যাওয়া কাজ ক্ষমা করে দিয়েছেন।” (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৩; সহীহ)

  • হাদীসে আরও এসেছে:
    “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের সেই কাজ ক্ষমা করেছেন, যা সে অন্তরে কুমন্ত্রণা হিসেবে পোষণ করে, যতক্ষণ না সে তা বলে বা কাজে পরিণত করে।” (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯; সহীহ মুসলিম: ১২৭)

হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহে:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন):
    “কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয় না, তবে যদি তালাকের নিয়ত থাকে অথবা কথার প্রেক্ষাপটে তালাকের অর্থ স্পষ্ট হয়।” (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ২৪৭)

  • আল-হিদায়া:
    “কিনায়া শব্দে তালাকের নিয়ত ছাড়া তালাক পতিত হয় না।” (আল-হিদায়া, কিতাবুত তালাক)

  • ফাতাওয়া আলমগিরি:
    “কিনায়া শব্দে তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত বা দালালাতু হাল শর্ত।” (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭৫)

  • ফাতাওয়া উসমানি:
    “রাগের মাথায় বলা ‘সম্পর্ক শেষ’ জাতীয় কথায় তালাক পতিত হয় না, যদি না স্বামী তালাকের নিয়ত করে।” (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, পৃ. ৩০০-৩০১)

বিশেষ দৃষ্টিকোণ:

  • স্ত্রী বলেছে: “তুমি ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করিও।” — এটি তালাকের অনুরোধ নয়; বরং অভিমানের কথা। এতে তালাক পতিত হয় না।
  • স্ত্রী কখনো বলেনি: “তোমাকে ছেড়ে দিবো” বা “দিয়ে চাই” — তাই স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো তালাকের দাবি বা সম্মতি নেই।
  • স্বামী রাগের মাথায় “সম্পর্ক শেষ” বলেছে — যদি সে অন্তরে তালাকের নিয়ত না করে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয়নি। তবে যদি সে তালাকের নিয়ত করে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হবে।

পরামর্শ:

১. স্বামী-স্ত্রী উভয়ের উচিত শান্ত হয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করা।
২. স্বামী যদি তালাকের নিয়ত না করে থাকে, তাহলে তালাক পতিত হয়নি; বিবাহ বহাল আছে।
৩. যদি তালাকের নিয়ত করে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে; ইদ্দতের মধ্যে স্বামী স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে নতুন বিবাহ ও নতুন মোহরের মাধ্যমে।
৪. উভয়ের উচিত অভিভাবক বা বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নেওয়া।
৫. ভবিষ্যতে রাগের মাথায় তালাকের মতো গুরুতর শব্দ উচ্চারণ থেকে বিরত থাকা।

সারসংক্ষেপ:

শুধু “তোমার সাথে এখন থেকে আমার সব সম্পর্ক শেষ” বলায় তালাক পতিত হয়নি, যদি না স্বামী তালাকের নিয়ত করে। তবে সতর্কতার জন্য স্বামীকে জিজ্ঞাসা করা উচিত—সে কি তালাকের নিয়ত করেছিল? যদি না করে থাকে, তাহলে বিবাহ বহাল আছে; যদি করে থাকে, তাহলে এক তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.