আমার অফিসে স্বামী স্ত্রী দুজন চাকুরী করে, অনেক বছর সন্তান হয় না।
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর:
প্রশ্নে উল্লেখিত দম্পতির জন্য পরামর্শ হলো—প্রথমে আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করা এবং ইসলামী বিধান অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা। সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে দান, তাই সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তবে কোনো প্রকার শিরক বা হারাম কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রধান পরামর্শসমূহ:
১. বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ:
শরিয়তে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয এবং উৎসাহিত করা হয়েছে। তবে চিকিৎসক ও কবিরাজ নির্বাচনে সতর্ক থাকতে হবে। শুধুমাত্র এমন ডাক্তারের কাছে যেতে হবে যিনি ইসলামী নীতিমালা মেনে চিকিৎসা করেন (যেমন: হারাম ঔষধ বা পদ্ধতি ব্যবহার না করা)। হাদিসে এসেছে, "তোমরা চিকিৎসা করো, কারণ আল্লাহ প্রতিটি রোগের নিরাময় দিয়েছেন।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪২৮)
২. কুরআন ও দুয়া দ্বারা শিফা তালাশ:
কুরআনের আয়াত ও সহিহ দুয়া পাঠ করা অত্যন্ত কার্যকর। বিশেষ করে:
- সূরা আল-ইমরান (৩:৩৮): যাকারিয়া (আ.)-এর দুয়া— "রাব্বি হাবলি মিল্লাদুনকা যুররিয়্যাতান ত্বাইয়্যিবাহ..."
- সূরা মারিয়াম (১৯:৪-৫): যাকারিয়া (আ.)-এর দুয়া।
- নিয়মিত সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে পানি ফুঁক দিয়ে পান করা।
৩. নফল ইবাদত ও দান-সদকা:
- তাওবা ও ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) বৃদ্ধি করা।
- তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং সিজদায় বেশি করে দুয়া করা।
- অভাবীকে সদকা দেওয়া। হাদিসে এসেছে, "তোমরা সদকার মাধ্যমে রোগ নিরাময় করো।" (সুনানে বায়হাকি)
৪. বিদ‘আতি কবিরাজ ও তাবিজ-কবজ থেকে বেঁচে থাকা:
অনেক কবিরাজ শিরকী আমল বা অজানা মন্ত্র ব্যবহার করে, যা সম্পূর্ণ হারাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি তাবিজ-কবজের কাছে যায় এবং তার কিছু বলে, সে শিরক করেছে।" (মুসনাদে আহমাদ)
৫. বিবাহিত জীবনে সৌহার্দ্য বজায় রাখা:
সন্তান না হওয়ার জন্য দম্পতির মধ্যে হতাশা বা দোষারোপ না করে একে অপরের সহযোগিতা করা উচিত। আল্লাহর রহমত ও হিকমতের উপর ভরসা রাখতে হবে। অনেক সময় সন্তান দেরিতে হলেও তা কল্যাণকর হয়।
৬. চিকিৎসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া:
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট ও চিকিৎসা করানো। এক্ষেত্রে উভয়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি। যদি কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে বৈধ চিকিৎসা পদ্ধতি (যেমন: ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) গ্রহণ করা জায়েয, তবে শর্ত হলো—স্বামী ও স্ত্রীর নিজ নিজ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করতে হবে এবং তৃতীয় কারও সাহায্য নেওয়া যাবে না।
৭. গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া ও রেফারেন্স:
- ফতোয়ায়ে উসমানি (১/২৮৩): সন্তান লাভের জন্য বৈধ চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয, তবে শিরকী আমল থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
- রদ্দুল মুহতার (৬/৩৬৪): চিকিৎসা ও তাবিজে কুরআনের আয়াত ব্যবহার করা জায়েয, তবে শর্ত হলো তাতে শিরক না হয়।
- বেহেশতি জেওর (ভলিউম ৫, পৃষ্ঠা ২৩০): সন্তান লাভের জন্য দুয়া ও বৈধ চিকিৎসার নির্দেশনা।
উপসংহার:
উপরোক্ত পরামর্শগুলো মেনে চললে আল্লাহ চাইলে দ্রুত সন্তান লাভের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। তবে স্মরণ রাখতে হবে, সন্তান আল্লাহর নেয়ামত, তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। তাই ধৈর্য ও শোকর (কৃতজ্ঞতা) সহকারে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই মুমিনের কর্তব্য।
আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধৈর্য ও সৎ সন্তান দান করুন। আমিন।