স্বামী স্ত্রীকে দুষ্টামি করে গার্লফ্রেন্ড ডাকলে বা কাউকে গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড বলে পরিচয় করালে ইসলামে কী হুকুম?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
Answer
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
জবাব,
১. নিজ স্ত্রীকে দুষ্টামি করে 'গার্লফ্রেন্ড' ডাকার ফিকহী হুকুম:
-
বিবাহ বা তালাকের ওপর প্রভাব:
স্বামী যদি নিজের বৈবাহিক সম্পর্কের স্ত্রীকে ভালোবাসা বা পরিহাসবশত 'গার্লফ্রেন্ড' (Girlfriend) বলে ডাকে, তবে এর দ্বারা নিকাহ বা বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না এবং কোনো তালাকও পতিত হবে না [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৪]। কারণ এই শব্দটি তালাকের কোনো আলফাজে ছরীহ (স্পষ্ট শব্দ) বা আলফাজে কিনায়াহ (অস্পষ্ট শব্দ)-এর অন্তর্ভুক্ত নয় [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৪]। -
পরিভাষা ব্যবহারের আদব ও শালীনতা:
যদিও বিবাহ ভাঙবে না, তথাপি 'গার্লফ্রেন্ড' বা 'বয়ফ্রেন্ড' পরিভাষাটি মূলত বিবাহবহির্ভূত অবৈধ অনৈসলামিক প্রথা ও পরকীয়ার সংস্কৃতি থেকে আগত [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৫]। নিজের হালাল স্ত্রীকে অনৈসলামিক ও বিজাতীয় কালচারের শব্দ দিয়ে না ডেকে স্ত্রী, বেগম, প্রিয়া বা সুন্দর ও সম্মানজনক নাম ধরে ডাকা ও সম্বোধন করাই সুন্নাহসম্মত ও উত্তম [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬]।
২. অন্য কাউকে (গায়রে মাহরামকে) 'গার্লফ্রেন্ড' বা 'বয়ফ্রেন্ড' বলা বা পরিচয় দেওয়ার শরয়ী হুকুম:
-
সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গোনাহ:
ইসলামি শরীআতে বিবাহের বন্ধন ছাড়া অন্য কোনো গায়রে মাহরাম (বেগানা) নারী বা পুরুষের সাথে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা বা 'গার্লফ্রেন্ড/বয়ফ্রেন্ড' সম্পর্ক তৈরি করা এবং কাউকে এভাবে পরিচয় দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম, নাজায়েয ও কবিরা গোনাহ [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১; দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৫; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৯]। -
মিথ্যা ও অনৈতিকতার প্রসার:
হাস্যরসে বা ঠাট্টাচ্ছলেও যদি কোনো পরনারীকে 'গার্লফ্রেন্ড' কিংবা পরপুরুষকে 'বয়ফ্রেন্ড' বলে পরিচয় দেওয়া হয়, তবে এতে একদিকে মিথ্যাচারের গোনাহ হয়, অন্যদিকে সমাজে বেহায়াপনা ও অপসংস্কৃতির চর্চা বৃদ্ধি পায় [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬]। হাদীস শরীফে বেগানা নারীর সাথে অনাবশ্যক রসাত্মক কথাবার্তাকে "মুখের যিনা" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১]।
সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:
১. ফাতাওয়া মাহমুদিয়া:
- ১২শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১৭৬–১৭৭: (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক — অনাসঙ্গিক বা কৌতুকপূর্ণ সম্বোধনে তালাক না হওয়ার মাসআলা) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১২শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১৭৬, ১৭৭]।
- ১৪শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৯৯: (অধ্যায়: বাবুল হাদি ওয়াল ফিসক — গায়রে মাহরামের সাথে অবৈধ প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্ক হারাম হওয়ার বিবরণ) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৪শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৯৯]।
- ১৯শ খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১২৬: (অধ্যায়: কিতাবুল হাযরি ওয়াল ইবাহাহ — অনৈসলামিক পরিভাষা ও অপসংস্কৃতি পরিহারের ফতোয়া) [ফাতাওয়া মাহমুদিয়া (১৯শ খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১২৬]।
২. ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড):
- পৃষ্ঠা: ৩৫৪: (অধ্যায়: কিতাবুত তালাক — তালাক কেবল নির্দিষ্ট শব্দ দ্বারা পতিত হওয়া এবং অনাসঙ্গিক সম্বোধনে বিবাহ বহাল থাকা) [ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৩৫৪]।
৩. দরসুল ফিকহ:
- ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: ৪৩১: (অধ্যায়: গায়রে মাহরাম নারীর সাথে সম্পর্ক ও কথা বলা — মুখের যিনা সংক্রান্ত ফিকহী আলোচনা) [দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড), পৃষ্ঠা: ৪৩১]।
- ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: ১১৫–১১৬: (অধ্যায়: বেহায়াপনা ও অনৈসলামিক সম্পর্কের নিষিদ্ধতা — ইসলামি নীতিমালার বিবরণ) [দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড), পৃষ্ঠা: ১১৫, ১১৬]।
আল্লাহ সর্বজ্ঞ।