স্বামী নাফাকা না দিলে স্ত্রীর বাইরে চাকরি করার বিধান কী?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
আমার হাসবেন্ড বাসায় সব সময় ব্যাগ ভরে বাজার করে আমি কখনো উনার কাছে দামি গহনা জামা কাপড় চাই না উনার সামথ্য থাকা সত্ত্বেও। যদি আমার নিত্য প্রয়োজনী কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় তাহলে উনি সাথে সাথে এনে দেন না।আমাকে ১ টাকাও হাত খরচ দেন না।আলহামদুলিল্লাহ আমার হাসবেন্ড ভালো সেলারিতে জব করেন।উনার পরিবারের প্রয়োজনে উনার টাকা আছে আমি কিছু চাইলে ঝগড়া করে বলেন তোমাকে খাওয়াচ্ছি এতে শুকরিয়া আদায় করো।সোজা কথা উনি মনে করেন আমাকে খাওয়ানো এটাই উনার দায়িত্ব বাড়তি আমার পেছনে ১০ ইউরোও উনি খরচ করবেন না।উনার কাছে টাকা থাকা পরও কোথায় ঘুরতে নিয়ে যান না বলেন টাকা নেই দেশে উনি ঠিকই মাসে মাসে দেশে টাকা পাঠান।আমি আমার হাসবেন্ডের সাথে দেশেত বাইরে থাকি যেহেতু ইউরোপে নগদ টাকার লেনদেন কম তাই আমার হাসবেন্ডের প্যকেট থেকে ১/২ ইউরো করে আমি টাকা জমাই উনি আমার জমানো টাকা নেন আর দেন না।প্রশ্ন ১।এমন অবস্থায় শরিয়ার নিয়ম মেনে বাইরে যদি আমি জব করি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?
দুই দিন আগে আমার হাসবেন্ড কে বললাম আমাকে নিয়ে একটা জায়গায় ঘুরতে উনি বললেন আমার কাছে ট্রেন ভাড়া নেই আমি বললাম ১০ ইউরো কি আপনার কাছে নেই আমার কাছ থেকে তো টাকা নিলা আপনি ভালো স্যালারিতে জব করে আমার জন্য ১০ ইউরো খরচ করতে আপনি হিসাব করেন উনি রেগে বললেন তুই যদি আমার সাথে আর এইভাবে ঝগড়া করবে তাহলে আমি তোকে পেলে যাব তুই তোর মতো খাইবে নে তোর বাবদ তোর আল্লাহ আছেন। প্রশ্ন ২।আমার হাসবেন্ড যে বললেন তুই আমার সাথে আর এইভাবে ঝগড়া করলে আমি তোকে পেলে যাব তুই তোর মত খাইবে নে তোর বাবদ তোর আল্লাহ আছেন এই কথা বলায় কি তা***হয়েছে???এবং আর এই বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে কি শতযুক্ত তা*** হবে???
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্ন দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, ভরণপোষণ (নাফাকা) এবং তালাকের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে উত্তর দিচ্ছি।
প্রথমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: নাফাকার বিধান
ইসলামী শরীয়তে স্বামীর উপর স্ত্রীর নাফাকা (ভরণপোষণ) ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের উপর রয়েছে তাদের খোরাক ও পোশাকের দায়িত্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৩৩)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমরা তাদের খাওয়াবে যা খাও, পরিধান করাবে যা পরিধান কর, আর তাদের প্রহার করবে না এবং তাদেরকে ত্যাগ করবে না (ঘরে আটকে রেখে)।" — (সুনানে আবু দাউদ: ২১৪৪, ইবনে মাজাহ: ১৮৫০)
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী: স্বামী সামর্থ্যবান হলে স্ত্রীর খোরাক, পোশাক, বাসস্থান এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা তার উপর ফরজ। স্ত্রীকে হাত খরচ দেওয়া বা তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণ করা — এগুলো নাফাকার অন্তর্ভুক্ত অথবা কমপক্ষে ইসলামী আদবের অংশ।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ বলেন:
"স্বামীর উপর স্ত্রীর নাফাকা ফরজ, তা সে ধনী হোক বা দরিদ্র — সামর্থ্য অনুযায়ী।" — (রাদ্দুল মুহতার: ৩/৫৭২)
প্রশ্ন ১: এমন অবস্থায় শরিয়ার নিয়ম মেনে বাইরে জব করলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর:
ক. মূলনীতি:
ইসলামী শরীয়তে স্ত্রীর জন্য বাইরে চাকরি করা নিষিদ্ধ নয়, তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে:
-
স্বামীর অনুমতি: হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, স্ত্রী স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়ার সময় স্বামীর অনুমতি নেওয়া কর্তব্য। তবে যদি স্বামী তার নাফাকার হক আদায় না করে এবং স্ত্রী অভাব-অনটনে পড়ে, তাহলে স্বামীর অনুমতি ছাড়াও প্রয়োজনে বাইরে কাজ করা জায়েয হবে — কারণ এটি তার নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য।
-
পর্দা ও শরীয়তের সীমা রক্ষা: চাকরির স্থান এমন হতে হবে যেখানে পর্দা রক্ষা করা সম্ভব, পুরুষদের সাথে অবাধ মেলামেশা বা খালওয়া (নির্জনে মিলন) না হয়।
-
সন্তান ও সংসারের দায়িত্বে অবহেলা না করা: চাকরির কারণে সংসারের মূল দায়িত্ব (সন্তান লালন-পালন, স্বামীর হক) ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা জায়েয হবে না।
খ. আপনার ক্ষেত্রে:
যেহেতু আপনার স্বামী সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও আপনার নিত্য প্রয়োজন পূরণ করছেন না, হাত খরচ দিচ্ছেন না, এমনকি আপনার নিজের জমানো টাকাও নিয়ে দিচ্ছেন না — এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর দায়িত্বে অবহেলা।
এমতাবস্থায় আপনি যদি:
- পর্দা রক্ষা করে,
- স্বামীর অনুমতি নিয়ে (সম্ভব হলে),
- সংসারের দায়িত্বে অবহেলা না করে,
বাইরে চাকরি করেন — তাতে আপনার কোনো গুনাহ হবে না। বরং এটি আপনার নিজের হক রক্ষার একটি বৈধ উপায়।
তবে সতর্কতা: স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হলে পারিবারিক কলহ বাড়তে পারে। তাই প্রথমে তাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন, সম্ভব হলে পরিবারের বড়দের বা কোনো বিশ্বস্ত আলেমের মাধ্যমে মধ্যস্থতা করান।
ইমাম আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) "ফয়যুল বারী"-তে বলেন:
"স্ত্রীর নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হওয়া তখনই জায়েয হবে যখন স্বামী তার নাফাকার হক আদায় করছে না।"
প্রশ্ন ২: স্বামীর কথায় কি তালাক হয়েছে? এবং ঝগড়া হলে কি শতযুক্ত তালাক হবে?
জবাবঃ- না তালাক পতিত হয়নি।