একই কুরবানিতে মা ও ছেলের নাম থাকলে কি মায়ের কুরবানি আদায় হয়
Qurbani-Slaughtering · Hanafi
Question
Answer
উত্তর
প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
একজন ছেলে কুরবানি করে এবং তার পরিবারের ৭ জনের নাম দেয় (অর্থাৎ বড় জন্তু যেমন গরু, মহিষ বা উটের ৭ ভাগের মধ্যে তাদের অন্তর্ভুক্ত করে)। এই ছেলের মা যদি নেসাবের মালিক হন (অর্থাৎ তার উপর কুরবানি ওয়াজিব), তাহলে কি মাকে আলাদা আরেকটি কুরবানি দিতে হবে, যদিও ছেলের কুরবানিতে মায়ের নাম দেওয়া আছে?
হানাফি ফিকহের আলোকে উত্তর:
মূলনীতি:
যে ব্যক্তি নেসাবের মালিক (অর্থাৎ সোনা-রূপা বা ব্যবসায়িক পণ্যের নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক) এবং কুরবানির দিনগুলোতে তা তার কাছে থাকে, তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। এই ওয়াজিব আদায় করতে হয় ব্যক্তিগতভাবে অথবা শরিক হয়ে (বড় জন্তুর ক্ষেত্রে)।
শরিকের বিধান:
একটি গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ ৭ জন শরিক হতে পারে। প্রত্যেক শরিকের জন্য তার নিজের অংশ (সাত ভাগের একভাগ) তার নিজের কুরবানি হিসেবে গণ্য হয়। তবে শর্ত হলো, প্রত্যেক শরিকের নিয়ত ও সম্মতি থাকতে হবে এবং সে তার অংশের মূল্য পরিশোধ করবে অথবা তাকে অংশটি হেবা (উপহার) দেওয়া হলে তা গ্রহণ করতে হবে।
মায়ের অবস্থা:
মা যদি নেসাবের মালিক হন, তবে তার উপর কুরবানি ওয়াজিব। ছেলে যদি একটি বড় জন্তু কুরবানি করে এবং তাতে মায়ের নাম একটি ভাগ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে সেই ভাগটি মায়ের কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে শুধুমাত্র যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূর্ণ হয়:
- মায়ের নিয়ত ও সম্মতি: মা নিজে জানবেন এবং ইচ্ছা করবেন যে এই অংশটি তার কুরবানি হিসেবে গণ্য হবে। যদি ছেলে শুধু নাম দিয়েছে কিন্তু মা এর ব্যাপারে অবগত না হন বা তার সম্মতি না থাকে, তাহলে তা মায়ের কুরবানি আদায় করবে না।
- অংশ নির্ধারণ: ছেলে যদি গরু/মহিষ কুরবানি করে তবে মায়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাগ (সাত ভাগের একভাগ) বরাদ্দ করতে হবে এবং সেই ভাগের মূল্য মা নিজে দিবেন অথবা ছেলে তাকে উপহার দিলে তা গ্রহণ করতে হবে।
- ছোট জন্তুর ক্ষেত্রে: ছেলে যদি ছাগল/ভেড়া (এক ব্যক্তির জন্য) কুরবানি করে, তবে তাতে মায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অর্থ হয় না। ছাগল কেবল একজনের পক্ষ থেকে হয়। তাই ছেলে নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি দিলে মায়ের ওয়াজিব আদায় হবে না।
ফলাফল:
- যদি মা নেসাবের মালিক হন এবং ছেলে বড় জন্তুর (গরু, মহিষ, উট) একটি ভাগে তার নাম রেখেছে, কিন্তু মা নিজে সেই ভাগের জন্য নিয়ত না করেন বা সম্মতি না দেন, তাহলে মায়ের উপর কুরবানি ওয়াজিব থাকবে এবং তাকে পৃথক কুরবানি দিতে হবে।
- যদি মা সেই ভাগ গ্রহণ করে নিজের কুরবানি হিসেবে নিয়ত করেন এবং মূল্য পরিশোধ করেন (অথবা ছেলে উপহার দিলে তা গ্রহণ করেন), তাহলে তার ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে এবং আলাদা কুরবানি দিতে হবে না।
হানাফি কিতাবের উদ্ধৃতি:
- রদ্দুল মুহতার (৩/৩২০): "কুরবানি ওয়াজিব ব্যক্তির উপর নিজে আদায় করা তার জন্য জরুরি। তবে অন্যের মাধ্যমে আদায় করতে চাইলে তাকে ওকালত দিতে হবে। অন্যথায় আদায় হবে না।"
- ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া (৫/২৯৭): "যদি কেউ অন্যের নামে কুরবানি করে কিন্তু সেই ব্যক্তি সম্মতি না দেয় বা ওয়াকিল না হয়, তাহলে কুরবানি আদায় হবে না।"
- ইমদাদুল ফতোয়া (২/২২২): "যে ব্যক্তি নেসাবের মালিক, তার নিজের পক্ষ থেকে কুরবানি ওয়াজিব। অন্য কেউ তার নামে কুরবানি দিলে তা তার পক্ষ থেকে আদায় হবে না, যদি না সে ওয়াকিল হয় বা অংশীদারিত্বে সম্মতি দেয়।"
ওয়াল্লাহু তা’আলা আ’লাম।