নানির সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর মামাতো বোনের সাথে বিবাহের শরিয়তসম্মত সমাধান।
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
শ্রদ্ধেয় মুফতি সাহেব,
আমি একটি অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর পারিবারিক সমস্যায় ভুগছি। আমার অজান্তে ঘটে যাওয়া একটি অতীত ভুলের কারণে আমার বর্তমান সংসার এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়েছে। আল্লাহর ওয়াস্তে আমার পুরো বিষয়টি বিবেচনা করে শরিয়তের আলোকে একটি সঠিক সমাধান বা ফতোয়া দিয়ে আমাকে দুশ্চিন্তামুক্ত করবেন।
ঘটনার বিবরণ:
আজ থেকে প্রায় [অনুমান যেমন: ১৫ বছর] আগে,তখন আমার বয়স ছিল ১৩ বছর। শয়তানের প্ররোচনায় অসতর্কতাবশত আমার আপন নানির সাথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এক রাতে নানি আমার পাশে শুয়ে ছিলাম। তখন তীব্র যৌন উত্তেজনার কারণে আমি উনার উরুতে আমার লিঙ্গ ঘর্ষণ করি এবং এর ফলে আমার বীর্যপাত হয়। বীর্য উনার উরুর ওপরেই পড়েছিল, কোনো অবস্থাতেই ভেতরে প্রবেশ করেনি। তবে এই ঘর্ষণ ও বীর্যপাত হতে কিছুটা সময় লেগেছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি:
১. এই ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন ইসলামি শরিয়তের 'হুরমতে মুসাহারাত' (বৈবাহিক কারণে নিষেধাজ্ঞা) সংক্রান্ত এই কঠোর মাসআলাটি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র কোনো জ্ঞান বা ধারণা ছিল না। আমি সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলাম।
২. পরবর্তীতে আমি এই মাসআলা না জেনেই আমার সেই নানির ছেলের মেয়েকে (অর্থাৎ আমার আপন মামাতো বোনকে) বিবাহ করি।
৩. বর্তমানে আমাদের বিবাহিত জীবনের [ ৩ বছর] পার হয়েছে এবং আমাদের ঘরে একটি নিষ্পাপ সন্তানও রয়েছে। আমরা অত্যন্ত সুখে সংসার করছি।
মুফতি সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন:
সম্প্রতি আমি জানতে পেরেছি যে, নানির সাথে এমন আচরণের কারণে নাকি হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হয় এবং নাতনিকে বিয়ে করা হারাম হয়ে যায়। এই মাসআলা জানার পর থেকে আমি তীব্র মানসিক অশান্তি ও কুচিন্তায় ভুগছি।
আমি এখন জানতে চাই—
• যেহেতু আমি আগে মাসআলাটি একদমই জানতাম না (অজ্ঞ ছিলাম) এবং না জেনেই বিয়ে করেছি এবং বর্তমানে আমাদের সন্তানসহ একটি চলমান সংসার রয়েছে; এমতাবস্থায় অন্যান্য মাজহাবের (যেমন শাফেয়ী বা মালেকী মাজহাব) সহজ মতামতের ওপর ভিত্তি করে বা হানাফি ফিকহের কোনো বিশেষ অবকাশের আলোকে আমাদের এই সংসারটি টিকিয়ে রাখার কোনো বৈধ পথ আছে কি?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় ভাই, প্রশ্নের বিবরণ মতে এক্ষেত্রে হুরমতে মুসাহারাত সাব্যস্ত হবেনা। সুতরাং আপনার বিবাহ বৈধ।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
عن عمران بن الحصین في الرجل یقع علی أم امرأتہ، قال: تحرم علیہ امرأتہ۔ (المصنف لابن أبي شیبۃ ۳؍۴۶۹ رقم: ۱۶۲۲۶ دار الکتب العلمیۃ بیروت)
সারমর্মঃ একজন ব্যাক্তি তার স্ত্রীর মায়ের সাথে সহবাস করে,হযরত ইমরান বিন হুসাইন রাঃ তার ব্যাপারে ফতোয়া দিলেন যে তার স্ত্রী তার উপর হারাম।
ই'লাউস সুনান গ্রন্থে এসেছে
أخبرنا أبوحنیفة، عن حماد، عن إبراهیم، قال: إذا قبل الرجل أم أمرأته أو لمسها من شهوةٍ حرمت علیه امرأته، أخرجه محمد في الحجج ورجاله ثقات (إعلاء السنن: ۱۱/۱۳۱)
যার সারমর্ম হলো কেহ যদি তার শাশুড়িকে চুম্বন করে,অথবা উত্তেজনার সাথে স্পর্শ করে,তাহলে স্ত্রী তার উপর চিরজীবনের জন্য হারাম হয়ে যাবে।
وفى الدر المختار- هذا إذا لم ينزل فلو أنزل مع مس أو نظر فلا حرمة به بفتى وفى رد المحتار- قوله : فلا حرمة ) لأنه بالإنزال تبين أنه غير مفض إلى الوطء هداية . قال في العناية : ومعنى قولهم إنه لا يوجب الحرمة بالإنزال أن الحرمة عند ابتداء المس بشهوة كان حكمها موقوفا إلى أن يتبين بالإنزال ، فإن أنزل لم تثبت ، وإلا ثبت(الفتاوى الشامية، كتاب النكاح، فصل فى المحرمات-4/109 وكذا المقبلات، أو الممسوسات بشهوة لأصوله، أو فروعه (رد المحتار-4/100) لأن حرمة المصاهرة إذا ثبتت لا تسقط أبدا (رد المحتار-4/109) সারমর্মঃ স্পর্শ বা দৃষ্টিপাতের কারনে বীর্যপাত হয়ে গেলে হুরমতে মুসাহারাত প্রমানিত হবেনা। কেননা বীর্যপাতের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে এই স্পর্শ/দৃষ্টিপাত সহবাসের দিকে তাকে নিয়ে যাবেনা।