বিবাহের প্রস্তাবের সময় পাত্রীকে অন্য ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক ও চরিত্র সম্পর্কে পাত্রকে জানানো কি জায়েজ?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6412
Questioner: Md Ashraf Ullah
Question Asked: 05 Oct 2026, 12:42 PM
Reviewed & Published: 05 Oct 2026, 01:03 PM
Views: 40
Tokens: 9,644
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমার পরিচিত একজন ভাইয়ের সাথে আমাদের বাড়ির পাশের একটা মেয়ের দীর্ঘ সাত বছরের সম্পর্ক। মেয়েটি সে ভাইটির সাথে অনেকবার প্রতারণা করেছে, বিশ্বাস ভেঙেছে,সে আল্লাহর কসম কেটে মিথ্যা বলে।তারপরও সে ভাইটি মেয়েটিকে মাফ করে দিয়েছে বারবার। মেয়েটির সে ভাইয়ের সাথে অনেকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে ( নাউজুবিল্লাহ)। মেয়েটি তার বাবা মা ভাইয়ের অবাধ্য। সে ভাইটি মেয়েটিকে বিয়ে করবে সেই সিদ্ধান্তে অটল ছিল, শুধু ভাইটি তার ক্যারিয়ার টা একটু গোছানোর চেষ্টা করছিল। ভাইটি ভেবেছিল একটা ভালো চাকরি হলে তাকে বিয়ে করবে।
আজ থেকে দুই মাস আগে হঠাৎ মেয়েটিকে একটা ছেলের পরিবার দেখতে আসে, ছেলেদের মেয়েটিকে পছন্দ হয়ে যায়। তারপর ভাইটি মেয়ের পরিবারকে জানাই যাতে বিয়েটা এখানে না দেয় উনি বিয়ে করবে। মেয়ের পরিবার রাজি হয়নি। আসল কথা হল মেয়েটি সেই ছেলেটিকে পছন্দ করেছে। মেয়েটি সে বিয়েতে রাজি ছিল। আজকে দুইটা মাস সে মেয়েটি ভাইটিকে পাগল বানিয়ে ফেলছে, মিথ্যা কসম দিয়ে মিথ্যা আশা দিয়ে দিয়ে, মেয়েটি ভাইটিকে বুঝিয়েছে সে বিয়েতে রাজি না। মেয়েটি প্রচন্ড লেভেলের লোভী আর মিথ্যাবাদী। এই মাসের ২২ অক্টোবর মেয়েটির বিয়ে। মেয়েটি একদিক দিয়ে ভাইটির সাথে প্রতারণা করতেছে। অন্য দিক দিয়ে যে ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। সেই ছেলের সাথে জামাই বউ এর মত কথা বলতেছে। এককথায় মেয়েটি দুশ্চরিত্রা।

কিন্তু যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই ছেলেটিকে ভালো ভদ্র মনে হচ্ছে। এখন এটা কি ঠিক হবে যে ছেলেটিকে মেয়েটির ব্যাপারে সবকিছু জানিয়ে দেওয়া? কারণ ছেলেটিকে কিছুই জানানো হয়নি। এখন আমি বা আমরা যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে সেই ছেলেটিকে মেয়েটির সব কিছু জানিয়ে দেওয়া কি ভালো হবে? তাতে কি আমাদের গুনাহ হবে? যদিও ছেলেটির উপকার হবে ছেলেটির জীবন বেঁচে যাবে। এরকম সিচুয়েশনে করণীয় কি?

Answer

বিবাহ সংঘটিত বিষয়: প্রস্তাবিত পাত্রকে পাত্রীর অতীত সম্পর্ক ও চরিত্র সম্পর্কে জানানো প্রসঙ্গে

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

একজন ভাইয়ের সাথে পাশের বাড়ির এক মেয়ের সাত বছরের সম্পর্ক ছিল। মেয়েটি বারবার প্রতারণা, মিথ্যা কসম ও বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। তাদের মধ্যে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে (নাউজুবিল্লাহ)। মেয়েটি তার পরিবারের অবাধ্য। ভাইটি তাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল ছিল। সম্প্রতি মেয়েটির অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে (২২ অক্টোবর)। মেয়েটি এখনো ভাইটিকে মিথ্যা আশা দিয়ে প্রতারণা করছে এবং নতুন পাত্রের সাথেও জামাই-বউয়ের মতো কথা বলছে। প্রশ্ন হলো—নতুন পাত্রকে মেয়েটির সবকিছু জানিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবে? তাতে কি আমাদের গুনাহ হবে? করণীয় কী?


জবাবঃ- প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে নতুন পাত্রকে মেয়েটির সবকিছু জানিয়ে দেওয়া কি ঠিক হবেনা। তাতে আপনাদের গীবতের গুনাহ হবে।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ "ব্যভিচারী যখন ব্যভিচার করে, তখন সে মুমিন অবস্থায় থাকে না।" — (সহীহ বুখারী: ২৪৭৫, সহীহ মুসলিম: ৫৭)

অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক ইসলামে কবিরা গুনাহ। তবে তাওবার দরজা খোলা। আল্লাহ বলেন:

إِلَّا مَن تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَٰئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ "তবে যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের পাপকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেন।" — (সূরা আল-ফুরকান: ৭০)

গীবত হারাম। আল্লাহ বলেন:

وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا "তোমরা একে অপরের গীবত করো না।" — (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)

রাসূলুল্লাহ ﷺ গীবতের সংজ্ঞা দিয়েছেন:

ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ "তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা সে অপছন্দ করে।" — (সহীহ মুসলিম: ২৫৮৯)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.