তালাকের পর রুজু করার নিয়ম।

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 6383
Questioner: Sadia Ashraful
Question Asked: 04 Oct 2026, 06:33 PM
Reviewed & Published: 04 Oct 2026, 08:15 PM
Views: 9
Tokens: 4,435
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছয় মাস আগে দুই তালাক দেয়ার পর স্বামী ওইদিনই আবার গ্রহণ করে নিয়েছিলো। তারপর আবারও ছয় মাস পর স্বামী দুই তালাক দিয়েছে সেক্ষেত্রে কি তালাক হয়ে যাবে?

Answer

প্রশ্ন: ছয় মাস আগে দুই তালাক দেওয়ার পর স্বামী ওইদিনই আবার গ্রহণ করে নিয়েছিল। তারপর আবারও ছয় মাস পর স্বামী দুই তালাক দিয়েছে—সেক্ষেত্রে কি তালাক হয়ে যাবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, তালাক হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে মোট চারটি তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। প্রথম দুই তালাকের পর স্বামী যদি রুজু (ফিরিয়ে নেওয়া) করে এবং স্ত্রী ইদ্দতের ভেতরে থাকে, তবে রুজু সহীহ হয় এবং তালাকের সংখ্যা দুই-তেই স্থির থাকে। কিন্তু দ্বিতীয়বার আরও দুই তালাক দেওয়ার কারণে মোট তালাকের সংখ্যা চার হয়ে যায়। যেহেতু তিন তালাকেই বাইন তালাকাতুল কুবরা (তালাকে মুগাল্লাজা) সংঘটিত হয়, তাই চতুর্থ তালাকও পতিত হবে এবং উক্ত নিকাহ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে যাবে। এখন হিলা (অন্য পুরুষের সাথে বৈধ বিবাহ ও সহবাসের পর তালাক বা মৃত্যু) ছাড়া প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করা হারাম।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে: প্রথম দুই তালাকের পর রুজু সহীহ হওয়ার জন্য স্ত্রীকে ইদ্দতের ভেতরে ফিরিয়ে নিতে হবে। যদি ইদ্দত শেষ হওয়ার পর রুজু করা হয়, তবে তা রুজু হিসেবে গণ্য হবে না; বরং নতুন মোহর ও নতুন সম্মতিতে নতুন নিকাহ করতে হবে। নতুন নিকাহ হলে তালাকের সংখ্যা শূন্য থেকে শুরু হবে না; বরং পূর্বের দুই তালাক বহাল থাকবে এবং নতুন নিকাহর পর দ্বিতীয়বার দুই তালাক দিলে মোট চার তালাক হবে।


বিস্তারিত আলোচনা

১. তালাকের প্রকারভেদ

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী তালাক মূলত দুই প্রকার:

| প্রকার | পরিচয় | রুজুর বিধান | |---|---|---| | তালাকে রাজঈ | প্রথম ও দ্বিতীয় তালাক (যদি তৃতীয় না হয়) | ইদ্দতের ভেতরে স্বামী একতরফাভাবে রুজু করতে পারে, নতুন নিকাহ বা মোহরের প্রয়োজন নেই | | তালাকে বাইন | তৃতীয় তালাক বা খুলা/তালাকে তাফবীয | রুজু করা যায় না; নতুন নিকাহ লাগে (তবে তিন তালাক হলে হিলা ছাড়া নিকাহ হারাম) |

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ

"তালাক দুইবার; এরপর হয় যথাবিধি সংসার ধারণ, নয়তো সদ্ভাবে বিচ্ছেদ।" — সূরা আল-বাকারা: ২২৯

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ

"অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়, তবে সে (স্ত্রী) অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য হালাল হবে না।" — সূরা আল-বাকারা: ২৩০

২. রুজুর শর্ত

রুজু (ফিরিয়ে নেওয়া) সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত:

  1. তালাক রাজঈ হতে হবে — অর্থাৎ প্রথম বা দ্বিতীয় তালাক, তৃতীয় নয়।
  2. ইদ্দতের ভেতরে হতে হবে — ইদ্দত শেষ হলে রুজু সহীহ নয়; নতুন নিকাহ লাগবে।
  3. রুজুর ইচ্ছা ও ঘোষণা — মুখে বলা বা স্ত্রীর সাথে সংসার পুনরায় শুরু করা।

রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন:

"তালাকে রাজঈতে ইদ্দতের ভেতরে স্বামী রুজু করতে পারে; ইদ্দত শেষ হলে রুজু বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন নিকাহ ছাড়া স্ত্রী ফিরে আসে না।" — রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুত তালাক

৩. প্রশ্নের ঘটনার বিশ্লেষণ

ঘটনার ধারা:

  1. প্রথম ঘটনা: ছয় মাস আগে স্বামী দুই তালাক দিল → তালাকে রাজঈ (দুই তালাক)।
  2. রুজু: ওইদিনই স্বামী ফিরিয়ে নিল → যদি ইদ্দতের ভেতরে হয়, রুজু সহীহ; তালাকের সংখ্যা ২-এ স্থির।
  3. দ্বিতীয় ঘটনা: ছয় মাস পর আবার দুই তালাক দিল → মোট তালাক = ২ + ২ = ৪।

যেহেতু তৃতীয় তালাকেই তালাকে মুগাল্লাজা (বাইন তালাকাতুল কুবরা) সংঘটিত হয়ে যায়, তাই চতুর্থ তালাকও পতিত হবে। এখন উক্ত নিকাহ সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে এবং হিলা ছাড়া প্রথম স্বামীর জন্য স্ত্রী হারাম।

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ — সূরা আল-বাকারা: ২৩০

৪. যদি প্রথম রুজু ইদ্দতের পরে হয়ে থাকে?

যদি প্রথম দুই তালাকের পর ইদ্দত শেষ হয়ে যায় এবং তারপর স্বামী ফিরিয়ে নেয়, তবে তা রুজু নয়; বরং নতুন নিকাহ হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে:

  • নতুন নিকাহর পর তালাকের সংখ্যা শূন্য থেকে শুরু হবে না; পূর্বের দুই তালাক বহাল থাকবে।
  • অতঃপর দ্বিতীয়বার দুই তালাক দিলে মোট চার তালাক হবে এবং নিকাহ ভেঙে যাবে।

তবে যদি নতুন নিকাহর পর এক তালাক দিত, তবে মোট তিন তালাক হয়ে নিকাহ ভেঙে যেত। আর যদি দুই তালাক দিত, তবে মোট চার তালাক হয়ে নিকাহ ভেঙে যেত।

৫. হিলার বিধান

তিন তালাকের পর স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হওয়ার জন্য হিলা শর্ত:

  1. স্ত্রী অন্য একজন মুসলিম পুরুষের সাথে বৈধ নিকাহ করবে।
  2. সেই নিকাহ সহবাস দ্বারা পূর্ণ হবে।
  3. অতঃপর সেই দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিকভাবে তালাক দেবে বা মৃত্যুবরণ করবে।
  4. ইদ্দত শেষ হলে প্রথম স্বামী নতুন নিকাহ ও নতুন মোহরে তাকে গ্রহণ করতে পারবে।

حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۚ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا

"যতক্ষণ সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ না করে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে তাদের (প্রথম স্বামী-স্ত্রীর) পুনরায় মিলিত হওয়ায় কোনো দোষ নেই।" — সূরা আল-বাকারা: ২৩০

হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"তিন তালাকের পর স্ত্রী প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ করে এবং সে তার সাথে সহবাস করে।" — সহীহ বুখারী, হাদিস: ৫২৬০; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৩৩

৬. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • তালাকের সংখ্যা গণনা: প্রতিবার "দুই তালাক" বললে দুইটি তালাক পতিত হয়। একই মজলিসে একাধিক তালাক বললেও হানাফি মতে সবগুলো পতিত হয় (যদিও তা নিষিদ্ধ ও গুনাহের কাজ)।
  • রুজুর সঠিক পদ্ধতি: ইদ্দতের ভেতরে দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে মুখে রুজু ঘোষণা করা উত্তম। তবে শুধু সংসার পুনরায় শুরু করলেও রুজু সহীহ হয়।
  • ইদ্দতের সময়সীমা: তালাকের পর ইদ্দত হলো তিন হায়েজ (ঋতু) বা তিন মাস (ঋতু না থাকলে), আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব পর্যন্ত।

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.