পবিত্রতা

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 6229
Questioner: Mim Islam
Question Asked: 02 Oct 2026, 09:33 AM
Reviewed & Published: 02 Oct 2026, 02:07 PM
Views: 24
Tokens: 4,759
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কারো পিরিয়ড নরমালি ৭ দিন থাকে কিন্তু ৬ দিনের দিন সে টিস্যু দিয়ে চেক করে দেখল সাদা হয়ে গেছে এজন্য সে ফরজ গোসল দিয়ে যোহরের সালাত আদায় করে।কিন্তু আসরের সময় পায়জামায় লাল ফ্যাকাশে ব্লিডিং দেখে আবার যখন টিস্যু দিয়ে চেক করে তখন সাদা দেখে এজন্য সে আসরের নামাজ ছেড়ে দেয়।এবার ৭ম দিনে সে সকালে এসে টিস্যু দিয়ে চেক করে তখন সাদা দেখে এর আগে সে গতদিনের মাগরিব, এশা,ফজরের সময় চেক করিনি।আজ সকালে চেক করেছে। এখন কি সে ফরজ গোসল দিবে?কত ওয়াক্তের সালাত কাযা আদায় করবে

Answer

পবিত্রতা: হায়েজ শেষ হওয়ার পর ফরজ গোসল ও কাজা নামাজের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

একজন মহিলার সাধারণত হায়েজ ৭ দিন থাকে। ৬ষ্ঠ দিনে টিস্যু দিয়ে চেক করে সাদা (পবিত্রতা) দেখে ফরজ গোসল করে যোহরের নামাজ আদায় করেন। কিন্তু আসরের সময় পায়জামায় লাল ফ্যাকাশে ব্লিডিং দেখে আবার টিস্যু দিয়ে চেক করে সাদা দেখেন, তাই আসরের নামাজ ছেড়ে দেন। ৭ম দিনে সকালে টিস্যু দিয়ে চেক করে সাদা দেখেন; এর আগে গতদিনের মাগরিব, এশা ও ফজরের সময় চেক করেননি। এখন তিনি কি ফরজ গোসল দেবেন? কত ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করবেন?


ফিকহি বিশ্লেষণ

১. হায়েজ শেষ হওয়ার মূলনীতি

হায়েজ শেষ হওয়ার আলামত হলো "কাসফুল বায়াদ" (সাদা স্রাব/পবিত্রতার চিহ্ন) অথবা সম্পূর্ণ রক্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া। ফিকহের মূলনীতি হলো:

হায়েজের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। (সূরা বাকারা: ২২২-এর আলোকে; হাদিস: "হায়েজ ৩ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত হয়" — তিরমিজি, আবু দাউদ)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, ১০ দিনের ভেতরে রক্ত বন্ধ হলে এবং সাদা স্রাব দেখা দিলে হায়েজ শেষ হয়ে যায়। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৪; আল-হিদায়া, খণ্ড ১)

২. প্রশ্নের ঘটনার বিশ্লেষণ

ঘটনাটি ধাপে ধাপে দেখি:

| দিন/সময় | অবস্থা | সিদ্ধান্ত | |-----------|--------|----------| | ৬ষ্ঠ দিন (যোহর) | টিস্যুতে সাদা → পবিত্র | ফরজ গোসল করে যোহর আদায় — সঠিক হয়েছে | | ৬ষ্ঠ দিন (আসর) | পায়জামায় লাল ফ্যাকাশে ব্লিডিং, কিন্তু টিস্যুতে সাদা | সতর্কতামূলক অবস্থা | | ৭ম দিন (সকাল) | টিস্যুতে সাদা → পবিত্র নিশ্চিত | হায়েজ শেষ |

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: টিস্যুতে সাদা দেখার অর্থ হলো জরায়ু থেকে রক্ত আসা বন্ধ হয়েছে। পায়জামায় লাল ফ্যাকাশে দাগ যদি পুরনো রক্তের অবশিষ্ট হয় (যা আগেই বেরিয়ে গিয়েছিল কিন্তু পায়জামায় লেগে ছিল), তাহলে তা হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে না। কিন্তু যদি নতুন রক্ত হয়, তাহলে হায়েজ এখনো চলছে।

৩. ফকিহদের মতামত

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে:

  • যদি ১০ দিনের ভেতরে রক্ত সম্পূর্ণ বন্ধ হয় এবং সাদা স্রাব দেখা যায় → হায়েজ শেষ, গোসল ফরজ।
  • যদি ১০ দিনের ভেতরে আবার রক্ত আসে → হায়েজ চলছে।
  • ১০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত আসলে → ইস্তিহাজা (অসুস্থতার রক্ত), নামাজ-রোজা বন্ধ হবে না।

(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৫-২৮৬; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭)

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর ফাতাওয়া উসমানিতে উল্লেখ আছে:

"হায়েজের দিনগুলোতে সাদা স্রাব দেখা গেলে হায়েজ শেষ হয়ে যায়। তবে সন্দেহের অবস্থায় সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫)

৪. প্রশ্নের নির্দিষ্ট সমাধান

পরিস্থিতি: ৬ষ্ঠ দিনে যোহরের সময় সাদা দেখে গোসল করে নামাজ আদায় করেছেন। এরপর আসরের সময় পায়জামায় লাল দাগ দেখে নামাজ ছেড়ে দিয়েছেন। ৭ম দিনে সকালে আবার সাদা দেখেছেন। মাঝের সময়ে (মাগরিব, এশা, ফজর) চেক করেননি।

এখানে দুটি সম্ভাবনা:

সম্ভাবনা ক: পায়জামার লাল দাগ ছিল পুরনো রক্তের অবশিষ্ট (যা আগেই বেরিয়ে গিয়েছিল)। টিস্যুতে সাদা মানেই হায়েজ শেষ। তাহলে:

  • ৬ষ্ঠ দিন যোহরের পর হায়েজ শেষ → গোসল ফরজ হয়েছিল যোহরের সময়ই।
  • আসরের নামাজ ছেড়ে দেওয়া ভুল হয়েছে (কারণ তখন তিনি পবিত্র ছিলেন)।
  • কাজা: আসর, মাগরিব, এশা, ফজর — এই ৪ ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করতে হবে। (যোহর আদায় হয়ে গেছে)

সম্ভাবনা খ: পায়জামার লাল দাগ ছিল নতুন রক্ত (হায়েজ এখনো চলছে)। তাহলে:

  • ৬ষ্ঠ দিনের যোহরের নামাজ বাতিল হয়ে গেছে (কারণ হায়েজ চলছিল)।
  • ৭ম দিন সকালে সাদা দেখার পর হায়েজ শেষ → এখন গোসল ফরজ।
  • কাজা: যোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর — এই ৫ ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করতে হবে।

৫. সতর্কতামূলক (এহতিয়াত) সমাধান

যেহেতু সন্দেহ রয়েছে, এহতিয়াত (সতর্কতা) হলো:

  1. ফরজ গোসল দেবেন — কারণ ৭ম দিনে সকালে সাদা দেখা গেছে, অর্থাৎ হায়েজ শেষ।
  2. কাজা নামাজ: যোহর থেকে ফজর পর্যন্ত ৫ ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করবেন (যোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর)। কারণ:
    • যদি পায়জামার দাগ নতুন রক্ত হয় → যোহরও কাজা।
    • যদি পুরনো হয় → যোহর আদায় হয়ে গেছে, বাকি ৪ ওয়াক্ত কাজা।
    • এহতিয়াত হিসেবে ৫ ওয়াক্তই আদায় করা নিরাপদ।

নিয়ম: সন্দেহের ক্ষেত্রে বেশি সংখ্যা ধরে কাজা আদায় করা উত্তম। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৯০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ২১২)

৬. ভবিষ্যতের জন্য নির্দেশনা

  • হায়েজের দিনগুলোতে প্রতি ওয়াক্ত নামাজের সময় টিস্যু দিয়ে চেক করা উত্তম, যাতে পবিত্রতা নিশ্চিত হয়ে নামাজ আদায় করা যায়।
  • সাদা স্রাব দেখা দেওয়ার পর আর রক্ত না আসলে হায়েজ শেষ; গোসল করে নামাজ শুরু করবেন।
  • যদি ১০ দিনের ভেতরে আবার রক্ত আসে → হায়েজ চলবে, নামাজ বন্ধ থাকবে।
  • ১০ দিনের পর রক্ত আসলে → ইস্তিহাজা; গোসল করে নামাজ আদায় করবেন, তবে প্রত্যেক নামাজের আগে অজু করবেন। (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৪০)

চূড়ান্ত উত্তর

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | ফরজ গোসল দিতে হবে? | হ্যাঁ, ৭ম দিনে সকালে সাদা দেখার পর হায়েজ শেষ হয়েছে, তাই ফরজ গোসল দিতে হবে। | | কত ওয়াক্তের নামাজ কাজা? | এহতিয়াত হিসেবে ৫ ওয়াক্ত (যোহর, আসর, মাগরিব, এশা, ফজর)। যদি নিশ্চিত হন যে পায়জামার দাগ পুরনো ছিল, তাহলে ৪ ওয়াক্ত (আসর, মাগরিব, এশা, ফজর)। |

দলিল: সূরা বাকারা: ২২২; হাদিস (তিরমিজি, আবু দাউদ); রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ২৮৪-২৯০; ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৭; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ১৩৫-১৪০; ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ২১২।


আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.