স্বামী যদি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া শুধু উপদেশ হিসেবে বলেন "খারাপ হলে ডিভোর্স নিয়ে নিও" — তাহলে কি স্ত্রী তালাকের অধিকার পাবে?

Marriage and Divorce · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 6195
Questioner: Alisha Tasnim
Question Asked: 01 Oct 2026, 11:52 AM
Reviewed & Published: 01 Oct 2026, 12:02 PM
Views: 16
Tokens: 3,767
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

স্বামী যদি বলেন যে, তোমার যদি ফিউচারে আমাকে ভালো না লাগে তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দিবা, চিট করবা না। বা ডিভোর্স নিয়ে নিস বা নিস বা নিবি নিয়ে দিয়ে খারাপ হোস—এগুলা অধিকার প্রদানের নিয়ত ছাড়া বলেছেন, তাহলে কি অধিকার পাওয়া যায়?" তিনি মূলত বুঝিয়েছেন আমাকে খারাপ না হয়ে ভালোভাবে থাকার জন্য উপদেশ দিয়েছেন, খারাপ হওয়ার ইচ্ছা হলে তাঁর থেকে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে তখন যা ইচ্ছা করতে পারি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার কোনো অধিকার দেননি।

Answer

তালাকের অধিকার প্রদান: শর্ত ও নিয়তের বিশ্লেষণ

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

স্বামী বলেছেন: "ভবিষ্যতে যদি আমাকে ভালো না লাগে, তাহলে ডিভোর্স দিয়ে দেব; চিট করবে না।" অথবা "ডিভোর্স নিয়ে নিস, বা নিস, বা নিবি নিয়ে খারাপ হোস।" — কিন্তু এসব কথা বলার সময় তিনি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি; বরং উদ্দেশ্য ছিল স্ত্রীকে সতর্ক করা ও ভালোভাবে থাকার উপদেশ দেওয়া। প্রশ্ন হলো: এতে স্ত্রী কি তালাকের অধিকার (তালাক-ই-তাফবিজ) পেয়ে যায়?


মূল নীতি: আমল নির্ভর করে নিয়তের উপর

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»

"নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করেছে।"

— সহীহ বুখারী (১), সহীহ মুসলিম (১৯০৭)

তালাক ও তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবিজ) একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এটি নিয়ত ও ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় যখন স্বামী প্রকৃতপক্ষে তা প্রদানের ইচ্ছা ও নিয়ত করে। নিছক শর্তসাপেক্ষ বাক্য বা উপদেশমূলক কথা তাফবিজ হিসেবে গণ্য হয় না।"

— ইগাসাতুল লাহফান, ১/৩৪০ (মূলভাব)


আলেমদের অভিমত

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)

তিনি বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান (তাফবিজ) একটি চুক্তি। এটি তখনই কার্যকর হয় যখন স্বামী তা প্রদানের নিয়ত করে। যদি কেউ শুধু ভয় দেখানোর জন্য বা উপদেশ দেওয়ার জন্য বলে, 'তুমি যদি খারাপ হও, তাহলে ডিভোর্স নিয়ে নিও' — তবে তা তাফবিজ নয়; বরং তা ওয়াদা বা শর্ত, যা নিয়ত ছাড়া কার্যকর হয় না।"

— মাজমুউল ফাতাওয়া, ৩৩/৯৮ (মূলভাব)

শাইখ ইবন উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)

তিনি বলেন:

"যদি স্বামী বলে, 'তুমি যদি অমুক কাজ কর, তাহলে তুমি তালাকপ্রাপ্ত' — এটা তালাকের শর্ত। কিন্তু যদি বলে, 'তুমি যদি চাও, তালাক নিয়ে নিও' — এটা তাফবিজ। তাফবিজের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত। যদি নিয়ত না থাকে, তবে তা তাফবিজ হিসেবে গণ্য হবে না।"

— আশ-শারহুল মুমতি, ১৩/৫২ (মূলভাব)

শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ)

তিনি বলেন:

"তালাকের অধিকার প্রদান তখনই সাব্যস্ত হয় যখন স্বামী স্পষ্টভাবে বা নিয়তসহ তা প্রদান করে। শুধু উপদেশমূলক কথা বা ভয় দেখানোর কথা তাফবিজ হিসেবে গণ্য হয় না।"

— মাজমুউ ফাতাওয়া ইবন বায, ২১/২৩০ (মূলভাব)


প্রশ্নের প্রয়োগ

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী:

১. স্বামীর উদ্দেশ্য ছিল উপদেশ দেওয়া — তিনি চেয়েছেন আপনি ভালোভাবে থাকুন, খারাপ না হন। ২. তিনি তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি — বরং বলেছেন, "খারাপ হলে তালাক চেয়ে নিয়ে আলাদা হয়ে যাও।" ৩. তিনি নিজে থেকে তালাক নেওয়ার অধিকার দেননি — বরং বলেছেন, প্রয়োজনে তার কাছ থেকে তালাক চেয়ে নিতে।

সুতরাং, এসব কথাকে তালাক-ই-তাফবিজ (তালাকের অধিকার প্রদান) হিসেবে গণ্য করা যাবে না। কারণ:

  • তাফবিজের জন্য স্পষ্ট নিয়ত ও ইচ্ছা প্রয়োজন।
  • শুধু উপদেশমূলক বা সতর্কতামূলক কথা তাফবিজ নয়।
  • "তালাক চেয়ে নিও" বলা মানে এই নয় যে স্বামী তালাকের অধিকার দিয়েছেন; বরং এটি স্বাভাবিক বিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার দিকনির্দেশনা।

উপসংহার

না, এতে স্ত্রী তালাকের অধিকার (তাফবিজ) পান না। কারণ স্বামী তালাকের অধিকার প্রদানের নিয়ত করেননি; বরং তিনি উপদেশ ও সতর্কতা হিসেবে কথাগুলো বলেছেন। তালাক-ই-তাফবিজ একটি চুক্তি, যা নিয়ত ও স্পষ্ট ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। নিয়ত ছাড়া তা প্রতিষ্ঠিত হয় না।

তবে হ্যাঁ, যদি স্বামী স্পষ্টভাবে বলেন: "আমি তোমাকে তালাকের অধিকার দিলাম" বা "তুমি যখন চাও, নিজেকে তালাক দিতে পারবে" — এবং তা প্রদানের নিয়ত করেন, তাহলে তাফবিজ প্রতিষ্ঠিত হবে।


সতর্কতা

স্ত্রী যদি নিজে থেকে তালাক নিতে চান, তবে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তাকে স্বামীর কাছ থেকে তালাক চেয়ে নিতে হবে অথবা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী খুলা'র মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটাতে হবে। নিজে থেকে তালাক দেওয়ার অধিকার শরীয়তে স্ত্রীর জন্য নেই, যদি না স্বামী স্পষ্টভাবে তাফবিজ প্রদান করে।


রেফারেন্স

  • সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১
  • সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯০৭
  • মাজমুউল ফাতাওয়া ইবন তাইমিয়্যাহ, ৩৩/৯৮
  • মাজমুউ ফাতাওয়া ইবন বায, ২১/২৩০
  • আশ-শারহুল মুমতি, ১৩/৫২
  • ইগাসাতুল লাহফান, ১/৩৪০

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.