তাহাজ্জুদে দোয়ার পর প্রস্তাব আসা — এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
একদিন আমি তাহাজ্জুদে কান্নাকাটি করে আল্লাহ তাআলার কাছে বলি মালিক আমার জীবনের ইচ্ছা আমি ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করে দাওয়াতী কাজ করব, আবার আমার বিয়ের জরুরত প্রকাশ পেয়েছে! ওলামায়ে কেরামের লেখা পড়েছি যে পড়ালেখার রানিং থাকা অবস্থায় বিবাহ করলে সাংসারিক ব্যস্ততায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় অনেক সময়! তাই ত্বলিবুল ইলমের উচিত যদি সম্ভব হয় তাহলে জ্ঞান অর্জনের দিকে মনোযোগ দেয়া, বিবাহ কিছুদিন পরে করা। আমি আল্লাহকে বলেছি মালিক তুমি চাইলে সবই সম্ভব, যদি আমার জন্য জ্ঞান অর্জন এবং বিবাহ উভয়টি একসাথে কল্যাণ করা হয়; তাহলে সেই ব্যবস্থা করে দাও।
যেদিন তাহাজ্জুদে এই দোয়া করেছি ওই দিনই সন্ধ্যা বেলায় অর্ধেকদিন নামের একটা ওয়েবসাইটে আমার বায়োডাটা জমা দেওয়া ছিল, সেখান থেকে একজন বোন আমার বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আরো আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে সে আমাকে জ্ঞান অর্জনে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে সহযোগিতা করবে এমনটা বলেছিলেন, তার মানসিকতার সাথেও আমার অনেক মিল আছে।
এরপর দু- একদিন কথা বলার পরে আমি আমার গার্ডিয়ান নিয়ে তাকে দেখতে যাই। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে যে তাকে দেখে আমার ভালো লাগেনি! ভালো না লাগার অনেক কারণ আছে! যেমন, সে ডিভোর্সী, আমি অবিবাহিত! সে আমার থেকে অনেক খাটো, তার দাঁতের একটু সমস্যা আছে যেটা আমার ভালো লাগেনি, আমি জানি যে এগুলো আল্লাহ তাআলা তাকে দিয়েছে, এটা তার দোষ নয়। কিন্তু আমারও তো পছন্দের জায়গা থাকতে পারে যা ইসলাম আমাকে সে অধিকার দিয়েছে আলহামদুলিল্লাহ। আমি কয়েকবার ইস্তেখারা করে নিজের পছন্দকে কোরবানি করে শুধুমাত্র দ্বীনের জন্য আমি লাগাইছিলাম, কিন্তু আমার মধ্যে প্রশান্তি কাজ করতেছিল না! কেমনে যেন অস্থির লাগতেছিল, মানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলতেই পারতেছিলাম না যে আমার বিবাহ তার সাথে!
আবার শুধুমাত্র যে দ্বীনের কারণে আমি তাকে পছন্দ করব সেখানেও কিছু সমস্যা ধরা পড়ে! যেমন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমার সঙ্গে কথা বলা ফোনে, উচ্চকণ্ঠে কথা বলা, পরিশেষে সে ঢাকা শহরের দোকানে গিয়ে দাঁড়িয়ে ফুচকা খেয়েছিল যেটা আমার একদম পছন্দ হয়নি! যদিও এগুলো সে পরিবর্তন করতে চেয়েছে এবং নিজের ভুল বুঝতে পারছে। বলে রাখা ভালো, যে পাত্রী আমার সাথে যোগাযোগ করেছে, সে আমাকে অসম্ভবভাবে পছন্দ করে।
-> কিন্তু এরপরেও আমি তাকে না করে দেই।
যেদিন না করে দিব তার আগে লাস্ট আমি একবার ইস্তেখারা করি রাতে, এস্তেখাড়া করে ঘুমানোর পরে আমি ব্যক্তিগতভাবে যে মেয়েকে বিবাহ করতে চাই তাকে বিবর্ষ অবস্থায় দেখি! মানে বিষয়টা এরকম যে আমি যাকে চাই সে কল্যাণকর নাও হতে পারে, ওয়েবসাইট থেকে যে পাত্রী আমার সাথে যোগাযোগ করছে সেই কল্যাণকর হতে পারে। আমি এই স্বপ্নের মানে জানিনা, তবে যেদিন না করে দিব লাস্ট টাইম এই স্বপ্নটা দেখি।
না করে দেয়ার পর আমি আইওএম এর আহলিয়া ডটকমের টেলিগ্রাম গ্রুপ থেকে একটা পোস্ট দেখতে পাই যেখানে উসাইমিন রহঃ রেফারেন্স দিয়ে একটা কথা বলা হয়েছে যে, কথাটা হচ্ছেঃ
আপনি যেমন চেয়েছেন তেমন হয়নি? আল্লাহ আপনার জন্য যেমন সিলেক্ট করেছেন সেটা অপছন্দ কইরেন না। হতে পারে আল্লাহ এমন বিষয় নির্বাচন করেছেন যাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ। (শারহু রিয়াদুস সলিহুন ৩/৩০৯)
এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছেঃ আমি যতটুকু দোয়া করেছি তার মধ্যে অন্যতম দোয়া হচ্ছে যে, মালিক এই মেয়ে আমার জন্য কল্যাণকর হলে অন্তরকে প্রশান্ত করে দাও, কিন্তু আমার ভেতর সেটা হয়নি বরং অস্থিরতা কাজ করতেছিল। এই যে তাকে আমার ভালো লাগেনি, আর ভালো না লাগার কারণে ভিতরে যে অস্থিরতা কাজ করতেছিল সেগুলোর কারণে যে না করে দিলাম! এটা কি ঠিক হয়েছে?
নাকি আমার দোয়া করার পরে যেহেতু আসছে এবং আমি যেভাবে দোয়া করেছি সেভাবেই সে আমাকে সাহায্য করতে চেয়েছে এবং আমার সাথে তার মানসিকতারও অনেক মিল আছে, এসব কারণে কি আমার আবার তাকে গ্রহণ করা উচিত কিনা? মানে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ এর উক্তিটি জানার পরে আমার কাছে মনে হল যে আমি ভুল করলাম কিনা! লাস্ট টাইম না করে দেওয়ার আগে ইস্তেখাড়া করে ঘুমানোর পর যে স্বপ্ন যা উপর উল্লেখ করেছি, এটার কারণেও কি আমার আবার যোগাযোগ করা উচিত হবে কিনা?
নাকি যেটা চলে গেছে সেটা নিয়ে আর না ভাবাই উচিত? কারণ আমার তো সেরকম ভাবে পছন্দ হয়নি এবং অস্থিরতা কাজ করতেছিল!
আমি ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী আমার মূল দ্বন্দ্ব বুঝে স্পষ্টভাবে হ্যা/না সমাধান চাই।
সংক্ষেপে আমার মূলদ্বন্দ্ব হচ্ছেঃ তাকে দেখে আমার পছন্দ হয়নি! এখন দোয়া করার পরেই যেহেতু আসছে, এটার উপর নির্ভর করে আমি তাকে বিবাহ করব কিনা? মানে দোয়া করার পরে যেহেতু আসছে তো পছন্দ না হলেও আল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে কোন কারণে ভালো লাগিয়ে দিতে পারে! এরকম কিনা? আর না করলে কোন প্রকার শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে কিনা?
Answer
প্রশ্নের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও ফিকহি সমাধান
মূল প্রশ্নের সারসংক্ষেপ
আপনার মূল দ্বন্দ্ব তিনটি স্তরে বিভক্ত:
১. তাহাজ্জুদে দোয়ার পর প্রস্তাব আসা — এটি কি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত? ২. পাত্রীকে দেখে পছন্দ না হওয়া — ইসলামে পাত্রী পছন্দ না করার অধিকার আছে কি? ৩. ইস্তেখারার স্বপ্ন ও উসাইমীন রহ.-এর উক্তি — এগুলো কি না করার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে?
১. দোয়ার পর প্রস্তাব আসা — এটি কি আল্লাহর নির্দেশ?
উত্তর: না, এটি আল্লাহর নির্দেশ বা বাধ্যতামূলক ইশারা নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ "তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন: আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" — (সূরা গাফির: ৬০)
দোয়ার পর কোনো কিছু ঘটে যাওয়া মানে এই নয় যে, সেটিই আল্লাহর চূড়ান্ত নির্দেশ। আল্লাহ দোয়া কবুল করেন — কিন্তু কবুলের পদ্ধতি একাধিক:
- কখনো চাওয়া বস্তু দেন,
- কখনো তার চেয়ে উত্তম দেন,
- কখনো আখিরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন,
- কখনো বিপদ দূর করেন।
হাদিসে এসেছে:
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ لَيْسَ فِيهَا إِثْمٌ وَلَا قَطِيعَةُ رَحِمٍ إِلَّا أَعْطَاهُ اللَّهُ بِهَا إِحْدَى ثَلَاثٍ: إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ، وَإِمَّا أَنْ يَصْرِفَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا "যে মুসলিম এমন দোয়া করে যাতে গুনাহ বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার কিছু নেই, আল্লাহ তাকে তিনটির একটি দেন: হয় তাৎক্ষণিকভাবে দোয়া কবুল করেন, অথবা আখিরাতের জন্য সংরক্ষণ করেন, অথবা তার সমপরিমাণ অনিষ্ট দূর করে দেন।" — (মুসনাদ আহমাদ: ১১১৩৩; সহীহ তারগীব: ১৬৩৩)
সুতরাং: দোয়ার পর প্রস্তাব আসা আল্লাহর পক্ষ থেকে "এই মেয়েকেই বিয়ে করো" — এমন কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ নয়। এটি দোয়ার একটি সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া মাত্র।
২. পাত্রীকে দেখে পছন্দ না হওয়া — ইসলামে অধিকার আছে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, ইসলামে পাত্র-পাত্রী উভয়েরই পছন্দ-অপছন্দের অধিকার রয়েছে।
ক. পাত্রীর দিক থেকে সম্মতি শর্ত
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
لَا تُنْكَحُ الْأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ "বিধবা নারীর সম্মতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না, এবং কুমারী নারীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেওয়া যাবে না।" — (সহীহ বুখারী: ৫১৩৬; সহীহ মুসলিম: ১৪১৯)
খ. পাত্রের দিক থেকে পছন্দের অধিকার
রাসূলুল্লাহ ﷺ পাত্রকে পাত্রী দেখার অনুমতি দিয়েছেন:
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ الْمَرْأَةَ فَإِنِ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়, তখন যদি সে তার কাছে এমন কিছু দেখতে পারে যা তাকে বিবাহে উৎসাহিত করে, তবে সে যেন তা করে।" — (সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২; মুসনাদ আহমাদ: ১৪৪৮০; হাসান)
ইমাম ইবনে আবিদীন রহ. বলেন:
وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى وَجْهِهَا وَكَفَّيْهَا لِيَعْلَمَ حُسْنَهَا فَيَرْغَبَ فِيهَا "পাত্রের জন্য পাত্রীর চেহারা ও হাত দেখে নেওয়া মুস্তাহাব, যাতে সে তার সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে পারে এবং আগ্রহী হয়।" — (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৬৭)
সুতরাং: পাত্রীকে দেখে পছন্দ না হলে বিবাহ না করা সম্পূর্ণ শরিয়তসম্মত। এটি কোনো গুনাহ নয়, বরং এটি ইসলাম প্রদত্ত অধিকার।
৩. ইস্তেখারার স্বপ্ন — এর ব্যাখ্যা ও প্রভাব
ক. ইস্তেখারার মূল পদ্ধতি
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইস্তেখারার দোয়া শিখিয়েছেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ... "হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞান দ্বারা কল্যাণ প্রার্থনা করছি, তোমার কুদরত দ্বারা সামর্থ্য প্রার্থনা করছি..." — (সহীহ বুখারী: ১১৬৬)
ইস্তেখারার ফলাফল স্বপ্নে আসা আবশ্যক নয়। ইস্তেখারার প্রকৃত ফলাফল হলো:
- অন্তরে প্রশান্তি বা অস্থিরতা,
- বিষয়টি সহজ হয়ে যাওয়া বা বাধাগ্রস্ত হওয়া,
- সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।
ইমাম নববী রহ. বলেন:
وَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْمُسْتَخِيرُ بَعْدَ الدُّعَاءِ خَالِيَ الذِّهْنِ عَمَّا كَانَ يَمِيلُ إِلَيْهِ، ثُمَّ يَفْعَلُ مَا يَنْشَرِحُ لَهُ صَدْرُهُ "ইস্তেখারাকারীর উচিত দোয়ার পর নিজের পূর্বের ঝোঁক থেকে মন খালি রাখা, অতঃপর যা দ্বারা তার বক্ষ প্রশস্ত হয় তা করা।" — (আল-আযকার: ১৩২)
খ. আপনার স্বপ্নের বিশ্লেষণ
আপনি স্বপ্নে দেখেছেন যে, আপনি যাকে বিয়ে করতে চান সে "বিবর্ষ" (বিরক্ত/অসন্তুষ্ট) অবস্থায়। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা:
- এটি স্পষ্ট ইশারা নয় যে, ওয়েবসাইটের পাত্রীই আপনার জন্য কল্যাণকর।
- স্বপ্ন ইসলামি বিধান প্রমাণের দলিল নয়। স্বপ্ন দ্বারা হুকুম প্রমাণিত হয় না।
- ইমাম ইবনে সীরীন রহ. বলেন: স্বপ্ন তিন প্রকার — (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) শয়তানের কুমন্ত্রণা, (৩) মনের কল্পনা।
আপনার ক্ষেত্রে: আপনি যেহেতু ওয়েবসাইটের পাত্রীকে পছন্দ করেননি এবং অন্তরে অস্থিরতা অনুভব করেছেন — এটি ইস্তেখারার একটি স্পষ্ট ফলাফল: এই বিবাহ আপনার জন্য উপযুক্ত নয়।
৪. উসাইমীন রহ.-এর উক্তির প্রসঙ্গ
উসাইমীন রহ.-এর উক্তিটি হলো:
"আল্লাহ আপনার জন্য যেমন সিলেক্ট করেছেন সেটা অপছন্দ করবেন না। হতে পারে আল্লাহ এমন বিষয় নির্বাচন করেছেন যাতে রয়েছে অনেক কল্যাণ।"
এই উক্তির সঠিক প্রেক্ষাপট:
- এটি সেই সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে আল্লাহর বিধান বা কাদার (তাকদীর) এসেছে এবং তা অপছন্দ করা যায় না।
- কিন্তু পাত্রী পছন্দ না হওয়া আল্লাহর বিধান নয় — এটি আপনার স্বাধীন ইচ্ছার বিষয়।
- ইসলাম আপনাকে পাত্রী দেখে পছন্দ-অপছন্দ করার অধিকার দিয়েছে। সুতরাং পছন্দ না হলে তা "আল্লাহর সিলেকশন অপছন্দ করা" নয়।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন:
الْمَحَبَّةُ وَالْبُغْضُ الطَّبِيعِيَّانِ لَا يُؤَاخَذُ بِهِمَا الْعَبْدُ "স্বাভাবিক ভালোবাসা ও অপছন্দের জন্য বান্দাকে জবাবদিহি করা হবে না।" — (মাজমুউল ফাতাওয়া: ১০/৬১৩)
৫. আপনার মূল দ্বন্দ্বের স্পষ্ট সমাধান
প্রশ্ন ১: দোয়ার পর আসছে বলে পছন্দ না হলেও বিয়ে করা কি জরুরি?
উত্তর: না, জরুরি নয়।
- দোয়ার পর প্রস্তাব আসা আল্লাহর বাধ্যবাধকতা নয়।
- ইসলামে পাত্র-পাত্রীর সম্মতি ও পছন্দ বিবাহের অন্যতম শর্ত।
- পছন্দ না থাকলে বিবাহ করলে উভয়ের জন্য ক্ষতির আশঙ্কা।
- রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "لا ضرر ولا ضرار" — ক্ষতি করা যাবে না, ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)
প্রশ্ন ২: না করলে কোনো শাস্তি হবে কি?
উত্তর: না, কোনো শাস্তি নেই।
- এটি আপনার শরিয়তসম্মত অধিকার।
- আল্লাহ তাআলা বলেন: "وَلَا تَكْسِبُ كُلُّ نَفْسٍ إِلَّا عَلَيْهَا" — "প্রতিটি আত্মা নিজের কাজের দায়ী।" (সূরা আনআম: ১৬৪)
- পছন্দ না করে বিবাহ না করা কোনো গুনাহ নয়।
প্রশ্ন ৩: আবার যোগাযোগ করা কি উচিত?
উত্তর: না, যোগাযোগ করা উচিত নয়।
কারণসমূহ:
- আপনি অন্তরে অস্থিরতা অনুভব করেছেন — এটি ইস্তেখারার নেতিবাচক ফলাফল।
- পাত্রীকে দেখে পছন্দ হয়নি — এটি শরিয়তসম্মত কারণ।
- আপনি ইতিমধ্যে না করে দিয়েছেন — পুনরায় যোগাযোগ করলে উভয়ের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে।
- পাত্রীর কিছু আচরণ (রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলা, উচ্চকণ্ঠে কথা বলা, প্রকাশ্যে ফুচকা খাওয়া) আপনার দ্বীনি মানদণ্ডের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ইমাম শাফেঈ রহ. বলেন:
إِذَا اسْتَخَارَ الْعَبْدُ رَبَّهُ فَلْيَمْضِ لِمَا يَنْشَرِحُ لَهُ صَدْرُهُ "বান্দা যখন ইস্তেখারা করে, তখন তার বক্ষ যে দিকে প্রশস্ত হয় সেদিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।"
আপনার বক্ষ এই বিবাহের দিকে প্রশস্ত হয়নি — বরং অস্থিরতা অনুভব করেছে। সুতরাং না করা-ই সঠিক সিদ্ধান্ত।
৬. ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা
১. তাহাজ্জুদে দোয়া চালিয়ে যান — আল্লাহর কাছে কল্যাণকর জীবনসঙ্গী প্রার্থনা করুন। ২. ইস্তেখারার দোয়া শিখে নিন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তা পড়ুন। ৩. পাত্রী নির্বাচনে দ্বীন ও চরিত্রকে প্রাধান্য দিন — রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ لِأَرْبَعٍ: لِمَالِهَا، وَلِحَسَبِهَا، وَلِجَمَالِهَا، وَلِدِينِهَا، فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ "নারীকে চারটি কারণে বিয়ে করা হয়: তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীন। তুমি দ্বীনদার নারীকে অগ্রাধিকার দাও।" — (সহীহ বুখারী: ৫০৯০; সহীহ মুসলিম: ১৪৬৬)
৪. পাত্রী দেখার সময় শরিয়তের সীমা রক্ষা করুন — মাহরামসহ দেখা, শুধু চেহারা ও হাত দেখা। ৫. অতিরিক্ত আবেগ বা দোয়ার পর আসছে বলে চাপ অনুভব করবেন না — আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন, তিনি উত্তম ব্যবস্থা করবেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (হ্যাঁ/না)
| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|-------| | দোয়ার পর আসছে বলে পছন্দ না হলেও বিয়ে করা জরুরি? | না | | না করলে শাস্তি হবে? | না | | আবার যোগাযোগ করা উচিত? | না | | ইস্তেখারার স্বপ্ন কি না করার সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করে? | না | | উসাইমীন রহ.-এর উক্তি কি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? | না | | আপনার সিদ্ধান্ত (না করা) কি সঠিক ছিল? | হ্যাঁ, সঠিক ছিল |
রেফারেন্স
- সহীহ বুখারী: ১১৬৬, ৫০৯০, ৫১৩৬
- সহীহ মুসলিম: ১৪১৯, ১৪৬৬
- সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২
- সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৪১
- মুসনাদ আহমাদ: ১১১৩৩, ১৪৪৮০
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ৬/৩৬৭