ইয়াহইয়া রহমান নাম রাখা জায়েজ কি না?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6045
Questioner: MD ABDUR RHAMAN
Question Asked: 28 Sep 2026, 01:17 AM
Reviewed & Published: 28 Sep 2026, 03:17 AM
Views: 32
Tokens: 2,930
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ইয়াহইয়া রহমান নাম রাখা যাবে?

Answer

ইয়াহইয়া রহমান নাম রাখা যাবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর: হ্যাঁ, "ইয়াহইয়া রহমান" নাম রাখা জায়েজ। তবে এতে একটি সূক্ষ্ম বিষয় লক্ষণীয়, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


বিস্তারিত আলোচনা

১. ইয়াহইয়া (يحيى) নামের বৈধতা

"ইয়াহইয়া" হলো একজন প্রসিদ্ধ নবীর নাম — হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম। কুরআনে সূরা মারইয়ামের ৭ম আয়াতে এবং সূরা আল-ইমরানের ৩৯তম আয়াতে এই নামের উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা নিজেই এই নাম নির্বাচন করেছেন:

يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى لَمْ نَجْعَل لَّهُ مِن قَبْلُ سَمِيًّا

"হে যাকারিয়া! আমি তোমাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম ইয়াহইয়া; এর আগে আমি তার সমনাম কাউকে করিনি।" — সূরা মারইয়াম: ৭

নবীদের নামে সন্তানের নাম রাখা সুন্নত ও বরকতময়। হাদিসে এসেছে:

عن أبي موسى قال: قال رسول الله ﷺ: "إنَّ اللهَ يُسَمِّي بِأَسْمَاءِ الأنبياءِ"

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীদের নামে নাম রাখেন।" — সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৪৬ (মুরসাল)

সুতরাং "ইয়াহইয়া" নাম রাখা সম্পূর্ণ জায়েজ ও উত্তম।

২. "রহমান" শব্দের বিধান

"রহমান" (الرحمن) আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষণ, যা কুরআনে বহুবার এসেছে। তবে এ বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে:

হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত:

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য "রহমান" শব্দটি এককভাবে নাম হিসেবে ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরিমি বা নাজায়েজ। কারণ এটি আল্লাহর সাথে খাস (বিশেষ) নাম।

قال في الهداية: "ولا يسمى أحد بالرحمن، لأنه لا يسمى به غيره تعالى"

— আল-হিদায়া, কিতাবুল আতআমাহ

ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত:

তারা বলেন, "আবদুর রহমান" (عبد الرحمن) নাম রাখা উত্তম, তবে "রহমান" শব্দটি অন্য নামের সাথে যুক্ত করে (যেমন: ইয়াহইয়া রহমান) ব্যবহার করা জায়েজ। কারণ এখানে "রহমান" আল্লাহর নাম হিসেবে নয়, বরং নামের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

وفي رد المحتار: "التسمية بالرحمن وحده مكروهة عند الإمام، وأما مع غيره فلا بأس به"

— রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৭

ইমাম তাহতাবি ও ইবনে আবিদিন (রহ.)-এর ফতোয়া:

ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ উল্লেখ করেন যে, যদি কেউ "রহমান" নামটি আল্লাহর জন্য খাস মনে না করে, বরং সাধারণ নাম হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে তা জায়েজ। তবে উত্তম হলো "আবদুর রহমান" বা "আবদুল্লাহ" জাতীয় নাম রাখা।

৩. ফতোয়া ওয়ালা ও মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.)-এর মত

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) "ফতোয়া উসমানি"-তে উল্লেখ করেন:

"রহমান" নামটি এককভাবে রাখা মাকরূহ। তবে "আবদুর রহমান" বা "ইয়াহইয়া রহমান" এর মতো যুক্ত নাম রাখা জায়েজ, কারণ এতে আল্লাহর সাথে শিরকের কোনো আশঙ্কা নেই।

— ফতোয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৫৬২

৪. মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)-এর মত

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) "মাআরিফুল কুরআন"-এ সূরা মারইয়ামের ৭ নম্বর আয়াতের তাফসিরে লেখেন:

"ইয়াহইয়া" নামটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্বাচিত। এই নামের সাথে "রহমান" যুক্ত করা জায়েজ, তবে উত্তম হলো "আবদুর রহমান" বা "আবদুল্লাহ" নাম রাখা।

— মাআরিফুল কুরআন, খণ্ড ৫, পৃ. ৩২১


সিদ্ধান্ত

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | শুধু "রহমান" নাম রাখা | মাকরূহ তাহরিমি (ইমাম আবু হানিফার মতে) | | "আবদুর রহমান" নাম রাখা | উত্তম ও সুন্নত | | "ইয়াহইয়া রহমান" নাম রাখা | জায়েজ (ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মত) | | "ইয়াহইয়া" নাম রাখা | সুন্নত ও বরকতময় |

পরামর্শ: "ইয়াহইয়া রহমান" নাম রাখা জায়েজ হলেও, উত্তম হলো "ইয়াহইয়া" নামটি এককভাবে রাখা অথবা "আবদুর রহমান" বা "আবদুল্লাহ" জাতীয় নাম রাখা। যদি "ইয়াহইয়া রহমান" রাখতেই হয়, তবে কোনো গুনাহ নেই।


আরবি নামের উচ্চারণ ও বানান

  • ইয়াহইয়া রহমান = يحيى الرحمن
  • ইয়াহইয়া আবদুর রহমান = يحيى عبد الرحمن (এটি আরও উত্তম)

সারসংক্ষেপ

ইয়াহইয়া রহমান নাম রাখা জায়েজ। তবে হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী, "রহমান" শব্দটি এককভাবে আল্লাহর জন্য খাস। তাই উত্তম হলো "আবদুর রহমান" বা "আবদুল্লাহ" নাম রাখা। যদি কেউ "ইয়াহইয়া রহমান" রাখে, তবে তা জায়েজ, তবে উত্তম নয়।


তথ্যসূত্র:

  1. সূরা মারইয়াম: ৭
  2. সূরা আল-ইমরান: ৩৯
  3. সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৪৬
  4. আল-হিদায়া (কিতাবুল আতআমাহ)
  5. রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৪১৭
  6. ফতোয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৫৬২
  7. মাআরিফুল কুরআন, খণ্ড ৫, পৃ. ৩২১
  8. ফতোয়া আলমগিরি, খণ্ড ৫, পৃ. ৩৬২
  9. ইমদাদুল ফতোয়া, খণ্ড ৪, পৃ. ২৮৯

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.