আড়ং-এর পণ্য কেনার বৈধতা প্রসঙ্গে

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 6010
Questioner: M S A
Question Asked: 27 Sep 2026, 01:12 PM
Reviewed & Published: 27 Sep 2026, 02:27 PM
Views: 6
Tokens: 9,101
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

মুহতারাম মুফতি সাহেব,
আসসালামু আলাইকুম,

যেহেতু, আড়ং নামক প্রতিষ্ঠানটি ব্র‍্যাকের সাথে সংশ্লিষ্ট আর ব্র‍্যাক ট্রান্সজেন্ডার ইস্যুর কারণে প্রায়ই আলোচনায় এসেছে ।
আমি গুগলের জেমিনাই এআই কে একটা প্রশ্ন করেছিলাম যে,
➤ BRAC সমকামী যৌন আচরণকে সরাসরি উৎসাহিত করার জন্য আড়ং থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করে—এমন নির্দিষ্ট আর্থিক কোন প্রমাণ পেলে আমাকে জানাও ।

তারপরে এই উত্তরটা পেয়েছি ।

➤ব্র্যাক (BRAC) সমকামী যৌন আচরণকে সরাসরি উৎসাহিত করার জন্য আড়ং (Aarong) থেকে প্রাপ্ত অর্থ ব্যয় করে—এমন সুনির্দিষ্ট বা প্রমাণিত কোনো আর্থিক তথ্য বা প্রমাণ নেই।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন আলোচনায় বিভিন্ন সময় এ ধরনের অভিযোগ কিংবা গুঞ্জন উঠলেও, সেগুলোর সপক্ষে কোনো প্রকাশ্য বা নির্ভরযোগ্য অডিট রিপোর্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক বিবরণী পাওয়া যায় না।এই বিষয়ে মূল বাস্তবভিত্তিক তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:আড়ংয়ের আয়ের উৎস ও ব্যবহার: আড়ং মূলত একটি সামাজিক উদ্যোগ (Social Enterprise)। আড়ংয়ের প্রাতিষ্ঠানিক বিবরণী অনুযায়ী, এর লভ্যাংশের একটি বড় অংশ গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত কারুশিল্পীদের উন্নয়ন এবং ব্র্যাকের মূলধারার উন্নয়নমূলক কর্মসূচি যেমন—দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত প্রকল্পে ব্যয় করা হয়।বিতর্কের উৎস: ব্র্যাক ও আড়ংয়ের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠার মূল কারণ হলো জেন্ডার বৈচিত্র্য, তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার) জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি। বাংলাদেশে ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাকের কিছু অঙ্গসংগঠন প্রান্তিক তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির কাজ করে থাকে। এটিকে অনেকে সমকামিতা বা এলজিবিটি (LGBT) ধারণার প্রচার হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা বা অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান: ব্র্যাক এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে তারা দেশের প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সমকামী আচরণকে সরাসরি উৎসাহিত বা প্রচার করার মতো কোনো কার্যক্রম তারা পরিচালনা করে না।সংক্ষেপে, ব্র্যাক বা আড়ংয়ের তহবিল থেকে সমকামিতা প্রচারের উদ্দেশ্যে সরাসরি অর্থ ব্যয় করার কোনো সুনির্দিষ্ট আর্থিক প্রমাণ বা নথিপত্র জনপরিসরে নেই। (এআই -এর উত্তর শেষ)।


এমতাবস্থায়, আড়ং থেকে ছোট বাচ্চাদের জামা কাপড় কেনা জায়েজ হবে না কী নাজায়েজ হবে?

Answer

আড়ং থেকে ছোট বাচ্চাদের জামা-কাপড় কেনার বিধান

উত্তর: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

সংক্ষিপ্ত উত্তর

আড়ং থেকে ছোট বাচ্চাদের জামা-কাপড় কেনা জায়েজ। তবে ইহতিয়াত (সতর্কতা) হিসেবে অন্য কোনো হালাল প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা উত্তম।

বিস্তারিত আলোচনা

১. মূল নীতি: সন্দেহের ভিত্তিতে হালালকে হারাম করা যায় না

ইসলামী ফিকহের একটি মূলনীতি হলো—

الأصل في الأشياء الإباحة "মূলনীতি হলো, সব বস্তুই হালাল, যতক্ষণ না হারাম হওয়ার সুস্পষ্ট দলিল পাওয়া যায়।"

আল্লাহ তাআলা বলেন:

هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا "তিনিই তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই সৃষ্টি করেছেন।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৯)

২. আপনার উল্লেখিত এআই-এর উত্তরের বিশ্লেষণ

আপনি যে এআই-এর উত্তর পেয়েছেন, তাতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:

  • আড়ং থেকে সমকামিতা প্রচারে সরাসরি অর্থ ব্যয়ের কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই
  • এটি মূলত গুজব ও ভুল ব্যাখ্যা
  • আড়ং একটি Social Enterprise, যার লভ্যাংশ দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীদের ক্ষমতায়নে ব্যয় হয়
  • তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) কর্মসংস্থান করা ≠ সমকামিতা প্রচার

হিজড়াদের প্রতি সদাচরণ ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজড়াদের প্রতি নরম আচরণ করেছেন। হিজড়া হওয়া একটি জন্মগত/জীববৈজ্ঞানিক অবস্থা, যা সমকামী আচরণ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

৩. ফিকহি দৃষ্টিকোণ: সন্দেহ (شبهة) দ্বারা ক্রয়-বিক্রয় হারাম হয় না

ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:

"কোনো বস্তুর মধ্যে হারাম মাল মিশ্রিত হওয়ার সন্দেহ থাকলে, যদি মিশ্রণের পরিমাণ স্পষ্টভাবে জানা না যায় বা প্রমাণিত না হয়, তবে তা ক্রয় করা জায়েজ।"

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে আছে:

"যে বস্তুর হালাল-হারাম সম্পর্কে সন্দেহ আছে, কিন্তু হারাম হওয়া প্রমাণিত নয়, তা ব্যবহার করা মাকরূহ তাহরিমি নয়।"

৪. তবে সতর্কতা (ইহতিয়াত) কাম্য

যদিও জায়েজ, তবে—

  • যদি আপনার কাছে নিশ্চিত প্রমাণ থাকে যে আড়ং সরাসরি হারাম কাজে অর্থ ব্যয় করে, তাহলে বর্জন করা ওয়াজিব হবে।
  • শুধু গুজব বা সন্দেহের ভিত্তিতে বর্জন করা জরুরি নয়, তবে পরহেজগারি হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা উত্তম।

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বাহিশতী জেওর-এ লেখেন:

"সন্দেহপূর্ণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা তাকওয়ার অংশ। কিন্তু সন্দেহকে يقين (নিশ্চিত) মনে করে হারাম বলা ঠিক নয়।"

৫. বাচ্চাদের পোশাকের ক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি

বাচ্চাদের জামা-কাপড় কেনার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পোশাকটি নিজেই হালাল ও পবিত্র হওয়া। পোশাকের কাপড় পবিত্র, হালাল উপকরণে তৈরি এবং সেলাই করা—এসব শর্ত পূরণ হলে ক্রয় জায়েজ।

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) তার ফাতাওয়া উসমানি-তে বলেন:

"কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে, যদি তা প্রমাণিত না হয় এবং প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে হারাম কাজ করে না, তবে তার থেকে কেনা-বেচা জায়েজ।"

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | আড়ং থেকে বাচ্চাদের কাপড় কেনা | জায়েজ | | প্রমাণিত হারাম কাজে অর্থ ব্যয় হলে | নাজায়েজ | | শুধু গুজব/সন্দেহের ভিত্তিতে বর্জন | জরুরি নয় | | ইহতিয়াত হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা | উত্তম |

পরামর্শ: আপনার এলাকায় যদি সহজলভ্য হয়, তবে ইহতিয়াত হিসেবে অন্য হালাল প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা উত্তম। তবে আড়ং থেকে কেনাকে নাজায়েজ বলা যাবে না, কারণ হারাম হওয়ার সুস্পষ্ট দলিল নেই।


والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.