বিমা ও ব্যাংকে টাকা রাখার বিধান সম্পর্কে।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5981
Questioner: Jannatul ferdous
Question Asked: 26 Sep 2026, 05:56 PM
Reviewed & Published: 26 Sep 2026, 07:31 PM
Views: 31
Tokens: 3,174
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামুআলাইকুম,
আমি কিছু টাকা জমাতে চাচ্ছিলাম, বাসায় টাকা জমানোর তেমন পরিবেশ নেই। যেখানেই রাখি, ব্যাংক হলেও ছোট ভাই টাকা নিয়ে নেয় কোনোভাবে।
আমি কি বিমা করতে পারবো বা কোনো ব্যাংকে টাকা জমি রাখতে পারবো?
ব্যাংক বা বিমার জায়েজ কোনো সার্ভিস বাংলাদেশে আছে কি?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

সংক্ষিপ্ত উত্তর: প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংক ও প্রচলিত বীমা কোম্পানিতে টাকা জমা রাখা বা বীমা করা—উভয়ই শরীয়তসম্মত নয়। কারণ এগুলোতে সুদ (রিবা), জুয়া/অনিশ্চয়তা (গারার) ও ধোঁকা (গরর) বিদ্যমান। তবে বাংলাদেশে ইসলামী শরীয়াহ্ ভিত্তিক ব্যাংক (যেমন: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো, ডাচ্-বাংলা ইসলামী ব্যাংকিং ইত্যাদি) এবং তাকাফুল (ইসলামী বীমা) সেবা বিদ্যমান, যেগুলো শরীয়াহ্ সুপারভাইজরি বোর্ডের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সেখানে মুদারাবা/মুশারাকা/মুরাবাহা ভিত্তিতে হিসাব রাখা যাবে।


বিস্তারিত:

১) প্রচলিত ব্যাংকে টাকা জমা রাখা: প্রচলিত ব্যাংকের সঞ্চয়ী/মেয়াদী হিসাবে যে "সুদ" দেওয়া হয়, তা সুস্পষ্ট রিবা। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, লেখক ও সাক্ষী—সবাইকে লানত করেছেন। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮)

ফাতাওয়া শামীতে আছে:

وكل قرض جر نفعا فهو ربا "প্রত্যেক এমন ঋণ যা উপকার টেনে আনে, তা সুদ।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, পৃ. ১৬৬)

তবে প্রয়োজনে টাকা নিরাপদ রাখার জন্য প্রচলিত ব্যাংকে কারেন্ট/সঞ্চয়ী হিসাব খোলার অনুমতি অনেক হানাফী ফকীহ দিয়েছেন—শর্ত হলো সুদ নেওয়া যাবে না, বরং সুদ বিনা প্রতিদানে (যেখানে ইসলামী রাষ্ট্র নেই) দান করে দিতে হবে বা ফেলে দিতে হবে। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক নয়; ইসলামী ব্যাংক থাকলে সেদিকেই যাওয়া উচিত।

২) প্রচলিত বীমা (Insurance): প্রচলিত জীবন/সাধারণ বীমা শরীয়তে জায়েজ নয়। কারণ:

  • এতে সুদ আছে (বীমা কোম্পানি প্রিমিয়ামের টাকা সুদে বিনিয়োগ করে)।
  • এতে জুয়া/গারার (অনিশ্চয়তা) আছে—দুর্ঘটনা ঘটবে কি না, কত পাবে—তা অনিশ্চিত।
  • এটা একটি অনিশ্চিত বিনিময় চুক্তি, যা নিষিদ্ধ।

ফাতাওয়া উসমানীতে আছে:

التأمين التجاري المعروف اليوم غير جائز شرعا "আজকের প্রচলিত বাণিজ্যিক বীমা শরীয়তসম্মত নয়।" (ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ৩৮৫-৩৯০)

আপনার পারিবারিক সমস্যার সমাধান:** ছোট ভাই টাকা নিয়ে নেয়—এটা আমানতের খিয়ানত ও হারাম। কুরআনে আছে:

إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানত তার হকদারের কাছে ফিরিয়ে দিতে আদেশ করেন।" (সূরা নিসা: ৫৮)

তাকে বোঝান, প্রয়োজনে অভিভাবকের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.