নিকট আত্মীয় হারাম উপার্জন করলে করণীয়

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5956
Questioner: bithi iom
Question Asked: 25 Sep 2026, 10:34 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 11:16 PM
Views: 17
Tokens: 5,543
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আ'লাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ।
আমার মামা সরকারি জব করেন।উনার জবে এক্সট্রা ইনকামের সোর্স আছে,যা হারাম।উনার হারাম টাকা অনেক ইনকাম হয় বিধায় উনি বেতন ঠিকমত তুলেন না।আমি হারাম ইনকামের বিধান জানার পর থেকে উনার বাসায় যাই না।কারণ,বাসায় গেলে হারাম টাকার খাবার খাওয়া লাগতে পারে,উনি ড্রেস কিনে দিবেন,হাদিয়া দিবেন ।হারাম ইনকামের বিষয়টা নিয়ে মা ও অন্যান্য মামাদের সাথে আলোচনা করেছি।কিন্তু তারা জেনে -বুঝে কেউই মামাকে নিষেধ করছেন না।আমি তো ছোট, মামাকে সরাসরি কিছু বলতেও পারি না।তাছাড়া,মামা আমাদের বাড়িতে আসলে বাজার ( মাছ,ফলমূল), হাদিয়া এসব নিয়ে আসেন।আপুর বিয়েতেও অনেক টাকা, হাদিয়া দিয়েছেন। প্রায় ৫ বছর যাবত উনার বাসায় যাওয়া হয় না–এতে মামা অনেক মন খারাপ করেন।বারবার কল দিয়ে যেতে বলেন।
আমি তো মামাকে বলতেও পারব না যে,আমি গেলে বেতনের টাকা খরচ করে আমাকে খাওয়াবেন,হাদিয়া দিবেন
এমতাবস্থায় আমার করণীয় কি? আমি কি মামার বাসায় যেতে পারব বা উনি যদি হাদিয়া দেন তা নেয়া জায়েজ হবে কি?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

الجواب وبالله التوفيق

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম। এর উত্তর কয়েকটি স্তরে বিভক্ত:


১. হারাম উপার্জনের বিধান

হারাম উপার্জন ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُم بَيْنَكُم بِالْبَاطِلِ "তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না।" (সূরা বাকারা: ১৮৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

كُلُّ لَحْمٍ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ فَالنَّارُ أَوْلَى بِهِ "যে গোশত হারাম (সুহত) থেকে উৎপন্ন হয়, তার জন্য জাহান্নামই অধিক উপযুক্ত।" (তিরমিযী: ২৯১৫)

সুতরাং আপনার মামার অতিরিক্ত হারাম আয়ের উৎস থাকা এবং তা ভোগ করা সুস্পষ্ট গুনাহ। তবে এটি তার ব্যক্তিগত গুনাহ, যার দায় তার উপরই বর্তাবে।


২. হারাম মালের প্রকারভেদ — এখানে জরুরি তাফসীল

ফুকাহায়ে কেরাম হারাম মালকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

(ক) হারাম লি-আইনিহি (নিজসে হারাম): যেমন চুরি, ডাকাতি, ঘুষ, সুদ, জুয়া — এগুলো নিজেই নাপাক ও হারাম।

(খ) হারাম লি-গাইরিহি বা মাকরূহ: যেমন সরকারি চাকরিতে অতিরিক্ত আয়ের কিছু অস্পষ্ট/সন্দেহজনক পথ।

আপনার মামার ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি নিশ্চিত যে উৎসটি হারাম, তাই তা (ক) শ্রেণিভুক্ত।


৩. আপনার করণীয় — মূল প্রশ্নের উত্তর

(ক) মামার বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে:

যদি আপনি নিশ্চিত হন যে, সেখানে গেলে হারাম মালের খাবার খাওয়ানো হবে বা হারাম মালের কিনা কাপড়/হাদিয়া দেওয়া হবে — তাহলে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকাই ইহতিয়াত ও তাকওয়ার দাবি। ইবন আবিদীন (রহ.) বলেন:

وَيُكْرَهُ الْأَكْلُ مِنْ مَالِ مَنْ أَكْثَرُ مَالِهِ حَرَامٌ "যার অধিকাংশ মাল হারাম, তার মাল থেকে খাওয়া মাকরূহ।" (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৪৮)

তবে সম্পূর্ণ সম্পর্ক ছিন্ন করা ইসলামে কাঙ্ক্ষিত নয়। আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন:

وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ "আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে চাও, এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে সতর্ক থাক।" (সূরা নিসা: ১)

সমাধান: মামার বাসায় যাওয়া যেতে পারে, তবে খাবার ও হাদিয়া গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। যাওয়ার সময় এমনভাবে যাওয়া যেতে পারে যাতে খাবারের সময় না পড়ে, অথবা ভদ্রভাবে অপারগতা প্রকাশ করা।

(খ) হাদিয়া গ্রহণ প্রসঙ্গে:

যদি হাদিয়া নিশ্চিতভাবে হারাম মাল থেকে হয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। রাসূল ﷺ বলেন:

إِنَّ الْحَلَالَ بَيِّنٌ وَإِنَّ الْحَرَامَ بَيِّنٌ "হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট।" (বুখারী: ৫২)

তবে যদি মামার মাল মিশ্র হয় (কিছু হালাল, কিছু হারাম) এবং কোনটি থেকে দেওয়া হচ্ছে তা জানা না যায়, তাহলে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর নিকট মিশ্র মালে কিছু ছাড় আছে — তবে সন্দেহের কারণে গ্রহণ না করাই উত্তম। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৩৪৮; ফাতাওয়া উসমানী: ৩/৪০১)


৪. বাস্তব করণীয় (সারসংক্ষেপ)

| বিষয় | বিধান | |------|------| | মামার বাসায় যাওয়া | সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়; তবে খাবার/হাদিয়া গ্রহণ এড়িয়ে চলা | | নিশ্চিত হারাম মালের খাবার | গ্রহণ করা জায়েজ নয় | | নিশ্চিত হারাম মালের হাদিয়া | গ্রহণ করা জায়েজ নয় | | মিশ্র/সন্দেহজনক মাল | ইহতিয়াতে বিরত থাকাই উত্তম | | সম্পর্ক রক্ষা | ওয়াজিব; ফোন/সালাম/দেখা-সাক্ষাত চালু রাখা | | মামাকে নসীহত | সরাসরি না পারলে, মুরুব্বিদের মাধ্যমে বা পরোক্ষভাবে |

বিশেষ পরামর্শ: আপনি ছোট, তাই সরাসরি নিষেধ করতে পারছেন না — এটা আপনার অপারগতা। তবে আপনি আপনার মা বা বড় কোনো মুরুব্বিকে দিয়ে মামাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারেন। আর নিজে যতটুকু সম্ভব হারাম মাল থেকে বেঁচে থাকুন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَمَن يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا "যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন।" (সূরা তালাক: ২)

মামার মন খারাপ হবে — এটা দুঃখজনক, কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি সর্বোপরি। আপনি ভদ্রভাবে বলতে পারেন: "মামা, আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই, কিন্তু খাবার/উপহার নিতে পারব না — এটা আমার নিজের ইবাদতের বিষয়।" এভাবে সম্পর্কও থাকবে, হারাম থেকেও বাঁচবেন।


والله سبحانه وتعالى أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.