দেবর-ভাবী একই বাসায় একা থাকা কি জায়েজ?

Family Life · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5950
Questioner: Meher
Question Asked: 25 Sep 2026, 09:05 PM
Reviewed & Published: 25 Sep 2026, 09:45 PM
Views: 17
Tokens: 3,415
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম।
একি বাসায় পর্দা মেইন্টেইন আলহামদুলিল্লাহ ভালো ভাবে করা হয়। ওই বাসায় কি দেবর আর ভাবী আলাদা রুমে থাকতে পারবে তৃতীয় আরেকজন ছাড়া। এক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোন কন্ট্যাক্ট এর সম্ভাবনা নাই ইন শা আল্লাহ, তাহলে কি এটা জায়েজ হবে?

Answer

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته।

সংক্ষিপ্ত উত্তর: না, দেবর-ভাবী একই বাসায় একা (তৃতীয় কেউ ছাড়া) একসাথে থাকা জায়েজ নয় — যদিও পর্দা রক্ষা করা হয় এবং আলাদা রুমে থাকা হয়। কারণ ইসলামে দেবর (স্বামীর ভাই) হলেন স্থায়ী মাহরাম নয়, বরং তিনি "মৃত্যু-সমতুল্য" বা "মৃত্যুর মতো" (موت) — যাঁর থেকে পর্দা করা ফরজ। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্টভাবে দেবরের সাথে নির্জনতা (খালওয়া) নিষিদ্ধ করেছেন।


১. মূল দলিল — হাদিস

হাদিস ১: উকবা ইবনে আমের (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ» فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ؟ قَالَ: «الْحَمْوُ الْمَوْتُ»

"সাবধান! নারীদের কাছে (বেগানা পুরুষের) প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকো।" এক আনসারী ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, "হে আল্লাহর রাসূল! দেবর (স্বামীর ভাই) সম্পর্কে কী বলেন?" তিনি বললেন: "দেবর হলো মৃত্যু (অর্থাৎ মৃত্যুর মতো বিপজ্জনক)।"

— সহীহ বুখারী: ৫২৩২, সহীহ মুসলিম: ২১৭২

হাদিস ২: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

«لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ»

"কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে মিলিত হবে না, কারণ তাদের তৃতীয়জন হবে শয়তান।"

— তিরমিজি: ২১৬৫, সহীহ (আলবানী)


২. ইমামদের ব্যাখ্যা

ইমাম নববী (রহঃ) বলেন: "দেবরকে 'মৃত্যু' বলা হয়েছে কারণ তার সম্পর্কে সাধারণত উদাসীনতা দেখা যায় — সে ঘরে অবাধে যাতায়াত করতে পারে, অথচ সে মাহরাম নয়। তাই তার ফিতনা অন্যান্য বেগানা পুরুষের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক।" (শরহে মুসলিম)

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেন: "স্বামীর ভাই, চাচা, খালু — এরা সবাই বেগানা (আজনাবী)। এদের থেকে পর্দা করা ওয়াজিব।" (মাজমুউল ফাতাওয়া)

শাইখ ইবনে উসাইমীন (রহঃ) বলেন: "দেবরের সাথে খালওয়া (নির্জনতা) হারাম, এমনকি যদি সে ঘরের অন্য অংশে থাকে — যদি তৃতীয় কেউ না থাকে এবং দরজা বন্ধ থাকে, তবে তা খালওয়ার অন্তর্ভুক্ত।" (শরহুল মুমতি)

শাইখ ইবনে বায (রহঃ) বলেন: "দেবরের সাথে একই ঘরে বা একই বাসায় একা থাকা জায়েজ নয়, কারণ সে মাহরাম নয়।"


৩. আপনার প্রশ্নের সরাসরি বিশ্লেষণ

আপনি বলেছেন:

  • পর্দা ভালোভাবে মেইনটেইন করা হয় ✅
  • আলাদা রুমে থাকবে ✅
  • তৃতীয় কেউ থাকবে না ❌
  • যোগাযোগের সম্ভাবনা নেই ইন শা আল্লাহ

সমস্যা: তৃতীয় কেউ না থাকলে এবং একই বাসায় দেবর-ভাবী একা থাকলে — এটি খালওয়া (নির্জনতা)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। কারণ:

  1. দেবর মাহরাম নয় — সুতরাং তার সাথে একই বাসায় একা থাকা নিষিদ্ধ।
  2. শয়তান তৃতীয়জন — হাদিস অনুযায়ী শয়তান তাদের মাঝে থাকবে, যদিও আপনি মনে করেন যোগাযোগ হবে না।
  3. "যোগাযোগের সম্ভাবনা নেই" — এটি মানুষের ধারণা; শয়তান ধীরে ধীরে কুমন্ত্রণা দেয়। অনেক ফিতনা এভাবেই শুরু হয়।
  4. আলাদা রুম — এটি খালওয়া দূর করে না, কারণ একই বাসায় দরজা বন্ধ করে একা থাকা মানেই খালওয়া।

৪. জায়েজ হওয়ার শর্ত

দেবর-ভাবী একই বাসায় থাকতে পারবে শুধুমাত্র তখনই, যখন:

| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ১ | স্বামী উপস্থিত থাকবে (সফরে না) | | ২ | অথবা তৃতীয় কোনো মাহরাম/বিশ্বস্ত ব্যক্তি বাসায় থাকবে | | ৩ | দেবরের সাথে সম্পূর্ণ পর্দা রক্ষা হবে (হিজাব, দৃষ্টি সংযত) | | ৪ | দেবর ভাবীর রুমে প্রবেশ করবে না, একা দেখা হবে না | | ৫ | প্রয়োজনে কথা বলতে হলে পর্দার আড়াল থেকে, সংক্ষেপে |

যদি স্বামী সফরে থাকে বা বাসায় না থাকে — তবে দেবরের সাথে ভাবীর একা থাকা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। এমতাবস্থায় ভাবীকে অন্যত্র (বাবার বাড়ি, আত্মীয়ের বাড়ি) থাকতে হবে বা দেবরকে অন্যত্র থাকতে হবে।


৫. উপসংহার

প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায় (তৃতীয় কেউ ছাড়া একই বাসায় দেবর-ভাবী একা থাকা) — এটি জায়েজ নয়, বরং হারাম।

কারণ:

  • দেবর মাহরাম নয় (সূরা নূর: ৩১-এর মাহরাম তালিকায় দেবর নেই)
  • হাদিসে দেবরকে "মৃত্যু" বলা হয়েছে
  • খালওয়া নিষিদ্ধ (তিরমিজি: ২১৬৫)

সমাধান:

  1. স্বামী সবসময় বাসায় থাকলে — সমস্যা নেই, তবে পর্দা রক্ষা করতে হবে।
  2. স্বামী না থাকলে — দেবরকে আলাদা বাসায়/রুমে ব্যবস্থা করতে হবে, অথবা ভাবীকে অন্যত্র থাকতে হবে।
  3. তৃতীয় কোনো বিশ্বস্ত মাহরাম (যেমন শাশুড়ি, ননদ, বা অন্য মাহরাম) বাসায় থাকলে — জায়েজ হতে পারে।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.