স্বপ্নে নদী তে ঝাপ দিচ্ছি দেখার ব্যখ্যা কি?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 594
Questioner: JJ
Question Asked: 23 May 2026, 01:00 PM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 01:03 PM
Views: 54
Tokens: 4,653
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হুজুর, প্রথমেই বলবো যদি ব্যাখা খারাপ হয় তবে আপনি তা বলবেন না এবং নিশ্চিত ব্যাখ্যা করবেন না।
যদি ভালো হয়, তা বলবেন। মূলত আল্লাহ্ তা'আলার দিকনির্দেশনা এবং আমাদের করনীয় সমূহ গুলো বিস্তারিত ভাবে বলবেন, ইন শা আল্লাহ্।

১ম সপ্ন: আমি দেখলাম আমাদের পুরানো বাড়ির বারান্দা দিয়ে আমি নদী তে ঝাপ দিচ্ছি। (সে বাড়ির নিচে বাস্তবেও নদী ছিল,যার কারণে বাড়ি টা ভাঙ্গা হয় এবং আমরা ১৭-১৮ বছর আগে তা ছেড়ে দেই।) যাই হোক, ঝাপ দেওয়ার পরে আমি পানি তে সাঁতরিয়ে সামনে গিয়ে একটি নৌকা তে উঠি, তারপর কোথাও যাই।
পরের দিন আবারো নদী তে ঝাপ দিতে যাই, তবে নিচে তাকিয়ে দেখি খুবই বিশাল আকৃতির অনেক গুলো কুমির। এরপরের দৃশ্য, আমি আমার মা কে এই ঘটনা বলছি হাসতে হাসতে (আমাদের বর্তমান বাসায়)। আমার মা ও আমাকে তাঁর ঘটনা বললেন যে, তিনি একটা ট্রেনের থেকে নামতে গিয়ে তার নিচে পরে গিয়েছিলেন, কিন্তূ আলহামদুলিল্লাহ বেঁচে যান।
শেষ
এর মাঝে আরো কয়েকটি সপ্ন দেখি যেখানে আমি খুবই হাল্কা ভাবে, বা হয়তো আবার বেশি রূঢ় ভাবে আমার মা কে পর্দার বিষয়ে সতর্ক করছি। কিন্তূ উভয় স্বপ্নেই বাইরের কিছু মানুষজন মা এর পর্দার তোয়াক্কা করছে না কিছু টা তাচ্ছিল্যের সাথে আমার সামনেই। আমার কাছে নিজেকে দায়ী মনে হচ্ছিল। কাপুরুষ মনে হচ্ছিল।

(যা বাস্তবেও কিছু টা ঘটে নিচে উল্লেখিত ২য় স্বপ্নের আগের দিন, সেদিন আমাদের জীবনের একটি অনেক বড় সিদ্ধান্ত ও নেই আমরা। আলহামদুলিল্লাহ আমার মা চেষ্টা করেন তবে একদম খাস পর্দা না।)

২য় স্বপ্ন: আমি এবং আমার মা একটা ‌নৌকা তে, সাথে আরো কিছু মানুষ। চারদিকে অথৈ পানি, এর মাঝে মাঝে পনিতেই কোন এক শহরের কিছু অংশ, ডাব গাছ। ঘন মেঘ ওয়ালা আকাশ, বৃষ্টি পরছে। মাঝে নৌকা চলছে, প্রচন্ড ঢেউ, এমন কি নৌকা শূন্যে উঠে পানির নিচেও চলে যায় ঢেউ এর মধ্যে। তবে আমি সহ কেউ ই খুব বিচলিত না, চুপচাপ। এভাবে চলতে চলতে নৌকা টা আরেকটা বড় নৌকা তে গিয়ে থামে এবং আমরা নামি। তবে সেই নৌকা তে আরো মানুষ জন ছিল, বৃষ্টি শেষ এবং নদী তুলনামূলক ঠান্ডা, রোদ ও ছিল তবে নিরাপদ লাগছিল না। পুরো পরিবেশ টা ই কেমন যেন অনিরাপদ আর গুমট লাগছিল।
শেষ।

উল্লেখ্য যে, আমাদের পুরো পরিবার ই অনেক বড় একটা পরিবর্তন, সিদ্ধান্ত এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যার পরিণতি আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সর্বোত্তম টা ই চাচ্ছি। কিন্তূ এই স্বপ্নগুলো এবং বাড়ির পরিবেশ টা যেন কেমন একধরনের দমবন্ধ অনুভুতি কাজ করছে।

Answer

উত্তর:
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রথমেই জেনে রাখা জরুরি যে, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী স্বপ্ন তিন প্রকার:
১. রহমানি স্বপ্ন (আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা নির্দেশনা),
২. শয়তানি স্বপ্ন (মনের কল্পনা বা শয়তানের প্ররোচনা),
৩. নফসের খেয়াল (দৈনন্দিন চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন)।

হাদিসে এসেছে, "সত্য স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক অংশ।" (সহিহ বুখারি: ৬৯৮৩)
অতএব, স্বপ্ন দেখার পর উত্তম কাজ হলো আল্লাহর কাছে ভালো কিছু চাওয়া এবং খারাপ স্বপ্ন দেখলে বাম দিকে থুথু ফেলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া।


আপনার স্বপ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা (হানাফি ফুকাহার মতানুসারে):

১ম স্বপ্ন:

  • পুরোনো বাড়ি থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া → এটি ইঙ্গিত করে যে আপনি অতীতের কিছু স্মৃতি বা অবস্থা (যেমন সেই বাড়ির সঙ্গে জড়িত অভিজ্ঞতা) ত্যাগ করে নতুন পথে যাত্রা করছেন। নদী সাধারণত জীবনের চলমান পথ বা পরিবর্তনের প্রতীক।
  • বিশাল কুমির দেখা → এটি আপনার ভেতরের ভয় বা বাস্তব জীবনের কোনো বড় বাধার প্রতীক হতে পারে। কুমির শত্রু বা বিপদের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
  • মাকে ট্রেনের নিচে পড়ে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা বলা → এটি আপনার মায়ের প্রতি আপনার উদ্বেগ ও দোয়ার ফল। ট্রেন বড় বিপদের প্রতীক, আর বেঁচে যাওয়া আল্লাহর রহমতের নিদর্শন।

২য় স্বপ্ন:

  • নৌকায় অস্থির পানিতে চলা → এটি আপনার বর্তমান পারিবারিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনের প্রতীক। নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ের প্রতীক, কিন্তু ঢেউ (প্রতিবন্ধকতা) ও গুমোট পরিবেশ ইঙ্গিত দেয় যে আপনি স্থিরতার অপেক্ষায় আছেন।
  • বড় নৌকায় উঠা → এটি ভবিষ্যতে কোনো বড় সাহায্য বা নিরাপদ আশ্রয় লাভের ইঙ্গিত হতে পারে, তবে এখনো পরিবেশ সম্পূর্ণ শান্ত হয়নি।

আপনার করণীয় (ইসলামী নির্দেশনা):

  1. পর্দার গুরুত্ব:
    আপনার স্বপ্নে মায়ের পর্দা নিয়ে সতর্ক করা এবং বাইরের লোকের তাচ্ছিল্য দেখা—এটি বাস্তবে মায়ের পর্দার ব্যাপারে আপনার দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।
    কুরআনে আল্লাহ বলেন:

    "আর মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে..." (সূরা নূর: ৩১)
    হানাফি ফিকাহ অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য পুরুষের সামনে পর্দা করা ফরজ। আপনার উচিত মায়ের সাথে নম্রভাবে পর্দার গুরুত্ব বুঝানো এবং নিজেও পর্দার ব্যাপারে সচেতন থাকা।

  2. স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে শঙ্কিত না হওয়া:
    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যদি কেউ এমন স্বপ্ন দেখে যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে এবং শয়তান থেকে আশ্রয় চায়, আর কাউকে না বলে। তাহলে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।" (সহিহ মুসলিম: ২২৬২)

  3. পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তার সময় দোয়া:
    আপনি ও আপনার পরিবার বড় সিদ্ধান্তের মুখে আছেন। আল্লাহর কাছে উত্তম পরিণতি চাইতে থাকুন।
    দোয়া করুন:

    "رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا"
    (হে আমাদের রব, আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের কাজের জন্য সঠিক পথ তৈরি করে দিন।) (সূরা কাহফ: ১০)

  4. পরিবারের পরিবেশ:
    'দমবন্ধ অনুভূতি' থেকে মুক্তি পেতে বেশি করে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির ও ইস্তিগফার করুন। বাড়িতে নিয়মিত সূরা বাকারা তিলাওয়াত করলে শয়তানের প্রভাব দূর হয়।

  5. শেষ পরামর্শ:
    স্বপ্নকে ভয়ের কারণ না বানিয়ে বরং সতর্কতা হিসেবে নিন। আপনার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই এসব স্বপ্ন এসেছে। এখন সময় এসেছে ধৈর্য ও ইখলাসের সাথে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করার।

আল্লাহ তাআলা আপনার পরিবারকে সঠিক পথ দেখান, আপনার মাকে পূর্ণ পর্দার তাওফিক দান করুন এবং আপনার সব সিদ্ধান্তকে কল্যাণকর করুন। আমিন।

গ্রন্থসূত্র:

  • সহিহ বুখারি: ৬৯৮৩
  • সহিহ মুসলিম: ২২৬২
  • সূরা নূর: ৩১
  • সূরা কাহফ: ১০
  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৪/৬৭
  • রদ্দুল মুহতার: ১/৫৪২
  • বাহিশতী জেওর: ৪/২৩
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৪/৩৭৫
  • তাফসির মাআরিফুল কুরআন: ৬/৪৮৫

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.