কেউ যদি গীবতকে জায়েজ মনে না করে, শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়, তবে কি তার ঈমান ঠিক থাকে?

Waswasa-OCD · Hanafi

Question No: 5901
Questioner: Salahuddin Ahmed
Question Asked: 24 Sep 2026, 12:50 PM
Reviewed & Published: 24 Sep 2026, 02:32 PM
Views: 14
Tokens: 3,284
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ক ও খ উভয় ব্যক্তি অপর ব্যক্তি গ এর ব্যাপারে কথা বলেছিল। ক , গ এর কোন সমস্যার কথা বলেছে। তখন খ বলেছে যে মানুষের ব্যাপারে কোনো খারাপ কিছু মনে করাও খারাপ। তখন ক তার মাথা নেড়েছে। এতে কি তার ঈমান ঠিক থাকবে?

Answer

প্রশ্নের বিশ্লেষণ ও উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

ক ও খ — দুজন ব্যক্তি। তারা তৃতীয় ব্যক্তি গ-এর ব্যাপারে কথা বলছিল। ক, গ-এর কোনো সমস্যা/দোষের কথা বলল। তখন খ বলল: "মানুষের ব্যাপারে খারাপ কিছু মনে করাও খারাপ।" অর্থাৎ খ গীবত বা سوءظن (খারাপ ধারণা) থেকে নিষেধ করল। জবাবে ক মাথা নেড়েছে (সম্ভবত সম্মতি বা অস্বীকৃতি বোঝাতে)। প্রশ্ন: এতে ক-এর ঈমান ঠিক থাকবে কি?


জবাবঃ-

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ক-এর ঈমান ঠিক থাকবে।

গীবত ও سوءظن (খারাপ ধারণা) হারাম

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ ۖ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَب بَّعْضُكُم بَعْضًا

"হে ঈমানদারগণ! অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো; নিশ্চয়ই কিছু ধারণা গুনাহ। আর গোয়েন্দাগিরি করো না এবং একে অন্যের গীবত করো না।" — সূরা আল-হুজুরাত: ১২

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

إِيَّاكُمْ وَالظَّنَّ، فَإِنَّ الظَّنَّ أَكْذَبُ الْحَدِيثِ

"তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।" — সহীহ বুখারী: ৬০৬৬; সহীহ মুসলিম: ২৫৬৩

খ-এর বক্তব্য সঠিক ছিল

খ যা বলেছে — "মানুষের ব্যাপারে খারাপ কিছু মনে করাও খারাপ" — এটি সম্পূর্ণ ইসলামসম্মত ও কুরআন-হাদীস দ্বারা সমর্থিত। সুতরাং খ দ্বীনের সঠিক কথা বলেছে।

ফিকহী নীতি: কুফর সাব্যস্ত করতে সুস্পষ্টতা প্রয়োজন

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.) রাদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ করেন:

"কুফর একটি গুরুতর বিষয়; এটি সন্দেহ বা সম্ভাবনার ভিত্তিতে সাব্যস্ত হয় না। বরং সুস্পষ্ট অস্বীকার বা অবিশ্বাস প্রকাশ পেলে কুফর হয়।" — রাদ্দুল মুহতার: ৪/২২৪ (কিতাবুল জিহাদ)

আল-হিদায়া ও ফাতাওয়া আলমগিরিতেও উল্লেখ আছে যে, কুফরের হুকুম দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট প্রমাণ আবশ্যক; অস্পষ্ট ইশারা বা সম্ভাবনার ভিত্তিতে কাউকে কাফির বলা যায় না।

গীবতের গুনাহ

যদি ক সত্যিই গ-এর গীবত করে থাকে, তাহলে সে গুনাহগার হয়েছে — তবে গীবত করা কুফর নয়, বরং কবিরা গুনাহ। তাওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ

সূরা আলে ইমরান: ১৩৫

وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.