Aikhane kar dush besi chilo?ami ki korle allah amk maf korbe?take ami maf na korle allah maf ko

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5858
Questioner: Tanjim tabassum
Question Asked: 23 Sep 2026, 01:16 PM
Reviewed & Published: 23 Sep 2026, 02:24 PM
Views: 31
Tokens: 4,730
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

Aikhane kar dush besi chilo?ami ki korle allah amk maf korbe?take ami maf na korle allah maf korbe?amr ki ucit take maf kore deuya jate allah khusi hoy. Allah khusi hobe ki korle?pobirtho nari hobo kivabe?

Answer

উত্তর: ক্ষমা, তওবা ও পবিত্র নারীর পরিচয়

প্রশ্ন: এখানে কার দোষ বেশি ছিল? আমি কী করলে আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন? তাকে আমি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন? আমার কী উচিত — তাকে মাফ করে দেওয়া যাতে আল্লাহ খুশি হন? আল্লাহ খুশি হবেন কী করলে? পবিত্র নারী হবো কীভাবে?


ভূমিকা

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। এখানে কয়েকটি দিক রয়েছে — (১) দোষ-নির্ধারণ, (২) তওবা ও ক্ষমা, (৩) অন্যের প্রতি ক্ষমা, (৪) আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, (৫) পবিত্র নারী হওয়ার উপায়। প্রতিটি দিক কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে নিচে আলোচনা করা হলো।


১. এখানে কার দোষ বেশি ছিল?

এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ আমি ঘটনার বিস্তারিত জানি না। তবে ইসলামের মূলনীতি হলো:

আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের সাথে দৃঢ়ভাবে দণ্ডায়মান হও এবং ইনসাফের সাক্ষ্য দাও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করার দিকে প্ররোচিত না করে। ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার নিকটতর।" — সূরা আল-মায়িদা: ৮

দোষ-নির্ধারণের মূলনীতি:

  • যদি কোনো পাপ হয়ে থাকে, তবে প্রত্যেককেই নিজ নিজ দোষের জন্য জবাবদিহি করতে হবে
  • কেউ কারো পাপের বোঝা বহন করবে না — আল্লাহ বলেন: وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ (কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না — সূরা আল-আনআম: ১৬৪)।
  • তবে যদি কেউ অন্যায়ভাবে কারো ওপর জুলুম করে বা প্ররোচনা দেয়, তবে তার দোষ বেশি হবে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি (রাদ্দুল মুহতার, ইবনে আবিদীন): দোষ-নির্ধারণের জন্য শুধু আল্লাহই প্রকৃত বিচারক। বান্দার কাজ হলো — নিজের দোষ স্বীকার করা, তওবা করা এবং অন্যের হক আদায় করা।


২. আমি কী করলে আল্লাহ আমাকে মাফ করবেন?

আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার শর্তগুলো কুরআন-হাদিসে স্পষ্ট:

(ক) খাঁটি তওবা (তওবাতুন নাসূহা)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَّصُوحًا

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো।" — সূরা আত-তাহরীম: ৮

তওবার শর্ত (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):

  1. পাপ ত্যাগ করা (فوراً ترك المعصية)
  2. অতীতের জন্য অনুতপ্ত হওয়া (الندم على الماضي)
  3. ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প (العزم على عدم العود)
  4. যদি কারো হক নষ্ট হয়, তবে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া (رد المظالم)

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫, কিতাবুত তওবা; ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ১, পৃ. ৩৪৫।

(খ) ইস্তিগফার ও নেক আমল

وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ

"দিনের দুই প্রান্তে এবং রাতের প্রথমাংশে সালাত কায়েম করো। নিশ্চয়ই নেক আমল মন্দ আমলকে দূর করে দেয়।" — সূরা হুদ: ১১৪

(গ) আল্লাহর রহমতের আশা

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا

"বলো, হে আমার বান্দারা! যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করেন।" — সূরা আয-যুমার: ৫৩

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন: তওবা করার পর আল্লাহ বান্দার গুনাহকে নেকিতে পরিবর্তন করে দেন — বাহিশতী জেওর, তওবার অধ্যায়।


৩. তাকে আমি মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন?

এখানে দুটি বিষয় আলাদা করতে হবে:

(ক) আল্লাহর হক (حق الله)

যদি পাপ শুধু আল্লাহর হক সম্পর্কিত হয় (যেমন: নামাজ না পড়া, রোজা না রাখা), তবে তওবা করলে আল্লাহ মাফ করতে পারেন।

(খ) বান্দার হক (حق العبد)

যদি কারো ব্যক্তিগত হক নষ্ট হয় (যেমন: গালি দেওয়া, অপমান করা, মারধর করা, প্রতারণা), তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি সেই বান্দার কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে

হাদিস:

مَن كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ

"যার কাছে তার ভাইয়ের কোনো মাজলুমিয়াত (জুলুমের হক) আছে, সে যেন আজই তাকে ক্ষমা করিয়ে নেয় — সেই দিন আসার আগে, যেদিন কোনো দিনার-দিরহাম থাকবে না।" — সহিহ বুখারি: ২৪৪৯

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: আপনি যদি অন্যায়ভাবে কারো ওপর জুলুম করে থাকেন, তবে তাকে ক্ষমা চাওয়া আপনার দায়িত্ব। আর যদি আপনার ওপর জুলুম হয়ে থাকে, তবে আপনি চাইলে তাকে ক্ষমা করতে পারেন — এটি সওয়াবের কাজ, কিন্তু বাধ্যতামূলক নয়।

ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: মাজলুমের ক্ষমা করা মুস্তাহাব, কিন্তু মাজলুম যদি ক্ষমা না করে, তবে জালিমের তওবা কবুলের জন্য তাকে হক ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া জরুরি — রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৫।


৪. আমার কী উচিত — তাকে মাফ করে দেওয়া?

হ্যাঁ, ক্ষমা করা উত্তম ও আল্লাহর সন্তুষ্টির মাধ্যম, যদি আপনি মাজলুম হন।

وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ

"তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন?" — সূরা আন-নূর: ২২

وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

"যারা ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ মুহসিনদের ভালোবাসেন।" — সূরা আলে ইমরান: ১৩৪

হাদিস:

مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ، وَمَا زَادَ اللَّهُ عَبْدًا بِعَفْوٍ إِلَّا عِزًّا

"দান করলে সম্পদ কমে না, আর ক্ষমা করলে আল্লাহ বান্দার সম্মানই বাড়িয়ে দেন।" — সহিহ মুসলিম: ২৫৮৮

মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন: ক্ষমা করা ইসলামের সৌন্দর্য। তবে যদি ক্ষমা করার কারণে অপরাধী আরও দুঃসাহসী হয়ে ওঠে, তবে শাসনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জায়েজ — ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪১২।


৫. আল্লাহ খুশি হবেন কী করলে?

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়:

| আমল | দলিল | |------|------| | তওবা ও ইস্তিগফার | সূরা আত-তাহরীম: ৮ | | পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ | সূরা আল-বাকারা: ২৩৮ | | পিতা-মাতার সেবা | সূরা আল-ইসরা: ২৩-২৪ | | সদকা ও দান | সূরা আল-বাকারা: ২৬১ | | ক্ষমা করা | সূরা আলে ইমরান: ১৩৪ | | কুরআন তিলাওয়াত | সহিহ বুখারি: ৫০২৭ | | রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ | সূরা আলে ইমরান: ৩১ |

قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ

"বলো, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো — আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" — সূরা আলে ইমরান: ৩১

আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন: আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো — নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (মুজাহাদা) এবং সুন্নাহর অনুসরণবাহিশতী জেওর, প্রথম খণ্ড।


৬. পবিত্র নারী হবো কীভাবে?

পবিত্রতা (طهارة) দুই প্রকার:

  1. বাহ্যিক পবিত্রতা — পোশাক, শরীর, পরিবেশ
  2. আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা — হৃদয়, নিয়ত, চরিত্র

(ক) হৃদয়ের পবিত্রতা

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا ۝ وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا

"সে সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে। আর সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজেকে কলুষিত করেছে।" — সূরা আশ-শামস: ৯-১০

(খ) চোখ ও লজ্জাস্থানের হেফাজত

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ

"মুমিনদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত করুক এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করুক।" — সূরা আন-নূর: ৩০

(গ) পর্দা ও শালীনতা

وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ

"প্রথম জাহেলিয়াতের মতো নিজেদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করো না।" — সূরা আল-আহযাব: ৩৩

(ঘ) তওবা ও আত্মশুদ্ধি

পবিত্র নারী হওয়ার বাস্তব পদক্ষেপ:

  1. খাঁটি তওবা — অতীতের গুনাহ থেকে ফিরে আসা
  2. নিয়মিত নামাজ — বিশেষত তাহাজ্জুদ
  3. কুরআন তিলাওয়াত — প্রতিদিন অন্তত কিছু আয়াত
  4. পর্দার বিধান পালন — হিজাব ও শালীন পোশাক
  5. বাজে সঙ্গ ত্যাগ — খারাপ বন্ধু ও পরিবেশ থেকে দূরে থাকা
  6. নেক সঙ্গী গ্রহণ — দ্বীনদার নারীদের সাথে উঠাবসা
  7. দুআ করা — আল্লাহর কাছে পবিত্রতা প্রার্থনা

দুআ:

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

"হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও স্বনির্ভরতা প্রার্থনা করি।" — সহিহ মুসলিম: ২৭২১

মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলেন: নারীর পবিত্রতার মূল হলো — লজ্জা (حیاء)। লজ্জা থাকলে সব পবিত্রতা আসে — মাআরিফুল কুরআন, সূরা আন-নূরের তাফসির।


সারসংক্ষেপ ও করণীয়

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | কার দোষ বেশি? | আল্লাহই জানেন; প্রত্যেকে নিজ দোষের জবাবদিহি করবে | | মাফ পেতে কী করব? | খাঁটি তওবা + হক আদায় + নেক আমল | | মাফ না করলে আল্লাহ মাফ করবেন? | বান্দার হক থাকলে তাকে ক্ষমা চাইতে হবে; মাজলুমের ক্ষমা মুস্তাহাব | | তাকে মাফ করব? | হ্যাঁ, উত্তম — তবে অপরাধী দুঃসাহসী হলে শাসন জায়েজ | | আল্লাহ খুশি হবেন কী করলে? | তওবা, নামাজ, সুন্নাহ অনুসরণ, ক্ষমা, সদকা | | পবিত্র নারী হবো কীভাবে? | তওবা, নামাজ, পর্দা, কুরআন, নেক সঙ্গ, দুআ |

শেষ কথা: আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।" — সূরা আল-বাকারা: ২২২

আল্লাহ আমাদের সবাইকে খাঁটি তওবা ও পবিত্র জীবন দান করুন। আমিন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.