আমার বিয়ে কি ঠিক ভাবে হয়েছিল?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5844
Questioner: Nabila
Question Asked: 23 Sep 2026, 02:05 AM
Reviewed & Published: 23 Sep 2026, 02:57 AM
Views: 30
Tokens: 6,941
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম। আমার আশে পাশে কোনো বিজ্ঞ মুফতি নাই। তাই আপনাদের কাছে প্রশ্ন করা৷ দয়া করে AI কি উত্তর দেয় সেটা একবার চেক করে উত্তর দিবেন।

আমার বিয়েতে কাজি আমার বরকে এভাবে প্রস্তাব দিয়েছে যে, অনুকের মেয়ে অমুক, এত লাখ টাকা দেন মোহর ধার্য করিয়া, এসব বলে বলছে যে, আপনি কি রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলেন আলহামদুলিল্লাহ। তখন আমার হাসবেন্ড বলছে আলহামদুলিল্লাহ কবুল। এটা কি শুনা যায় নাই নাকি জানি না। পরে কাজি তাকে আবার বলছে যে, একটু জোরে বলেন আলহামদুলিল্লাহ। তখন সে আবার আলহামদুলিল্লাহ বললো। শুধু আলহামদুলিল্লাহ বলছে ২য় বার। সবার সামনেই। আসে পাশে হুজুর ছিল। আমার বাবা,শশুড় তারা ছিল। শেষে সবাই আলহামদুলিল্লাহ বললো।

১) সে যে শুধু আলহামদুলিল্লাহ বললো এতে কি বিয়ে ঠিক হইছে? কারন প্রথম বার আলহামদুলিল্লাহ বলা তো শুনা যায় নাই মনে হয়। শুনা গেলে কাজি আবার ২য় বার বলতে বলবে কেন। নাকি গেছে আমি জানি না। আমার জামাই এর ও মনে নাই।

২) কাজি যখন আলহামদুলিল্লাহ বললো তখন আশে পাশের মানুষ মানে আমার জামাই এর ভাইয়েরা বলতেছিলো যে, আলহামদুলিল্লাহ বলো। বলো আলহামদুলিল্লাহ। তাদের এসব কথা তে কি আমার তাদের সাথে বিয়ে হয়ে যাবে?

Answer

উত্তর: বিবাহের ইজাব-কবুল সম্পর্কিত মাসআলা

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে নিতে চাই: এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভরযোগ্য ফাতাওয়া গ্রন্থ থেকে ফাতাওয়া লিখে দেওয়ার পর বিজ্ঞ মুফতি সাহেবগণ পর্যালোচনা করে তবেই পাবলিশ করেন । সুতরাং মনের সন্দেহকে দূরে নিক্ষেপ করবেন। হ্যা, সম্ভব হলে স্থানীয় কোনো বিজ্ঞ মুফতির কাছ থেকে সরাসরি ফতোয়া নিতে পারেন।


প্রথমে একটি মৌলিক বিষয় জেনে নিন: হানাফি মাযহাবে ইজাব-কবুলের শর্ত

হানাফি মাযহাবে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (সম্মতি) একই মজলিসে, কমপক্ষে দুইজন পুরুষ বা এক পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষীর সামনে, স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হওয়া আবশ্যক। শুধু মনে মনে সম্মতি যথেষ্ট নয়; মুখে উচ্চারণ করা জরুরি — তবে তা শর্ত নয় যে সবাই শুনতে পাবে, বরং সাক্ষীরা শুনলেই যথেষ্ট।

দলিল: আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে ব্যবসার মাধ্যমে সন্তুষ্টিসহ হলে ভিন্ন কথা।" (সূরা নিসা: ২৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

"যে ব্যক্তি দুইজন সাক্ষীর সামনে বিবাহ করল, সে (বিবাহ) সম্পন্ন হলো।" (সুনানে বায়হাকি, হাদিস: ১৩৭২৪)

আল-হিদায়া গ্রন্থে ইমাম বুরহানুদ্দীন মারগীনানী (রহ.) বলেন:

"বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব ও কবুলের মধ্যে সময়ের ব্যবধান না থাকা এবং সাক্ষীর উপস্থিতি শর্ত।" (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ, খণ্ড ১, পৃ. ২৩০)

রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন:

"ইজাব ও কবুল একই মজলিসে হওয়া জরুরি। যদি এক মজলিসে ইজাব হয় এবং অন্য মজলিসে কবুল হয়, তবে বিবাহ সংঘটিত হবে না।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৯)


আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: বর শুধু "আলহামদুলিল্লাহ" বলেছে — এতে কি বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর: হানাফি মাযহাবে বিবাহের কবুলের জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দ আবশ্যক নয়। "আলহামদুলিল্লাহ", "কবুল করলাম", "রাজি আছি", "সম্মত আছি" — এ ধরনের যেকোনো শব্দ যা সম্মতিসূচক, তা দিয়েই কবুল শুদ্ধ হয়ে যায়, শর্ত হলো তা স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হওয়া এবং সাক্ষীরা তা শোনা।

দলিল: ফাতাওয়া আলমগিরিতে আছে:

"বিবাহের কবুলের জন্য নির্দিষ্ট শব্দ শর্ত নয়; বরং যে শব্দে সম্মতি প্রকাশ পায়, তা-ই যথেষ্ট।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, খণ্ড ১, পৃ. ২৭৫)

ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে মুফতি আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:

"কবুলের জন্য 'কবুল করলাম' বলা জরুরি নয়; 'হ্যাঁ', 'রাজি আছি', 'আলহামদুলিল্লাহ' — এসবও কবুল হিসেবে গণ্য হবে, যদি সাক্ষীরা শুনে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ২, পৃ. ১৭৫)

আপনার প্রথম প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট দিক:

১. প্রথমবার "আলহামদুলিল্লাহ" শোনা যায়নি বলে মনে হওয়া: যদি সত্যিই প্রথমবারের কথাটি সাক্ষীরা না শোনেন, তবে দ্বিতীয়বার যখন কাজি জোরে বলতে বললেন এবং বর জোরে "আলহামদুলিল্লাহ" বললেন — সেটিই কবুল হিসেবে গণ্য হবে, কারণ সেটি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছে এবং সাক্ষীরা শুনেছেন। কাজি দ্বিতীয়বার বলতে বলার কারণ হতে পারে প্রথমবার তিনি নিজে নিশ্চিত হননি যে বর বলেছেন কি না, অথবা সাক্ষীরা শোনেননি।

২. "আলহামদুলিল্লাহ" কি কবুল হিসেবে যথেষ্ট? — হ্যাঁ, যথেষ্ট। কারণ এটি সম্মতিসূচক স্পষ্ট শব্দ। তবে শর্ত হলো সাক্ষীরা তা শুনেছেন। আপনার বর্ণনা অনুযায়ী দ্বিতীয়বার সবাই শুনেছেন এবং সবাই "আলহামদুলিল্লাহ" বলেছেন — সুতরাং বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

৩. আপনার জামাইয়ের মনে না থাকা: এটি স্বাভাবিক। অনেক সময় বর বিবাহের সময় উত্তেজনা বা ভুলে যাওয়ার কারণে মনে রাখতে পারে না। তবে মনে না থাকা বিবাহ বাতিল করে না, যদি সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয় যে কবুল উচ্চারিত হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: যদি আপনি বা আপনার পরিবার নিশ্চিত না হন যে কবুল সাক্ষীদের সামনে উচ্চারিত হয়েছে কি না, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুনরায় বিবাহ (নিকাহ) পড়িয়ে নেওয়া উত্তম। কারণ বিবাহের বিষয়ে সন্দেহ থাকলে পুনরায় নিকাহ করা জায়েজ এবং এটি ইহতিয়াত (সতর্কতা)।


আপনার দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: জামাইয়ের ভাইয়েরা "আলহামদুলিল্লাহ বলো" বলেছিল — তাদের কথায় কি বিবাহ হয়ে যাবে?

উত্তর: না, কখনোই না। কারণ:

১. কবুল বরের নিজের মুখ থেকে উচ্চারিত হতে হবে, অন্য কারো কথায় নয়। ভাইয়েরা শুধু উৎসাহ দিয়েছে বা বলেছে "বলো" — এটি কবুল নয়। বর নিজে যখন "আলহামদুলিল্লাহ" বলেছে, সেটিই কবুল।

২. ভাইয়েরা যদি নিজেরা "আলহামদুলিল্লাহ" বলে, তবে সেটি তাদের নিজেদের জন্য, বরের পক্ষ থেকে নয়। বরের পক্ষ থেকে কবুল বলার জন্য ওয়াকিল (প্রতিনিধি) নিয়োগ করা থাকলে ভিন্ন কথা, কিন্তু আপনার বর্ণনায় এমন কিছু নেই।

দলিল: শরহু মা'আনিল আছার-এ ইমাম তাহাবী (রহ.) বলেন:

"বিবাহের কবুল বর নিজে উচ্চারণ করবে; অন্যের কথায় কবুল সংঘটিত হয় না, যদি না সে ওয়াকিল হয়।" (শরহু মা'আনিল আছার, খণ্ড ২, পৃ. ৩৪)

রাদ্দুল মুহতার-এ আছে:

"কবুলকারী নিজে যদি স্পষ্টভাবে কবুল না বলে, বরং অন্য কেউ তার পক্ষ থেকে বলে, তবে তা কবুল হিসেবে গণ্য হবে না — যদি না সে তাকে ওয়াকিল করে।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ১১)


সারসংক্ষেপ ও করণীয়

| বিষয় | বিধান | |------|------| | বর "আলহামদুলিল্লাহ" বলেছে | হানাফি মাযহাবে এটি কবুল হিসেবে যথেষ্ট, যদি সাক্ষীরা শুনে | | প্রথমবার না শোনা গেলে | দ্বিতীয়বার স্পষ্টভাবে বলা কবুল হিসেবে গণ্য | | ভাইয়েরা "বলো" বলেছে | এতে বিবাহ হয় না; কবুল বরের নিজের মুখ থেকে হতে হবে | | সন্দেহ থাকলে | পুনরায় নিকাহ পড়িয়ে নেওয়া উত্তম (ইহতিয়াত) |

আপনার জন্য পরামর্শ:

১. স্থানীয় কোনো বিজ্ঞ মুফতির কাছে গিয়ে সরাসরি ফতোয়া নিন — কারণ বিবাহের বিষয়ে সন্দেহ থাকলে পুনরায় নিকাহ করাই নিরাপদ।

২. পুনরায় নিকাহ করলে — নতুন মোহর ধার্য করে, সাক্ষীদের সামনে, স্পষ্টভাবে ইজাব-কবুল উচ্চারণ করে নিকাহ পড়িয়ে নিন। এটি আপনার বিবাহকে নিশ্চিতভাবে শুদ্ধ করে দেবে।

৩. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন — আপনি যা বর্ণনা করেছেন, তাতে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তবে সন্দেহ দূর করতে পুনরায় নিকাহ করলে কোনো ক্ষতি নেই, বরং এটি ইহতিয়াত।


দুআ

رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَامًا

"হে আমাদের রব! আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে আমাদের চোখের শীতলতা দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের নেতা বানান।" (সূরা ফুরকান: ৭৪)


ওয়াল্লাহু আ'লাম বিস-সাওয়াব।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.