মৌখিক তালাকের বিধান কি? তালাকের প্রমাণ না থাকলে করণীয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5769
Questioner: learnskills.center
Question Asked: 21 Sep 2026, 04:49 PM
Reviewed & Published: 21 Sep 2026, 05:26 PM
Views: 37
Tokens: 13,541
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি একজন যুবক। আমি একজন আমার থেকে বয়সে বড় নারীকে বিয়ে করি। উল্লেখ্য, বিয়ের আগে সে বিবাহিত ছিল, তার স্বামী তাকে বিয়ের কিছু মাস পর রেখে বিদেশে চলে যায়, আর ২০ বছরের বেশি সময় দেশে আসে না,তার স্বামী তাকে নিয়ে অনেক খারাপ মন্তব্য করতো যেটা সে সহ্য করতে পারতো না, মানষিক সমস্যায় ভুগতো। সে অনেক ধৈর্যের পরও যখন তার স্বামী বিদেশ থেকে আসতেছিলো না বার বার বলার পরও, তখন সে ধর্ম থেকে দূরে সরে যেতে থাকে,নিজের উপর জুলুম করতে থাকে, নামাজ পড়ার আগ্রহ ছেড়ে দে, আর তার পক্ষে তার চরিত্র হেফাজত করাও কষ্ট সাধ্য হয়ে গিয়েছিলো। তার ভাষ্যমতে তার স্বামী তাকে মৌখক তালাক অনেক বার দিয়েছে, কিন্তু তার কাছে তার কোন প্রমাণ নেই হাতে, তার মেয়ে স্বাক্ষী শুধু। পরবর্তীতে আমি তাকে বিশ্বাস করি, কারণ আমার জানামতে মৌখিক তালাক দিলে তালাক হয়ে যায়। আর তার অসহায় অবস্থা দেখে, আর চরিত্র হেফাজতের জন্য আমি তাকে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। পরবর্তীতে আমাদের বিয়ে করার জন্য তার স্বামীকে তালাক নোটিশ পাঠানো হয় ফোনে যাতে করে আমরা বিয়ে করলে কোন আইনি বাঁধা না পড়ি। তালাক নোটিশ পাঠানোর পরও সে দেশে আসতে চায় না। আর আমার ওয়াইফ তার সাথে নোটিশের কয়েক মাস আগে থেকে কথা বলা বন্ধ করে দে। এরপর নোটিশের দুই মাস ১০ দিনের মাথায় আমরা বিয়ে করি।।তখন ভালোভাবে সংসার যাচ্ছিলো একসাথে নামাজ, রোজা আর ধর্মীয় বিধান পালন করার চেষ্টা করতাম। আমার ওয়াইফ এর ফ্যামিলি বিয়ে সম্পর্কে অবগত ছিলো।কিন্তু আমার ফ্যামিলি বিয়েটা মানবে না এ ভয় ছিলো, তাই আমি জানায় নি। কিন্তু আমার ওয়াইফ চেয়েছিলো আমার ফ্যামিলিকে জানাতে, কারণ বিয়েতো লুকানোর জিনিস না,পবিত্র কাজ, তাই সে একদিন আমার পরিবারের সবাইকে কল করে জানিয়ে দিলো। যখন জানানো হলো তখন আমার ফ্যামিলি বিয়েটি মানতে অস্বীকৃতি জানায়, আমাকে জোর করে আমার ওয়াইফ থেকে আলাদা করে হাসপাতালে ভর্তি ও পরে বাড়ি নিয়ে আসে। তাদেরকে আমি বুঝানোর সেটা করি, সে এত বছর একা ছিলো, অনেক কষ্ট করেছে, তাকে আমার থেকে আলাদা করো না, আমি সবসময় তার পাশে থাকতে চায়। তারা বলে সে তোমার থেকে বয়সে ১৩ বা ১৪ বছরের মত বড়, আর ইদ্দত(৩ মাস) পালন করা হয় নি, তখন আমি বলি তার স্বামী তো তাকে মৌখিক তালাক দিয়েছে, আর যে কাগজ তোমরা দেখেছো সেটা তো সরকারি কার্যক্রমে প্রসিজার। এর পর, তারা আমাকে আমার পিতা মাতা দিয়ে বাধ্য করায়, আমাকে শপথ করায়, কিন্তু আমি কখনো মন থেকে আলাদা হতে চায় নি।তারা বলে দুনিয়াতে তো অনেক অসহায় মানুষ আছে, তাই বলে কি তুমি তাকে বিয়ে করবা। তাদেরকে আমি বুঝাতে পারি না, আল্লাহ তো আমাদেকে পবিত্র কুরআনে বলেছেন সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করো, কিন্তু একটি উত্তম। আর একাধিক বিয়ে করলেও এমন নারীকে বিয়ে করো যে স্বামী পরিত্যক্ত, ডিভোর্সি বা অসহায়। যায়হোক, তারা একদিন তালাকের কাগজপত্র নিয়ে আসে আর আমাকে সাইন করতে বলে। আমি কখনো মুখ দিয়ে তালাক বলি নি বা কি কারণে তালাক দিবো সেটাও জানি না। আমার বিশ্বাস ছিলো বাধ্য করে সাইন করালে তালাক হয় না, তাই আমি বাধ্য হয়ে সাইন করি, বাট এর আগে অনেকগুলো ঘুৃমের ওষুধ খায়, এর কয়েক ঘন্টা পর, আমি নিজেকে হসপিটালে দেখতে পায়,দুই দিন ছিলাম হাসপাতালে। তারা আমাকে ঘরে আটকে রাখতো মাঝে মাঝে আর সর্বদা পাহারা দিতো, আর কখনো যেতে চাইলে আমার ওয়াইফের কাছে আমাকে আবার ধরে নিয়ে আসতো, বলতো আমার মানসিক অবস্থা ভালো নেই, মানষিক সমস্যা। কিন্তু এর এক মাসের মধ্যে আমি আমার ওয়াইফের কাছে সব খুলে বলি, সেও তালাকের কাগজটা রিসিভ করে নাই,যেহেতু তার নাম এ ভুল ছিলো, আর তার আমার প্রতি বিশ্বাস ছিলো। এখন আমি তার সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করি, আমার পরিবার আর পিতামাতাকে বলি, কিন্তু তারা রাজি হচ্ছে না,আমার ভয় হয় আমি তাকে ছেড়ে চলে আসলে সে নিজের চরিত্র হেফাজত করতে পারবে না, নিজের উপর জুলুম করবে, আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাবে। আর আমি এমনটা কখনো চায় না। এমতাবস্থায় আমার কি করণীয়? আমি আল্লাহর কাছে অনেক কান্নাকাটি করি, আমি বুঝতে আমার কি করা উচিত।

Answer

প্রশ্নোত্তর: বিবাহ ও তালাক সংক্রান্ত জটিল মাসআলা

উত্তর:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী বিষয়টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে কয়েকটি মূল বিষয় শরীয়াহর আলোকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন:

১. মৌখিক তালাকের প্রমাণ ও ইদ্দত

শরীয়াহ অনুযায়ী, স্বামী মুখে তালাক বললে তালাক পতিত হয়, চাই তার লিখিত প্রমাণ থাকুক বা না থাকুক। তবে এ ক্ষেত্রে প্রমাণের দায়িত্ব স্ত্রীর উপর বর্তায়।

২. আপনার বিবাহের বৈধতা

আপনার বিবাহের বৈধতা নির্ভর করে:

  • যদি স্ত্রীর পূর্বের স্বামী সত্যিই তালাক দিয়ে থাকে এবং ইদ্দত শেষ হয়ে থাকে → আপনার বিবাহ সহীহ
  • যদি তালাক প্রমাণিত না হয় → আপনার বিবাহ সহীহ নয়, এবং উভয়ের জন্য পৃথক হওয়া আবশ্যক।

৩. জোরপূর্বক তালাক সাইন করানো

আপনি জোরপূর্বক তালাকের কাগজে সাইন করেছেন। শরীয়াহ অনুযায়ী:

ফাতাওয়া আলমগিরি: "জোরপূর্বক (ইকরাহ) তালাক দিলে তা পতিত হয় না।" (ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুত তালাক)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, জোরপূর্বক তালাক পতিত হয় না। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে, তালাক পতিত হয়। ইমাম তাহতাবি (রহ.)ইবনে আবিদিন (রহ.) "রাদ্দুল মুহতার"-এ ইমাম আবু হানিফার মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

সুতরাং: আপনার জোরপূর্বক সাইন করা তালাক শরীয়াহ অনুযায়ী পতিত হয়নি (ইমাম আবু হানিফার মতে)।

সুতরাং আপনি পিতামাতার সাথে ধৈর্য ও হিকমতের সাথে কথা বলুন — ইসলামে পিতামাতার সন্তুষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে হারাম কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। আপনার বিবাহ যদি শরীয়াহসম্মত হয়, তবে তা রক্ষা করা আপনার দায়িত্ব।

স্ত্রীর চরিত্র হেফাজত ও মানসিক সুস্থতার জন্য দোয়া ও চেষ্টা চালিয়ে যান — আপনি তাকে ছেড়ে দিলে সে বিপথে যেতে পারে — এটি একটি গুরুতর ফিতনা। শরীয়াহর দৃষ্টিতে ফিতনা প্রতিরোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করুন — "আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, তাকে পরীক্ষা করেন।" (সহিহ বুখারি)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.