অসাবধানতাবশত দাত দিয়ে/হাত দিয়ে যদি নখ তুলে ফেলা হয়ে যায়, তাহলে কি সওয়াব চলে যাবে?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 576
Questioner: JJ
Question Asked: 23 May 2026, 03:00 AM
Reviewed & Published: 23 May 2026, 05:27 AM
Views: 62
Tokens: 2,495
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কুরবানীর আগ পর্যন্ত চুল, নখ ,দাড়ি না কাটার আমল চলাকালীন যদি অসাবধানতাবশত এবং বেখেয়ালি ভাবে দাত দিয়ে/হাত দিয়ে খুটে নখ তুলা হয় তাহলে আমল টি গ্রহনযোগ্য হবে? নাকি বাদ হয়ে যাবে?

Answer

আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করে নেওয়া প্রয়োজন যে, কুরবানীর আগ পর্যন্ত চুল, নখ, দাড়ি না কাটার আমলটি একটি মুস্তাহাব (প্রধান সুন্নত) আমল, ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানি করার পূর্ব পর্যন্ত পালন করা সুন্নত।

প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

যদি কোন ব্যক্তি অসাবধানতাবশত, ভুলে, বা বেখেয়ালি অবস্থায় (যেমন: দাঁত দিয়ে বা হাত দিয়ে খুটে) নখ তুলে ফেলে বা নখ ভেঙে যায়, তাহলে তার এই সুন্নত আমল বাতিল হবে না, বরং তা গ্রহণযোগ্য হবে। তাকে এর জন্য কোনো কাফফারা বা পুনরায় কিছু করতে হবে না। যতটুকু সম্ভব বাকি সময়টুকু (কুরবানি পর্যন্ত) এই আমল চালিয়ে যাওয়া সুন্নত।

দলিল ও ব্যাখ্যা:

১. হাদীসের আলোকে: হাদীসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

"إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ، فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا" অর্থ: "যখন জিলহজ্জের দশ দিন শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, সে যেন তার চুল ও নখ থেকে কিছু না কাটে।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৯৭৭)

এই হাদীসে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে না কাটার। তাই ভুলে বা অসাবধানতায় কেটে গেলে বা ভেঙে গেলে তা ধর্তব্য নয়।

২. ফিকহী নীতি (হানাফী ফিকহ): হানাফী ফিকহের মূলনীতি হলো:

"الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ مَرْفُوعَانِ عَنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ" অর্থ: "ভুল ও ভুলে যাওয়া এই উম্মতের জন্য ক্ষমা করা হয়েছে।" (ইবনে মাজাহ, হাদীস: ২০৪৩)

সুতরাং, অসাবধানতাবশত নখ খুটে ফেলা বা দাঁত দিয়ে কাটা ইচ্ছাকৃত কাজ নয়, বরং এটি ভুল বা অনিচ্ছাকৃত কর্মের অন্তর্ভুক্ত। তাই এই কারণে সুন্নত আমল নষ্ট হবে না।

৩. হানাফী গ্রন্থের উদ্ধৃতি:

  • রদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): ইবনে আবিদীন (রহ.) লিখেছেন:

    "وَلَوْ نَسِيَ فَأَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ أَوْ ظُفْرِهِ فَلَا شَيْءَ عَلَيْهِ، لِأَنَّ النِّسْيَانَ عُذْرٌ" অর্থ: "যদি কেউ ভুলে গিয়ে তার চুল বা নখ কাটে, তাহলে তার উপর কিছু (কাফফারা বা পুনরায় পালন) আবশ্যক নয়, কারণ ভুলে যাওয়া একটি ওজর (অজুহাত)।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩২৬, কিতাবুল উযাহী)

  • ফাতাওয়া হিন্দিয়া (আলমগীরী): এতে এসেছে:

    "وَلَوْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ أَوْ ظُفْرِهِ نَاسِيًا لَا يَضُرُّهُ" অর্থ: "যদি কেউ ভুলে গিয়ে তার চুল বা নখ কেটে ফেলে, তবে তা তার (আমলের) কোনো ক্ষতি করবে না।" (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৭২)

  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (মুফতি আশরাফ আলী থানভী): মুফতি থানভী (রহ.) বলেন:

    "যদি ভুলে বা অনিচ্ছায় নখ বা চুল কেটে যায়, তাতে এই সুন্নতের কোনো ক্ষতি হয় না। বাকি সময়গুলোতে (কুরবানি পর্যন্ত) এই সুন্নত পালন করা চালিয়ে যেতে হবে।" (ইমদাদুল ফাতাওয়া, ২/২২৫)

সারসংক্ষেপ:

  • আমল গ্রহণযোগ্য হবে কি? হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে গ্রহণযোগ্য হবে।
  • আমল কি বাদ হয়ে যাবে? না, মোটেও বাদ যাবে না।
  • এখন করণীয়: যেহেতু ভুলে হয়ে গেছে, তাই এর জন্য কোনো অনুতাপ বা দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। বাকি দিনগুলোতে (কুরবানি পর্যন্ত) সতর্কতার সাথে সুন্নতটি পালন করা চালিয়ে যান।

উপসংহার: অসাবধানতাবশত দাঁত বা হাত দিয়ে নখ খুটে ফেলা বা ভেঙে ফেলার কারণে আপনার কুরবানীর আগ পর্যন্ত চুল-নখ না কাটার আমলটি বাতিল হবে না; বরং তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ইনশাআল্লাহ।

** আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সুন্নতের উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। **


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.