রিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা কি জায়েজ? মাহরাম ছাড়া নিকাহ সহীহ হবে কি? হানাফী মাযহাবে নিকাহর শর্ত, পর্দার গুরুত্ব, নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ও বিয়ের দোয়া সম্পর্কে জানতে চাই?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
উস্তায আমি অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হওয়ার পর দ্বীন টা বুঝেছি, আমি তখন থেকে প্র্যাক্টিস করার চেষ্টা করি। মাহরাম, নন মাহরাম সবই মেইনটেইন করে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কখনো পেরেছি কখনো পারিনি। কখনো নিজের নফসের ধোঁকায় পারি তো কখনো পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে। 2021 সাল থেকে আমার এই জার্নি শুরু। পর্দা বুঝার পর ভাবলাম পড়াশোনাটা শুধু শেষ করবো কিন্তু চাকরি করবোনা, বাড়িতে 2nd year এ থাকতেই বিয়ের জন্য ছেলে দেখতে বলেছিলাম। আমি হোস্টেলে থাকি। কিন্তু দিন যতই গেছে আমি ততই অনেক বেশি পর্দার গুরুত্ব অনুভব করেছি। এক সময় সহশিক্ষাটা ছেড়ে দিতে চেয়েছি কিন্তু বাসা থেকে দেয়নি। মাঝখানে ফ্যামিলিতে অনেক ঝামেলা হয়েছে, আব্বা নতুন একটা বিয়ে করেছে(পরবর্তীতে ঐ মেয়েকে তালাক দিছে)। মা আর আব্বার প্রায় সেপারেশন হতে হতেও হয়নি, থানা পুলিশ, কেইস মারামারি অনেক কিছু হয়েছে।আমার ভাই নেই। আমি বড় মেয়ে। সব কিছুর পরও চেয়েছি আব্বা আম্মা ভালো থাকুক, এখন আব্বা আম্মা একসাথেই থাকে। কিন্তু সারাক্ষণই ঝগড়া করে। ঘরে অশান্তি করে। মারামারি করে। কেউ কাউকে সহ্য করতে চায়না। রুকাইয়্যা শরীয়াহ বিশ্বাস করেনা তারা। আমি অনেক উস্তাযদের দিয়ে বুঝিয়েছি, এমনকি IOM এর উস্তাযদের দিয়েও কিন্তু বুঝেনি। আমি পর্দার পরিবেশ পাইনা যে সেক্টরে পড়াশোনা করি এখানে। এমনকি বোরকা নিকাবও পার্মিটেড না। আমি বাড়ির পরিবেশ, নফস আর বাহিরের পরিবেশের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। আমি অনেকবার রুকাইয়্যাও করিয়েছি নিজের। কিছু সমস্যা ছিলো। রাক্বী বলেছেন তেমন কিছুনা। রেগুলার আমল করলে ঠিক হয়ে যাবে। অনেকটা ঠিকও হয়েছে। আমি মানসিকভাবে একেবারেই ভেঙ্গে গেছি। বাড়িতে বলছি বিয়ে দিতে। তারা আসলে একেবারেই আগা গোড়া পশ্চিমা কালচার ফলোকারী সরকারি বড় চাকরিওয়ালা ছেলে খোঁজে আমার আমার জন্য বললে, আমার ছবি যাকে তাকে পাঠিয়ে দেয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি গুনাহ করলেও পরে ক্ষমা চাইতে পারি আল্লাহর কাছে কিন্তু আমার ছবি কোথা থেকে কোথায় ছড়ায়, কি হয় না হয়, কত বছর গুনাহ উঠতে থাকে এসব ভয় করে খুব। তাই ছবি দিতেই চাইনা। এটা হলো যখন বাসায় খুব প্রেশারাইজ করি তখন এভাবে খুঁজে একটু আধটু। কিন্তু আমার বাসা থেকে আমার বিয়ে নিয়ে কোনো তাগাদা তাদের তেমন নেই। 2nd year এ থাকতে বলেছে ফোর্থ ইয়ারে গেলে, ফোর্থ ইয়ারে বলেছে ফাইনাল এর পরে, ফাইনালের পরে বলেছে ইন্টার্নশিপের পর। এখন আবার বলে আব্বা আম্মার ঝগড়া ঠিক হওয়ার পর। আমি ইন্টার্নশিপ করছি আপাতত। আমার বাবা মায়ের কান্ড কারখানা আর ভালো লাগছেনা। এই দিকে আমার খুব লোনলিনেস লাগে। রুমমেটদের বয়ফ্রেন্ড আছে, ঘুরতে যায়, রোমান্টিক আলোচনা অপেনলিই করে, যেই রুমমেটের সাথেই উঠি একই সিচুয়েশন।। এইদিকে বাসা থেকে ফোন দিয়ে সারাক্ষণ আব্বা আম্মার ঝগড়াঝাটি নিয়ে বলে। আব্বা আম্মা এসব উল্টাপাল্টা টাকা খরচ করে লোনের উপর ঋণ করে 44 লাখ টাকা করেছে। এখন তারা চায় আমি এমন ছেলেকে বিয়ে করি যে আমাকে চাকরি করাবে এবং আমার সাথে এই লোন পরিশোধ করবে। কিন্তু আমি আসলে নিজেল মনকে অনেক বুঝিয়েছি। আমি চাচ্ছিলাম দ্বীনের বুঝ থাকুক এমন কেউ। এমন কেউ না হলেও আমার পর্দায় বাঁধা দিবেনা এমন কেউ হোক। কিন্তু আব্বা আম্মা সেটা বুঝেনা। অপেনলি বলতে গেলে আজকাল নিজেকে ইনসিকিউর লাগে। আমি বিয়ের অনেক আমল করার চেষ্টা করেছি, দোয়া করেছি, কিন্তু আমি ধারাবাহিক থাকতে পারিনা পরিবেশের কারণে নফসের কারণে। বাহিরে বের হলেও আজকাল নজরের হেফাজত করা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যাকে দেখি তাকেই যেনো ভালো লাগে। আগে এমন ছিলাম না। কিন্তু আমার কি হয়ছে নিজেও বুঝতেছিনা, আজকাল আমি না চায়তেও এরকম হচ্ছে, আমার মনে হচ্ছে বিয়েটা খুব জরুরি। ঐদিকে আমার পরিবার ইন্টার্নশিপের পরে বলবে চাকরি নিয়ে বিয়ে। তারা বলে আমি চাকরিতে জয়েন করলে ভালো ছেলে পাবো। আমি আসলে রেগুলার রোজা রাখতে পারিনা ফিটনেসের কারণে। আমি অর্ধেক দ্বীনে বায়োডাটা দিয়েছি। যেসব প্রপোজাল এসেছে সব ছেলের সরকারি চাকরি নাই দেখে আব্বা আম্মা বাতিল করে দিছে। আমিও যাদেরকে পাঠিয়েছি কোনো না কোনো কারণে রিজেক্টেড হয়েছি। এলাকার এক ছেলেকে ছোট বেলায় চিনতাম। বড় হওয়ার পর দেখা সাক্ষাৎ তেমন হয়নি, কথাও হয়নি। হট্যাৎ একটা জরুরি পার্পাসে কথা হয়েছিলো। পরে জানতে পারি সেও বিয়ে করতে মেয়ে খুঁজতেছে আর আমিও ছেলে খুঁজতেছি। কিছু ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেছি, ছেলেটাকে ভালো লেগেছে। ছেলেটা দ্বীন এতো বুঝেনা, তবে তার আগ্রহ আছে এবং আমি যা বুঝেছি ছেলেটা পর্দার পরিবেশ দিতে পারবে এবং দিতে ইচ্ছুক। আমি এলাকায় অনেক খোঁজখবর নিয়েছি, প্রায় দুই মাস ধরে আমি বিষয়টা ভেবে দেখেছি। ভালোই মনে হয়েছে। কিন্তু ছেলে স্টাবলিশড না। পড়শোনা করে আর ছোটখাটো জব করে। আমি চাইনি ছেলে আমার বাড়িতে প্রপোজাল দিক কারণ এর আগে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে যতগুলো প্রপোজাল এসেছে মা-র ছেলে পছন্দ না হলেই আর আমার পছন্দ হলেই ব্লেম করেছে আমার নাকি ছেলের সাথে আগে থেকেই সম্পর্ক। আসলে আমি ক্লান্ত। আর এই ছেলেটি যেহেতু আমার এলাকার এবং আমার বাবা মায়ের পছন্দের বৈশিষ্ট্য তার মাঝে নেই তাই কথা উঠতে পারে আমার আগে থেকে সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু আল্লাহর কসম উস্তায আমার কোনো সম্পর্ক তার সাথে ছিলোনা এবং নেই শুধু তার ব্যপারে শুনে তাকে ভালো লেগেছে। এবং যোগাযোগের অপশন থাকায় এখন শুধু যোগাযোগ করতে ইচ্ছে করে। চারপাশের মানসিক অশান্তির কারণে হাই হ্যালো যোগাযোগ করলে রিলিফ লাগে। কিন্তু আমার বার বার ভয় করে আমি আল্লাহকে হারিয়ে ফেলবো। আমার মনে হয় আমি কোনো কিছুর বিনিময়েই হারাম কিছু চাইনা তাই যোগাযোগ করিনা, কিন্তু নফসের সাথেধ পারছিনা, শুধু মাইন্ড অন্য দিকে ঘুরে। ঐদিকে পরিবারও বুঝেনা। ভাবতেছি একা একা বিয়ে করে ফেললে কেমন হয়।এইদিকে খোঁজখবর নিয়ে ভালো মনেও হলেও ভয় কাজ করে মনে হয় আসলেই বিয়ে টিকবে তো ! ভালো হবে তো ! এডযাস্ট হবে তো ! আমার কিছুই ভালো লাগছেনা। মামা চাচা কেউ নেই দায়িত্ব নেয়ার।
কেমন সংকটে পরলাম নিজেই বুঝতেছিনা কিছু। আমি অনেক আত্মীয়কে রিকোয়েস্ট করেছি আমার বিয়ের জন্য একটু ছেলে খোঁজাখোজি করতে, কিন্তু আব্বা আম্মার ঊর্ধ্বে গিয়ে কেউ নিচ্ছেনা দায়িত্ব।
আমি কি তাকে একা একা বিয়ে করে ফেলবো? এটা কি উচিত হবে? পরামর্শ দিতে পারবেন? আর বিয়ের সময় আমার কোনো মাহরাম উপস্থিত না থাকলে কি বিয়ে জায়েজ হবে?
উস্তায ভুল বুঝবেন না। আমি অনুভব করি মন থেকে যে আমি শুধুই আল্লাহকে চাই। কিন্তু আমি নফস, পরিবেশ কোনো কিছুর সাথেই পেরে উঠতেছিনা।
Answer
বিয়ের বিষয়ে পরামর্শ — একটি শরীয়াহভিত্তিক উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ
প্রিয় বোন, আপনার চিঠিটি পড়ে বুঝতে পারছি আপনি কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আল্লাহ তা'আলা আপনার সব দুশ্চিন্তা দূর করুন এবং আপনার জন্য উত্তম ব্যবস্থা করে দিন। আমিন।
আপনার প্রশ্নগুলো ধারাবাহিকভাবে উত্তর দিচ্ছি:
১. আপনি কি একা একা (পরিবারের সম্মতি ছাড়া) বিয়ে করতে পারবেন?
সংক্ষিপ্ত উত্তর: শরীয়তে নিকাহর জন্য অভিভাবকের (ওয়ালী) সম্মতি আবশ্যক নয় — তবে হানাফী মাযহাবে কুফু (সমতা) থাকা শর্ত। তবে বাস্তবতার নিরিখে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
শরীয়াহর দৃষ্টিতে:
হানাফী মাযহাবে একজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন নারী নিজেই নিজের নিকাহ করতে পারেন — ওয়ালীর অনুমতি ছাড়াই। এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর প্রসিদ্ধ মত।
দলিল: আল্লাহ তা'আলা বলেন —
"তোমরা নারীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও..." (সূরা নিসা: ৪)
এখানে সরাসরি পুরুষদের সম্বোধন করা হয়েছে, তবে হানাফী ফুকাহায়ে কেরাম বলেন — নারীর নিজের ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুলের অধিকার রয়েছে।
তবে শর্ত হলো:
- কুফু (সমতা) থাকতে হবে — অর্থাৎ ছেলে দ্বীনদার, চরিত্রবান, এবং সামাজিকভাবে মানানসই হবে।
- মাহর নির্ধারিত হতে হবে।
- দুইজন সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে।
রেফারেন্স:
- রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন), কিতাবুন নিকাহ — "المرأة البالغة العاقلة يجوز لها أن تزوج نفسها"
- আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ
- ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুন নিকাহ
তবে বাস্তব পরামর্শ:
শরীয়তগতভাবে আপনি একা বিয়ে করতে পারলেও, আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে একা একা বিয়ে করা আমি সুপারিশ করছি না। কারণ:
- ছেলেটি দ্বীনের গভীরতা না বুঝলেও আগ্রহ আছে — এটি ভালো লক্ষণ, তবে দ্বীনি জ্ঞানের ভিত্তি দুর্বল থাকলে ভবিষ্যতে পারিবারিক জীবনে সমস্যা হতে পারে।
- ছেলেটি প্রতিষ্ঠিত নয় — আপনার পরিবার ইতিমধ্যে ৪৪ লাখ টাকা ঋণে ডুবে আছে। ছেলেটি যদি আর্থিকভাবে দুর্বল হয়, তাহলে সংসার চালাতে গিয়ে নতুন সমস্যা সৃষ্টি হবে।
- পরিবারের সম্মতি ছাড়া বিয়ে করলে সামাজিক সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে — যা আপনার মানসিক শান্তি আরও নষ্ট করবে।
- আপনার নিজের মনের অবস্থা এখন অস্থিতিশীল — এই অবস্থায় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না।
আমার পরামর্শ: ছেলেটির সাথে সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ করুন। যদি সত্যিই তার প্রতি আগ্রহ থাকে, তাহলে একজন নির্ভরযোগ্য দ্বীনদার মধ্যস্থতাকারী (যেমন আপনার বিশ্বস্ত কোনো উস্তাযা বা দ্বীনদার আত্মীয়া) এর মাধ্যমে তার পরিবারের কাছে প্রস্তাব পাঠান। এতে আপনার সম্মান রক্ষা হবে এবং সন্দেহের সুযোগ থাকবে না।
২. মাহরাম উপস্থিত না থাকলে কি বিয়ে জায়েজ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, জায়েজ হবে — তবে শর্তসাপেক্ষে।
হানাফী মাযহাবে নিকাহর শর্ত:
| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ইজাব ও কবুল | প্রস্তাব ও গ্রহণ | | দুইজন সাক্ষী | প্রাপ্তবয়স্ক, মুসলিম, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন | | মাহর | নির্ধারিত হতে হবে | | কুফু | সমতা থাকতে হবে (হানাফী মাযহাবে) |
মাহরাম উপস্থিত থাকা নিকাহর শর্ত নয় — বরং এটি সামাজিক প্রথা ও নিরাপত্তার বিষয়।
দলিল:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"لا نكاح إلا بولي وشاهدي عدل"
(তিরমিযী, আবু দাউদ)
— তবে হানাফী মাযহাবে এই হাদীসের ব্যাখ্যা হলো: ওয়ালী ছাড়া নিকাহ সহীহ হবে, তবে ওয়ালীর উপস্থিতি উত্তম ও নিরাপদ।
রেফারেন্স:
- শরহু মা'আনিল আছার (ইমাম তাহাবী) — কিতাবুন নিকাহ
- রাদ্দুল মুহতার — "النكاح ينعقد بحضور شاهدين"
- ফাতাওয়া উসমানী (মুফতি তাকী উসমানী), কিতাবুন নিকাহ
তবে: মাহরাম উপস্থিত না থাকলে সামাজিকভাবে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হতে পারে। তাই অন্তত একজন নির্ভরযোগ্য মাহরাম বা দ্বীনদার মধ্যস্থতাকারী উপস্থিত রাখা উচিত।
৩. আপনার মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবস্থা নিয়ে পরামর্শ
আপনি লিখেছেন — "আমি শুধুই আল্লাহকে চাই, কিন্তু নফস, পরিবেশ কোনো কিছুর সাথেই পেরে উঠতেছি না।"
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সংকট। এর সমাধান:
ক. নজরের হেফাজত:
আল্লাহ তা'আলা বলেন —
"মুমিন পুরুষদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখুক... এবং মুমিন নারীদের বলো, তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখুক..." (সূরা নূর: ৩০-৩১)
আমল:
- প্রতিবার বাইরে বের হওয়ার আগে আয়াতুল কুরসী পড়ুন।
- সূরা নূরের ৩০-৩১ নম্বর আয়াত নিয়মিত তিলাওয়াত করুন।
- চোখ নামানোর চেষ্টা করুন — প্রথমে কষ্ট হবে, পরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
খ. নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"المجاهد من جاهد نفسه"
(তিরমিযী)
— "প্রকৃত মুজাহিদ সে, যে নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে।"
আমল:
- রোজা রাখুন — আপনার ফিটনেস সমস্যা থাকলে সপ্তাহে ২টি রোজা রাখুন (সোম ও বৃহস্পতিবার)।
- তাহাজ্জুদ পড়ুন — বিশেষ করে রাতের শেষ প্রহরে দোয়া করুন।
- ইস্তিগফার বেশি বেশি করুন — "أستغفر الله ربي من كل ذنب وأتوب إليه"
- দরুদ শরীফ বেশি পড়ুন।
গ. বিয়ের জন্য দোয়া:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
"ثلاث دعوات مستجابات: دعوة الوالد لولده، ودعوة المسافر، ودعوة الصائم"
(তিরমিযী)
বিশেষ দোয়া:
"رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ"
(সূরা কাসাস: ২৪)
— "হে আমার রব! আমি আপনার কাছে যা কিছু কল্যাণ নাজিল হয়, তার মুখাপেক্ষী।"
এই দোয়াটি হযরত মূসা (আ.) বিয়ের সময় পড়েছিলেন। নিয়মিত পড়ুন।
৪. আপনার পরিবারের পরিস্থিতি ও করণীয়
ক. পিতামাতার ঝগড়া:
আপনি তাদের বুঝানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন — এটি আপনার সন্তান হিসেবে দায়িত্ব পালন। এখন তাদের হেদায়াত আল্লাহর হাতে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন —
"নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে হেদায়াত দিতে পারবেন না; কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে হেদায়াত দেন।" (সূরা কাসাস: ৫৬)
আমল:
- তাদের জন্য দোয়া করুন — "اللهم أصلح بينهما"
- তাদের ঝগড়ার সময় চুপ থাকুন বা ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
- সালাতুল হাজাত পড়ে দোয়া করুন।
খ. ৪৪ লাখ টাকার ঋণ:
এটি একটি বড় সমস্যা। আপনি চাকরি করে এই ঋণ শোধ করতে চাইলে — এটি আপনার দায়িত্ব নয়। ইসলামে সন্তান পিতামাতার ঋণ শোধ করতে বাধ্য নয়। তবে সাহায্য করা সদকা ও ইহসান।
তবে: বিয়ের শর্ত হিসেবে এই ঋণ শোধ করা ঠিক নয়। এটি আপনার ভবিষ্যৎ সংসারে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে।
৫. চূড়ান্ত পরামর্শ
| বিষয় | পরামর্শ | |------|---------| | একা বিয়ে | শরীয়তগতভাবে জায়েজ, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুপারিশ করছি না | | ছেলেটির সাথে যোগাযোগ | সম্পূর্ণ বন্ধ করুন — এটি নফসের ধোঁকা | | প্রস্তাব পাঠানো | দ্বীনদার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরিবারের কাছে পাঠান | | মাহরাম ছাড়া বিয়ে | জায়েজ, তবে মধ্যস্থতাকারী রাখা উত্তম | | চাকরি | দ্বীনি পরিবেশ পাওয়া গেলে চাকরি করতে পারেন, তবে পর্দার শর্তে | | মানসিক শান্তি | তাহাজ্জুদ, ইস্তিগফার, দরুদ ও কুরআন তিলাওয়াত বাড়ান |
৬. বিশেষ দোয়া
"اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ الْأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ أَنْ تَغْفِرَ لِي ذُنُوبِي وَأَنْ تُيَسِّرَ لِي أَمْرِي وَأَنْ تَرْزُقَنِي الزَّوْجَ الصَّالِحَ"
মনে রাখবেন: আপনি একা নন। আল্লাহ আপনার সাথে আছেন। আপনার সব কষ্ট তিনি দেখছেন। ধৈর্য ধরুন — ইনশাআল্লাহ উত্তম ফল পাবেন।
"وَعَسَىٰ أَن تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ"
(সূরা বাকারা: ২১৬)
— "হয়তো তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।"
والله أعلم بالصواب