নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য মৌখিক ঈজাব-কবুল কি বাধ্যতামূলক? শুধু হোটেলের ফর্মে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে ও সই করে নিকাহ হয় কি?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5690
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 19 Sep 2026, 07:09 PM
Reviewed & Published: 19 Sep 2026, 07:20 PM
Views: 29
Tokens: 13,569
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
হুজুর,

একটি বিষয়ে সঠিক শরয়ী সমাধান পাওয়ার জন্য আপনাদের শরণাপন্ন হলাম।

ঘটনাটি নিম্নরূপ:

একটি প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে এবং একটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে একটি হোটেলে অবস্থান করার জন্য যায়। সেখানে হোটেলের 'গেস্ট রেজিস্ট্রেশন কার্ড' পূরণ করার সময় ছেলেটি নিজ হাতে নিজের ও মেয়ের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করে নিচের কাজগুলো করে:

১. ফর্মের মূল 'Guest Name' (মেহমানের নাম) এবং বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার জায়গায় ছেলেটি নিজের নাম, তার পিতার নাম এবং নিজের আসল ঠিকানা ও পরিচয় বিস্তারিতভাবে লেখে।

২. ফর্মের ‘Accompanied by’ (সঙ্গী)-এর ঘরে মেয়েটির নাম এবং তার পিতার নামসহ মেয়ের আসল পরিচয় ও ঠিকানা স্পষ্ট করে লেখে।

৩.এর ঠিক নিচে(মেয়ের পরিচয়ের অংশে) 'Father's / Husband Name' অপশনটিতে 'Husband' (স্বামী) শব্দের ওপর কলম দিয়ে টিক চিহ্ন দেয় এবং সেখানে স্বামী হিসেবে নিজের নাম (ছেলের নাম) উল্লেখ করে। অর্থাৎ, ফর্মে স্বামীর ঘরে ছেলের নাম-পরিচয় এবং স্ত্রীর ঘরে মেয়ের নাম-পরিচয় ও ঠিকানা সম্পূর্ণ লিখিতভাবে উল্লেখ করা হয়।
৪. এই পুরো কাজটি করার সময় সেখানে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষী সরাসরি উপস্থিত ছিলেন এবং ছেলে-মেয়ে উভয়ই একই মজলিশে উপস্থিত ছিল।৫. ফর্মটি পূরণ শেষে ছেলে এবং মেয়ে—উভয়ই সেই কাগজের নিচে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে নিজ নিজ স্বাক্ষর (Sign) প্রদান করে।
৬. তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাদের মাঝে মুখে কোনো ধরনের বিবাহের প্রস্তাব বা গ্রহণ (ঈজাব ও কবুল) করা হয়নি। অর্থাৎ, মুখে মুখে কেউ কাউকে "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" বা "কবুল করলাম"—এ জাতীয় কোনো শব্দ উচ্চারণ করেনি।এবং ফর্মটিতেও এমন কোন কথা লেখা ছিল না।

কেবল হোটেলের কাগজে এভাবে পরস্পরের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় লিখে, স্‌বামী স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দেওয়া এবং সই করার মাধ্যমেই তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সাক্ষীদের সামনে প্রকাশ করেছে।

(বি:দ্র:সাক্ষীরাও আগে থেকেই জানত ছেলে মেয়ে অবিবাহিত)

এমতাবস্থায় শরীয়তের আলোকে জানতে চাই:

প্রশ্ন ১: হানাফী ফিকহ অনুযায়ী নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য মৌখিক ঈজাব-কবুল কি বাধ্যতামূলক? মুখে কোনো কথা না বলে, শুধু উপস্থিত সাক্ষীদের(যারা আগে থেকেই জানত যে,ছেলে ও মেয়ে অবিবাহিত) সামনে কাগজের ফর্মে স্বামী-স্ত্রীর হিসাবে পরিচিয় লিপিবদ্ধ করা, আসল ঠিকানা ও পরিচয় লিখে 'Husband' অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে ও ছেলে মেয়ের উভয়ের সই করার দ্বারা কি তাদের মধ্যে শরয়ী নিকাহ বা বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে?

প্রশ্ন ২: যদি এর দ্বারা বিবাহ সম্পন্ন না হয়ে থাকে, তবে এভাবে সাক্ষীদের সামনে কাগজে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে সই করে একই সাথে অবস্থান করার শরয়ী হুকুম কি?(যেখানে সাক্ষীরাও জানত ছেলে মেয়ে আগে থেকেই অবিবাহিত)

প্রশ্ন ৩: তারা যদি এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে খাঁটি মনে তওবা করে এবং ভবিষ্যতে একত্রে শরয়ী পদ্ধতিতে সংসার করতে চায়, তবে কি পূর্বের এই সই করা কাগজ বা চুক্তি বাতিল গণ্য হবে? সেক্ষেত্রে কি নতুন করে মোহরানা ধার্য করে, শরয়ী নিয়ম মেনে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে পুনরায় বিবাহ (নিকাহ) বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে?

আশা করি কোরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবের হাওয়ালাসহ বিস্তারিত উত্তর দিয়ে আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন।

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সূক্ষ্ম। হানাফী ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী বিস্তারিত উত্তর নিচে প্রদান করা হলো।


ভূমিকা: নিকাহর মূল উপাদান (আরকান)

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য দুটি মূল উপাদান (রুকন) অপরিহার্য:

  1. ঈজাব (প্রস্তাব) — পাত্রপক্ষ বা তাদের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব
  2. কবুল (গ্রহণ) — পাত্রীপক্ষ বা তাদের পক্ষ থেকে গ্রহণ

রেফারেন্স: আল-হিদায়া (মারগিনানী), কিতাবুন নিকাহ; রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন শামী), খণ্ড ৩, পৃ. ৪-৫; ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুন নিকাহ।


প্রশ্ন ১: মৌখিক ঈজাব-কবুল কি বাধ্যতামূলক? শুধু কাগজে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে ও সই করে নিকাহ হবে কি?

উত্তর: না, এভাবে নিকাহ সম্পন্ন হয়নি।

হানাফী ফিকহে নিকাহ সহীহ হওয়ার জন্য ঈজাব ও কবুলের শব্দ উচ্চারণ বা লিখন — উভয়ের মধ্যে অন্তত একটি মাধ্যমে ইজাব-কবুলের সুস্পষ্ট প্রকাশ অপরিহার্য। শুধু হোটেলের ফর্মে "Husband" অপশনে টিক দিয়ে নাম লেখা, পরিচয় লিপিবদ্ধ করা এবং সই করা — এটি নিকাহর ঈজাব-কবুল হিসেবে গণ্য নয়। কারণ:

১. ইজাব-কবুলের সংজ্ঞা:

নিকাহর ইজাব-কবুল হলো এমন সুস্পষ্ট বাক্য বা লিখন যা বিবাহের ইচ্ছা ও সম্মতি প্রকাশ করে। যেমন: "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" / "আমি কবুল করলাম" — অথবা এ অর্থবোধক শব্দ।

রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ৯: "الإيجاب والقبول هما اللفظان الدالان على الرضا بالنكاح"
  • আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ: "وينعقد النكاح بالإيجاب والقبول"

২. হোটেলের ফর্ম পূরণের উদ্দেশ্য: হোটেলের গেস্ট রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো আইনগত ও প্রশাসনিক নিবন্ধন — বিবাহ সম্পাদন নয়। ফর্মে "Husband" লেখার দ্বারা কেউ যদি মনে করে বিবাহ হয়ে গেছে, তবে তা ভুল ধারণা। কারণ:

  • ফর্মে কোনো ঈজাব-কবুলের শব্দ ছিল না
  • মুখে কোনো প্রস্তাব বা গ্রহণ উচ্চারিত হয়নি
  • ফর্মের উদ্দেশ্যই ছিল হোটেলে অবস্থানের অনুমতি পাওয়া

৩. ইজাব-কবুল লিখিত হওয়ার শর্ত: হানাফী ফিকহে লিখিত ঈজাব-কবুল বৈধ, তবে শর্ত হলো:

  • তা সুস্পষ্টভাবে বিবাহের ইচ্ছা প্রকাশ করবে
  • মজলিসে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে পঠিত বা স্বীকৃত হবে
  • দুই পক্ষের সম্মতি স্পষ্টভাবে থাকবে

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, কিতাবুন নিকাহ, ফাসল ১।

৪. ইবনে আবিদীন শামী (রহ.)-এর স্পষ্ট বক্তব্য:

"لو كتب رجل إلى امرأة: تزوجتك، فكتبت: قبلت — لم ينعقد النكاح ما لم يشهد شاهدان على الإيجاب والقبول"
(যদি কোনো পুরুষ কোনো নারীকে লিখে: "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম", আর সে লিখে: "কবুল করলাম" — তবে দুই সাক্ষী ঈজাব-কবুলের উপর উপস্থিত না থাকলে নিকাহ সংঘটিত হবে না।)

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ১০।

৫. ফাতাওয়া উসমানীতে স্পষ্ট ফতোয়া:

মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "নিকাহর জন্য ঈজাব-কবুলের সুস্পষ্ট উচ্চারণ বা লিখন অপরিহার্য। শুধু কোনো কাগজে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে নাম লেখা বা সই করা নিকাহর জন্য যথেষ্ট নয়।"

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ২৯১-২৯৩।

সিদ্ধান্ত:

প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে (শুধু হোটেলের ফর্মে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে, 'Husband' অপশনে টিক দিয়ে, সই করে) কোনো শরয়ী নিকাহ সম্পন্ন হয়নি। তারা এখনও অবিবাহিত হিসেবে গণ্য হবে।


প্রশ্ন ২: যদি বিবাহ না হয়ে থাকে, তবে এভাবে সাক্ষীদের সামনে কাগজে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে সই করে একই সাথে অবস্থান করার শরয়ী হুকুম কি?

উত্তর: এটি সম্পূর্ণ হারাম ও কবীরা গুনাহ।

যেহেতু উপরের আলোচনা অনুযায়ী নিকাহ সম্পন্ন হয়নি, সেহেতু ছেলে-মেয়ে পরস্পর গায়রে মাহরাম। তাদের একত্রে হোটেলে অবস্থান করা, নির্জনে (খালওয়াত) থাকা — সবই হারাম

১. খালওয়াত (নির্জনে নারী-পুরুষের মিলন) সম্পর্কে হাদীস:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "لا يخلون رجل بامرأة إلا ومعها ذو محرم"
(কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে থাকবে না,除非 তার মাহরাম همراه থাকে।)

রেফারেন্স: সহীহ বুখারী, হাদীস ৫২৩৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪১।

২. গায়রে মাহরামের সাথে অবস্থান সম্পর্কে:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "ما خلا رجل بامرأة إلا كان الشيطان ثالثهما"
(কোনো পুরুষ কোনো নারীর সাথে নির্জনে থাকলে শয়তান তাদের তৃতীয় হয়।)

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২১৬৫; মুসনাদে আহমাদ

৩. হানাফী ফিকহে:

"والخلوة بالأجنبية حرام بالإجماع"
(গায়রে মাহরামের সাথে নির্জনে থাকা ইজমা অনুযায়ী হারাম।)

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৬৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুল কারাহিয়্যাহ।

৪. সাক্ষীরা জানত যে তারা অবিবাহিত — এতে কোনো পরিবর্তন হয় না: সাক্ষীরা জানলেও, যেহেতু ঈজাব-কবুল হয়নি, সেহেতু নিকাহ হয়নি। সাক্ষীর উপস্থিতি শুধু ঈজাব-কবুলের সাক্ষী হিসেবে কাজ করে — ঈজাব-কবুল না থাকলে সাক্ষী থাকা বা না থাকা সমান।

৫. ফাতাওয়া শামীতে স্পষ্ট বক্তব্য:

"ولو شهد الشاهدان على مجرد الكتابة بلا إيجاب وقبول لم يثبت النكاح"
(শুধু লিখনের উপর সাক্ষী দিলে, ঈজাব-কবুল ছাড়া নিকাহ প্রমাণিত হয় না।)

রেফারেন্স: রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৩, পৃ. ১০।

সিদ্ধান্ত:

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় ছেলে-মেয়ের একত্রে হোটেলে অবস্থান করা, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে প্রকাশ করা — সবই হারাম। তাদের অবিলম্বে তাওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন ৩: তাওবা করে ভবিষ্যতে শরয়ী পদ্ধতিতে সংসার করতে চাইলে — পূর্বের কাগজ বাতিল হবে কি? নতুন করে নিকাহ করতে হবে কি?

উত্তর: হ্যাঁ, পূর্বের কাগজ বাতিল গণ্য হবে। নতুন করে শরয়ী নিকাহ করতে হবে।

১. পূর্বের কাগজের কোনো শরয়ী মূল্য নেই: যেহেতু ঈজাব-কবুল হয়নি, সেহেতু সেই কাগজ নিকাহর দলিল নয়। এটি শুধু একটি হোটেলের প্রশাসনিক কাগজ। তাই এটি বাতিল বা অকার্যকর — কোনো শরয়ী প্রভাব নেই।

২. নতুন নিকাহর শর্ত: নতুন করে নিকাহ করতে হবে নিম্নলিখিত শর্তসহ:

| শর্ত | বিবরণ | |------|--------| | ঈজাব-কবুল | মুখে বা লিখিতভাবে সুস্পষ্ট প্রস্তাব ও গ্রহণ | | সাক্ষী | দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা এক পুরুষ ও দুই নারী | | মোহরানা | ধার্য করা ওয়াজিব | | মজলিস | একই মজলিসে ঈজাব-কবুল | | সম্মতি | উভয় পক্ষের স্বাধীন সম্মতি |

৩. মোহরানা ধার্য করা: নতুন নিকাহতে মোহরানা ধার্য করা অপরিহার্য। মোহরানা নিকাহর একটি অপরিহার্য অংশ।

কুরআন: "وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً"
(তোমরা নারীদের তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো।)
সূরা আন-নিসা, আয়াত ৪।

৪. তাওবার বিধান: তারা যদি খাঁটি মনে তাওবা করে, তবে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন। তবে তাওবার শর্ত:

  • পূর্বের হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা
  • ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প
  • যদি কোনো হক নষ্ট হয়, তা আদায় করা

কুরআন: "إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ"
(নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন।)
সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২২২।

৫. ফাতাওয়া উসমানীতে স্পষ্ট ফতোয়া:

"যদি কেউ নিকাহ ছাড়া কোনো কাগজে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সই করে, তবে তা নিকাহ নয়। পরে যদি তারা শরয়ী নিকাহ করতে চায়, তবে নতুন করে ঈজাব-কবুল, সাক্ষী ও মোহরানাসহ নিকাহ করতে হবে।"

রেফারেন্স: ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ২, পৃ. ২৯৫।

৬. ইমদাদুল ফাতাওয়া:

হাকীমুল উম্মত থানভী (রহ.) বলেন: "নিকাহর মূল ভিত্তি হলো ঈজাব-কবুল। কাগজপত্র বা সই-স্বাক্ষর নিকাহর বিকল্প নয়।"

রেফারেন্স: ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৩, পৃ. ২৪৭।

সিদ্ধান্ত:

পূর্বের কাগজ বাতিল। নতুন করে শরয়ী নিকাহ করতে হবে — ঈজাব-কবুল, দুই সাক্ষী, মোহরানা ধার্যসহ। তাওবা করে নতুন জীবন শুরু করতে হবে।


সারসংক্ষেপ

| প্রশ্ন | উত্তর | |--------|--------| | প্রশ্ন ১ | না, শুধু হোটেলের ফর্মে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় লিখে ও সই করে নিকাহ হয়নি। ঈজাব-কবুল অপরিহার্য। | | প্রশ্ন ২ | এভাবে একত্রে অবস্থান করা হারাম। তারা এখনও গায়রে মাহরাম। | | প্রশ্ন ৩ | পূর্বের কাগজ বাতিল। নতুন করে শরয়ী নিকাহ করতে হবে — ঈজাব-কবুল, সাক্ষী, মোহরানাসহ। |


করণীয়

  1. অবিলম্বে তাওবা করুন — খাঁটি মনে, ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্পসহ।
  2. পৃথক থাকুন — নিকাহ সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত একত্রে অবস্থান, নির্জনতা, শারীরিক সম্পর্ক — সব থেকে বিরত থাকুন।
  3. শরয়ী নিকাহ সম্পন্ন করুন — অভিভাবক বা ওয়ালীর মাধ্যমে, দুই সাক্ষীর উপস্থিতিতে, মোহরানা ধার্যসহ।
  4. মোহরানা নির্ধারণ করুন — সামর্থ্য অনুযায়ী, তবে কমপক্ষে ১০ দিরহাম (আনুমানিক ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা বা তার সমমূল্য)।
  5. সামাজিকভাবে ঘোষণা করুন — নিকাহ গোপন না রেখে ঘোষণা করা সুন্নত।

দুআ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا وَلَهُمْ، وَارْزُقْنَا الْحَلَالَ وَجَنِّبْنَا الْحَرَامَ، وَبَارِكْ لَهُمَا فِي نِكَاحِهِمَا

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল পথে চলার তাওফিক দান করুন এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকার শক্তি দিন। আমীন।


والله أعلم بالصواب

উত্তর প্রদানে: হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, কুরআন, সুন্নাহ ও নির্ভরযোগ্য ফিকহের কিতাবের আলোকে।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.