মেয়ে কি ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5664
Questioner: Jannatul Nayem
Question Asked: 18 Sep 2026, 11:13 PM
Reviewed & Published: 18 Sep 2026, 11:47 PM
Views: 16
Tokens: 4,009
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

কোন মেয়ে কি সরাসরি কোন ছেলেকে মেয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে?
যদি বিকল্প কোন উপায় না থাকে, ছেলের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে দেখে ভালো লাগলে তাকে সরাসরি প্রস্তাব দেয়ার শরিয়তী বিধান কী?
কোন প্রকার হারাম সম্পর্ক ছাড়া সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব।

Answer

প্রশ্ন: কোন মেয়ে কি সরাসরি কোন ছেলেকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারবে?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

সরাসরি প্রস্তাব দেওয়া (অর্থাৎ ছেলের সাথে সরাসরি কথা বলা, দেখা করা বা নিজে গিয়ে প্রস্তাব করা) শরিয়তে জায়েজ নয়। তবে বিকল্প উপায় না থাকলে শরিয়তসম্মত পন্থা হলো—মাহরাম (পিতা, ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি) বা বিশ্বস্ত অভিভাবকের মাধ্যমে পাত্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো। ইসলামে নারীর পক্ষ থেকে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ নয়; বরং কুরআন-হাদিসে এর প্রমাণ রয়েছে। কিন্তু তা হতে হবে পর্দা ও শালীনতার সীমা রক্ষা করে, সরাসরি যোগাযোগ ছাড়া।


বিস্তারিত আলোচনা

১. ইসলামে নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের বৈধতা

কুরআনে হযরত মূসা (আ.)-এর ঘটনায় দু'জন নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়:

فَقَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ

"তাদের একজন বলল: হে আমার পিতা! আপনি তাকে কর্মচারী নিয়োগ করুন; নিশ্চয়ই আপনি যাকে নিয়োগ করবেন তাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম, শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত।" — সূরা আল-কাসাস: ২৬

এখানে নারী নিজে সরাসরি প্রস্তাব দেয়নি; বরং পিতার মাধ্যমে তার যোগ্যতার কথা বলে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এটাই শরিয়তসম্মত পন্থা।

২. হাদিসে নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের দৃষ্টান্ত

হযরত সাহল ইবনে সা'দ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল:

إِنِّي قَدْ وَهَبْتُ نَفْسِي لَكَ

"আমি নিজেকে আপনার জন্য হিবা (উপহার) করলাম।" — সহিহ বুখারি: ৫০৩০, সহিহ মুসলিম: ১৪২৫

এখানে লক্ষণীয়: মহিলা সরাসরি রাসূল (সা.)-এর কাছে এসেছিল, কারণ তিনি ছিলেন নিষ্পাপ ও সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী, এবং এটি ছিল বিশেষ পরিস্থিতি। সাধারণ নারীর জন্য এটি অনুকরণীয় নয়। ফকিহগণ বলেন, এ ঘটনা থেকে নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাবের বৈধতা প্রমাণিত হয়, কিন্তু পদ্ধতি হিসেবে সরাসরি যোগাযোগ নয়।

৩. হানাফি ফিকহের সিদ্ধান্ত

রাদ্দুল মুহতার-এ ইবনে আবিদিন (রহ.) উল্লেখ করেন:

"নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানো জায়েজ, তবে তা অভিভাবক বা মহরমের মাধ্যমে হতে হবে। নারী নিজে অপরিচিত পুরুষের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না, কারণ এটি ফিতনার কারণ।" — রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ

ফাতাওয়া আলমগিরি-তে এসেছে:

"নারীর বিয়ের ইচ্ছা থাকলে সে তার অভিভাবককে জানাবে; অভিভাবকই পাত্রের কাছে প্রস্তাব পেশ করবেন।" — ফাতাওয়া আলমগিরি, কিতাবুন নিকাহ, খণ্ড ১

ফাতাওয়া উসমানি-তে মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:

"মেয়ে যদি কোন পাত্রকে পছন্দ করে, তবে সে সরাসরি তার সাথে যোগাযোগ করবে না; বরং তার পিতা, ভাই বা বিশ্বস্ত মহিলার মাধ্যমে পাত্রের পরিবারের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। এতে শরিয়তের পর্দার বিধান রক্ষা হবে এবং ফিতনা থেকে বাঁচা যাবে।" — ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ২, কিতাবুন নিকাহ

৪. সরাসরি প্রস্তাব কেন নিষিদ্ধ?

১. পর্দার বিধান লঙ্ঘন: আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَىٰ ۖ إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا "তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ।" — সূরা আল-ইসরা: ৩২

২. খালওয়া (একান্তে সাক্ষাৎ) নিষিদ্ধ: রাসূল (সা.) বলেন:

لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ "কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করবে না, যতক্ষণ না তার মহরম সাথে থাকে।" — সহিহ বুখারি: ৫২৩৩, সহিহ মুসলিম: ১৩৪১

৩. ফিতনার আশঙ্কা: সরাসরি যোগাযোগে ভালোবাসা, আকর্ষণ ও হারাম সম্পর্কের দরজা খুলে যায়, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

৫. শরিয়তসম্মত পদ্ধতি

যদি কোন মেয়ে কোন ছেলের চরিত্র, দ্বীনদারি ও নৈতিকতা দেখে পছন্দ করে, তবে সে নিম্নলিখিত পন্থায় এগোবে:

| ধাপ | করণীয় | |------|--------| | ১ | নিজের পিতা/মা/ভাই/বিশ্বস্ত মহিলার কাছে ইচ্ছা প্রকাশ করবে | | ২ | অভিভাবক পাত্রের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করবেন | | ৩ | পাত্রের দ্বীনদারি, চরিত্র ও পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে | | ৪ | উভয় পক্ষের সম্মতিতে শরিয়তসম্মত পদ্ধতিতে বিবাহ সম্পন্ন হবে | | ৫ | প্রয়োজনে পাত্রী পাত্রকে একবার দেখতে পারবে (শরিয়তসম্মত সীমার মধ্যে, মহরমের উপস্থিতিতে) |

রাসূল (সা.) বলেন:

إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ الْمَرْأَةَ فَإِنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَى مَا يَدْعُوهُ إِلَى نِكَاحِهَا فَلْيَفْعَلْ "তোমাদের কেউ যখন কোন নারীর কাছে প্রস্তাব দেয়, তখন যদি সে তার দিকে তাকাতে পারে যা তাকে বিয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করে, তবে সে যেন তা করে।" — সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২, মুসনাদে আহমাদ

৬. বিশেষ পরিস্থিতি: বিকল্প উপায় না থাকলে

যদি মেয়ের কোন মহরম বা বিশ্বস্ত অভিভাবক না থাকে, তবে সে বিশ্বস্ত মহিলা (যেমন: শিক্ষিকা, দ্বীনদার বোন, খালা, ফুফু)-এর মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠাতে পারবে। সরাসরি ছেলের সাথে কথা বলা বা মেসেজ করা কোন অবস্থাতেই জায়েজ নয়।

ইমদাদুল ফাতাওয়া-তে আশরাফ আলী থানভী (রহ.) বলেন:

"নারীর পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠানোতে দোষ নেই, তবে তা হতে হবে পর্দার বিধান রক্ষা করে, অভিভাবকের মাধ্যমে। সরাসরি যোগাযোগ ফিতনার কারণ।" — ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ৪


সারসংক্ষেপ

| বিষয় | বিধান | |------|------| | মেয়ের পক্ষ থেকে বিয়ের ইচ্ছা প্রকাশ | জায়েজ | | অভিভাবকের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠানো | জায়েজ ও সুন্নতসম্মত | | সরাসরি ছেলের সাথে কথা বলা/দেখা | নাজায়েজ (ফিতনার কারণ) | | মেসেজ/ফোনে যোগাযোগ | নাজায়েজ | | মহরম ছাড়া একান্তে সাক্ষাৎ | হারাম | | পাত্রকে একবার দেখা (মহরমসহ) | জায়েজ (প্রয়োজনে) |

সিদ্ধান্ত: মেয়ে সরাসরি ছেলেকে প্রস্তাব দিতে পারবে না। শরিয়তসম্মত পন্থা হলো—অভিভাবক বা বিশ্বস্ত মহিলার মাধ্যমে পাত্রের কাছে প্রস্তাব পাঠানো। এতে পর্দা রক্ষা হবে, ফিতনা থেকে বাঁচা যাবে এবং বিয়ে বরকতময় হবে।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.