স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া বা "উনি আমার স্ত্রী/স্বামী" বলার দ্বারা কি বিবাহ শুদ্ধ হয়?

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5653
Questioner: Ibrahim
Question Asked: 18 Sep 2026, 05:03 PM
Reviewed & Published: 18 Sep 2026, 07:38 PM
Views: 13
Tokens: 10,103
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম
হুজুর,
আমাদের বর্তমানের ফেৎনার সমাজে প্রাপ্তবয়স্ক অনেক ছেলে মেয়ে একাকীতে কোন গার্ডেন অথবা হোটেলে সময় কাটাতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেয় । এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন পুরুষ অথবা দু চারজন মানুষের উপস্থিতি সেখানে থাকে, তারা ছেলের কাছে জানতে চায়,উনি কি আপনার স্ত্রী? ছেলে জবাব দেয়,হা,তিনি আমার স্ত্রী! আবার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করা হয়, উনি কি আপনার স্বামী? সে স্বীকার করে যে,হ্যাঁ উনি আমার স্বামী।
অথবা, এমন ঘটনাও পাওয়া যায় যে একটা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে কোথাও একান্তে থাকার জন্য বাসা ভাড়া নিতে যায়। অথবা সেখানে গিয়ে তারা বিবাহের ফলস ডকুমেন্টস প্রদান করেন। এবং উপস্থিত লোকদের সামনে তারা স্বীকারও করে যে,তারা স্বামী স্ত্রী। অথবা ছেলের পক্ষ থেকে,"উনি আমার স্ত্রী" এবং মেয়ের পক্ষ থেকে,"উনি আমার স্বামী" এমন বক্তব্য প্রকাশ করা হয়।

উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমি রাসুল (সা:) এর একটা হাদিস থেকে যেটা জেনেছি যে, বিবাহ,তালাক এবং দাস আজাদ যেকোনোভাবেই প্রকাশ করা হোক না কেন এটা কার্যকর হয়ে যায়।

এমন অবস্থায় হুজুরের কাছে প্রশ্ন:

১) ওই স্বামীস্ত্রী হিসাবে স্বীকারোক্তি,যারা ছেলে মেয়ে স্বীকার করছে এবং তাদের সামনে দুই বা দুইএর অধিক সাক্ষীও থাকছে, এখন তাদের এই স্বামী স্ত্রীর হিসাবে নিজেদের স্বীকার করার দ্‌বারা কি তাদের ইজাব কবুল হবে?

২) যদি বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায় তাহলে তো ওই মেয়ের বিবাহ অন্য কোন পুরুষের সাথে হওয়া সম্ভব কি?

৩) বর্তমান আধুনিক সমাজে এমন অনেকেই বিশেষ করে ভার্সিটিতে পড়ুয়া বা উচ্চাভিলাসী অনেক ছেলেমেয়ে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে একসাথে থাকছে (লিভ টুগেদার)।এরপর কিছু সময় বাদে তাদের উভয়েরই হয়ত অন্যত্র বিবাহ হচ্ছে।অন্যত্র যাদের সাথে বিবাহ হচ্ছে তাদের সাথে কি সেই নতুন বিবাহ গুলো সহীহ হচ্ছে?

দয়া করে কুরআন,হাদিসের আলোকে জানাবেন
এবং হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এগুলো ঘটনার হুকুম কি?

Answer

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ

প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বর্তমান সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ফিতনার সাথে সম্পর্কিত। নিচে কুরআন, হাদীস ও হানাফী মাযহাবের প্রামাণ্য কিতাবের আলোকে বিস্তারিত উত্তর প্রদান করা হলো।


প্রথমে একটি মৌলিক বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন

আপনি যে হাদীসটির কথা উল্লেখ করেছেন, সেটি হলো:

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: "তিনটি বিষয় আছে—এগুলোকে গুরুত্ব সহকারে বলা হোক বা হালকাভাবে বলা হোক—সব অবস্থাতেই কার্যকর হয়: বিবাহ, তালাক এবং দাস মুক্ত করা।"

— (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৪, সুনানে তিরমিযী: ১১৮৪, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৩৯)

তবে এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে:

এই হাদীসটি "স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট শব্দে বিবাহের ইজাব-কবুল" সম্পর্কে। অর্থাৎ, যদি কেউ স্পষ্টভাবে বলে: "আমি তোমাকে আমার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম" এবং অপরপক্ষ বলে: "আমি গ্রহণ করলাম"—তাহলে তা কার্যকর হবে। কিন্তু "স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া" বা "আমরা স্বামী-স্ত্রী" বলা—এটি ইজাব-কবুলের স্পষ্ট শব্দ নয়; বরং এটি একটি ইনশা (ঘোষণা) বা ইখবার (সংবাদ) মাত্র।


হানাফী মাযহাবের মূলনীতি: বিবাহের জন্য ইজাব-কবুল শর্ত

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তাবলী অপরিহার্য:

১. ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ)

  • ইজাব: পাত্রপক্ষ বা তাদের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব।
  • কবুল: পাত্রীপক্ষ বা তাদের পক্ষ থেকে গ্রহণ।
  • একই মজলিসে (একই বৈঠকে) ইজাব-কবুল হতে হবে।
  • স্পষ্ট শব্দে হতে হবে—যেমন: "আমি তোমাকে বিবাহ করলাম" / "আমি গ্রহণ করলাম"।

আল-হিদায়া গ্রন্থে ইমাম বুরহানুদ্দীন আল-মারগীনানী (রহ.) বলেন: "বিবাহের জন্য ইজাব ও কবুল শর্ত। আর তা এমন শব্দে হতে হবে যা বিবাহের অর্থ প্রকাশ করে।" — (আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ, ১/২৩০)

২. সাক্ষী (শাহাদাতাইন)

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী থাকা শর্ত।

আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তোমাদের মধ্যে থেকে দুইজন সাক্ষী রাখো।" — (সূরা আত-তালাক: ২)

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: "সাক্ষী ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।" — (সুনানে বায়হাকী, হাদীস: ১৩৭২৩; মুসনাদে আহমাদ)

৩. ওয়ালী (অভিভাবক) — হানাফী মাযহাবের বিশেষ মত

হানাফী মাযহাব অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কা স্বাধীন মহিলা নিজেই নিজের বিবাহ দিতে পারে, তবে ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে তা নাফিয (কার্যকর) হলেও গুনাহগার হবে এবং ওয়ালী চাইলে তা ভঙ্গ করতে পারবে (যদি কুফু তথা সমতা না থাকে)।

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মত: প্রাপ্তবয়স্কা বালেগা স্বাধীন মহিলার বিবাহ তার নিজের ইজাব-কবুলেই শুদ্ধ হবে, ওয়ালীর অনুমতি শর্ত নয়। তবে ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা মাকরূহ তাহরীমী। — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ, ৩/৫১-৫৫; আল-হিদায়া, ১/২৩১)


এখন প্রশ্নোক্ত ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ

প্রশ্ন ১: "উনি আমার স্ত্রী" / "উনি আমার স্বামী" বলার দ্বারা কি ইজাব-কবুল সম্পন্ন হবে?

উত্তর: না, এভাবে বিবাহ শুদ্ধ হবে না। কারণ:

ক) এটি ইজাব-কবুলের স্পষ্ট শব্দ নয়

"উনি আমার স্ত্রী" বা "উনি আমার স্বামী" বলা—এটি একটি সংবাদ (ইখবার) বা দাবি। এটি বিবাহের ইনশা (প্রতিষ্ঠা) নয়। ইজাব-কবুলের জন্য প্রয়োজন:

  • পাত্রের পক্ষ থেকে: "আমি তোমাকে/my daughter-কে/my sister-কে বিবাহ করলাম" বা "আমি তোমাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলাম"
  • পাত্রীর পক্ষ থেকে: "আমি গ্রহণ করলাম" বা "আমি সম্মত হলাম"

শুধু "উনি আমার স্ত্রী" বলা—এটি পূর্বের কোনো বিবাহের সংবাদ হতে পারে, অথবা মিথ্যা দাবি হতে পারে। এটি নতুন বিবাহ প্রতিষ্ঠা করে না।

খ) হানাফী ফিকহের স্পষ্ট বক্তব্য

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী (রহ.) বলেন: "বিবাহের ইজাব-কবুল এমন শব্দে হতে হবে যা বিবাহের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। আর 'উনি আমার স্ত্রী' বলা—এটি ইখবার (সংবাদ), ইনশা নয়। তাই এটি দ্বারা বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুন নিকাহ, ৩/৮-৯)

ফাতাওয়া আলমগীরীতে আছে: "যদি কেউ বলে 'অমুক আমার স্ত্রী'—এটি সংবাদ। যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে পূর্বের বিবাহের সংবাদ; আর যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে তা মিথ্যা। উভয় অবস্থাতেই এটি নতুন বিবাহ প্রতিষ্ঠা করে না।" — (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুন নিকাহ, ১/২৭৬)

গ) ফাতাওয়া উসমানীতে স্পষ্ট ফতোয়া

মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "শুধু 'আমরা স্বামী-স্ত্রী' বলা বা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়া—এটি বিবাহের ইজাব-কবুল নয়। বিবাহের জন্য স্পষ্ট ইজাব-কবুল, সাক্ষী এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ হতে হবে।" — (ফাতাওয়া উসমানী, কিতাবুন নিকাহ, ২/২৭৫-২৭৮)

ঘ) তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম

যদি পূর্বে কোনো বৈধ বিবাহ হয়ে থাকে এবং পরে তারা শুধু তা প্রকাশ করে, তাহলে তা পূর্বের বিবাহেরই সংবাদ। কিন্তু প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় পূর্বে কোনো বিবাহ হয়নি—শুধু পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাই এটি বিবাহ প্রতিষ্ঠা করবে না।


প্রশ্ন ২: যদি বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে ওই মেয়ের অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ সম্ভব কি?

উত্তর: যদি প্রকৃতপক্ষে শুদ্ধ বিবাহ হয়ে যায় (স্পষ্ট ইজাব-কবুল, সাক্ষীসহ), তাহলে:

  • প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিবাহ সম্পূর্ণ হারাম ও বাতিল
  • কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন:

"তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে... সধবা নারীদেরকে..." — (সূরা আন-নিসা: ২৪)

"আর তোমরা সেই নারীদেরকে বিবাহ করো না যারা অন্য পুরুষের স্ত্রী..." — (সূরা আন-নিসা: ২৪)

  • রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন:

"যে নারী অন্য পুরুষের স্ত্রী থাকা অবস্থায় বিবাহ করে, সে যিনাকারিণী।" — (সুনানে তিরমিযী: ১১২৪)

তবে প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় যেহেতু শুদ্ধ বিবাহই হয়নি, তাই ওই মেয়ের অন্যত্র বিবাহ শুদ্ধ হবে—কারণ প্রথম "বিবাহ" বলে যা দাবি করা হয়েছে, তা ফিকহগতভাবে বিবাহই নয়।


প্রশ্ন ৩: লিভ টুগেদার করে পরে অন্যত্র বিবাহ করলে সেই নতুন বিবাহগুলো সহীহ হবে কি?

উত্তর: এখানে দুটি দিক রয়েছে:

ক) যদি লিভ টুগেদারকারীরা শুধু "স্বামী-স্ত্রী" পরিচয় দিয়ে থাকে (প্রকৃত বিবাহ না করে)

তাহলে:

  • তাদের মধ্যে কোনো বৈধ বিবাহই হয়নি
  • তাদের একসাথে থাকা সম্পূর্ণ যিনা ও হারাম
  • পরে অন্যত্র যে বিবাহ হয়, তা শুদ্ধ ও সহীহ হবে—কারণ প্রথমে কোনো বিবাহই ছিল না।
  • তবে তাদের যিনার গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে।

খ) যদি তারা প্রকৃতপক্ষে শুদ্ধ বিবাহ করে ফেলে (ইজাব-কবুল, সাক্ষীসহ)

তাহলে:

  • প্রথম বিবাহ বহাল থাকবে।
  • দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল ও হারাম
  • দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সম্পর্ক যিনা হিসেবে গণ্য হবে।
  • তাদের আলাদা হতে হবে এবং প্রথম স্বামীর সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হবে, অথবা প্রথম স্বামী তালাক দিলে ইদ্দত শেষে দ্বিতীয় বিবাহ করতে হবে।

গ) ফাতাওয়া উসমানীর স্পষ্ট বক্তব্য

মুফতি তাকী উসমানী (দা.বা.) বলেন: "বর্তমানে যারা 'লিভ টুগেদার' করে শুধু স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেয়, তাদের মধ্যে বিবাহ হয় না। তাদের সম্পর্ক যিনা। আর পরে অন্যত্র বিবাহ করলে তা সহীহ হবে, তবে যিনার গুনাহ থেকে তাওবা করতে হবে।" — (ফাতাওয়া উসমানী, ২/২৮০-২৮২)


হানাফী মাযহাবের চূড়ান্ত ফতোয়া

সারসংক্ষেপ:

| বিষয় | হুকুম | |------|-------| | শুধু "উনি আমার স্ত্রী/স্বামী" বলা | বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না | | সাক্ষীদের সামনে স্বীকার করা | বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না | | ফলস ডকুমেন্ট দেওয়া | বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না | | প্রকৃত ইজাব-কবুল (স্পষ্ট শব্দে) + সাক্ষী | বিবাহ শুদ্ধ | | শুদ্ধ বিবাহ ছাড়া একসাথে থাকা | যিনা ও হারাম | | প্রথম বিবাহ ছাড়া দ্বিতীয় বিবাহ | সহীহ | | প্রথম বিবাহ থাকলে দ্বিতীয় বিবাহ | বাতিল ও হারাম |

মূল দলিল:

আল্লাহ তা'আলা বলেন: "তোমরা নিজেদের মধ্যে পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না..." — (সূরা আন-নিসা: ২৯)

"আর তোমরা যিনার কাছেও যেয়ো না; নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।" — (সূরা আল-ইসরা: ৩২)

রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষী ছাড়া বিবাহ করে, তার বিবাহ বাতিল।" — (সুনানে দারাকুতনী, হাদীস: ৩৪৭৭)


বিশেষ সতর্কতা ও উপদেশ

১. বর্তমান ফিতনার যুগে ছেলে-মেয়েদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। শুধু "স্বামী-স্ত্রী" পরিচয় দিয়ে একসাথে থাকা কবিরা গুনাহ

২. প্রকৃত বিবাহ করতে হলে:

  • স্পষ্ট ইজাব-কবুল
  • দুইজন পুরুষ বা একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষী
  • ওয়ালীর অনুমতি (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সুন্নত ও প্রয়োজনীয়)
  • মোহর নির্ধারণ
  • প্রকাশ্যে ঘোষণা

৩. তাওবা: যারা এই ভুল করেছে, তাদের আন্তরিক তাওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে প্রকৃত ইসলামী পদ্ধতিতে বিবাহ করতে হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" — (সূরা আন-নূর: ৩১)


সংক্ষিপ্ত ফতোয়া

প্রশ্নে উল্লেখিত ঘটনায় "উনি আমার স্ত্রী/স্বামী" বলা বা স্বীকার করার দ্বারা কোনো বিবাহ প্রতিষ্ঠিত হয় না। এটি ইজাব-কবুল নয়; বরং ইখবার (সংবাদ) মাত্র। তাই:

১. এভাবে ইজাব-কবুল হবে না—বিবাহ শুদ্ধ হবে না। ২. প্রকৃত বিবাহ না হওয়ায় ওই মেয়ের অন্যত্র বিবাহ সহীহ হবে। ৩. লিভ টুগেদারকারীদের সম্পর্ক যিনা; পরে অন্যত্র বিবাহ সহীহ, তবে তাওবা করতে হবে।

তবে যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে স্পষ্ট ইজাব-কবুল ও সাক্ষীসহ বিবাহ করে ফেলে, তাহলে প্রথম বিবাহ বহাল থাকবে এবং দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল হবে।


والله أعلم بالصواب



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.