ফোনে বিয়ে, এক সাক্ষীতে বিয়ে, ওয়ালী ছাড়া বিয়ে — ইসলামী শরীয়তে সহীহ হয় কি না?
Marriage and Divorce · Hanafi
Question
শায়েখ,আরো কয়েক বছর আগে আমার বায়োডাটা একটি মেট্রিমনি website দেই। তারপর একজন লোক আমার বায়ো দেখে পছন্দ করে এবং আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়।উনি উনার বায়োতে লিখেছিলেন যে উনি সেপারেটেড।ওনার বায়োর সবকিছু ই আমার রিকোয়েরমেন্ট এর সাথে মিলে গিয়েছিলো পরবর্তী তে ওনার সেপারেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে উনি বলেন যে ওনার ওয়াইফের সাথে এখনো সেপারেশন হয়নি ওনার ওয়াইফ আলাদা বাসায় থাকে বাচ্চাকে নিয়ে। তারপর আরো অনেক কিছু আমাকে উনি বলেন।একটা সময় ওনার ওয়াইফ এগুলো জানতে পেরে আমাকে নানাভাবে মেন্টালি প্রেশার দেয়।উনি বলেন ওনার ওয়াইফের সমস্যা আর ওনার ওয়াইফ বলে ওনার হাসবেন্ড এবং শশুড় বাড়ির সমস্যা।আমি এই বিষয়ে খুব দোটানায় পড়ে যাই।এদিকে ছেলের মা-বাবা,খালা,সবাই ফোন দিয়ে আমাকে নানাভাবে কনভিন্স করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি বলি যে যেহেতু ওনার ওয়াইফকে নিয়ে এতো এতো সমস্যা তাহলে উনি ওনার ওয়াইফ ছেড়ে দিক তাহলে আমি রাজি হবো। তারপর একদিন ওই ছেলে আমাকে ফোন দিয়ে বলে উনি নাকি ওনার ওয়াইফকে তালাক দিয়ে দিছে। তারপর কিছুদিন পর উনি বলেন বিয়ের কথা। কিন্তু বিয়েটা হবে মোবাইলে।আমি তখনো খুব কনফিউজড ছিলাম মোবাইলে বিয়ে করবো কি না। যেহেতু আমার পরিবারের কেউ জানেনা।যদিও মাকে কিছুটা বলেছিলাম।ভাইয়া বা আব্বু কেউই রাজি ছিলোনা।
তারপর উনি একদিন বলে যে,যেহেতু উনি ওনার ১ম ওয়াইফকে ছেড়ে দিয়েছেন এখন তো বিয়েতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না তাই চলেন আমরা বিয়ে করে ফেলি। তারপর একদিন বিকেল বেলা আমাকে বলে আজকে বিয়ে হবে , তারপর একজন রিকশাওয়ালা কে ফোন ধরিয়ে দিয়ে বলে যে উনি হচ্ছে আপনার সাক্ষী আপনি ওনাকে সাক্ষী হিসেবে মেনে নিয়েছেন?
এটা বলার পর আমি বললাম জ্বী মেনে নিয়েছি।যদিও আমার এসব বিষয়ে তেমন কোনো মাসআলা জানা ছিলো না।আর ছেলেটা এসব বললো যে সাক্ষী থাকলেই বিয়ে হয়ে যাবে। তারপর উনি বললেন রাতে বিয়ে হবে এটা বলে ফোন কেটে দিলেন। তারপর থেকে আমি মানসিক ভাবে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং ভাবতে থাকি যে উনি হয়তো বিয়ের আগে আমার অনুমতি নেয়ার জন্য কল দিবে। এবং আমি না করে দিবো।কারন আমি বিয়েতে রাজি না। কিন্তু রাত ১১টা নাগাদ আমাকে কল করে বলে যে বিয়ে হয়ে গেছে।আমি এটা শুনে খুব ভেঙে পড়ি এবং চিন্তায় পড়ে যাই ।ওইদিন আর ওনার সাথে কথা না বলে ঘুমিয়ে যাই।পরের দিন সকাল বেলা উনি কল দিয়ে আমার খোঁজ খবর নিচ্ছিলো এবং বলছিলো যে সবাইকে বিয়ের ব্যাপারে না জানাতে এবং ওনার কাছে যেনো আমি পালিয়ে চলে যাই এসব বিষয়ে আরো অনেক কিছু।আমি তার কথার কোনো উত্তর দিতে পারছিলাম না।ভেতর থেকে আমি খুব ভেঙে পড়ি। তারপর ওইদিন সকালে ওনার ওয়াইফ আমাকে হঠাৎ মেসেজ করে এবং খুব খারাপ আচরণ করে আর বলে যে ছেলেটা আমাকে মিথ্যা বলেছে ছেলেটা এখনো তার ওয়াইফকে তালাক দেয়নি।তারা এক বাসায় আছে।
এগুলো শুনে সাথে সাথে আমি আপু টাকে কল দেই এবং জানতে চাই সবকিছু আপুটা খুব কান্নাকাটি করে এবং বলে এখনো ওনারা এক বাসায় আছে। তারপর আমিও আপু টাকে বলি যে আমি আপনাদের লাইফ থেকে সরে যাবো।কারন আমার কারো সংসার ভাঙ্গার নিয়ত ছিলোনা।আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ছেলেটা সত্যি বলছে। আসলেই তার ওয়াইফের মধ্যে সমস্যা আছে।
তারপর আমি বিয়ের দু'দিন পর ছেলেটাকে কল দিয়ে তার কাছে তালাক চাই। কিন্তু উনি রাজি হচ্ছিল না বার বার কারন জানতে চাচ্ছিলো কিন্তু আমি তাকে কিছু বলিনি কারন তার ওয়াইফের সাথে যে আমার কথা হয়েছে এটা সে শুনলে আপু টাকে মারধর করবে তাই আমি ছেলেটাকে কিছুই বলিনি একপর্যায়ে পুলিশের ভয় দেখিয়ে তার থেকে তালাক নেই।প্রথমে উনি ১ তালাক দেয় পরবর্তীতে আমি বলি যে আপনি আমাকে তিন তালাক দিন। তারপর উনি তিন তালাক দেয়। তারপর ওই ছেলে আমাকে একদিন কল করে বলে যে জোর করে বিনা কারনে তালাক নিলে নাকি তালাক হয়না। কিন্তু আমি শুধু কারণ এতটুকুই বলেছি যে আপনি আমাকে মিথ্যে বলেছেন।ওনার ওয়াইফ এর বিষয়ে আর কিছু আমি বলিনি।বললে আপু টাকে উনি টর্চার করবে।
এখন কথা হচ্ছে ওনার ওয়াইফ আমাকে বলেছিলো আমাদের বিয়েটা নাকি সহিহ হয়নি।আমি আপু টার উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আমার বিয়েটা কি আসলেই শরীয়ত মোতাবেক হয়েছিলো নাকি হয়নি?
আর যদি হয়েই থাকে তাহলে তালাক টা হয়েছে ?
নাকি তালাক টা হয়নি?
এখন আমার একটা ছোট্ট একটা বাবু আছে আলহামদুলিল্লাহ, আমার হাসব্যান্ড যথেষ্ট ভালো মানুষ আলহামদুলিল্লাহ।তিনি আমার জন্য রবের দেয়া অনেক বড় নিয়ামত।আমার প্রতি নিয়ত মনে আমি উনাকে ঠেকিয়েছি।
এই প্রশ্ন গুলো প্রতিনিয়ত আমাকে খুব কষ্ট দেয়।খুব অনুতপ্ত ফীল হয়।খুব কষ্ট হয় আমার ।আমি আবেগের বশে না বূঝে কত বড় গুনাহ করে ফেলেছি।তাই এই অশান্তি থেকে মুক্তির জন্য আমি এখানে জানতে চাচ্ছি মেহেরবানী করে সময় নিয়ে আমার উত্তর টি দিবেন শায়েখ ,,প্লিস
Answer
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। আপনার মানসিক কষ্ট ও অনুতাপের কথা বুঝতে পারছি। আল্লাহ তাআলা আপনার কষ্ট লাঘব করুন এবং সঠিক পথ দেখান। আমিন।
ইসলামী বিবাহ (নিকাহ) সহীহ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হওয়া আবশ্যক:
১. ইজাব ও কবুল (প্রস্তাব ও গ্রহণ) — একই مجلسে। ২. দুইজন মুসলিম সাক্ষী (পুরুষ অথবা এক পুরুষ ও দুই নারী) — প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান, মুসলিম। ৩. মোহর নির্ধারণ। ৪. কন্যার অভিভাবক (ওয়ালী) এর অনুমতি — হানাফী মাযহাবে প্রাপ্তবয়স্কা কন্যা নিজে বিবাহ করতে পারে, তবে ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমী এবং ফাসিদ (বাতিল) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, প্রাপ্তবয়স্কা বুদ্ধিমতী কন্যা নিজে বিবাহ দিতে পারে, তবে ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া তা মাকরূহ। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) এর মতে, ওয়ালীর অনুমতি ছাড়া নিকাহ সহীহ হয় না।
রেফারেন্স:
- আল-হিদায়া, কিতাবুন নিকাহ
- রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৩৭-১৪০
- ফাতাওয়া আলমগীরী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৮৩
আপনার বিবাহ সহীহ হয়েছিল কি না?
না সহীহ হয়নি।
সুতরাং তালাকের তো কোনো প্রশ্নই উঠেনা।
তাই আপনি নির্দ্বিধায় অন্যত্রে বিবাহ বসতে পারবেন।
والله أعلم بالصواب