আমার বোনের স্বামী তালাকের/আপোষের আবেদন করেছে কোর্টে

Marriage and Divorce · Hanafi

Question No: 5537
Questioner: Mumtahina Tuly
Question Asked: 16 Sep 2026, 06:20 AM
Reviewed & Published: 16 Sep 2026, 06:24 AM
Views: 7
Tokens: 4,498
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমার বোনের স্বামীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা হওয়ায় তার স্বামী তালাকের সিদ্ধান্ত নেয়। তার স্বামী খুব রাগী হওয়ায় স্ত্রীকে কয়েকবারই বলেছে যে তোকে ছেড়ে দিলাম, আজ থেকে তোর সাথে আর কোনো সম্পর্ক নাই। কিন্তু তিন তালাক বলে নি কখনও। আবার কোর্টেও তালাক/আপোষের আবেদন করেছে। এখন অব্দি তিনবার কোর্টে যেতে হয়েছে। এখন তার স্বামী তাকে আবার ফেরত নিতে চাচ্ছে। আমি জানতে চাচ্ছিলাম আইনিভাবে এখনো তালাক না হলেও ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী কি তাদের তালাক হয়েছে? নাকি তারা এখনো স্বামী স্ত্রী আছেন? স্ত্রী কি এ অবস্থায় আবারও স্বামীর কাছে ফেরত যেতে পারবে?

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

উত্তর:

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নে উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী — স্বামী রাগের বশে স্ত্রীকে কয়েকবার বলেছে: "তোকে ছেড়ে দিলাম, আজ থেকে তোর সাথে আর কোনো সম্পর্ক নাই" — কিন্তু কখনো স্পষ্টভাবে "তালাক" শব্দ উচ্চারণ করেনি, এবং তিন তালাকও বলেনি।

হানাফি মাযহাবের মূলনীতি হলো:

তালাক সংঘটিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট (সরীহ) তালাকের শব্দ অথবা কেনায়া (ইঙ্গিতবাচক) শব্দ — উভয়ের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে।

১. সরীহ তালাক: "তালাক", "ফাসখ", "ছাড়া" ইত্যাদি স্পষ্ট শব্দ। এগুলোতে নিয়তের প্রয়োজন নেই — শব্দ উচ্চারণ হলেই তালাক পতিত হয়।

২. কেনায়া তালাক: "তুই যাও", "তোর সাথে সম্পর্ক নেই", "তুই মুক্ত" — এ ধরনের শব্দ। এগুলোতে তালাকের নিয়ত অথবা পরিস্থিতির قرينة (সাক্ষ্য-প্রমাণ) থাকা আবশ্যক। নিয়ত বা قرينة ছাড়া শুধু কেনায়া শব্দে তালাক পতিত হয় না।

আপনার বোনের ক্ষেত্রে:

স্বামী বলেছে "তোকে ছেড়ে দিলাম, আজ থেকে তোর সাথে আর কোনো সম্পর্ক নাই" — এটি কেনায়া তালাকের অন্তর্ভুক্ত। এখন প্রশ্ন হলো — সে কি তখন তালাকের নিয়ত করেছিল?

  • যদি সে তালাকের নিয়ত করে বলে থাকে → তবে এক তালাকে বায়েন পতিত হয়েছে (তিন তালাক নয়, কারণ সে "তালাক" শব্দ বলেনি এবং তিনবারও বলেনি)। এক তালাকে বায়েনের পর স্ত্রী স্বামীর নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; তবে ইদ্দতের মধ্যে স্বামী নতুন বিবাহ ছাড়াই ফিরিয়ে নিতে পারে। ইদ্দত শেষ হলে নতুন বিবাহ (حلالہ ছাড়া) প্রয়োজন হবে।

  • যদি সে তালাকের নিয়ত না করে শুধু রাগের বশে হুমকি বা ঝগড়ার সুরে বলে থাকে → তবে তালাক পতিত হয়নি; তারা এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই আছেন।

কোর্টে তালাক/আপোষের আবেদন: কোর্টে আবেদন করা বা কোর্টে যাওয়া-আসা ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তালাক পতিত হওয়ার কারণ নয়। ইসলামী তালাক সংঘটিত হয় শুধু স্বামীর মুখে তালাকের শব্দ উচ্চারণ দ্বারা (অথবা শরীয়াহ আদালতের ফাসখ দ্বারা)। পার্থিব আদালতের কার্যক্রম ইসলামী তালাকের হুকুম পরিবর্তন করে না।

সুতরাং সারসংক্ষেপ:

| বিষয় | হুকুম | |---|---| | "তালাক" শব্দ না বলা | সরীহ তালাক হয়নি | | "ছেড়ে দিলাম" বলা (নিয়তসহ) | এক তালাকে বায়েন | | "ছেড়ে দিলাম" বলা (নিয়ত ছাড়া) | তালাক হয়নি | | কোর্টে আবেদন | ইসলামী তালাক নয় | | তিন তালাক না বলা | তিন তালাক হয়নি |

স্ত্রী কি ফিরে যেতে পারবে?

  • যদি তালাক পতিত না হয়ে থাকে → তারা এখনো বৈধ স্বামী-স্ত্রী; স্ত্রী স্বামীর কাছে ফিরে যেতে পারবে, নতুন বিবাহের প্রয়োজন নেই।
  • যদি এক তালাকে বায়েন পতিত হয়ে থাকে এবং ইদ্দত শেষ হয়ে গেছে → তবে নতুন বিবাহ (নতুন মোহর ও নতুন আকদ) ছাড়া ফিরে যাওয়া যাবে না। ইদ্দতের মধ্যে থাকলে স্বামী ফিরিয়ে নিতে পারবে।

অতএব, সঠিক সমাধানের জন্য জরুরি হলো:

১. স্বামীকে জিজ্ঞাসা করা — সে "ছেড়ে দিলাম" বলার সময় তালাকের নিয়ত করেছিল কি না? ২. কতবার এবং কোন কোন সময়ে বলেছে — তা নির্ধারণ করা। ৩. স্থানীয় বিশ্বস্ত মুফতি/শরীয়াহ আদালতের কাছে সরাসরি গিয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে ফতোয়া নেওয়া।

কারণ — এ ধরনের মাসআলায় নিয়ত, সময়, সংখ্যা ও পরিস্থিতির উপর হুকুম নির্ভর করে; শুধু লিখিত বিবরণে চূড়ান্ত ফতোয়া দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। সরাসরি মুফতির কাছে হাজির হয়ে বিস্তারিত বললে সঠিক সমাধান পাওয়া যাবে।

আল্লাহ তা'আলা আমাদের সবাইকে হালাল-হারামের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমিন।


📌 রেফারেন্স:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদীন): "الطلاق بالكناية لا يقع إلا بالنية أو بدلالة الحال" — কেনায়া তালাক নিয়ত বা قرينة ছাড়া পতিত হয় না। (কিতাবুত তালাক)
  • আল-হিদায়া: সরীহ ও কেনায়া তালাকের পার্থক্য ও শর্তাবলি।
  • ফাতাওয়া আলমগিরি: কিতাবুত তালাক — কেনায়া ألفاظের বিধান।
  • ফাতাওয়া উসমানি: তালাক সংক্রান্ত মাসায়েল।
  • ইমদাদুল ফাতাওয়া (আশরাফ আলী থানভী): তালাকের ألفاظ ও নিয়তের বিধান।
  • বেহেশতী জেওর: তালাক অধ্যায়।

আল্লাহ সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.