বাসা ভাড়ার টাকা জায়েজ কিনা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর চাকরির হুকুম কি?
Halal and Haram · Hanafi
Question
১। একজন গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা পেনশনের টাকায় বাড়ি করে ভাড়া দিলে এবং সে বাড়িভাড়া থেকে পরবর্তীতে তাদের সংসার,খাওয়া চালালে, তাদের বাড়ির খাবার খাওয়া জায়েজ হবে? এই বাড়িভাড়া কি হালাল?
২।বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টর এর চাকরি কি হালাল? উনার দেয়া খাবার খাওয়া বা হাদিয়া জায়েজ?
৩। ব্যাংকের কর্মকর্তা অতি নিকটাত্মীয় হলে কীভাবে হিকমাহের সাথে এভোয়েড করা যায়, যদি বলা সম্ভব না হয় যে তার চাকরি হারাম, অবশ্য তার এই জ্ঞান আছে।এদিকে সম্পর্কও রাখতে হবে আবার খাবার খাওয়া যাবে না,হাদিয়াও নেয়া যাবে কীভাবে ব্যালেন্স করবো।
খাবারের পরিমাণ টাকা বা হাদিয়ার পরিমাণ টাকা যদি তখন সদকা করার সামর্থ না থাকে তাহলে কী করবো?
Answer
বাংলাদেশ ব্যাংক ও গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরি এবং ভাড়ার আয় সম্পর্কে ফতোয়া
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের মূল বিষয় তিনটি—(১) গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরি ও পেনশনের টাকায় নির্মিত বাড়ির ভাড়ার হুকুম, (২) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টরের চাকরি ও তার দেওয়া খাবার/হাদিয়ার হুকুম, (৩) নিকটাত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করে কীভাবে সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।
নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিত উত্তর দেওয়া হলো।
ভূমিকা: সুদভিত্তিক ব্যাংকে চাকরির মূল হুকুম
ইসলামে সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" (সূরা বাকারা: ২৭৫)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ "হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা মুমিন হও।" (সূরা বাকারা: ২৭৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষী—সবাইকে লানত করেছেন:
لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং সুদের দুই সাক্ষীকে লানত করেছেন এবং বলেছেন: তারা সবাই সমান (গুনাহে)।" (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)
সুতরাং যে ব্যাংকের মূল কারবারই সুদভিত্তিক, সেখানে সরাসরি সুদের লেনদেনে অংশগ্রহণ করা—যেমন সুদের হিসাব লেখা, সুদ আদায় করা, সুদের দলিল তৈরি করা—তা শরীয়তসম্মত নয়। এ বিষয়ে হানাফি ফিকহের প্রায় সব কিতাবে একমত রয়েছে।
ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) লিখেন:
"সুদি কারবারে সহায়তাকারী ব্যক্তির চাকরি জায়েজ নয়, কারণ তা গুনাহের কাজে সহযোগিতা।" (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃ. ৩৯১—কিতাবুল হাযর)
মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) বলেন:
"যে ব্যাংকের সমস্ত কারবার সুদভিত্তিক, সেখানে চাকরি করা—যদি চাকরির কাজ সরাসরি সুদি লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত হয়—তা জায়েজ নয়। তবে যদি এমন বিভাগে কাজ হয় যার সাথে সুদের সরাসরি সম্পর্ক নেই (যেমন: সাধারণ হিসাবরক্ষণ, নিরাপত্তা, কম্পিউটার মেইনটেন্যান্স), তবে তা জায়েজ হতে পারে।" (ফাতাওয়া উসমানি, খণ্ড ৩, পৃ. ৪০১-৪০৫)
১ম প্রশ্ন: গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তার পেনশনের টাকায় বাড়ি করে ভাড়া দেওয়া এবং সেই ভাড়ার টাকায় সংসার চালানো।
জবাবঃ- গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তার পেনশনের টাকায় বাড়ি করে ভাড়া দেওয়াও নাজায়েজ এবং সেই ভাড়ার টাকায় সংসার চালানোও নাজায়েজ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُوا مِمَّا فِي الْأَرْضِ حَلَالًا طَيِّبًا "হে মানুষ! পৃথিবীতে যা হালাল ও পবিত্র আছে, তা থেকে খাও।" (সূরা বাকারা: ১৬৮)
وَلَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ "তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।" (সূরা বাকারা: ১৮৮)
২য় প্রশ্ন: বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডিরেক্টরের চাকরি ও তার দেওয়া খাবার/হাদিয়ার হুকুম।
জবাবঃ- হারাম।
খ. তার দেওয়া খাবার খাওয়া ও হাদিয়া নেওয়ার হুকুম
জবাবঃ- তার দেওয়া খাবার খাওয়া ও হাদিয়া নেওয়া জায়েজ নেই।
যদি তার দেওয়া খাবার খেয়ে থাকেন বা তার দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করে থাকেন, সেক্ষেত্রে সমপরিমাণ টাকা ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরিব মিসকিনদের মাঝে ছদকাহ করতে হবে।
(এখন সামর্থ্য না থাকলে পরবর্তীতে সামর্থ্যবান হওয়ার পর ছদকাহ করবেন।)