বিকাশে ধার নিয়ে ক্যাশ আউট চার্জসহ ফেরত দিলে তা কি সুদ হবে?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5490
Questioner: Zannatul Nayem
Question Asked: 15 Sep 2026, 01:23 AM
Reviewed & Published: 15 Sep 2026, 06:08 AM
Views: 28
Tokens: 5,156
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

একজনের কাছে আমি ধার নিলাম ১৫০০ টাকা বিকাশে এখন সে যখন ব্যাক চাইলো তখন বলল আমি যেন তাকে ক্যাশ আউট চার্জ সহ ফেরত দেই এটা কি সুদের আওতায় পড়বে?

Answer

বিকাশে ধার নিয়ে ক্যাশ আউট চার্জসহ ফেরত দেওয়ার বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

একজন ব্যক্তি অপর একজনের কাছ থেকে বিকাশে ১৫০০ টাকা ধার নিয়েছেন। এখন ফেরত দেওয়ার সময় ঋণদাতা বলছেন, "তুমি আমাকে ক্যাশ আউট চার্জসহ ফেরত দাও।" প্রশ্ন হলো—এই অতিরিক্ত ক্যাশ আউট চার্জ কি সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে?

উত্তর

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি ক্যাশআউট বাবদ টাকা দেন, সেক্ষেত্রে সেই টাকা যেন অবশ্যই ক্যাশ আউট বাবদই খরচ হয়। এক টাকাও যেন বেঁচে না যায়।

যদি আপনার অতিরিক্ত সেই ক্যাশ আউট বাবদ টাকা যদি পুরোটাই ক্যাশ আউট বাবদ খরচ হয়, তাহলে এটি সুদ হবে না।

কিন্তু যদি ক্যাশ আউট করতে গিয়ে সে টাকা যদি বেঁচে যায় অথবা সে যদি ক্যাশ আউট না করে সে টাকা রিচার্জ করেই শেষ করে ফেলে বা অন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে যার দ্বারা ক্যাশ আউট চার্জ খরচ হয় না, তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা সুদ বলে বিবেচিত হবে।

আল্লাহ তা'আলা বলেন:

وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)

আরও ইরশাদ হয়েছে:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا أَضْعَافًا مُّضَاعَفَةً "হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খেয়ো না।" — (সূরা আলে ইমরান: ১৩০)

وَإِن تُبْتُمْ فَلَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لَا تَظْلِمُونَ وَلَا تُظْلَمُونَ "যদি তোমরা তাওবা করো, তবে তোমাদের জন্য তোমাদের মূলধনই রয়েছে; তোমরা জুলুম করো না এবং জুলুমের শিকারও হয়ো না।" — (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)

অর্থাৎ ঋণ ফেরত দেওয়ার সময় শুধু মূলধন ফেরত দেওয়াই ওয়াজিব; তার উপর অতিরিক্ত কোনো কিছু দাবি করা বা দেওয়া—উভয়ই জুলুম ও সুদ।


হাদীসের দলিল

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক এমন ঋণ যা (ঋণদাতার জন্য) উপকার টেনে আনে, তা সুদ।" — (মুওয়াত্তা মালিক, বায়হাকী: ১০৭০২; কানযুল উম্মাল: ১৫৫৬২)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:

لَا تَأْكُلُوا الرِّبَا وَلَا تُوكِلُوا بِهِ "তোমরা সুদ খেয়ো না এবং সুদ খাওয়াও না।" — (সুনানে আবু দাউদ: ৩৩৩৭)

হযরত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন:

لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ آكِلَ الرِّبَا وَمُوكِلَهُ وَكَاتِبَهُ وَشَاهِدَيْهِ وَقَالَ هُمْ سَوَاءٌ "রাসূলুল্লাহ ﷺ সুদ খাওয়াদাতা, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার দুই সাক্ষীকে অভিশাপ করেছেন এবং বলেছেন—তারা সবাই সমান (অপরাধী)।" — (সহীহ মুসলিম: ১৫৯৮)

ইমাম ইবনে আবিদীন শামী রহ. লিখেন:

وَكُلُّ قَرْضٍ جَرَّ نَفْعًا فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক এমন ঋণ যা কোনো উপকার টেনে আনে, তা সুদ।" — (রাদ্দুল মুহতার, কিতাবুর রিবা: ৫/১৬৬)

তিনি আরও বলেন:

وَيَحْرُمُ عَلَى الْمُسْتَقْرِضِ أَنْ يَزِيدَ عَلَى الْقَرْضِ شَيْئًا بِشَرْطٍ أَوْ بِغَيْرِ شَرْطٍ "ঋণগ্রহীতার জন্য হারাম—শর্তসাপেক্ষে হোক বা শর্ত ছাড়াই হোক—ঋণের উপর অতিরিক্ত কিছু প্রদান করা।" — (রাদ্দুল মুহতার: ৫/১৬৬)

২. ফাতাওয়া আলমগীরী

الزِّيَادَةُ عَلَى الْقَرْضِ بِشَرْطٍ رِبًا "শর্তসাপেক্ষে ঋণের উপর অতিরিক্ত গ্রহণ করা সুদ।" — (ফাতাওয়া আলমগীরী, কিতাবুর রিবা: ২/১৬১)

৩. আল-হিদায়া

وَكُلُّ قَرْضٍ شُرِطَ فِيهِ زِيَادَةٌ فَهُوَ رِبًا "প্রত্যেক ঋণ যাতে অতিরিক্ত শর্ত করা হয়, তা সুদ।" — (আল-হিদায়া, কিতাবুর রিবা: ২/৩৯১)


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.