গর্ভপাতের পর রক্তস্রাব অবস্থায় নামাজ পড়া যাবে কি না?

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5483
Questioner: Adiba Binte Azad
Question Asked: 14 Sep 2026, 08:46 PM
Reviewed & Published: 14 Sep 2026, 09:00 PM
Views: 25
Tokens: 3,899
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আস্সালামু আলাইকুম,,
আমার ভাবির বাচ্চা কনসিভ করছে। তো ওনি কনসিভ হওয়ার সাথে সাথেই বাচ্চা নষ্ট করার ঔষধ খাইছে। পরে ওনি পিরিয়ড হয়ে গেছে। কিন্তু কিছু দিন পরে অসুস্থ হওয়ার পরে ডাক্তার দেখাইছে বলছে জরায়ু তে ব্লাড রয়ে গেছে। পরে আবার ঔষধ খাইছে ২৫ দিন পর্যন্ত ব্লাড যাচ্ছে । এখনো যাচ্ছে। কিছু দিন আগে টেস্ট করছে বলসে বাচ্চা নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কি ওনার নামাজ পড়তে পারবে।
আর আরেকটা কথা ওনার বাচ্চা কনসিভ এক মাস ও হয়নি হইছে

Answer

بسم الله الرحمن الرحيم

হামদ ও সালাতের পর:

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

আপনার ভাবি গর্ভধারণের পর গর্ভপাতের ঔষধ সেবন করেছেন। এরপর রক্তস্রাব শুরু হয়েছে যা ২৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এখন জানতে চাওয়া হয়েছে—এ অবস্থায় তার নামাজ পড়া যাবে কি না। পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন যে, গর্ভধারণের এক মাসও পূর্ণ হয়নি।

ফিকহি বিশ্লেষণ

নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) সম্পর্কিত মাসআলা

হানাফি মাযহাব অনুযায়ী, নিফাস হলো সন্তান জন্মদানের পর জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত। তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গর্ভের সন্তান যদি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যেখানে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ (হাত, পা, আঙুল ইত্যাদি) গঠিত হয়েছে, তাহলে গর্ভপাতের পর যে রক্ত আসে তা নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সন্তান এখনো অঙ্গহীন (শুধু মাংসপিণ্ড বা জমাট রক্তের মতো) হয়, তাহলে সেই রক্ত নিফাস নয়; বরং ইস্তিহাযা (অসুস্থতার রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

«إِنَّ دَمَ النِّفَاسِ...» (মুয়াত্তা মালিক)

আর ফুকাহায়ে কেরাম বলেন—

«وَإِنْ سَقَطَ الْمُضْغَةُ وَلَمْ يُخْلَقْ لَهُ شَيْءٌ فَالدَّمُ دَمُ اسْتِحَاضَةٍ»
—(রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড ১, পৃ. ৩০২; আল-হিদায়া)

** উম্মে আতিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন—

«لَا تَحْبِسُ الْمَرْأَةُ عَنِ الصَّلَاةِ إِلَّا دَمَ الْحَيْضِ وَالنِّفَاسِ»
—(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৫)

অর্থাৎ হায়েজ ও নিফাসের রক্ত ছাড়া অন্য কোনো রক্ত নামাজ থেকে বিরত রাখবে না।

★প্রশ্নে উল্লেখিত রক্তকে হায়েজ ধরতে হবে। যেহেতু এই রক্তপাত ১০ দিন অতিক্রম করেছে সুতরাং তার পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী এটিকে হায়েজ ধরে বাকি দিন গুলিকে ইস্তেহাজা হিসেবে ধরে নামাজ চালিয়ে যেতে হবে।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.