ঘরে অবস্থান করেও পর্দা লঙ্ঘন হওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ প্রসঙ্গে
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
Answer
উত্তর বাড়ির ভেতরেও পর্দা ভঙ্গ হওয়া অত্যন্ত কষ্টদায়ক। একজন মুসলিম নারীর জন্য পর্দা শুধু পোশাকের ব্যাপার নয়, বরং এটি একটি ইবাদত ও আত্মমর্যাদার বিষয়। নিচে আপনার সমস্যার সমাধানে কুরআন, হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হলো:
১. পর্দার গুরুত্ব ও সতর্কতা
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীগণ ও কন্যাগণ এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আল-আহযাব: ৫৯)
হাদিসে এসেছে:
“তোমাদের কেউ যেন কোনো অনুমতি ছাড়া অন্য কারো ঘরে উঁকি না দেয়। যদি কেউ উঁকি দেয়, তবে তাকে পাথর নিক্ষেপ করাও জায়েজ।” (সহিহ বুখারি: ৫৯২২)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, কোনো নন-মাহরাম যদি ইচ্ছাকৃতভাবে উঁকি দেয়, তবে সে গুনাহগার হবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
২. আপনার করণীয়
(ক) জানালায় স্থায়ী পর্দার ব্যবস্থা করুন:
- জানালার পর্দা মোটা ও অপারদর্শী হওয়া উচিত, যাতে বাইরে থেকে ভেতর দেখা না যায়।
- যদি বর্তমান পর্দা পাতলা হয়, তবে ডবল লেয়ার বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন।
- প্রয়োজনে জানালার গ্রিলে কাপড় বা বোর্ড লাগিয়ে দিতে পারেন।
(খ) পরিবারের পুরুষদের দায়িত্ব বোঝান:
- বাড়ির দরজা ও জানালার নিরাপত্তার জন্য আপনার মাহরাম (বাবা, ভাই, স্বামী) পুরুষদের নির্দেশ দিন যাতে তারা দরজা বন্ধ রাখে এবং অপরিচিত কাউকে সহজে প্রবেশ করতে না দেয়।
- হাদিসে এসেছে: “তোমরা দরজা বন্ধ রাখো এবং নামাজের সময় ছাড়া জানালা বন্ধ রাখো।” (আবু দাউদ: ৫১২৫)
(গ) নিজের অবস্থান ও চলাফেরায় সতর্কতা:
- জানালার সামনে বা রাস্তার দিকে খোলা জায়গায় দীর্ঘ সময় দাঁড়ানো বা বসা এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন ছাড়া জানালার কাছে যাবেন না, বিশেষ করে এমন সময় যখন বাইরে অপরিচিত লোকজন থাকে।
(ঘ) অপরিচিত ব্যক্তির উঁকি দেওয়ার প্রতিক্রিয়া:
- যদি কেউ জানালা দিয়ে উঁকি দেয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পর্দা টেনে দিন বা সরে যান।
- সম্ভব হলে জোরে কিছু বলুন বা শব্দ করুন যাতে সে চলে যায়। প্রয়োজন হলে পরিবারের পুরুষ সদস্যকে জানান।
৩. মানসিক শান্তির জন্য দোয়া ও তাওয়াক্কুল
আপনার কষ্ট স্বাভাবিক, তবে হতাশ হবেন না। মনে রাখবেন, আল্লাহ তাআলা আপনার নিয়ত ও প্রচেষ্টা দেখেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা দয়ালু ও দয়া করতে পছন্দ করেন। তিনি প্রতিটি কাজে দয়া ও কোমলতা অবলম্বন করতে বলেন।” (সহিহ বুখারি: ৫৯২৪)
প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় এই দোয়া পড়ুন:
“بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ” (যে নামের কারণে আসমান ও জমিনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, সেই আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।) এ ছাড়া সূরা ফালাক ও সূরা নাস পড়ে ঘরে ফুঁ দিতে পারেন।
সারসংক্ষেপ:
- জানালায় মোটা পর্দা দিন।
- পরিবারের পুরুষদের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিন।
- অপরিচিত লোক দেখলে পর্দা টেনে সরিয়ে নিন।
- আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধরুন।
আল্লাহ তাআলা আপনার পর্দার প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং আপনার কষ্ট দূর করুন। আমিন।