অন্যের দেয়া টাকা খরচ করার ব্যাপারে।

Miscellaneous Fiqh · Hanafi

Question No: 5476
Questioner: Mohammad Masum
Question Asked: 14 Sep 2026, 05:48 PM
Reviewed & Published: 14 Sep 2026, 06:41 PM
Views: 28
Tokens: 5,184
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাকে একজন দশ হাজার টাকা দিছে ভালো পথে খরচ করার জন্য, সে টাকা দিয়ে বলেছে যে এই টাকাটা তুমি ভালো পথে খরচ করো, তোমার যেখানে ভালো মনে হয়। এবং এটা সে করেছে সওয়াব পাওয়ার জন্য। আমাকে এটাও বলেছে যে তুমি এই টাকা থেকে নিজে একটা জুব্বা বানিয়ে নিবা।

এখন এই টাকা থেকে আমি কিছু টাকা একটা ইসলামিক লাইব্রেরীতে বই কিনার জন্য দিব যাতে করে সে সওয়াব পাইতে থাকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে, একেবারে গরিব কোন ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র পেলে তাকে একটা জুব্বা বানাই দিব ইনশাআল্লাহ,
আর বাকি যে টাকাটা থাকবে সে যেহেতু আমার এই টাকাটা ভালো পথে খরচ করার স্বাধীনতা বা অধিকার দিয়েছে, আমি আমার বিবায়ে খরচ করব। কারন আমার এখন বিবাহ করার মত পরিপূর্ণ আর্থিক সামর্থ নেই, কিন্তু চরিত্র হেফাজতের জন্য করতে হবে।

তার দেয়া এই টাকা কি আমি আমার বিয়েতে খরচ করতে পারবো?

Answer

উত্তর

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

দাতা আপনাকে ভালো কাজে খরচ করার সাধারণ ইখতিয়ার দেওয়ার কারণে এবং আপনি চরিত্র হেফাজতের জন্য বিবাহে অর্থের মুখাপেক্ষী হওয়ায়, এই টাকা থেকে আপনার বিবাহে খরচ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ জায়েয ও বৈধ।


শরয়ী বিশ্লেষণ ও মূলনীতি:

১. 'ভালো কাজ' হিসেবে বিবাহের শরয়ী মর্যাদা:
ইসলামে বিবাহ করা একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও সুন্নাত । বিশেষ করে কোনো ব্যক্তি যদি চরিত্র হেফাজতের জন্য বিবাহ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এবং আর্থিক সামর্থ্য না থাকার কারণে গুনাহ বা যিনায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করে, তবে তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব বা ফরযের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায় । ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, গুনাহ থেকে আত্মরক্ষা ও চরিত্র হেফাজতের উদ্দেশ্যে বিবাহে অর্থ ব্যয় করা অকাট্যভাবে একটি উত্তম ও "ভালো পথে খরচ করা" (কুরবতে মাকসূদা)।

২. দাতার সাধারণ অনুমতি ও অধিকার (তাওকীলে মুতলাক):
দাতা যখন আপনাকে বলেছেন— "এই টাকাটা তুমি ভালো পথে খরচ করো, তোমার যেখানে ভালো মনে হয়", তখন শরীয়তের দৃষ্টিতে তিনি আপনাকে উক্ত টাকা যেকোনো ভালো ও শরীঅতসম্মত খাতে ব্যয় করার সাধারণ অনুমতি ও ইখতিয়ার (উকালাত/তাওকীল) দিয়েছেন। তদুপরি, তিনি যেহেতু আপনাকে নিজের জন্য জুব্বা বানানোর অনুমতিও দিয়েছেন, সেহেতু আপনার নিজের আবশ্যকীয় শরয়ী প্রয়োজন তথা বিবাহে এই টাকা ব্যবহার করায় দাতার উদ্দেশ্য ও অনুমতির কোনো লঙ্ঘন হয় না।

৩. আপনার সার্বিক পরিকল্পনার মূল্যায়ন:

  • বই কেনা ও ছাত্রকে জুব্বা দেওয়া: ইসলামিক লাইব্রেরীতে বই কিনে দেওয়া এবং গরীব ছাত্রকে জুব্বা বানিয়ে দেওয়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দাতার জন্য 'সদকায়ে জারিয়া' হিসেবে গণ্য হবে।
  • নিজের বিবাহে খরচ করা: বাকি টাকা আপনার নিজের বিবাহে খরচ করলেও তা দাতার দেওয়া "ভালো পথে খরচ করার" শর্ত পুরোপুরি পূরণ করে।

সংযুক্ত কিতাব, ভলিউম ও পৃষ্ঠা নম্বর:

১. দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ৯৩–৯৪ (অধ্যায়: হজ্ব ও নানা প্রয়োজন — চরিত্র হেফাজত ও যিনার আশঙ্কায় বিবাহে অর্থ ব্যয়ের প্রাধান্য)
  • পৃষ্ঠা: ১১৫ (অধ্যায়: নিকাহ ও তালাক — বিবাহের গুরুত্ব ও ইবাদত হওয়ার বিবরণ)
  • পৃষ্ঠা: ৩০২–৩০৩ (অধ্যায়: ওয়াকফ ও সদকা — ভালো কাজে দান ও দাতার শর্তের মূল্যায়ন)

২. দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড):

  • পৃষ্ঠা: ২৫৮–২৬১ (সংসারে স্ত্রীর দায়িত্ব ও বিবাহের উদ্দেশ্য)
  • পৃষ্ঠা: ৩৫১–৩৫২ (আমানত ও ওয়াকালাতের শরয়ী মূলনীতি)

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.