উমরাহ সফরে বিমানে অজু ও নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম, তায়াম্মুম করার পদ্ধতি ও শর্ত।
Hajj and Umrah · Hanafi
Question
১. উমরাহর ফ্লাইট যদি ট্রানজিটসহ হয় এবং বিমানে অজু ও নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে নামাজের সময় হলে কীভাবে নামাজ আদায় করব?
২.তায়াম্মুম করার সঠিক নিয়মটি জানতে চাই। বিশেষ করে কখন তায়াম্মুম করা যাবে এবং কীভাবে করতে হবে?
৩. হারাম শরিফে অবস্থান করার সময় যদি হঠাৎ সাদা স্রাবের কারণে অজু ভেঙে যায় এবং কোনো কারণে অজু করার জন্য যাওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে কি তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করা যাবে?
Answer
উমরাহ সংক্রান্ত কিছু বিষয়
উত্তর (হানাফি মাযহাব অনুযায়ী)
بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين، محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد
প্রশ্ন ১: বিমানে অজু ও নামাজ আদায়ের বিধান
বিমানে যদি অজু ও নামাজের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তবে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করবেন:
ক. অজুর ক্ষেত্রে:
-
বিমানে সাধারণত বাথরুম ছোট থাকে, তবে অজু করা সম্ভব হলে অবশ্যই অজু করবেন।
-
যদি পানি একেবারেই না থাকে তাহলে তায়াম্মুম করবেন।
খ. নামাজের ক্ষেত্রে:
- বিমানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া সম্ভব হলে দাঁড়িয়ে পড়বেন, কিবলামুখী হয়ে নামাজ আদায় করবেন।
- যদি দাঁড়ানো সম্ভব না হয়, তবে বসে ইশারায় নামাজ পড়বেন। রুকু-সিজদার জন্য মাথা নিচু করবেন; সিজদার জন্য রুকুর চেয়ে বেশি নিচু করবেন।
গ. জামাতে নামাজ:
- পুরুষ হলে বিমানে জামাত করা সম্ভব হলে করবেন, না হলে একাকী পড়বেন।
দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন: "فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ" — "তোমরা যথাসাধ্য আল্লাহকে ভয় করো।" (সূরা তাগাবুন: ১৬)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "إِذَا أَمَرْتُكُمْ بِأَمْرٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ" — "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের আদেশ করি, তখন তা যথাসাধ্য পালন করো।" (সহীহ বুখারী: ৭২৮৮, সহীহ মুসলিম: ১৩৩৭)
প্রশ্ন ২: তায়াম্মুমের সঠিক নিয়ম
কখন তায়াম্মুম করা যাবে?
তায়াম্মুম করা যাবে নিম্নলিখিত অবস্থায়:
১. পানি না পাওয়া গেলে — চারদিকে অনুসন্ধান করার পরও পানি না পাওয়া যায় (সূরা মায়িদা: ৬)। ২. পানি ব্যবহারে অসুস্থতার আশঙ্কা থাকলে — যেমন: পানি ব্যবহার করলে রোগ বেড়ে যাবে বা সুস্থ হতে দেরি হবে। ৩. পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে — যেমন: বৃদ্ধ, অসুস্থ, বা পানি পর্যন্ত পৌঁছানোর সামর্থ্য না থাকা। ৪. পানি অত্যন্ত কম থাকলে — যদি পানি পান করার জন্য প্রয়োজন হয় এবং অজুর জন্য ব্যবহার করলে পিপাসায় কষ্ট হবে। ৫. পানি কেনার সামর্থ্য না থাকলে বা পানি এত দামে পাওয়া যায় যা সাধ্যের বাইরে। ৬. শত্রু, হিংস্র প্রাণী বা অন্য কোনো বিপদের আশঙ্কা থাকলে।
দলিল: আল্লাহ তাআলা বলেন: "فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا" — "যদি পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করো।" (সূরা মায়িদা: ৬)
তায়াম্মুমের সঠিক পদ্ধতি:
নিয়ত: মনে মনে তায়াম্মুমের নিয়ত করবেন (যেমন: "পবিত্রতা অর্জনের জন্য তায়াম্মুম করছি")।
ধাপ ১: দুই হাতের তালু মাটি/পবিত্র কোনো পৃষ্ঠে (যেমন: পাথর, দেয়াল, বালি) হালকাভাবে মারবেন।
ধাপ ২: হাত ঝেড়ে ফেলবেন (অতিরিক্ত ধুলা থাকলে)।
ধাপ ৩: দুই হাতের তালু দিয়ে সম্পূর্ণ মুখমণ্ডল মাসেহ করবেন — কপাল থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত।
ধাপ ৪: পুনরায় দুই হাত মাটিতে মারবেন।
ধাপ ৫: ডান হাতের তালু দিয়ে ডান হাতের কনুইসহ মাসেহ করবেন, তারপর বাম হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কনুইসহ মাসেহ করবেন।
হাদিস: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "إِنَّمَا كَانَ يَكْفِيكَ أَنْ تَضْرِبَ بِيَدَيْكَ عَلَى الْأَرْضِ، ثُمَّ تَمْسَحَ بِهِمَا وَجْهَكَ وَكَفَّيْكَ" — "তোমার জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল যে, তুমি দুই হাত মাটিতে মারবে, তারপর তা দিয়ে তোমার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু মাসেহ করবে।" (সহীহ বুখারী: ৩৪৭; সহীহ মুসলিম: ৩৬৮)
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- তায়াম্মুমের মাধ্যমে এক ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা যায়; পরের ওয়াক্তের জন্য পুনরায় তায়াম্মুম করতে হবে (যদি পানি না পাওয়া যায়)।
- তায়াম্মুম ভঙ্গ হয় সেইসব কারণে যেসব কারণে অজু ভঙ্গ হয়, এবং পানি পাওয়া গেলে বা পানি ব্যবহারের সামর্থ্য ফিরে এলে।
- তায়াম্মুমের জন্য মাটি, বালি, পাথর, দেয়াল — এসব পবিত্র পৃষ্ঠ ব্যবহার করা যায়।
ফতোয়ার কিতাব: "التيمم ضربتان: ضربة للوجه، وضربة لليدين إلى المرفقين" — তায়াম্মুম হলো দুইবার মারা: একবার মুখের জন্য, একবার দুই হাত কনুইসহ মাসেহ করার জন্য। (রাদ্দুল মুহতার: ১/৪৫০; আল-হিদায়া: ১/৩২; ফাতাওয়া আলমগিরি: ১/২৫)
প্রশ্ন ৩: হারাম শরিফে সাদা স্রাবের কারণে অজু ভেঙে গেলে তায়াম্মুম করা যাবে কি?
এক্ষেত্রে সেখানে পর্যাপ্ত পরিমান অযুখানা আছে,নারীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে।
সুতরাং সেখানে তায়াম্মুম করা যাবেনা। অযুই করতে হবে।