চুলে ব্যান্ড লাগিয়ে নামাজ আদায়

Salah-Prayer · Hanafi

Question No: 5469
Questioner: Nayeem Sarker
Question Asked: 14 Sep 2026, 02:05 PM
Reviewed & Published: 14 Sep 2026, 02:34 PM
Views: 32
Tokens: 2,852
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

ছেলে মানুষ চুলে ব্যান্ড ব্যবহার করে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে কি?

Answer

চুলে ব্যান্ড ব্যবহার করে নামাজ আদায়ের বিধান

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ

ছেলে মানুষ চুলে ব্যান্ড (হেয়ার ব্যান্ড/রাবার ব্যান্ড) ব্যবহার করে নামাজ আদায় করলে নামাজ হবে কি না?

সংক্ষিপ্ত উত্তর

হ্যাঁ, নামাজ হবে। চুলে ব্যান্ড ব্যবহার করা নামাজের বৈধতায় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে পুরুষদের জন্য চুল বাঁধা বা লম্বা চুল ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে রাখা নিয়ে কিছু বিধান রয়েছে, যা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।


বিস্তারিত আলোচনা

১. নামাজের বৈধতার শর্ত

নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য শরীয়ত যে শর্তগুলো নির্ধারণ করেছে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • পবিত্রতা (তাহারাত)
  • সতর ঢাকা
  • কিবলামুখী হওয়া
  • ওয়াক্ত হওয়া
  • নিয়ত

চুলে ব্যান্ড ব্যবহার করা এসব শর্তের কোনো একটির সাথেও সাংঘর্ষিক নয়। তাই ব্যান্ড ব্যবহার করে নামাজ আদায় করলে নামাজ সহীহ হবে।

২. পুরুষদের চুল বাঁধা প্রসঙ্গে ফুকাহায়ে কেরামের মত

হানাফি মাযহাবের বিধান:

পুরুষদের জন্য চুল লম্বা রাখা জায়েজ, তবে তা নিয়ে অহংকার বা নারীর সাথে সাদৃশ্য তৈরি করা নিষিদ্ধ। আর নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা বা খোলা রাখা—উভয় অবস্থাতেই নামাজ হয়।

তবে নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা বা খুলে রাখা নিয়ে একটি বিশেষ হাদিস রয়েছে:

হযরত আবু রাফে (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যেন নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে না রাখে।" — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬৪৬; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৫)

ইমাম আবু হানিফা (রহঃ)-এর ফতোয়া: এই হাদিসের ব্যাখ্যায় হানাফি ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা মাকরূহে তানযিহি (হালকা অপছন্দনীয়)। তবে এতে নামাজ বাতিল হয় না।

আল্লামা ইবনে আবিদিন শামী (রহঃ) "রাদ্দুল মুহতার" গ্রন্থে উল্লেখ করেন:

"নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা মাকরূহ, তবে নামাজ সহীহ হবে।" — (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৬৪২)

৩. ব্যান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা

| বিষয় | বিধান | |------|-------| | সাধারণ ব্যান্ড দিয়ে চুল বেঁধে নামাজ | নামাজ সহীহ, তবে মাকরূহে তানযিহি | | ব্যান্ড না খুলে নামাজ পড়া | নামাজ হবে, তবে সুন্নতের খিলাফ | | ব্যান্ড খুলে নামাজ পড়া | উত্তম ও সুন্নতের নিকটবর্তী | | ব্যান্ড যদি সতরের অংশ ঢেকে রাখে | সতর ঢাকা থাকলে নামাজ সহীহ | | ব্যান্ড যদি নাপাক হয় | নামাজ হবে না, পবিত্র করতে হবে |

৪. ফতোয়ায়ে উসমানি ও ইমদাদুল ফতোয়া থেকে

মুফতি তাকি উসমানি (দাঃবাঃ) "ফতোয়ায়ে উসমানি" গ্রন্থে বলেন:

"পুরুষদের জন্য নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা মাকরূহ। তবে যদি কেউ বেঁধে নামাজ পড়ে, তাহলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে, পুনরায় পড়তে হবে না।" — (ফতোয়ায়ে উসমানি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৩২৭)

হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) "বেহেশতী জেওর" গ্রন্থে লেখেন:

"নামাজের মধ্যে চুল বাঁধা মাকরূহ। তবে নামাজ হয়ে যাবে।" — (বেহেশতী জেওর, নামাজ অধ্যায়)

৫. গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

১. নামাজের আগে ব্যান্ড খুলে ফেলা উত্তম, যাতে মাকরূহ থেকে বেঁচে থাকা যায়। ২. যদি চুল এলোমেলো হয়ে যায় বা সামনে পড়ে যায়, তাহলে ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে—তবে নামাজের মধ্যে নয়, বরং নামাজের আগে ঠিক করে নেওয়া। ৩. নারীর সাথে সাদৃশ্য তৈরি করার উদ্দেশ্যে চুল বাঁধা বা ব্যান্ড ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। ৪. ব্যান্ড যদি নাপাক হয়, তাহলে নামাজের আগে তা পবিত্র করে নিতে হবে। ৫. ব্যান্ড যদি সোনা বা রূপার হয় এবং পুরুষ তা ব্যবহার করে, তাহলে তা আলাদা বিধানের অন্তর্ভুক্ত (পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ও রূপা ব্যবহার নিষিদ্ধ)।


উপসংহার

ছেলে মানুষ চুলে ব্যান্ড ব্যবহার করে নামাজ আদায় করলে নামাজ সহীহ হবে। তবে নামাজের মধ্যে চুল বেঁধে রাখা মাকরূহে তানযিহি। তাই উত্তম হলো—নামাজের আগে ব্যান্ড খুলে ফেলা বা চুল এমনভাবে ঠিক করা যাতে বাঁধার প্রয়োজন না হয়। যদি বাঁধতেই হয়, তাহলে নামাজ হয়ে যাবে, পুনরায় পড়ার প্রয়োজন নেই।

তথ্যসূত্র:

  • রাদ্দুল মুহতার (ইবনে আবিদিন শামী), খণ্ড: ১
  • ফতোয়ায়ে উসমানি (মুফতি তাকি উসমানি), খণ্ড: ১
  • বেহেশতী জেওর (আশরাফ আলী থানভী)
  • সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৬৪৬
  • সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৫
  • ফতোয়ায়ে আলমগিরি, নামাজ অধ্যায়

This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.