সালাতুত হাজত নামায পড়ার নিয়ম কি
Salah-Prayer · Hanafi
Question
Answer
সালাতুত হাজত নামায পড়ার নিয়ম
প্রশ্ন: সালাতুত হাজত নামায পড়ার নিয়ম কী?
উত্তর:
সালাতুত হাজত হলো বিশেষ প্রয়োজনে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার জন্য পড়া নফল নামায। কোনো জরুরি প্রয়োজন বা বিপদে পড়লে এই নামায পড়ে আল্লাহর কাছে দুআ করা সুন্নত দ্বারা প্রমাণিত।
দলিল
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"যার আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন থাকবে অথবা কোনো মানুষের কাছে প্রয়োজন থাকবে, সে যেন ভালোভাবে অজু করে, তারপর দুই রাকাত নামায পড়ে, এরপর আল্লাহর প্রশংসা করে, নবী (সাঃ)-এর উপর দরুদ পাঠ করে, তারপর এই দুআ পড়ে..."
— সুনানে তিরমিযী: ৪৭৯; সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৫
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এই হাদীসকে হাসান বলেছেন। ইমাম হাকিম (রহঃ) এটিকে সহীহ বলেছেন।
নামাযের নিয়ম (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী)
১. নিয়ত (মনে সংকল্প করা)
মুখে বলা জরুরি নয়; অন্তরে সংকল্প করাই যথেষ্ট। নিয়ত হবে এভাবে:
"আমি দুই রাকাত সালাতুল হাজতের নফল নামায পড়ছি, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, কিবলামুখী হয়ে।"
উল্লেখ্য: নির্দিষ্ট কোনো সূরার নিয়ত করা বা নির্দিষ্ট সংখ্যক রাকাতের নিয়ত করা আবশ্যক নয়; সাধারণ নফল নামাযের নিয়তই যথেষ্ট।
২. নামায আদায়
- দুই রাকাত (বা চার রাকাত) নফল নামায পড়বেন।
- সাধারণ নফল নামাযের মতোই ফজরের সুন্নতের ন্যায় পড়বেন।
- প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্তত তিন আয়াত বা একটি ছোট সূরা পড়বেন।
- সূরা ফাতিহা ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো সূরার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কিছু বর্ণনায় সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পড়ার কথা এসেছে, যা মুস্তাহাব হিসেবে গ্রহণ করা যায়।
৩. নামায শেষে দুআ
নামায শেষে হাত তুলে:
- প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ) করবেন।
- নবী (সাঃ)-এর উপর দরুদ পাঠ করবেন।
- এরপর নিজের প্রয়োজন আল্লাহর কাছে পেশ করবেন।
- হাদীসে বর্ণিত দুআটি পড়তে পারেন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، لَا تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ، وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ، وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ
অর্থ: "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি সহনশীল ও দয়ালু। মহান আরশের রব আল্লাহ পবিত্র। সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমস্ত জগতের রব। আমি আপনার কাছে আপনার রহমতের কারণসমূহ, ক্ষমার দৃঢ় সংকল্প, প্রতিটি নেক কাজের সাফল্য এবং প্রতিটি গুনাহ থেকে মুক্তি প্রার্থনা করছি। আমার কোনো গুনাহ থাকলে ক্ষমা করুন, কোনো দুশ্চিন্তা থাকলে দূর করুন, এবং আপনার সন্তুষ্টিমূলক কোনো প্রয়োজন থাকলে তা পূরণ করুন, হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বাধিক দয়ালু।"
গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা
- জামাত ছাড়া একাকী পড়তে হবে — এটি নফল নামায, জামাতে পড়া সুন্নত নয়।
- নির্দিষ্ট সময় নেই — নিষিদ্ধ সময় (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ঠিক দুপুর) ছাড়া যেকোনো সময় পড়া যায়।
- বারবার পড়া যায় — প্রয়োজন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পুনরায় পড়া যায়।
- ফরজ নামাযের পরও দুআ করা যায় — তবে আলাদা দুই রাকাত পড়া উত্তম।
- নামাযের পর দুআতে নিজের ভাষায়ও চাইতে পারেন — আরবিতে দুআ পড়া উত্তম, তবে নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে চাওয়া জায়েয।
সারসংক্ষেপ
| বিষয় | বিধান | |------|-------| | রাকাত সংখ্যা | ২ বা ৪ রাকাত (নফল) | | জামাত | একাকী | | সময় | নিষিদ্ধ সময় ছাড়া যেকোনো সময় | | নিয়ত | অন্তরে সংকল্প | | দুআ | নামাযের পর আল্লাহর প্রশংসা, দরুদ, তারপর প্রয়োজন পেশ |
রেফারেন্স
- সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৪৭৯
- সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১৩৮৫
- ফাতাওয়া উসমানী, খণ্ড ১, পৃ. ৪৬০
- ইমদাদুল ফাতাওয়া, খণ্ড ১, পৃ. ৫৪০
- রাদ্দুল মুহতার (শামী), খণ্ড ২, পৃ. ২৭
- বাহিশতী জেওর, নামায অধ্যায়
- মাআরিফুল কুরআন, সূরা বাকারা: ৪৫-এর তাফসীর