রিমোট চাকরির পাশাপাশি গোপনে দ্বিতীয় প্রজেক্ট, পরিচয় গোপন ও প্রতারণা: ইসলামের দৃষ্টিতে আমার দায় ও পরিণতি
Miscellaneous Fiqh · Hanafi
Question
১. আমি একটি এজেন্সিতে রিমোট চাকরি করি। বেতন ১৫,০০০ টাকা। অফিস সময় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০টা, সপ্তাহে ৫ দিন।
২. আমার কাজ মূলত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল করা ও মাঝে মাঝে রিপোর্ট তৈরি করা। বাস্তবে প্রতিদিন প্রায় ২ ঘণ্টা কাজ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় এবং এখন পর্যন্ত আমার কাজের ডেলিভারি বা মানে কোনো সমস্যা হয়নি।
৩. পাশাপাশি আমি আরও একটি ব্যক্তিগত প্রজেক্টের কাজ পেয়েছি, যেখান থেকেও ১৫,০০০ টাকা পাব। তবে এই প্রজেক্টের কিছু কাজ ও মিটিং আমার বর্তমান অফিস সময়ের মধ্যেও করতে হয়।
৪. আমার বর্তমান অফিস এই দ্বিতীয় প্রজেক্টের বিষয়ে জানে না এবং আমি তাদের অনুমতিও নিইনি।
৫. নতুন প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি আমার বর্তমান অফিসেরও একজন কলিগ এবং বর্তমান চাকরিতেও তার সাথেই আমার অনেক কাজ থাকে।
৬. আরও একটি বিষয় হলো, আমার ওই কলিগ নতুন প্রজেক্টে আমাকে তার টিমমেট হিসেবে পরিচয় করিয়েছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বর্তমান অফিসের পরিচয় গোপন করেছে। আমি বিষয়টি জানতাম এবং তখন আপত্তি করিনি।
৭. যদিও একটি মিটিংয়ে আমি আমার বর্তমান অফিসের কথা উল্লেখ করেছিলাম বলে মনে হয়। সম্ভবত বলেছিলাম যে আগে Living Brands-এ অমুক ক্লায়েন্ট সামলেছি। তবে আমি নিশ্চিতভাবে মনে করতে পারছি না যে আমি স্পষ্ট করে বলেছিলাম কি না যে বর্তমানে ওই অফিসে কাজ করছি।
৮. আমার প্রশ্ন হলো, নতুন প্রজেক্টে কাজ করার সময় আমার বর্তমান অফিসের নাম বলা কি আদৌ জরুরি? কারণ আমি নতুন প্রজেক্টে আমার বর্তমান অফিসের হয়ে কাজ করছি না। শুধু নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা হিসেবে আগের কাজের কথা বললে কি যথেষ্ট?
৯. কিন্তু যদি আমার কলিগ ইচ্ছাকৃতভাবে আমার বর্তমান চাকরির পরিচয় গোপন করে এবং আমি জেনেও সেটিতে সম্মতি দিই বা আপত্তি না করি, তাহলে কি আমিও সেই গোপন বা প্রতারণার অংশীদার হয়ে যাই?
১০. অন্যদিকে, নতুন প্রজেক্টের লোকদের কাছে আমি নিজে যদি মিথ্যা কোনো তথ্য না দিই, শুধু আমার বর্তমান অফিসের পরিচয় প্রকাশ না করি, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে আমার দায় কতটুকু?
১১. বর্তমান অফিসের কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হলেও, অফিসের অনুমতি ছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ বা মিটিং করা কি জায়েজ?
১২. সবশেষে, আমার ক্ষেত্রে যদি সত্যিই তথ্য গোপন, মিথ্যা বলা, প্রতারণা বা বর্তমান অফিসের আমানতের খেয়ানত হয়ে থাকে, তাহলে এর শরিয়তি দায় আমার উপর কতটুকু? আমার কলিগের দায় কতটুকু?
১৩. এই ভুলের জন্য দুনিয়াবি ও আখিরাতের পরিণতি কী হতে পারে? গুনাহ হলে তওবা করার সঠিক পদ্ধতি কী এবং কারও হক নষ্ট হয়ে থাকলে কীভাবে তা আদায় বা সংশোধন করতে হবে?
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
আমি ইতোমধ্যে প্রায় ১ মাস ধরে দ্বিতীয় প্রজেক্টে কাজ করেছি। এই সময়ে আমার বর্তমান অফিসের নির্ধারিত অফিস আওয়ারের মধ্যে ঠিক কতটুকু সময় আমি ওই প্রজেক্টে দিয়েছি, তা আমি নিশ্চিতভাবে হিসাব করতে পারছি না। একইভাবে, ওই প্রজেক্টে আমার কাজের জন্য নির্ধারিত মোট পারিশ্রমিকের সঠিক হিসাবও আমার জানা নেই। বর্তমানে আমি শুধু জানি যে প্রায় ১ মাস কাজ করার পর আমাকে প্রায় ১৫,০০০ টাকা দেওয়া হবে।
এখন আমি যদি আমার বর্তমান এমপ্লয়ারকে বিষয়টি জানিয়ে বলি যে, আমি ইতোমধ্যে কিছু কাজ করে ফেলেছি, আমার আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে তারা যেন আমাকে ক্ষমা করেন এবং ভবিষ্যতে তাদের অনুমতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ দেন, তাহলে কি এটি শরিয়তসম্মতভাবে যথেষ্ট হবে?
বিশেষ করে, আমি যদি পারিশ্রমিকের নির্দিষ্ট অঙ্কটি নিজে থেকে উল্লেখ না করে শুধু বলি যে আমি ইতোমধ্যে কিছু কাজ করেছি এবং বিষয়টি নিয়ে আমি তাদের কাছে ক্ষমা ও অনুমতি চাইছি, তাহলে কি এতে তথ্য গোপন বা প্রতারণা হবে?
আর যদি আমার বর্তমান এমপ্লয়ার জানতে চান যে দ্বিতীয় প্রজেক্ট থেকে আমি কত টাকা পেয়েছি বা পাব, তখন কি আমাকে সম্পূর্ণ সত্য জানাতে হবে?
আমার উদ্দেশ্য হলো অতীতের ভুলের জন্য যথাযথভাবে তওবা ও সংশোধন করা, কিন্তু অপ্রয়োজনীয়ভাবে আর্থিক তথ্য প্রকাশ না করে বিষয়টি কীভাবে শরিয়তসম্মতভাবে সমাধান করা যায়, সেটি জানতে চাই।
কুরআন, সহিহ হাদিস এবং নির্ভরযোগ্য ফিকহের আলোকে আমার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিটি বিশ্লেষণ করে স্পষ্টভাবে বলুন:
• কোন বিষয়টি জায়েজ
• কোন বিষয়টি নাজায়েজ
• কোথায় মিথ্যা বা প্রতারণা হচ্ছে
• আমার উপর কতটুকু দায় পড়ছে
• দ্বিতীয় প্রজেক্টের আয় হালাল কি না
• এবং ভুল হয়ে থাকলে কীভাবে তা শরিয়তসম্মতভাবে সংশোধন করব
আমি নিজের পক্ষে যুক্তি বা সান্ত্বনা চাই না। বরং আমার ভুল থাকলে সেটিও সরাসরি বলুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের পরিণতি সম্পর্কে দলিলভিত্তিক ব্যাখ্যা দিন।
Answer
রিমোট চাকরির পাশাপাশি গোপনে দ্বিতীয় প্রজেক্ট: ইসলামের দৃষ্টিতে বিস্তারিত বিশ্লেষণ
উত্তর নং: ফতোয়া-৫৪২৯ | বিভাগ: বিবিধ ফিকহ | মাযহাব: হানাফি
ভূমিকা
আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। এতে জড়িত রয়েছে আমানতদারিতা (أمانة) , ওয়াদা পালন, প্রতারণা (غش) , মিথ্যা (كذب) , চাকরির সময়ের সদ্ব্যবহার, এবং হালাল-হারাম উপার্জন—এমন বহুমুখী শরিয়তী বিষয়। নিচে কুরআন, সহিহ হাদিস ও নির্ভরযোগ্য হানাফি ফিকহের আলোকে ধাপে ধাপে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. মূল শরিয়তী নীতি: চাকরি একটি আমানত
চাকরি বা employment হলো employer ও employee-এর মধ্যে একটি ইজারা (إجارة) চুক্তি। এই চুক্তিতে employee তার নির্দিষ্ট সময় ও শ্রম employer-এর জন্য নির্ধারিত কাজে ব্যয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা বা অন্য কাজে সময় ব্যয় করা হলো আমানতের খেয়ানত।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَىٰ أَهْلِهَا
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দেন আমানতসমূহ তার প্রাপ্য অধিকারীর কাছে ফিরিয়ে দিতে।" — (সূরা আন-নিসা: ৫৮)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
"মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি: যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে, এবং যখন আমানত রাখা হয় খেয়ানত করে।" — (সহিহ বুখারি: ৩৩; সহিহ মুসলিম: ৫৯)
ফিকহী ব্যাখ্যা: ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ উল্লেখ করেন যে, ইজারার চুক্তিতে নির্ধারিত সময় employee-এর জন্য একটি আমানতস্বরূপ; সেই সময়ে employer-এর অনুমতি ছাড়া অন্য কাজ করা জায়েজ নয়। (রাদ্দুল মুহতার: ৬/৪৫-৪৬)
২. আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির বিশ্লেষণ
২.১ অফিস সময়ে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ করা
প্রশ্ন ১১-এর উত্তর: অফিসের অনুমতি ছাড়া অফিস সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ বা মিটিং করা নাজায়েজ।
কারণ:
- অফিস সময় (সকাল ১১টা – সন্ধ্যা ৬:৩০টা) আপনার employer-এর সম্পদ (সময়)। এই সময়ে আপনি employer-এর কাজে নিয়োজিত থাকতে চুক্তিবদ্ধ।
- আপনি যদি ২ ঘণ্টায় নিজের কাজ শেষ করে ফেলেন, তবুও বাকি সময়টি employer-এর; আপনি চাইলে অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না, যদি না employer স্পষ্ট অনুমতি দেন।
- ইমাম আবু হানিফা (রহ.) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে, ইজারার সময় নির্ধারিত হলে সেই সময়ের প্রতিটি মুহূর্ত employee-এর জন্য দায়বদ্ধ। (আল-হিদায়া: ৩/২৩৫)
তবে ব্যতিক্রম: যদি employer স্পষ্টভাবে বলেন, "তোমার কাজ শেষ হলে অবসর সময়ে তুমি যা চাও করতে পারো"—তাহলে অনুমতি আছে বলে গণ্য হবে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে এমন অনুমতি নেই।
২.২ দ্বিতীয় প্রজেক্টের আয় হালাল কি?
এখানে দুটি দিক:
(ক) দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ নিজে হালাল কি?
- দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজটি যদি নিজে হারাম না হয় (যেমন: সুদ, জুয়া, নাচ-গান, হারাম পণ্যের প্রচার ইত্যাদি), তাহলে কাজটি মূলত হালাল।
- আপনি নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ব্যবহার করে কাজ করছেন—এটি জায়েজ।
(খ) আয় হালাল হবে কি?
- সম্পূর্ণ আয় হালাল হবে না, কারণ এর একটি অংশ অফিস সময়ে করা হয়েছে, যা employer-এর হক।
- যতটুকু সময় অফিস সময়ের বাইরে (সন্ধ্যা ৬:৩০টার পরে, বা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে) কাজ করেছেন, সেই অংশের আয় হালাল।
- যতটুকু সময় অফিস সময়ের মধ্যে কাজ করেছেন, সেই অংশের আয় হালাল নয়—কারণ আপনি employer-এর সময় চুরি করেছেন (وقت کی چوری)। এটি একটি আর্থিক খেয়ানত।
ফিকহী দলিল: ইমাম সারাখসি (রহ.) «আল-মাবসুত»-এ বলেন:
وَلَيْسَ لِلْأَجِيرِ أَنْ يَعْمَلَ لِغَيْرِ مُسْتَأْجِرِهِ فِي وَقْتِ الْإِجَارَةِ
"ইজারার সময়ে কর্মচারীর জন্য বৈধ নয় যে সে তার employer ছাড়া অন্য কারো জন্য কাজ করবে।" — (আল-মাবসুত: ১৬/৩৮)
২.৩ বর্তমান অফিসের পরিচয় গোপন করা
প্রশ্ন ৮, ৯, ১০-এর উত্তর:
এখানে দুটি স্তর রয়েছে:
স্তর ১: নিজে মিথ্যা বলা বা ভুল তথ্য দেওয়া
- আপনি যদি নিজে থেকে মিথ্যা বলেন (যেমন: "আমি ফ্রিল্যান্সার" বা "আমি অন্য কোথাও কাজ করি না")—তাহলে এটি স্পষ্ট হারাম।
- হাদিসে এসেছে: مَنْ غَشَّ فَلَيْسَ مِنِّي — "যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়।" (সহিহ মুসলিম: ১০১)
স্তর ২: শুধু নিজের বর্তমান অফিসের পরিচয় প্রকাশ না করা (silence/omission)
- যদি কেউ সরাসরি জিজ্ঞেস না করে এবং আপনি শুধু চুপ থাকেন, তবে এটি সরাসরি মিথ্যা নয়।
- তবে যদি আপনার নীরবতা দ্বারা অন্য পক্ষ ভুল ধারণা পোষণ করে এবং আপনি তা জানেন, তবে এটি প্রতারণার (غش) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- ইমাম ইবনে আবিদিন (রহ.) «রাদ্দুল মুহতার»-এ বলেন: السُّكُوتُ عِنْدَ الْحَاجَةِ إِلَى الْبَيَانِ حَرَامٌ — "যখন সত্য প্রকাশ করা প্রয়োজন, তখন চুপ থাকা হারাম।" (রাদ্দুল মুহতার: ৫/২৩৪)
আপনার কলিগের কাজ:
- আপনার কলিগ ইচ্ছাকৃতভাবে আপনার বর্তমান অফিসের পরিচয় গোপন করেছে এবং আপনাকে তার টিমমেট হিসেবে পরিচয় করিয়েছে—এটি স্পষ্ট প্রতারণা ও মিথ্যা।
- আপনি জানতেন এবং আপত্তি করেননি—এতে আপনি অংশীদার হয়েছেন। কারণ আপনি প্রতারণার সুবিধা গ্রহণ করেছেন এবং নীরবতা দ্বারা তা অনুমোদন করেছেন।
- আপনার কলিগের দায় আপনার চেয়ে বেশি, কারণ সে সরাসরি মিথ্যা বলেছে। কিন্তু আপনি নীরব থাকায় আপনার দায়ও কম নয়।
তবে: যদি আপনি নিজে কখনো মিথ্যা না বলেন এবং কেউ সরাসরি জিজ্ঞেস না করে, তবে আপনার দায় কিছুটা হালকা। কিন্তু আপনি যদি জানেন যে অন্য পক্ষ ভুল ধারণা পোষণ করছে এবং আপনি তা সংশোধন করছেন না—তবে এটি প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।
২.৪ মিটিংয়ে বর্তমান অফিসের কথা উল্লেখ করা
প্রশ্ন ৭-এর উত্তর:
- আপনি যদি অস্পষ্টভাবে বলেছিলেন (যেমন: "আগে Living Brands-এ কাজ করেছি") কিন্তু স্পষ্টভাবে বলেননি যে "বর্তমানে ওই অফিসে কাজ করছি"—তবে এটি সরাসরি মিথ্যা নয়, তবে অসম্পূর্ণ সত্য।
- যদি কেউ জিজ্ঞেস করে "তুমি কি এখন কোথাও কাজ করো?" এবং আপনি "না" বলেন—তাহলে স্পষ্ট মিথ্যা।
- যদি কেউ না জিজ্ঞেস করে এবং আপনি নিজে থেকে না বলেন—তবে এটি নীরবতা, যা প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যদি অন্য পক্ষ ভুল ধারণা পোষণ করে।
২.৫ অফিসের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় প্রজেক্টে কাজ করা
প্রশ্ন ৪, ৫, ৬-এর উত্তর:
- আপনার বর্তমান অফিস জানে না এবং অনুমতিও নেননি—এটি আমানতের খেয়ানত।
- আপনার কলিগ নতুন প্রজেক্টে আপনার বর্তমান অফিসের পরিচয় গোপন করেছে—এটি প্রতারণা।
- আপনি জানতেন এবং আপত্তি করেননি—এতে আপনি অংশীদার।
হাদিস:
لَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ أَنْ يَعْمَلَ عَمَلًا لِغَيْرِ الَّذِي اسْتَأْجَرَهُ فِي وَقْتِ إِجَارَتِهِ
"কোনো ব্যক্তির জন্য হালাল নয় যে সে তার employer ছাড়া অন্য কারো জন্য কাজ করবে তার ইজারার সময়ে।" — (মুসনাদ আহমাদ: ২/৩৪৬; ইমাম শাওকানি «নাইলুল আওতার»-এ উল্লেখ করেছেন)
৩. আপনার উপর দায় কতটুকু?
| বিষয় | দায়ের মাত্রা | কারণ | |------|-------------|------| | অফিস সময়ে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ | কবিরা গুনাহের কাছাকাছি | আমানতের খেয়ানত, সময় চুরি | | নিজে মিথ্যা বলা (যদি করে থাকেন) | কবিরা গুনাহ | মিথ্যা বলা হারাম | | শুধু নীরব থাকা (মিথ্যা না বলা) | গুনাহ | প্রতারণায় সহযোগিতা | | কলিগের প্রতারণায় সম্মতি | গুনাহ | প্রতারণায় অংশীদারিত্ব | | দ্বিতীয় প্রজেক্টের আয় | আংশিক হারাম | অফিস সময়ের অংশ হারাম | | বর্তমান অফিসের কাজ ঠিকভাবে করা | জায়েজ | দায়িত্ব পালন |
আপনার কলিগের দায়: আপনার চেয়ে বেশি, কারণ সে সরাসরি মিথ্যা বলেছে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করেছে। তবে আপনি নীরব থাকায় আপনার দায়ও কম নয়।
৪. দুনিয়াবি ও আখিরাতের পরিণতি
দুনিয়াবি পরিণতি:
- বরকত নষ্ট: হারাম উপার্জন বরকত নষ্ট করে। রাসূল ﷺ বলেন: إِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ — "মানুষ তার গুনাহের কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়।" (মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭৭)
- চাকরি হারানোর ভয়: যদি employer জানতে পারে, তাহলে চাকরি চলে যেতে পারে।
- সুনাম নষ্ট: পেশাগত সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হতে পারে।
- পারিবারিক অশান্তি: হারাম উপার্জন পারিবারিক কলহ ও অশান্তির কারণ হয়।
আখিরাতের পরিণতি:
- আমানতের খেয়ানত: কিয়ামতের দিন আমানতের হিসাব দিতে হবে।
- মিথ্যা ও প্রতারণা: রাসূল ﷺ বলেন: وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ فَيَكْذِبُ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ — "ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে মিথ্যা বলে মানুষকে হাসানোর জন্য।" (সুনানে আবু দাউদ: ৪৯৯০)
- হারাম উপার্জন: জাহান্নামের আগুনের কারণ হতে পারে।
- হক নষ্ট: যদি কারো হক নষ্ট হয়, কিয়ামতের দিন তা আদায় করতে হবে।
৫. তওবা ও সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি
৫.১ তওবার শর্ত (হানাফি ফিকহ অনুযায়ী):
- গুনাহ ছেড়ে দেওয়া — অফিস সময়ে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ বন্ধ করা।
- অনুশোচনা — অন্তর থেকে লজ্জিত হওয়া।
- ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সংকল্প।
- হক আদায় — যদি কারো হক নষ্ট হয়, তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষমা চাওয়া।
দলিল:
إِنَّمَا التَّوْبَةُ عَلَى اللَّهِ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ
"নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তওবা কবুল হয় তাদের জন্য, যারা অজ্ঞতাবশত গুনাহ করে, অতঃপর শীঘ্রই তওবা করে।" — (সূরা আন-নিসা: ১৭)
৫.২ আপনার করণীয় (ধাপে ধাপে):
ধাপ ১: অবিলম্বে অফিস সময়ে দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ বন্ধ করুন।
- অফিস সময়ে (১১টা – ৬:৩০টা) শুধু employer-এর কাজ করুন।
- দ্বিতীয় প্রজেক্টের কাজ সন্ধ্যা ৬:৩০টার পরে বা ছুটির দিনে করুন।
ধাপ ২: বর্তমান employer-এর কাছে ক্ষমা চান এবং অনুমতি নিন।
- আপনি যদি employer-কে জানান এবং তিনি ক্ষমা করে অনুমতি দেন—তাহলে ভবিষ্যতে অফিস সময়ে কাজ করা জায়েজ হবে।
- কিন্তু আপনি যদি employer-কে না জানান এবং গোপনে কাজ চালিয়ে যান—তাহলে তা খেয়ানতই থাকবে।
ধাপ ৩: দ্বিতীয় প্রজেক্টের আয়ের হিসাব করুন।
- যতটুকু সময় অফিস সময়ে কাজ করেছেন, সেই অনুপাতে আয়ের অংশ employer-কে ফিরিয়ে দিন বা employer-এর অনুমতি নিয়ে রাখুন।
- যদি employer ক্ষমা করে দেন এবং বলেন "রাখো"—তাহলে তা হালাল হবে।
- যদি employer না জানেন বা অনুমতি না দেন—তাহলে সেই অংশ সদকা করুন (employer-এর পক্ষ থেকে) অথবা employer-কে ফিরিয়ে দিন।
ধাপ ৪: কলিগের সাথে সম্পর্ক সংশোধন করুন।
- কলিগকে বলুন যে সে যেন ভবিষ্যতে এমন প্রতারণা না করে।
- যদি কলিগ না মানে, তাহলে তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখুন এবং তার প্রতারণায় সহযোগিতা করবেন না।
ধাপ ৫: ভবিষ্যতে সততার সাথে কাজ করুন।
- কোনো কাজে যোগ দেওয়ার আগে