কুরবানী জবেহ করার বিনিময়ে নির্দিষ্ট হারে টাকা নেওয়া কি বৈধ?

Qurbani-Slaughtering · Hanafi

Question No: 533
Questioner: Sadikur Rahman Zoha
Question Asked: 22 May 2026, 02:17 PM
Reviewed & Published: 22 May 2026, 02:25 PM
Views: 31
Tokens: 4,554
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমাদের নিকটবর্তী এক মসজিদে ইমামের বেতন, মসজিদের সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনা বাবদ জুম'আর দিনের সাদাকাহ, গ্রামবাসীর সাধারণ সাদাকাহর পাশাপাশি প্রতি ঈদে মাথাপিছু নির্দিষ্ট চাঁদা আদায়ের প্রচলন আছে। বিষয়টা কি শরীয়ত সম্পন্ন?
আর কুরবানীর ঈদে জবেহ বাবদ ইমাম সাহেব খাসি ও গরু প্রতি ঘোষণা দিয়ে নির্দিষ্ট হারে (৫০ ও ১০০ টাকা) গ্রহণ করেন। এমনকি কেও নিজে কুরবানী জবেহ দিলেও এই টাকা প্রত্যাশা করা হয়। এইটার শারয়ী বিধান কি?

Answer

باسم الله تعالى، والصلاة والسلام على سيد المرسلين

উত্তর:

প্রথম অংশ: মাথাপিছু নির্দিষ্ট চাঁদা আদায়ের বিধান

মসজিদের খরচ বহনের জন্য ইমামের বেতন ও মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সাদাকাহ, দান-খয়রাত গ্রহণ করা জায়েজ। তবে মাথাপিছু নির্দিষ্ট চাঁদা বাধ্যতামূলক করা এবং না দিলে কিছু প্রকার চাপ প্রয়োগ করা শরীয়তসম্মত নয়। কারণ ইসলামে দান-সাদাকাহ স্বেচ্ছামূলক কাজ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا (সূরা বাকারা: ২৮৬)

অর্থাৎ "আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না।"

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ (ইবনু মাজাহ: ২৩৪০)

অর্থাৎ "কোনো প্রকার ক্ষতি করা বা ক্ষতি সহ্য করা জায়েজ নয়।"

অতএব, মাথাপিছু চাঁদা যদি স্বেচ্ছা দানের ভিত্তিতে (অর্থাৎ কেউ চাইলে দেবে, না দিলে কোনো প্রকার অসুবিধা বা নিষেধ নেই) হয়, তাহলে তা জায়েজ। কিন্তু যদি তা জোরপূর্বক ও বাধ্যতামূলক হয়, তাহলে তা জায়েজ নয়। বরং মসজিদের খরচের জন্য মসজিদ কমিটি সদস্যদের সম্মতিক্রমে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ স্বেচ্ছা দানের বাক্স রেখে দিতে পারে অথবা ঈদের দিন স্বাভাবিক সাদাকাহ সংগ্রহ করতে পারে।

ফাতাওয়া শামী و আল-হিদায়া তে বলা হয়েছে, মসজিদের খরচের জন্য জোর করে চাঁদা আদায় করা জায়েজ নয়, বরং তা স্বেচ্ছায় দান হিসাবেই গ্রহণযোগ্য। (রদ্দুল মুহতার, ২/৪২২)


দ্বিতীয় অংশ: কুরবানীর জবেহ বাবদ ইমাম সাহেবের টাকা গ্রহণের বিধান

(ক) ইমাম সাহেব যদি নিজে পশু জবেহ করেন, তাহলে তার জন্য জবেহের বিনিময় (মজুরি) গ্রহণ করা জায়েজ। কেননা জবেহ করা একটি দক্ষতা ও সময়ের প্রয়োজনীয় কাজ, যার বিনিময় নেওয়া শরীয়তে বৈধ। ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)–এর মতে জবেহের বিনিময় নেওয়া জায়েজ আছে। (আল-হিদায়া, ৪/৩২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ৫/৩৭৪)

(খ) কিন্তু যদি কেউ নিজে তার পশু জবেহ করে, তাহলেও ইমাম সাহেবের জন্য নির্দিষ্ট হারে টাকা প্রত্যাশা করা বা আদায় করা জায়েজ নয়

কারণ এ টাকা জবেহের কোনো বিনিময় নয়। বরং এটি একটি বিনা কারণে আদায়। তাছাড়া এতে কুরবানী আদায়কারীর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা শরীয়তে অপছন্দনীয়।

সারসংক্ষেপ ও পরামর্শ:

  1. মাথাপিছু নির্দিষ্ট চাঁদা জোরপূর্বক আদায় করা জায়েজ নয়। তবে স্বেচ্ছামূলক দান হিসাবে স্বাগত।

  2. কুরবানীর জবেহের বিনিময় শুধু তখনই বৈধ, যখন ইমাম নিজে জবেহ করেন। কিন্তু কেউ নিজে জবেহ করলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া, অথবা যে জবেহই করুক না কেন নির্দিষ্ট হারে ফি ধার্য করা জায়েজ নয়

  3. মসজিদ কমিটির উচিত এসব ক্ষেত্রে শরীয়তের সীমারেখা মেনে চলা। ইমাম সাহেবের বেতন মসজিদের সাধারণ তহবিল থেকে (স্বেচ্ছা দানের মাধ্যমে) নির্ধারণ করা যেতে পারে, এবং কুরবানীর ব্যবস্থাপনার জন্য ইমাম সাহেবকে আলাদাভাবে কিছু দেওয়া, তবে তা জবেহের বিনিময় নামে না দিয়ে খেদমতের স্বীকৃতি হিসাবে দেওয়া উত্তম।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.