স্বামী, মা, বাবা দ্বারা জুলুমের শিকার হলে করণীয় কি?
Family Life · Hanafi
Question
আমার বিয়ের আড়াই বছর। ১৯ বছর বয়সে আমার বিয়ে হয়। আমার ১ টা বাচ্চা আছে ১ বছর+ বয়স। বিয়েটা পুরো আমার মতের বিরুদ্ধে হয়। আমার স্বামীকে শুধু আমার মা,বাবা,বোনের পছন্দ ছিল তাছাড়া কেউ ই পছন্দ করেনি। আমি বিয়েতে রাজি ছিলাম না কারণ ছেলে দীনদার কি না এটা যাচাই করার কোনো সুযোগ আমাকে দেওয়া হয় নি, ছেলের আগে একবার ডিভোর্স হয়েছে, বয়সেও আমার থেকে বেশ কয়েক বছরের বড় ছিল, সৌন্দর্য তেও মিল নেই। বিয়ের সময় আমাকে মিথ্যে বলে, শারীরিক, মানষিক টর্চার এমনকি তাবিজ করে রাজি করানো হয়েছে। আমার মা বাবার দীনের তেমন কোনো বুঝ নেই যেকারনে ভয় টা আমার বেশি ছিল। বিয়ের সময় আমাকে বলা হয়েছিল ছেলে দেখতে কালো তাই ডিভোর্স হয়েছে,ভালো বেতনের চাকরি করে, আলিম পড়েছে এরপর বিএ পড়েছে,বাড়িতে পর্দার পরিবেশ আছে, দাড়ি আছে,নামাজ পড়ে, দীনদার আছে,দেনমোহর দিয়ে বিয়ে করবে ইত্যাদি। ছেলেকে না দেখে আমাকে না বলেই আমার মা বাবা বিয়ে করে ফেলে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় কারণে আমি অনেক জুলুমের শিকার হয়েছি। মা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন, আমার খরচ দিবে না, বাড়িতে থাকতে দিবে না, মেরে ফেলবে ইত্যাদি অনেক হুমকি দিয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করে রাজি হয়। আশা ছিল ছেলে হয়তো দীনদার। কিন্তু
বিয়ের পর সব সত্যি জানতে পারি। তার ডিভোর্স হয়েছিল একাধিক পরকীয়ার কারণে। এমনকি আম প্রমাণ পাই এক মেয়েকে বিয়ে করবে বলে একাধিক বার শারিরীক সম্পর্কও করে পরে তাকে বিয়ে না করে আমাকে বিয়ে করে, তাঁর ইনকাম যত বলা হয়েছিল তার অর্ধেকও টা ইনকাম ছিল না, ফরজ নামাজ ই ঠিক মত আদায় করে না, দীনের বুঝ নেই যেটুকু আছে মানে না, আমাকে দেনমোহরের কোনো টাকা দেয়নি উল্টো যৌতুকের প্রেশার দিতে থাকে আমার শাশুড়ি এবং স্বামী। এভাবে ছোট বিষয় নিয়ে আমার গায়ে হাত তুলত, নোংরা ভাষায় গালি গলাজ করত,তাঁর আগের প্রেমিকদের সাথে কথা বলত। এভাবে বিয়ের ৪/৫ মাস আমি বাবার বাড়ি গিয়ে জানাই সংসার করবো না কিন্তু আমার মা বাবা আবার আমাকে ভুল ভাল বুজিয়ে, জোর করে পাঠায়। আমিও সুযোগ দিয়ে ফিরে আসি ভেবেছিলাম হয়তো পরিবর্তন হবে। এরপর আবার মারধর,খারাপ ব্যবহার চলেই। এরমধ্যে আমি কনসিভ করি। প্রেগনেন্সি শুরুর পর থেকে আমার শাশুড়ি যৌতুকের টাকা চাইতে থাকেন,আমার নামে নানা মিথ্যে বদনাম করতে থাকেন। আমরা শহরে থাকি সেখানে আমার বাবা প্রায় ১ লাখ+ টাকার জিনিসপত্র দিয়েছেন। কিন্তু এগুলো আমার শাশুড়ি মানতে চায় না তাকে আলাদা ভাবে সব দিতে হবে এমন দাবি করেন। অন্যদিকে বাবার বাড়ি গিয়েও আমি শান্তি পাই না। আমার মা বাবার শুধু সম্মান দরকার। বাবার বাড়ি গেলে মা আমাকে আগের মতো টর্চার করে,মারধর করে,অভিশাপ দেয়, মিথ্যে অপবাদ দেয়। বাচ্চা হওয়ার পর আমার স্বামীর জুলুম বেড়ে যায় তাই ৩ মাসের বাচ্চা নিয়ে বাবার বাড়ি গিয়ে জানাই আর সংসার করবো না। এবার আমার মা বাবার জুলুম আরও বেড়ে যায়। মায়ের অভিশাপ,মারধর, খাওয়া নিয়ে খোটা,২ বার আমার গলা টিপে ধরেছিল, বাবা আমাকে বাজে বাজে কথা বলত যেমন: স্বামীর মন খুশি করা শিখতে হয়, বিয়ের ২ বছর পর মেয়েরা নষ্ট হয়ে যায়,দোষ না করলে স্বামী আমাকে কেনো মারবে, পর্দা করে চলা এখন আর চলে না, শহরের মেয়েদের স্মাট হয়ে চলতে হয় ইত্যাদি। এককথায় ওরা দিন্দারের কথা বলে আমাকে বিয়েতে রাজি করিয়েছিল ভেবেছিল পরে হয়তো এসব আমি মানাই নিবো। আমার স্বামী জানে যে আমার মা বাবা এমন যেকারনে সে আমার উপর টর্চের করার সুযোগ বেশি পেয়েছে। মারধর,বাজে ব্যবহার,ঠিক মত ভরণশন না দেওয়া,মানসিক টর্চার, কথার প্যাঁচে যৌতুক দাবি ইত্যাদি সব করত। ওনার প্রচুর অহংকার। আগে একবার ডিভোর্স হয়েছে,আমাকে ঠকিয়েছে এসব নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই, সে এমন দেখায় আরেকবার ডিভোর্স হলেও তার কিছু নেই, সে নিজের চেহারার দিকে তাকায় না যে আমি স্ত্রী হিসেবে আমার একটা ভালো লাগা আছে। এভাবে বাচ্চা নিয়ে বাবার বাড়িতে ৮ মাস থেকে আবার স্বামীর কাছে আসি। ৮ মাসে প্রথম ৪ মাস আমার,বাচ্চার কোন খরচ আমার স্বামী দেয়নি। এতকিছু হওয়ার পর আমার মা বাবা আমার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। শুধু রাগ করে কয়টা কথা বলেছিল এরপর আমার স্বামী আমার বাবার হাতধরে মাফ চাইলে তারাও সব ভুলে যায়। আমার মা বাবার মূলত সম্মান আগে। ছেলে না থাকায় তারা চাইতো জামাই তাদের দেখবে তাই আমার স্বামীকে পছন্দ করে কারণ আমার স্বামীর বাবা নেই। আমার মা বাবার ধারণা ছিল বাবা নেই,ভাই রা কেউ দেখতে পারে না হয়তো তাদের মতো করে চলবে। আবার আসার পরও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাকে না জানিয়ে আমার বাবার কাছে দের লাখ টাকা(যৌতুক) নিয়েছে। এই দের লাখ টাকা আমার বাবার হারাম আয়(ব্যাংক এর সুদ, বন্ধকী জমির ফসল বিক্রির টাকা)। এই টাকা পেয়ে আমার শাশুড়ির মুখ ও বন্ধ হয়ে গেছে এখন আর ছেলের বউয়ের নামে বদনাম করে না উল্টো সুনাম করে। আসার ২ মাসে আমাকে ২ দিন মেরেছে বাচ্চার সামনে,ঠিক মত খরচও দেয় না, আর দীনের উপর গাফিলতি আগের থেকে বেশি।
এভাবে থাকতে থাকতে আমি সবার মতো হয়ে গেছি। এখন আমার ফরজ নামাজও ঠিক মত আদায় হয় না। আইওএম এর আলিম পড়ছি সেই পড়া টাও ঠিক মত হচ্ছে না। ব্যবহার,মন মানসিকতা অনেক খারাপ হয়ে যাচ্ছে। একটুতে রাগ উঠে, বাচ্চার উপর রাগ আসে মনে হয় ওর জন্য আমি এই জাহান্নাম সংসার ছাড়তে পারছি না। স্বামী আমাকে সংসারের কোনো হিসেব দেন না,তার বেতন কত আমি আজ পর্যন্ত সেটা জানি না, আমার প্রয়োজন পূরণ করতে চান না, তার শুধু বাপের জমি নিয়ে অহংকার। তাকে দেখলে আমার রাগ উঠে আমার যে ভালো লাগার মতো বিষয় আছে এটা বুঝতে চান না। মা বাবার সাথে কথা হয়না আমার। তাঁদের জুলুমের কথা আমি ভুলতেই পারি না। কথা বলতে গেলে নানা কথা বলে কষ্ট দিবে।
আমার শুধ মনে হয় আমার জীবনটা ধ্বংসের কারণ আমার মা বাবা সাথে আমার বাচ্চাটার জীবনও শেষ। আমার স্বামীর,মা বাবার এতো এত প্রতারনা আমি আজ পযন্ত মানতে পারছি না। একটা বিয়ে নিয়ে মানুষ মুখের উপর কত কথা বলে। আমার মা বলে বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিয়েছে ইচ্ছে করে, মানুষ আমাদেরকে দেখলে বলে আমার হয়তো কোনো বড় সমস্যা ছিল তাই আমার মা বাবা আমার স্বামীর মতো ছেলের সাথে আমার বিয়ে দিয়েছে, একই বয়সী আমার খালাতো বোন পালিয়ে বিয়ে করেছে সুন্দর ছেলের সাথে এটা নিয়ে কত তুলনা হয়, আমার মা বলেন আমি কেনো পালিয়ে বিয়ে করতে পারি নাই অন্যের মতো অথচ আমার পছন্দ ছিল আমি শুধু চায়নি গার্ডিয়ান ছাড়া বিয়ে করতে। মা বাবা সেটা মানে নি। ওরাই বিয়ে দিয়ে আজ ওরাই হাত ছাড়া। আমাকে সব ছাড়তে বলে পর্দা,হালাল হারাম ইত্যাদি। আমাকে মারধর করে এটা নিয়ে ওরা কোনো কথা বলে না উল্টো বলে এরকম হয়। আড়াই বছরে ১১ বার আমি মার খেয়েছি সংসারে মার খাওয়া কি জায়েজ বিষয় এগুলো। জেনারেল পড়াশুনা করতে দেওয়ার কথা থাকলেও এখন করতে দিচ্ছে না, আইওএম এর পরাতেও বাধা পাচ্ছি। এইভাবে জীবন চলে সম্ভব? যদি বলেন স্বামীকে হেদায়েতের পথে আনা এটা বিয়ের পর থেকেই চেষ্টা করে আসছি কিন্তু কোনো উন্নতি নেই। ইচ্ছে করে আত্মহত্যা করতে কিন্তু বাচ্ছার কথা ভেবে থেমে যাই। দুনিয়া, আখিরাত সব হারায় ফেলছি। মানুষের প্রতারনা,জুলুম নেওয়ার মতো সবর করতে পারছি না। বেদ্বীন পরিবার,বেদ্বীন পরিবেশে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি। আমার এই মুহূর্তে করণীয় কি?
Answer
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ভূমিকা ও সমবেদনা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আপনার এই দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক চিঠি পড়ে অত্যন্ত দুঃখিত হলাম। আপনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যিই কঠিন। তবে মনে রাখবেন—আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে তার সামর্থ্যের বাইরে পরীক্ষা করেন না (সূরা বাকারা: ২৮৬)। আপনার এই কষ্টের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর কাছে সংরক্ষিত আছে, ইনশাআল্লাহ।
প্রথমেই একটি জরুরি সতর্কতা
আত্মহত্যা করা সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু।" (সূরা নিসা: ২৯)
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" (সহীহ বুখারী: ৫৭৭৮)
আপনার সন্তানের কথা ভেবে থেমে যান—এটি আপনার সুস্থ বিবেকের পরিচয়। আপনার সন্তানের জন্য আপনি বেঁচে থাকুন, আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
আপনার করণীয় সম্পর্কে শরীয়তের দিকনির্দেশনা
১. স্বামীর জুলুম সম্পর্কে
স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে মারধর করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"তোমরা নারীদের সাথে সদাচরণ করো।" (সহীহ মুসলিম: ১৪৬৮)
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"আর তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।" (সূরা নিসা: ১৯)
যৌতুক (দেনমোহর ছাড়া অতিরিক্ত দাবি) সম্পূর্ণ হারাম। রাসূল ﷺ বলেছেন: "যে ব্যক্তি যৌতুক দাবি করে বা দেয়, সে আল্লাহর সাথে শিরকের ন্যায় গুনাহে লিপ্ত হয়।" (মুসনাদে আহমাদ)
আপনার স্বামীর করণীয়:
- আপনার ভরণপোষণ (খাওয়া, পোশাক, বাসস্থান) দেওয়া তার ফরজ দায়িত্ব (সূরা বাকারা: ২৩৩, সূরা তালাক: ৭)
- আপনাকে প্রহার করা, গালি দেওয়া, মানসিক নির্যাতন করা সম্পূর্ণ হারাম
- আপনার সম্মতি ছাড়া আপনার সম্পদ বা পিতার সম্পদ নেওয়া হারাম
২. মা-বাবার জুলুম সম্পর্কে
পিতা-মাতার আনুগত্য করা ফরজ, তবে গুনাহের কাজে আনুগত্য করা যাবে না। রাসূল ﷺ বলেছেন:
"সৃষ্টির আনুগত্যে স্রষ্টার অবাধ্যতা করা যাবে না।" (সহীহ বুখারী, মুসলিম)
আপনার মা-বাবা আপনাকে জোরপূর্বক বিয়ে দিয়েছেন, মারধর করেছেন, অভিশাপ দিয়েছেন—এগুলো ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে তাদের সাথে সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করবেন না; দূর থেকে হলেও সদাচরণ করুন, দুআ করুন।
জোরপূর্বক বিয়ে: ইসলামে পাত্রীর সম্মতি ছাড়া বিয়ে বাতিলযোগ্য। রাসূল ﷺ বলেছেন: "কোনো নারীর বিয়ে তার সম্মতি ছাড়া সম্পন্ন হবে না।" (সহীহ মুসলিম: ১৪১৯)
তবে যেহেতু আপনি পরে রাজি হয়েছেন এবং সংসার করেছেন, তাই এখন সেই বিয়ে বহাল আছে।
৩. আপনার বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয়
ধাপ ১: সবর ও দুআ আল্লাহ বলেন: "হে ঈমানদারগণ! ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)
ধাপ ২: নামাজ ঠিক করুন আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নামাজ। ফরজ নামাজ ঠিক না হলে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। প্রথমে ৫ ওয়াক্ত নামাজ ঠিক করুন, তাহাজ্জুদ পড়ুন, আল্লাহর কাছে কাঁদুন।
ধাপ ৩: ইসলামি পরামর্শ ও মধ্যস্থতা
- একজন বিশ্বস্ত আলিম/মুফতি এর কাছে যান
- পরিবারের সম্মানিত ও দ্বীনদার লোকদের মাধ্যমে স্বামীকে বোঝানোর চেষ্টা করুন
- স্বামী না মানলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন
ধাপ ৪: স্বামী না মানলে করণীয় যদি স্বামী:
- ভরণপোষণ না দেয়
- মারধর করে
- যৌতুক দাবি করে
- দ্বীন পালনে বাধা দেয়
তাহলে আপনি শরীয়তের আদালত/মুফতির মাধ্যমে খুলআ (বিচ্ছেদ) চাইতে পারেন। ইসলামে স্ত্রীর এই অধিকার আছে।
ইবনে আবিদীন (রহ.) বলেন: "স্বামী যদি স্ত্রীর ভরণপোষণ না দেয় বা নির্যাতন করে, তাহলে কাজি (আদালত) স্বামীকে বাধ্য করবে; না মানলে বিচ্ছেদের আদেশ দেবে।" (রাদ্দুল মুহতার: ৩/৫৭২)
ধাপ ৫: মা-বাবার বিষয়ে
- তাদের সাথে দূর থেকে সম্পর্ক রাখুন
- তাদের জুলুমের কথা বারবার মনে করে নিজেকে কষ্ট দেবেন না
- তাদের জন্য দুআ করুন: "রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা"
- তাদের কাছে গিয়ে একই নির্যাতনের শিকার হবেন না; নিজেকে রক্ষা করুন
ধাপ ৬: পড়াশোনা আইওএম-এর আলিম কোর্স চালিয়ে যান। সম্ভব না হলে অনলাইনে পড়াশোনা করুন। দ্বীনি ইলম আপনার সবচেয়ে বড় সম্বল।
বিশেষ পরামর্শ
১. আত্মহত্যার চিন্তা সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন—এটি আপনার ও আপনার সন্তানের জন্য সর্বনাশ ২. নামাজ ও কুরআন তিলাওয়াত নিয়মিত করুন—এতে মানসিক শান্তি পাবেন ৩. একজন বিশ্বস্ত মুফতির সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন—আপনার বিস্তারিত অবস্থা জানিয়ে ৪. স্বামীকে হেদায়েতের চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে তার উপর নির্ভর করে নিজের জীবন নষ্ট করবেন না ৫. সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করুন—সে আপনার দায়িত্ব ৬. আপনার নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন—প্রয়োজনে আশ্রয় নিন ৭. আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন—তিনি সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থাপক
দুআ
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى
"হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত, তাকওয়া, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করি।"
اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي زَوْجِي وَأَوْلَادِي وَاجْعَلْ بَيْتِي جَنَّةً
"হে আল্লাহ! আমার স্বামী ও সন্তানদের সংশোধন করুন এবং আমার ঘরকে জান্নাত বানান।"
উপসংহার
আপনি একা নন। আল্লাহ আপনার সাথে আছেন। আপনার সবর ও দুআ আল্লাহর কাছে বৃথা যাবে না। হয় আপনার স্বামী পরিবর্তন হবে, নয়তো আল্লাহ আপনাকে উত্তম পথ দেখাবেন। আত্মহত্যা কখনোই সমাধান নয়। আপনার সন্তানের জন্য আপনি বেঁচে থাকুন, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, আত্মহত্যা এটি কোনো সমাধানের বিষয় নয়। এর জন্য নিজের দুনিয়াবী জীবন ও আখেরাতের অনন্তকালর জীবনকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেননা। এর আখেরাতে চিরস্থায়ী জাহান্নামে যেতে হবে।
কেহ যদি দুনিয়ায় যেনা করে,সেও তো তওবা করলে মাফ পাবে। কিন্তু আত্মহত্যা করলে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। সুতরাং এটি কোনোভাবেই বুদ্ধিমান ব্যাক্তির কাজ হতেই পারেনা। , অহেতুক পেরেশানী করে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না। আপনি মাস্তুরাত জামাতে গিয়ে ৪০ দিন সময় লাগিয়ে মনের তীব্র কনফিউশন থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিন। , ★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, এই দুনিয়ার কেহই আমাদের আপন নয়,শুধুমাত্র এক আল্লাহই আমাদের আপন। মায়ের পেটে থাকা অবস্থাতেও তিনি আমাদের দেখাশোনা করেছেন,কবর জগতেও তিনিই একমাত্র আপন থাকবেন।
তিনি ছাড়া কেহই আমাদের আপন নন। সুতরাং একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়,তার আদেশ পালনার্থে আত্মহত্যা করবেননা। , দুনিয়ার জিন্দেগী দাঁতে দাঁত চেপে হলেও সহ্য করুন,আখেরাতের অনন্তকাল জিন্দেগীর শান্তি কামনায়,,,।
والله أعلم بالصواب