অনার্স পড়া বাদ দিয়ে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করা কি গুনাহ?
Family Life · Hanafi
Question
আমার একাডেমিক পড়াশোনা ইন্টার পর্যন্ত ভালো লাগতো কিন্তু এখন আমার একটুও ভালো লাগেনা আমি IOM এ আলিম কোর্স এ ভর্তি আছি আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমি এখনো অনার্স এ পড়ি অনার্স ফার্স্ট ইয়ার এ কিন্তু আমার ক্লাস এ একদম ই যেতে ইচ্ছা করেনা আমার ফ্রিমিক্সিং একটুও ভালো লাগেনা। আমার ছেলেদের সামনে পর্দা করে যেতেও ভালো লাগেনা। এটা আমার কাছে এখন খুব ই জগন্য কাজ লাগে আমি এই অনার্স পড়া বাদ দিতে চাচ্ছি শুধু মাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে। বর্তমান সময় অনেক বেশি ফিত্নার সময়। আমি চাই ঘোরে বসে আল্লাহর পথে চলতে। বাইরে যাওয়া তো আমার কোনো প্রয়োনজন নেই তাহলে কেন আমি বিনা কারণে বাইরে যাবো??? আমি একদম হতাশ হয়ে যাচ্ছি একেক জনের কথা শুনে।
আচ্ছা এজ একাডেমিক পড়াশোনা না করলে কি আল্লাহ তার জীবন এ ভালো জীবন সঙ্গী দেবেননা??? আমাকে সবাই বলছে এখন না বুঝলে পরে ঠিকই বুঝা লাগবেনে আরো নানা ধরণের কথা আমাকে শুনতে হয় হোক আত্মীয় স্বজন সবার কাছেই।
কিন্তু আমি একদম শুধু মাত্র আল্লাহর সংতিষ্টির জন্যে এই পথ নেচে নিয়েছি। আমার আল্লাহ ই তো এই পথে আমাকে এনেছে আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ। আমার বিশ্বাস আল্লাহর পথে চললে সবার থেকে আমার জীবন টা সুন্দর হবে আমার স্বামী সবথেকে বেশি ভালো হবে ইং শা আল্লহ। যে যা বলে বলুক তবে খারাপ লাগে এই ভেবে আমাকে এতো ছোট করে কথা বলে আজেবাজেই কথা বলে এটার জন্যে আমার আব্বু আম্মুকেও কথা শুনতে হয়।
আমি এই পড়া একবারে বাদ দিতে চাচ্ছি এটাকে কি গুনাহ হবে??? একদম সুন্নাহ মোতাবেগ উত্তর দেবেন ইং শা আল্লাহ। আমার কবরে আমার একা যাওয়া লাগবে কেউ যাবেনা আমার সাথে।
এখন কিসে আমার গুনা হবে অবশ্যই আমাকেই ভাবতে হবে। মানুষ কেন এমন করে আমার সাথে???
আমি চাকরি করতে চাই না। আমি এই বাইরে গিয়ে ছেলে মেয়ে একসাথে এই সহশিক্ষায় থাকতে চাই না। কেউ কিছু বললে আমি কিভাবে তাদের উত্তর দেবো??? যাতে তারা বোঝে যাতে তারা আমার সাথে তর্ক না করে।
বলে এই একাডেমিক পড়াশোনা না বিয়ে হবেনা ভালো জায়গায়। এরা কি আসলেই আল্লাহর উপরে বিশ্বাস করেনা??? আমি যদি আল্লাহর খুশির জন্যে সৎ পথে চলি চরিত্র ভালো রাখি আল্লাহ অবশ্যই আমাকে একদম দ্বিনদার স্বামী দেবেন eta মাই একদম বন্ধু বিশ্বাস করি আমার আল্লাহর উপরে। একটা মানুষ কিভাবে বলে যে বিয়ে হবেনা। মুরগির পোল্টির মতো ঘরে বসে থাকা যাবেনা??? একটা ভালো মানুষ এই ধরণের কথা কিভাবে বলে??? তাদের মুখে এসবকথা কিভাবে আসে একটা মানুষকে আঘাত করার???
আমাকে ডিটেলস বলুন ইং শা আল্লহ।
আমি জানতে চাই।
Answer
উত্তর: وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
প্রশ্নকারিণী একজন দ্বীনদার ছাত্রী/শিক্ষার্থী, যিনি বর্তমানে অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছেন এবং পাশাপাশি আলিম কোর্সেও ভর্তি হয়েছেন। তিনি সহশিক্ষা (মিশ্র শিক্ষা) ও ফ্রি-মিক্সিং অপছন্দ করেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অনার্স পড়া বাদ দিতে চান। কিন্তু সমাজের মানুষ ও আত্মীয়-স্বজন তাকে নানা রকম কথা বলে নিরুৎসাহিত করছে এবং তারা বলছে, "একাডেমিক পড়াশোনা না করলে ভালো জায়গায় বিয়ে হবে না" ইত্যাদি। তিনি জানতে চান—(১) অনার্স পড়া বাদ দিলে কি গুনাহ হবে? (২) একাডেমিক পড়াশোনা না করলে কি আল্লাহ ভালো জীবনসঙ্গী দেবেন না? (৩) মানুষের এসব কথা ও আঘাতের জবাব কীভাবে দেবেন?
উত্তর সংক্ষেপে: আপনার অনার্স পড়া বাদ দেওয়া গুনাহ নয়, বরং যদি তা ফিতনা ও গুনাহের কাজ থেকে বাঁচার জন্য হয়, তবে তা সওয়াবের কাজ। দ্বীনি ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। আপনার জন্য আলিম কোর্সে থাকা অবস্থায় অনার্স বাদ দেওয়া জায়েয আছে। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া নির্ভর করে তাকওয়া ও আল্লাহর ভয়ের উপর, শুধু ডিগ্রির উপর নয়। মানুষের কথা শুনে হতাশ হবেন না। তাদের সাথে উত্তম পদ্ধতিতে কথা বলুন এবং আপনার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা বোঝান।
বিস্তারিত দলিল ও ব্যাখ্যা:
১. অনার্স পড়া বাদ দেওয়া কি গুনাহ?
ইসলামে ইলম অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে ইলম অর্জনের মাধ্যম শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়। দ্বীনি ইলম অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ "অতএব, আপনি জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।" (সূরা মুহাম্মাদ: ১৯) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ "প্রত্যেক মুসলিমের উপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ।" (ইবনে মাজাহ: ২২৪)
কিন্তু একাডেমিক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা (স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়) যদি এমন পরিবেশে হয় যেখানে ফিতনা, সহশিক্ষা, পর্দাহীনতা ইত্যাদি থাকে, তাহলে সেখানে পড়া জায়েয থাকলেও, যদি তা দ্বীনের ক্ষতির কারণ হয়, তবে তা পরিহার করা উত্তম। বিশেষ করে নারীদের জন্য ইসলাম পর্দা ও শালীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَىٰ "আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের মতো সাজসজ্জা প্রদর্শন করবে না।" (সূরা আহযাব: ৩৩)
আপনি যদি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে অনার্স বাদ দিতে চান, তবে এটি গুনাহ নয়, বরং এটি একটি সওয়াবের কাজ। কারণ, গুনাহের পরিবেশ থেকে বাঁচা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা ইবাদত। তবে খেয়াল রাখবেন, আপনি আলিম কোর্সে ভর্তি আছেন, সেখানে দ্বীনি ইলম অর্জন করছেন, যা আপনার জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। তাই অনার্স বাদ দিলে আপনি সম্পূর্ণ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না, বরং একটি উত্তম ও বরকতময় শিক্ষা গ্রহণ করছেন।
২. একাডেমিক পড়াশোনা না করলে কি আল্লাহ ভালো জীবনসঙ্গী দেবেন না?
এটি একটি ভুল ধারণা। ইসলামে ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়ার শর্ত হলো তাকওয়া ও দ্বীনদারিতা, শুধু ডিগ্রি বা চাকরি নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: إِذَا جَاءَكُمْ مَنْ تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فَأَنْكِحُوهُ "যখন তোমাদের কাছে এমন ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে, যার দ্বীন ও চরিত্র তোমরা পছন্দ কর, তখন তাকে বিয়ে করে দাও।" (তিরমিজি: ১০৮৪)
আল্লাহ তাআলা বলেন: وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَىٰ مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ ۚ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ ۗ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ "আর তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত তাদের বিয়ে দাও এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, সর্বজ্ঞ।" (সূরা নূর: ৩২)
আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। আপনি যদি দ্বীনদার ও সচ্চরিত্রা হন, তবে আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে একজন দ্বীনদার ও উত্তম স্বামী দান করবেন। এটি আপনার প্রতি আল্লাহর ওয়াদা। তাই মানুষের কথা শুনে হতাশ হবেন না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং দ্বীনের পথে অবিচল থাকুন।
৩. মানুষের কথা ও আঘাতের জবাব কীভাবে দেবেন?
মানুষের নানা রকম কথা শুনতে হয়, এটাই সমাজের রীতি। তবে আপনার কর্তব্য হলো ধৈর্য ধরা এবং উত্তম পদ্ধতিতে তাদের বোঝানো। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنًا "আর মানুষের সাথে উত্তম কথা বলো।" (সূরা বাকারা: ৮৩)
আপনি তাদের বলতে পারেন:
- "আমি একাডেমিক পড়াশোনা বাদ দিচ্ছি না, বরং আমি দ্বীনি ইলম অর্জন করছি, যা আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের জন্য কল্যাণকর।"
- "আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্লাহর উপর ভরসা রেখেছি।"
- "ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া নির্ভর করে তাকওয়ার উপর, ডিগ্রির উপর নয়। আল্লাহ যাকে চান, তার জন্য উত্তম সঙ্গী নির্ধারণ করেন।"
- "আমি ঘরে বসে থাকছি না, বরং দ্বীনি ইলম অর্জন করছি এবং নিজের চরিত্র গঠন করছি।"
তর্কে জড়াবেন না। তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলুন এবং আপনার সিদ্ধান্তে অটল থাকুন। মনে রাখবেন, মানুষের সন্তুষ্টি আল্লাহর সন্তুষ্টির বিপরীত হলে আল্লাহকেই প্রাধান্য দিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: مَنِ الْتَمَسَ مَرْضَاةَ اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ "যে ব্যক্তি মানুষের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে, আল্লাহ তার জন্য মানুষের অসন্তুষ্টি যথেষ্ট করে দেন (অর্থাৎ তাকে মানুষের অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা করেন)।" (তিরমিজি: ২৪১৪)
৪. চাকরি ও সহশিক্ষা প্রসঙ্গে:
আপনি চাকরি করতে চান না এবং সহশিক্ষা পরিবেশে থাকতে চান না, এটি আপনার জন্য প্রশংসনীয়। ইসলাম নারীদের জন্য পর্দা ও শালীনতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তবে প্রয়োজনে ঘরে বসে বা পর্দার আড়াল থেকে কাজ করা জায়েয আছে। কিন্তু যদি তাতে পর্দা লঙ্ঘন বা ফিতনার আশঙ্কা থাকে, তবে তা পরিহার করা উত্তম। আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক।
৫. মানুষের কথা শুনে হতাশ হবেন না:
আপনি বলেছেন, মানুষের কথা শুনে হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা। আল্লাহর পথে চলতে গেলে মানুষের নানা রকম কথা শুনতে হয়। ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا وَرَابِطُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ "হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা করো এবং জিহাদের জন্য প্রস্তুত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।" (সূরা আলে ইমরান: ২০০)
৬. আপনার কবরের একা যাওয়ার কথা:
আপনি ঠিকই বলেছেন, কবরে আমাদের একা যেতে হবে। কেউ আমাদের সাথে যাবে না। তাই আমাদের উচিত এমন আমল করা, যা কবরে ও আখিরাতে আমাদের কাজে দেবে। দ্বীনি ইলম অর্জন করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা এমনই একটি আমল, যা আমাদের কবরে ও আখিরাতে সাহায্য করবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثٍ: صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ، أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ، أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি জিনিস ছাড়া: চলমান সদকা, এমন ইলম যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায়, এবং সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" (মুসলিম: ১৬৩১)
আপনি দ্বীনি ইলম অর্জন করছেন, যা আপনার জন্য আখিরাতে নাজাতের উপায় হবে ইনশাআল্লাহ।
৭. মানুষের কথা শুনে আঘাত পাওয়া:
মানুষের কথা শুনে আঘাত পাওয়া স্বাভাবিক। তবে মনে রাখবেন, মানুষের কথা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ "আর তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না।" (সূরা বাকারা: ১০২)
তাই মানুষের কথায় কান না দিয়ে আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকুন।
৮. বিয়ে ও ঘরে বসে থাকা প্রসঙ্গে:
মানুষের এই কথা যে, "একাডেমিক পড়াশোনা না করলে বিয়ে হবে না" বা "মুরগির পোল্ট্রির মতো ঘরে বসে থাকা যাবেনা"—এসব কথা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন। ইসলাম নারীদের ঘরে অবস্থান করতে উৎসাহিত করেছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে, তারা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে। প্রয়োজনে তারা ঘর থেকে বের হতে পারে, তবে পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে। আর বিয়ে তো আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। আল্লাহ যাকে ভালো মনে করেন, তার জন্য ভালো সঙ্গী নির্ধারণ করেন। তাই মানুষের এসব কথা শুনে বিচলিত হবেন না।
৯. আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক:
আপনি শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অনার্স বাদ দিতে চাচ্ছেন, এটি একটি মহৎ সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا * وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ "আর যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা তার ধারণায়ও আসে না।" (সূরা তালাক: ২-৩)
আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই পথ বেছে নিয়েছেন, আল্লাহ অবশ্যই আপনার জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেবেন। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক এবং আপনি দ্বীনের পথে অবিচল থাকুন।
১০. মানুষের সাথে উত্তম ব্যবহার:
যারা আপনাকে নানা কথা বলে, তাদের সাথে রাগ না করে ধৈর্য ধরে উত্তম পদ্ধতিতে কথা বলুন। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন, কিন্তু তর্কে জড়াবেন না। যদি তারা না বোঝে, তবে চুপ থাকুন এবং আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: لَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ "তোমরা আহলে কিতাবদের সাথে উত্তম পদ্ধতি ছাড়া তর্ক করো না।" (সূরা আনকাবুত: ৪৬)
উপসংহার:
আপনার সিদ্ধান্ত সঠিক ও প্রশংসনীয়। অনার্স বাদ দেওয়া গুনাহ নয়, বরং ফিতনা থেকে বাঁচার জন্য এটি সওয়াবের কাজ। আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখুন। ভালো জীবনসঙ্গী পাওয়া নির্ভর করে তাকওয়ার উপর, ডিগ্রির উপর নয়। মানুষের কথা শুনে হতাশ হবেন না। ধৈর্য ধরুন এবং আল্লাহর পথে অবিচল থাকুন। আল্লাহ আপনার জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেবেন ইনশাআল্লাহ।