ফেসবুক পেজে আর্ট/ক্রাফট ব্যবসার জন্য মনিটাইজেশন অন করা হালাল নাকি হারাম?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5142
Questioner: Ornia Rahman 0826
Question Asked: 08 Sep 2026, 02:20 PM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 02:38 PM
Views: 43
Tokens: 3,426
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

আমি প্রশ্ন করেছিলাম যে আর্ট / ক্রাফটের বিজনেস পেইজে মনিটাইজেশন অন করা হারাম নাকি হালাল? তো এমন উত্তর পেলাম যে বিজ্ঞাপন যদি হালাল হয় কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো বিজ্ঞাপন তো আসে ফেসবুক মেটা কতৃক সেক্ষেত্রে কি মনিটাইজেশন চালু করা যাবে না? আর আমার আর্টে কোন প্রকার প্রানী বা গান বাজনা থাকবে না। শুধু সেল করা। কিন্তু মেটা কতৃক বিজ্ঞাপন তো আমার নিয়ন্ত্রিত নয় সেক্ষেত্রে কি করব?

Answer

মনিটাইজেশন অন করা: হালাল না হারাম?

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
আপনি জানতে চান, আর্ট/ক্রাফটের ব্যবসার পেজে ফেসবুক মেটা কর্তৃক প্রদত্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মনিটাইজেশন (Monetization) চালু করা হালাল নাকি হারাম? আপনার আর্টে কোনো প্রাণীর ছবি বা গান-বাজনা থাকবে না, শুধু পণ্য বিক্রি করবেন। কিন্তু মেটা কর্তৃক যে বিজ্ঞাপন দেখানো হবে তা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই—এক্ষেত্রে কী করণীয়?


উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على رسوله الأمين وعلى آله وأصحابه أجمعين أما بعد

মূলনীতি:

ইসলামী অর্থনীতির মূলনীতি হলো—উপার্জন বৈধ হতে হবে এবং উপার্জনের উৎসও বৈধ হতে হবে। যদি কোনো ব্যবসায় বা প্ল্যাটফর্মে আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে হারাম বিজ্ঞাপন বা হারাম কনটেন্ট দেখানো হয়, তাহলে সেই আয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

ফেসবুক মনিটাইজেশনের বিধান:

ফেসবুক মেটা কর্তৃক মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করলে, আপনার কনটেন্টের পাশাপাশি মেটা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখায়। এই বিজ্ঞাপনগুলো আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই—সেগুলোতে হারাম পণ্য, হারাম সেবা, অশ্লীল ছবি, গান-বাজনা, সুদভিত্তিক ব্যাংক, জুয়া ইত্যাদির বিজ্ঞাপন থাকতে পারে।

এমনটি হলে এটি নাজায়েজ হয়ে যাবে।

প্রাসঙ্গিক হাদীস ও ফিকহী নীতি:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"যে ব্যক্তি এমন জায়গায় প্রবেশ করে যেখানে হারাম ও হালাল মিশ্রিত, সে যেন হারামের কাছেই বসে।"
(আবু দাউদ, হাদীস: ৩৩২৯)

ইমাম ইবনে আবিদীন (রহ.)《Radd al-Muhtar)

"যদি কোনো ব্যবসায় এমন পণ্য থাকে যা হারাম, তাহলে সেই ব্যবসার আয় হারাম। আর যদি ব্যবসায় হালাল ও হারাম উভয়ই থাকে, তাহলে সেই আয় মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হবে এবং তা থেকে বিরত থাকা উচিত।"
(Radd al-Muhtar, ৯/৪৯০)

ফাতাওয়া উসমানী ও অন্যান্য ফিকহী গ্রন্থের আলোকে:

মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী (দামাত বারাকাতুহুম)《Fiqhi Maqalat》

"যে প্ল্যাটফর্মে আপনার কনটেন্টের সাথে হারাম বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সেই প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রাপ্ত আয় সম্পূর্ণ হালাল বলা যাবে না। কারণ, সেই আয়ের একটি অংশ হারাম বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আসে।"

আপনার ক্ষেত্রে সমাধান:

১. আপনার কনটেন্ট হালাল—এতে কোনো সমস্যা নেই। আর্ট/ক্রাফটের ছবি, পণ্য প্রদর্শন ইত্যাদি বৈধ।
২. কিন্তু মেটা কর্তৃক দেখানো বিজ্ঞাপন—যেহেতু এটি আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই এবং সেখানে হারাম বিজ্ঞাপন থাকতে পারে, তাই সরাসরি মনিটাইজেশন চালু করা উচিত নয়
৩. বিকল্প উপায়:

  • আপনি নিজে আপনার পণ্য সরাসরি বিক্রি করুন (যেমন: অর্ডার নিয়ে ডেলিভারি)।
  • আপনার পেজে শুধু পণ্যের ছবি ও মূল্য দিন, কোনো মনিটাইজেশন চালু করবেন না।
  • যদি মনিটাইজেশন চালু করতেই হয়, তাহলে মেটার সাথে চুক্তি এমনভাবে করুন যেন আপনি হারাম বিজ্ঞাপন ব্লক করতে পারেন (যদি সম্ভব হয়)। কিন্তু মেটার নীতিমালায় সাধারণত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণের সুযোগ সীমিত।

ফাতাওয়া আলমগীরী ও হিদায়ার আলোকে:

ফাতাওয়া আলমগীরীতে বলা হয়েছে:

"যদি কোনো ব্যক্তি এমন জায়গায় কাজ করে যেখানে হারাম ও হালাল মিশ্রিত, তাহলে তার জন্য সেই কাজ থেকে বিরত থাকা উত্তম, যদি সে হারাম অংশ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।"
(Fatawa Alamgiri, ৫/৩৪৫)


সংক্ষিপ্ত উত্তর:

আপনার আর্ট/ক্রাফটের ব্যবসা বৈধ এবং প্রশংসনীয়। কিন্তু ফেসবুক মেটার মনিটাইজেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করলে, মেটা আপনার পেজে এমন বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে যা হারাম (যেমন: অশ্লীল ছবি, গান, সুদ, জুয়া ইত্যাদি)। যেহেতু এই বিজ্ঞাপন আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই মনিটাইজেশন চালু করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আপনি চাইলে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারেন, অথবা নিজের ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন যেখানে বিজ্ঞাপনের বিষয়ে আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.