তালাকের অধিকার (তাফবীজ) সংক্রান্ত বিস্তারিত ফতোয়া—কাবিননামার ১৮ নং কলাম, মৌখিক তালাকের অধিকার, রাগের সময় বলা কথা, ওয়াসওয়াসা ও তালাকের সন্দেহ নিয়ে ইসলামী বিধান সম্পর্কে জানতে চাই?

Waswasa-OCD · Ahle Hadith / Salafi

Question No: 5172
Questioner: Winnwona Akter
Question Asked: 09 Sep 2026, 07:51 AM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 11:35 AM
Views: 18
Tokens: 12,436
This answer is according to the 'Ahle Hadith / Salafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

হুজুর আপনি পুরো প্রশ্ন পড়ে title এ প্লিজ আপনার ফতোয়া লিখবেন কয়েক লাইন তাহলেই আমি নিশ্চিত হব
প্রথমে আমরা পালিয়ে বিয়ে করি পরে কোর্ট ম্যারেজ ওখানে কোন কাবিননামা ছিল না ১ বছর পর যখন পরিবার নিয়ে বিয়ে হয় ইজাব কবুলের পর বা আগে নিশ্চিত না আগে না পরে কাবিননামায় যখন আমি এবং স্বামী সাইন করি ১৮ নং কি তাফবীজ কি জানতাম না আমরা বিয়ের ভিডিও দেখে নিশ্চিত হই ১৮ নং ফাকা ছিল পরে কাজী নিজে পূরণ করে। এটা ৬ মাস পর জানি তখনো কাবিননামা হাতে পাই নি জানি না কাজী কি করছে তখন তবুও স্বামীকে বললাম অধিকার ফিরিয়ে নাও সে নিল। এখানে যেহেতু স্বামী জানতো না কাজী নিজে করলো আমি কি অধিকার পাবো? পরবর্তীতে মাঝে মাঝে মৌখিক ভাবে স্বামী অধিকার দিত সাময়িক আমি অধিকার ফিরিয়ে দিতাম এতে করে কি কাবিননামায় অধিকার আবার কার্যকর হয়ে যাবে? কেননা একটা ফতোয়া দেখেছি স্বামী ইজাব কবুলের আগে কাবিননামায় সই করে তখন ওখানে ১৮ নং কলাম পূরণ থাকে তবুও স্ত্রী অধিকার পাবে না কারণ বিয়ের আগে সাইন কিন্তু বিয়ের পর মৌখিক ভাবে তালাকের অধিকার দিলে তখন কাবিননামার ১৮নং অধিকার ধর্তব্যে হবে। এটা কি আমাদের ক্ষেত্রেও হবে?
যাই হোক মৌখিক ভাবে তালাকের অধিকার বেশ কয়েকবার স্বামী দিয়েছে আমি কোনোদিনই ব্যবহার করি নাই তাই ফিরিয়ে দিতাম মাঝে মাঝে আবার জিজ্ঞেস করতাম আমার ওপর কোনো অধিকার নেই তো সেও বলত না নাই
কয়দিন আগে ঝগড়া হয় আমি বলি বাসায় কথা বলব এখানে থাকব না তখন স্বামী বলে কি চাও তালাক চাও? আমি বলি হ্যাঁ চাই, আরো বলি তালাক দেও। পরে স্বামী আমাকে মৌখিক ভাবে অধিকার দেয়নি এটা ৫০% সিউর কিন্তু তবুও ভয় লাগছে যে রাগের মাথায় অধিকার দিল কিনা ? পরে স্বামীর সাথে ঝগড়া অবস্থায় স্ত্রী বলছিল বাবাকে বলবে সব সমস্যার কথা এখানে সে থাকবে না এ জাতিয় কথা এগুলো রাগ হয়েই বলেছিল মানে এখানে থাকা অসম্ভব সে পারবেই না সে তার বাবাকে সব বলবে যাতে বাবা রাজী হয় তালাকের ব্যাপারে মানে ও বুঝায় বাবা রাজি হলেই সব সম্ভব । তখন স্বামী বলছিল বল গা কর গা maybe এসব কথায় কি অধিকার পাবে? এছাড়া স্ত্রী আরো বলছিল বাবাকে বলবে যাতে বাবা রাজী হয় তালাকের ব্যাপারে , আরো বলে সে থাকবে না সংসার করবে না এগুলো বলার সময় তার বার বার মনে হচ্ছিল সে কি তালাকের নিয়তে বলছে? মনে মনে এসব ঘুরছিল আবার সে আপনাদের একটা ফতোয়া মনে করছিল যেখানে আছে তালাকের অধিকার প্রাপ্ত স্ত্রী যদি তালাক হয়ে যাক এ নিয়তে বলে সংসার করবে না তাহলে তালাক হবে সুতরাং মোটকথা স্ত্রী উপরোক্ত সবগুলো কথা বলার সময় তার মাথায় আপনাদের ফতোয়া রাগ ওয়াস ওয়াসা সব ঘুরছিল রাগ ও কিন্তু ছিল আর সে ১ বছর ধরে ওয়াস ওয়াসা রোগী আপনাদের সাইটে এ পর্যন্ত ৫০+ প্রশ্ন তার করা নিয়মিত সেগুলো বার বার পড়ে। যাই হোক পরে আর কিছুই বাবাকে বলেনি মিলে গেছে। কিন্তু এখন মনে বার বার অন্য চিন্তা আসছে একবার ভাবছে হয়তো তালাকের নিয়ত ছিল একবার ভাবছে না ছিল না।
দয়া করে পুরো বিষয়টি পড়ে বড় একটা ডিটেইল উওর দেন

Answer

তালাকের অধিকার (তাফবীজ) সংক্রান্ত বিস্তারিত ফতোয়া

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় বোন, আপনার দীর্ঘ প্রশ্নটি আমি মনোযোগ সহকারে পড়েছি। আপনার মধ্যে ওয়াসওয়াসা (সন্দেহপ্রবণতা) রয়েছে এবং আপনি অনেক কিছু নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি ইনশাআল্লাহ কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।


প্রথম অংশ: কাবিননামার ১৮ নং কলাম ও তাফবীজে তালাক

তাফবীজে তালাক কী?

তাফবীজে তালাক অর্থ হলো—স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার অর্পণ করা। এটি ইসলামী ফিকহের একটি বৈধ বিষয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও তাঁর স্ত্রীদেরকে এখতিয়ার দিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا "হে নবী! আপনার স্ত্রীদেরকে বলুন, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা কর, তবে এসো, আমি তোমাদেরকে ভোগ-উপকরণ দেই এবং সৌন্দর্যের সাথে বিদায় করি।" (সূরা আল-আহযাব: ২৮)

আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যখন এই আয়াত নাযিল হয়, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্ত্রীদেরকে এখতিয়ার দেন—তোমরা চাইলে আমার কাছে থাকতে পারো, আর চাইলে চলে যেতে পারো। আয়েশা (রাঃ) বলেন, "আমি বললাম, আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে বেছে নিলাম।" (সহীহ বুখারী: ৪৭৮৫, সহীহ মুসলিম: ১৪৭৭)

আপনার ক্ষেত্রে ১৮ নং কলামের বিধান

আপনি বলেছেন যে, বিয়ের সময় কাবিননামার ১৮ নং কলাম ফাঁকা ছিল এবং পরে কাজী নিজে সেটি পূরণ করে দিয়েছেন। স্বামী এ সম্পর্কে জানতেন না।

এখানে মূল বিষয় হলো: তাফবীজে তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর স্পষ্ট সম্মতি ও ইচ্ছা প্রয়োজন। যদি স্বামী জানতেন না এবং তাঁর সম্মতি ছাড়া কাজী নিজে থেকে ১৮ নং কলাম পূরণ করে থাকেন, তাহলে এই শর্তটি স্বামীর পক্ষ থেকে অর্পিত হয়নি বলে গণ্য হবে।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"তালাকের অধিকার অর্পণ (তাফবীজ) স্বামীর ইচ্ছা ও সম্মতির উপর নির্ভরশীল। যদি স্বামী তা না জেনে বা না চেয়ে কেউ তার পক্ষ থেকে লিখে দেয়, তবে তা কার্যকর হবে না।"

তবে আপনার স্বামী যখন পরবর্তীতে মৌখিকভাবে আপনাকে তালাকের অধিকার দিয়েছেন (যদিও আপনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন), তখন সেটি একটি নতুন অর্পণ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু আপনি যেহেতু তা ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাই সেই অর্পণ বাতিল হয়ে গেছে।

মূলনীতি: তাফবীজে তালাকের অধিকার স্ত্রী ফিরিয়ে দিলে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে স্বামী পুনরায় দিতে পারেন।


দ্বিতীয় অংশ: ঝগড়ার সময় স্বামীর কথাগুলোর বিধান

১. স্বামীর প্রশ্ন: "তালাক চাও?"

যখন স্বামী রাগের মাথায় জিজ্ঞেস করে "তালাক চাও?"—এটি তালাকের ইকরার (ঘোষণা) নয়, বরং এটি একটি প্রশ্ন। শুধুমাত্র প্রশ্ন করলে তালাক পতিত হয় না। তবে যদি স্ত্রী "হ্যাঁ" বলে এবং স্বামী সেটি গ্রহণ করে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে, তাহলে ভিন্ন বিষয়।

২. স্বামীর কথা: "বল গা কর গা" (বল, কর)

এই কথাগুলো দ্বারা বোঝা যায় না যে স্বামী তালাক দিয়েছেন বা তালাকের অধিকার অর্পণ করেছেন। এটি ছিল ঝগড়ার সময় রাগের কথা। ইসলামী ফিকহে রাগের অবস্থায় বলা তালাকের ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা আছে।

গুরুত্বপূর্ণ নীতি: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

لَا طَلَاقَ وَلَا عِتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ "যে ব্যক্তি ক্রোধান্বিত অবস্থায় (যার কারণে তার জ্ঞান লোপ পেয়েছে) তালাক দেয় বা দাস মুক্ত করে, তা কার্যকর হবে না।" (সুনানে আবু দাউদ: ২১৯৩, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২০৪৬)

ইমাম ইবনে বায (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি রাগ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, মানুষ তার কথা ও কাজ সম্পর্কে সচেতন থাকে না, তাহলে তালাক পতিত হবে না। কিন্তু সাধারণ রাগে তালাক দিলে তা পতিত হয়।"

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, স্বামী স্পষ্টভাবে "তালাক দিলাম" বলেননি, বরং "বল গা কর গা" বলেছেন—এটি তালাকের স্পষ্ট শব্দ নয় এবং তালাকের নিয়তও ছিল না বলে প্রতীয়মান হয়।


তৃতীয় অংশ: স্ত্রীর নিজের কথাগুলোর বিধান

আপনি বলেছেন যে, ঝগড়ার সময় আপনি বলেছিলেন:

  • "বাসায় কথা বলব, এখানে থাকব না"
  • "বাবাকে বলবে সব সমস্যার কথা"
  • "সে থাকবে না, সংসার করবে না"

তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিধান

যে স্ত্রী তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত (তাফবীজে তালাক), সে যদি তালাকের নিয়তে বলে "আমি সংসার করব না" বা "আমি তালাক নিলাম"—তাহলে তালাক পতিত হবে। কিন্তু যদি সে শুধু রাগের মাথায় বলে "আমি থাকব না" বা "সংসার করব না" এবং তার নিয়ত তালাক না হয়, তাহলে তালাক পতিত হবে না।

তবে আপনার ক্ষেত্রে: আপনি কি আদৌ তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত ছিলেন? আমরা আগেই বলেছি, কাজী কর্তৃক ১৮ নং কলাম পূরণ করা স্বামীর অজান্তে হওয়ায় তা কার্যকর নয়। আর স্বামী মৌখিকভাবে যে অধিকার দিয়েছিলেন, আপনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই বর্তমানে আপনার উপর তালাকের কোনো অধিকার নেই।

শাইখ সালেহ আল-ফাওযান (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন:

"যদি স্ত্রী তালাকের অধিকারপ্রাপ্ত না হয়, তাহলে তার কথা দ্বারা তালাক পতিত হবে না। কারণ তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র স্বামীর হাতে।"

ওয়াসওয়াসার কারণে সন্দেহ

আপনি বলেছেন যে, আপনি ১ বছর ধরে ওয়াসওয়াসার রোগী এবং ৫০+ প্রশ্ন করেছেন। ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক অবস্থা, যা শয়তানের পক্ষ থেকে আসে। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"ওয়াসওয়াসা দ্বারা ইবাদত ও লেনদেনের বিধান পরিবর্তিত হয় না। ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তি যদি নিশ্চিত না হয় যে সে কী বলেছে বা কী করেছে, তাহলে মূল অবস্থার উপরই থাকবে।"

আপনি বলেছেন যে, আপনি নিশ্চিত নন যে তালাকের নিয়তে বলেছিলেন কি না। ইসলামী নীতি হলো—সন্দেহ দ্বারা নিশ্চিত বিষয় বাতিল হয় না (اليقين لا يزول بالشك)। যেহেতু আপনি নিশ্চিত নন, তাই মূল অবস্থার উপরই থাকবেন—অর্থাৎ তালাক পতিত হয়নি।


চতুর্থ অংশ: আপনার প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর

১. কাজী নিজে ১৮ নং পূরণ করায় আমি কি অধিকার পাবো?

উত্তর: না, আপনি অধিকার পাবেন না। কারণ স্বামীর জ্ঞান ও সম্মতি ছাড়া কাজী নিজে থেকে এটি পূরণ করেছেন। তাফবীজে তালাক স্বামীর ইচ্ছা ও সম্মতির উপর নির্ভরশীল।

২. স্বামী মৌখিকভাবে অধিকার দিলে এবং আমি ফিরিয়ে দিলে কি আবার কার্যকর হবে?

উত্তর: না, আপনি যখন ফিরিয়ে দিয়েছেন, তখন সেই অর্পণ বাতিল হয়ে গেছে। তবে স্বামী যদি পুনরায় নতুন করে দেন, তাহলে আবার কার্যকর হবে।

৩. ঝগড়ার সময় স্বামীর "বল গা কর গা" বলায় কি আমি অধিকার পাবো?

উত্তর: না, এটি তালাকের অধিকার অর্পণের স্পষ্ট ঘোষণা নয়। এটি ছিল রাগের কথা। তালাকের অধিকার অর্পণের জন্য স্পষ্ট ইচ্ছা ও ঘোষণা প্রয়োজন।

৪. আমার নিজের কথাগুলোতে কি তালাক পতিত হয়েছে?

উত্তর: না, তালাক পতিত হয়নি। কারণ:

  • প্রথমত, আপনার উপর তালাকের অধিকার ছিল না (যেহেতু ১৮ নং কলাম কার্যকর নয় এবং মৌখিক অধিকার আপনি ফিরিয়ে দিয়েছেন)
  • দ্বিতীয়ত, আপনি নিশ্চিত নন যে তালাকের নিয়তে বলেছিলেন কি না
  • তৃতীয়ত, আপনি স্পষ্টভাবে "তালাক নিলাম" বলেননি

পঞ্চম অংশ: ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তির উপায়

আপনি ওয়াসওয়াসার রোগী এবং বারবার তালাকের সন্দেহে ভুগছেন। এ জন্য নিম্নোক্ত পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন:

১. ওয়াসওয়াসা উপেক্ষা করুন

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

يَذْهَبُ الشَّيْطَانُ مِنَ ابْنِ آدَمَ حَتَّى يَأْتِيَهُ فَيَقُولُ: مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ مَنْ خَلَقَ كَذَا؟ حَتَّى يَقُولَ: مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ؟ فَإِذَا بَلَغَهُ فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ وَلْيَنْتَهِ "শয়তান মানুষের কাছে এসে বলে, এটা কে সৃষ্টি করল? ওটা কে সৃষ্টি করল? এমনকি বলে, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করল? যখন এমন অবস্থা হয়, তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এ চিন্তা বন্ধ করে।" (সহীহ বুখারী: ৩২৭৭, সহীহ মুসলিম: ১৩৪)

২. সন্দেহকে গুরুত্ব দেবেন না

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

"ওয়াসওয়াসাগ্রস্ত ব্যক্তি যত বেশি ওয়াসওয়াসাকে গুরুত্ব দেবে, তত বেশি বাড়তে থাকবে। আর যখন সে তা উপেক্ষা করবে এবং আল্লাহর উপর ভরসা করবে, তখন তা দূর হয়ে যাবে।"

৩. তালাকের চিন্তা বাদ দিন

যেহেতু আপনার তালাক পতিত হওয়ার কোনো বৈধ কারণ নেই, তাই এই চিন্তা সম্পূর্ণরূপে বাদ দিন। শয়তান চায় আপনি এ নিয়ে ভাবতে থাকুন এবং আপনার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠুক।

৪. চিকিৎসা নিন

ওয়াসওয়াসা একটি মানসিক রোগ। এর জন্য আপনি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। ইসলামী দৃষ্টিতে রোগের চিকিৎসা করা জায়েয।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

আপনার তালাক পতিত হয়নি। আপনার বিবাহ বৈধ ও বহাল রয়েছে। আপনার উপর তালাকের কোনো প্রভাব পড়েনি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন এবং এ বিষয়ে আর চিন্তা করবেন না।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا "আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।" (সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬)

আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:

إِنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي مَا حَدَّثَتْ بِهِ أَنْفُسَهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَتَكَلَّمْ "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের কথা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কাজে পরিণত করে বা কথা বলে।" (সহীহ বুখারী: ৫২৬৯, সহীহ মুসলিম: ১২৭)


আল্লাহই সর্বজ্ঞ। যদি আপনার আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তবে ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচতে এই বিষয়ে আর বারবার প্রশ্ন না করাই উত্তম। আল্লাহ আপনাকে ওয়াসওয়াসা থেকে মুক্তি দিন এবং আপনার সংসারে বরকত দান করুন। আমীন।



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.