halal ki?

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5169
Questioner: Tasnim Fariya
Question Asked: 09 Sep 2026, 02:54 AM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 03:40 AM
Views: 7
Tokens: 4,211
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

amr sobsomoy amr ja valo ache+ amr husband k sob kichu social site e show off korte iccha kore...tar sathe song lagiye...story/day dite iccha kore facebook e....ami jani etai nojor lage, barakah kome jai....tobuo sobaike dekhate iccha...kore...er thek kivabe ber hobo

Answer

উত্তর প্রদানে সম্মানিত মুফতী সাহেবগণের নিকট নিবেদন:
আমি একজন সাধারণ মুসলিম মহিলা। আমার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আছে। দয়া করে কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিস্তারিত উত্তর দিলে উপকৃত হব।


প্রশ্নের বিবরণ:

আমার সবসময় ইচ্ছা করে যে, আমার যা কিছু ভালো আছে (সুন্দর জিনিস, ভালো মুহূর্ত, স্বামীর সাথে সময় কাটানো ইত্যাদি) এবং আমার স্বামীকে (তার ছবি, আমাদের সম্পর্ক ইত্যাদি) সবকিছু সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম) স্টোরি/ডে দিয়ে সবাইকে দেখাই। আমি জানি এতে নজর লাগতে পারে এবং বরকত কমে যায়। তবুও আমার ভিতর থেকে সবাইকে দেখানোর প্রবল ইচ্ছা জাগে। এই খারাপ অভ্যাস থেকে আমি কীভাবে মুক্তি পাব?


উত্তর:

بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين

প্রিয় বোন, আপনার প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত। আপনি নিজেই বুঝতে পেরেছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত সুখ-শান্তি ও স্বামীর ছবি ইত্যাদি প্রদর্শন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সমস্যাযুক্ত এবং এর ফলে নজর লাগা ও বরকত কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আপনার এই আত্মসচেতনতাই আপনার ঈমানের আলামত। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে হেদায়েত দান করুন।

আসুন, আমরা কুরআন-হাদিস ও হানাফি ফিকহের আলোকে বিষয়টি বুঝার চেষ্টা করি এবং এর প্রতিকার জানি।

১. কেন এটি সমস্যাযুক্ত?

ক. প্রদর্শনী (রিয়া) ও অহংকারের আশঙ্কা:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"তারা লোক দেখানোর জন্য দান করে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে না।" (সূরা আন-নিসা: ৩৮)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য কোনো আমল করবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার আমলকে লোকের সামনে প্রকাশ করে দেবেন এবং তাকে লাঞ্ছিত করবেন।" (সহিহ মুসলিম: ২৯৮৭)
আপনার ভালো জিনিস বা সুখী মুহূর্তগুলো শেয়ার করার মূল উদ্দেশ্য যদি হয় মানুষের প্রশংসা কামনা বা নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো, তবে তা রিয়া (লোক দেখানো) এর অন্তর্ভুক্ত হবে, যা শিরকের একটি লুকানো রূপ। (মেশকাত, হাদিস নং ৫৩০৫)

খ. নারীর সতর ও পর্দার বিধান লঙ্ঘন:
হানাফি ফিকহের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ আল-হিদায়াহরদ্দুল মুহতার-এ স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, নারীর জন্য অপরিচিত (গায়রে মাহরাম) পুরুষের সামনে নিজের সৌন্দর্য, ছবি বা ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা সম্পূর্ণ হারাম।
রদ্দুল মুহতারে বলা হয়েছে:

"নারীদের জন্য গায়রে মাহরাম পুরুষের সামনে নিজের চেহারা ও হাত ছাড়া অন্য অংশ ঢেকে রাখা ফরজ। আর ফিতনার আশঙ্কা থাকলে চেহারা ও হাতও ঢেকে রাখা ওয়াজিব।" (রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০)
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করলে তা অসংখ্য অপরিচিত পুরুষ দেখতে পায়, যা পর্দার বিধানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এমনকি আপনার স্বামীর ছবি পোস্ট করলেও তাতে আপনার ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ পায়, যা নিরাপত্তাহীনতা ও ফিতনার কারণ হতে পারে।

গ. নজর লাগা ও বরকত কমে যাওয়ার বাস্তবতা:
আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, এতে নজর লাগে এবং বরকত কমে যায়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"তোমরা নিজেদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও জীবনের ঝুঁকি থেকে বাঁচাতে নজর লাগার বিষয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৫১১)
অধিকাংশ মুফাসসির ও ফকিহগণ বলেন, নজর লাগা সত্য এবং এর প্রভাব বাস্তব। (ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫৬)
আপনার সুখ, ভালোবাসা ও সম্পদকে যখন আপনি সবার সামনে উন্মুক্ত করে দেন, তখন অনেকে হিংসা বা ঈর্ষার চোখে দেখে, ফলে আপনার জীবনে অশান্তি ও বরকতের অভাব দেখা দেয়।

ঘ. স্বামীর সাথে সম্পর্কের ক্ষতি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীর ছবি বা ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করলে অনেক সময় অন্যের মন্তব্য বা নজর আপনার সম্পর্কের মধ্যে সন্দেহ ও অশান্তি তৈরি করতে পারে। ইসলামে দাম্পত্য জীবনকে অত্যন্ত পবিত্র ও গোপনীয় বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে খারাপ মানুষ সেই, যে তার স্ত্রীর সাথে সহবাসের গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে দেয়।" (সহিহ মুসলিম: ১৪৩৭)
যদিও এটি সরাসরি সহবাসের কথা, তবে এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা।


২. এই খারাপ অভ্যাস থেকে মুক্তির উপায়:

ক. তাওবা ও ইস্তিগফার:
প্রথমেই আপনাকে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো, খাঁটি তাওবা।" (সূরা আত-তাহরিম: ৮)
যতবারই মনে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু পোস্ট করার ইচ্ছা জাগছে, তখনই "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।

খ. নিয়ত সংশোধন করুন:
যদি কোনো ভালো জিনিস বা মুহূর্ত শেয়ার করতেই হয়, তবে নিয়ত করুন যে, আমি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, যাতে অন্যরাও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। তবে মনে রাখবেন, নিয়ত যতই ভালো হোক, নারীর জন্য ছবি পোস্ট করা এবং অপরিচিত পুরুষের সামনে নিজেকে প্রকাশ করা জায়েয নয়। তাই ছবি পোস্ট না করে, কোনো ভালো কথা বা ইসলামিক পোস্ট শেয়ার করতে পারেন।

গ. সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত করুন:

  • ফেসবুক/ইনস্টাগ্রামের অ্যাপটি ফোন থেকে ডিলিট করে দিন অথবা নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন।
  • দিনে নির্দিষ্ট সময় (যেমন: ১৫ মিনিট) শুধু প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করুন।
  • ফাতাওয়া উসমানি (২/৪৫৬) তে এসেছে, অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট করা এবং গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য।

ঘ. স্বামীর সাথে কথা বলুন:
আপনার স্বামীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলুন যে, আমাদের ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা উচিত নয়। ইসলামে পর্দা ও গোপনীয়তার গুরুত্ব অপরিসীম। যদি স্বামী নিজেও পোস্ট দিতে ভালোবাসেন, তবে তাকে কোমলভাবে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝান। হাদিসে আছে:

"তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।" (তিরমিজি: ১১৬২)
তাই ধৈর্য ও ভালোবাসার সাথে বুঝিয়ে বলুন।

ঙ. ভালো কাজে মনোযোগ দিন:
যে সময়গুলোতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিতেন, সেগুলোতে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, বা স্বামীর সাথে সময় কাটান। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করবে, আল্লাহ তাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।" (মুসনাদ আহমাদ: ২৩০৯৯)

চ. নজর ও বরকতের জন্য দোয়া:
আপনার ভালো জিনিস বা সম্পর্ককে হিংসা থেকে বাঁচাতে নিম্নের দোয়াটি পড়ুন:

"মা শা আল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ" (যা আল্লাহ চান, আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো শক্তি নেই)
এবং নিজের পরিবার ও সম্পদের জন্য বলুন:
"আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফিহি ওয়া আত'imna খাইরান মিনহু" (হে আল্লাহ! এতে আমাদের জন্য বরকত দিন এবং এর চেয়ে উত্তম আমাদের দান করুন।)


৩. কুরআন-হাদিসের নির্দেশনা:

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

"আর তোমরা নিজেদের হাত দ্বারা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।" (সূরা আল-বাকারা: ১৯৫)
তাফসিরে মা'আরিফুল কুরআনে (১/৪৮৯) মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) লিখেছেন, এই আয়াতের ব্যাপক অর্থ হলো, যে কাজই ব্যক্তির দুনিয়া বা আখিরাতের ক্ষতির কারণ হয়, তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত জীবন প্রকাশ করা আপনার দুনিয়া (দাম্পত্য শান্তি) এবং আখিরাত (গুনাহ) উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" (সহিহ বুখারি: ৬০১৮)
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেওয়াও এক ধরনের কথা বলা। যদি তা ভালো না হয়, তবে চুপ থাকা (পোস্ট না দেওয়া) উত্তম।


৪. একটি গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ:

প্রিয় বোন, মনে রাখবেন, সত্যিকারের সুখ ও শান্তি আল্লাহর স্মরণে এবং শরীয়তের বিধান মেনে চলার মধ্যে নিহিত। আপনার স্বামী ও ভালো জিনিসগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ আমানত। এই আমানতকে সবার সামনে উন্মুক্ত না করে, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে গোপন রাখাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ। এতে আপনার জীবনে বরকত আসবে এবং নজর লাগার আশঙ্কাও কমবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।


রেফারেন্স:
১. আল-কুরআন (সূরা আন-নিসা: ৩৮, সূরা আল-বাকারা: ১৯৫, সূরা আত-তাহরিম: ৮)
২. সহিহ বুখারি: ৬০১৮
৩. সহিহ মুসলিম: ২৯৮৭, ১৪৩৭
৪. সুনানে ইবনে মাজাহ: ৩৫১১
৫. সুনানে তিরমিজি: ১১৬২
৬. রদ্দুল মুহতার, ৬/৩৭০
৭. আল-হিদায়াহ, ২/৩৩০
৮. ফাতাওয়া উসমানি, ২/৪৫৬
৯. মা'আরিফুল কুরআন, ১/৪৮৯
১০. বেহেশতী জেওর, ১/১০৫-১১০



This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.