- সাদাস্রাবের সমস্যা, এখন প্রতি ওয়াক্তে কি লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করা লাগবে?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5168
Questioner: TT
Question Asked: 09 Sep 2026, 01:41 AM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 03:43 AM
Views: 6
Tokens: 2,250
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

সাদাস্রাবের সমস্যা আছে।প্রতি ওয়াক্তে কি লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করা লাগবে?
অনেকসময় বাহিরে থাকলে টয়লেটে যাওয়া সম্ভব হয়না সেক্ষেত্রে কি করণীয়

Answer

সাদাস্রাব (প্রস্রাবের অসংযম) সংক্রান্ত মাসআলা

প্রশ্নের উত্তর

সাদাস্রাব (সালাস বা প্রস্রাবের অসংযম) এমন একটি অবস্থা যেখানে প্রস্রাবের ফোঁটা অনবরত বের হতে থাকে বা বের হওয়া বন্ধ হয় না। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় একে মা'যুর (ওযরগ্রস্ত) বলা হয়।

মা'যুরের বিধান

যে ব্যক্তির এমন অবস্থা হয় যে, কোনো একটি ওয়াক্তের পুরো সময় জুড়ে তার থেকে বিনা ইচ্ছায় প্রস্রাব বের হতে থাকে, অথবা এত বেশি হয় যে, অজু করে নামায পড়া সম্ভব হয় না, তবে সে মা'যুর হিসেবে গণ্য হবে।

মা'যুর ব্যক্তির জন্য বিধান:

  1. প্রতি ওয়াক্তের জন্য নতুন অজু করা - মা'যুর ব্যক্তিকে প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে। তবে একটি ওয়াক্তের মধ্যে একাধিক নামায (ফরয, সুন্নত, নফল) পড়লে একই অজু দিয়ে পড়তে পারবে।

  2. অজু করার পর যতটুকু সম্ভব নাপাকি থেকে বাঁচতে চেষ্টা করা - অজু করার পর কাপড় বা শরীরে যেন নাপাকি না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখা। তবে যদি অল্প পরিমাণ নাপাকি লেগেও যায়, তাতে নামায ফাসিদ হবে না।

  3. অজু করার সময় - প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের সময় হওয়ার পর অজু করতে হবে। সময় হওয়ার আগে অজু করলে সেই অজু দিয়ে নামায পড়া জায়েয হবে না।

আপনার প্রশ্নের সরাসরি উত্তর:

প্রতি ওয়াক্তে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে অজু করা লাগবে কি?

  • হ্যাঁ, যদি আপনি সত্যিই মা'যুর হন (অর্থাৎ কোনো একটি ওয়াক্তের পুরো সময় জুড়ে বা অধিকাংশ সময় প্রস্রাব বের হতে থাকে), তবে প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য অজু করা আবশ্যক। তবে লজ্জাস্থান ধোয়া প্রত্যেক ওয়াক্তে ফরয নয়, বরং অজুর সময় লজ্জাস্থান পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। যদি অজু করার পর প্রস্রাবের ফোঁটা বের হয়, তবে তা মাফ।

বাইরে থাকলে টয়লেটে যাওয়া সম্ভব না হলে কী করণীয়?

  • যদি আপনি মা'যুর হন এবং বাইরে থাকেন, তাহলে টয়লেটে না গিয়েই অজু করতে পারেন। অজুর জন্য টয়লেটে যাওয়া জরুরি নয়। পানি দিয়ে অজু করে নিন। যদি পানি পাওয়া না যায়, তবে তায়াম্মুম করার বিধান নেই, কারণ এখানে পানি ব্যবহারে অক্ষমতা নেই, বরং টয়লেটে যাওয়ার অসুবিধা আছে। তাই অজুর সময় লজ্জাস্থান ধোয়ার প্রয়োজন না থাকলে সরাসরি অজু করে নিন।

গুরুত্বপূর্ণ শর্ত:

মা'যুর হওয়ার শর্ত হলো:

  • কোনো একটি ওয়াক্তের (যেমন: যোহরের) পুরো সময় জুড়ে বা অধিকাংশ সময় নাপাকি বের হতে থাকা।
  • যদি মাঝে মাঝে বন্ধ থাকে এবং এমন সময় পাওয়া যায় যখন অজু করে নামায পড়া যায়, তবে সে মা'যুর নয়।

দলিল:

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

"মা'যুর ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্তের জন্য অজু করবে এবং সেই অজু দিয়েই নামায পড়বে, যদিও তার থেকে নাপাকি বের হতে থাকে।"

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ৩০৭; সুনানে তিরমিযী, হাদীস: ১৪২)

ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর মতে, মা'যুর ব্যক্তির জন্য প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাযের সময় হওয়ার পর অজু করা এবং সেই অজু দিয়ে ফরয নামায পড়া আবশ্যক। (বাদায়েউস সানায়ে, ১/৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৪২)

ব্যবহারিক সমাধান:

১. বাইরে থাকার সময় একটি ছোট বোতলে পানি সাথে রাখুন। ২. অজু করার সময় লজ্জাস্থান না ধুয়েও অজু করা যাবে, কারণ অজুতে লজ্জাস্থান ধোয়া ফরয নয়। ৩. অজুর পর একটি প্যাড বা কাপড় ব্যবহার করুন যাতে কাপড়ে নাপাকি না লাগে। ৪. নামাযের সময় হওয়ার পর অজু করে দ্রুত নামায পড়ে নিন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.