পরিবারের সাথে সম্পর্ক ও ধৈর্য্য সম্পর্কে ইসলামী দিকনির্দেশনা।

Halal and Haram · Hanafi

Question No: 5160
Questioner: Shifa Rahman
Question Asked: 08 Sep 2026, 11:11 PM
Reviewed & Published: 09 Sep 2026, 12:39 AM
Views: 18
Tokens: 2,994
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

পরিবারের সবার আমাকে অপছন্দ করে,,আমাকে দাম কম দেয়,,ছোট করে এই জন্য আমিও রেগে যাই,, অনেক ঝামেলা হয়,,আমি একজন মেয়ে।আমার বয়স ২৭। আমার বিয়ে হচ্ছে না।বাড়ি থেকে চায় আমি এতো পর্দা না করি জব করতে বলে,,,আমার বিয়েও সহজে হবে না কারণ আমার শ্বেতি রোগ আছে।পরিবারে দ্বিন মানতে কষ্ট হয়,,মাদ্রাসায় ক্লাস করা পছন্দ করে না,,,তিলাওয়াত, আমাকে যত ভাবে সম্ভব ছোট করে আমার পরিবারের লোকজন। এই অবস্থায় আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়া যাবে?আমার যাওয়ার জায়গা নাই।

Answer

পরিবারের সাথে সম্পর্ক ও ধৈর্য্য সম্পর্কে ইসলামী দিকনির্দেশনা

উত্তর:

প্রিয় বোন, আপনার কষ্টের কথা শুনে আমরা খুবই ব্যথিত। আপনার পরিস্থিতি সত্যিই কঠিন। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানিয়ে দিচ্ছি:

১. পরিবার থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিধান:

আপনার বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার যাওয়ার জায়গা নেই। ইসলামী দৃষ্টিতে, নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে ঘর থেকে বের হওয়া উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"মুসলিম ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে ধৈর্য্য ধারণ করবে এবং তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে।" (মুসনাদ আহমাদ)

২. পর্দা ও চাকরির বিষয়ে:

আপনার পরিবার যদি আপনাকে পর্দা না করার জন্য চাপ দেয়, তবে মনে রাখবেন—আল্লাহর নির্দেশ পালন করা সবার আগে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আর আপনি মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।" (সূরা নূর: ৩১)

তবে বের হওয়ার প্রয়োজন হলে শরয়ী পর্দা (পুরো শরীর ঢেকে রাখা, সৌন্দর্য প্রকাশ না করা) মেনে চলতে হবে। ফাতাওয়া উসমানী এবং ইমদাদুল ফাতাওয়ায় উল্লেখ আছে যে, প্রয়োজনে নারীরা পর্দার সাথে কাজ করতে পারেন, তবে তা নিরাপদ ও শরয়ী পরিবেশে হতে হবে।

৩. শ্বেতী রোগ ও বিয়ে:

শ্বেতী রোগ কোনো অপবিত্রতা নয়, এটি একটি শারীরিক অবস্থা মাত্র। ইসলামে এটাকে দোষণীয় কিছু মনে করা হয় না। ধৈর্য্য ধারণ করলে এর জন্য সওয়াব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" (সূরা বাকারা: ১৫৩)

৪. পরিবারের সাথে আচরণ:

পরিবারের লোকজন আপনাকে ছোট করলেও আপনার কর্তব্য হলো তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করা এবং ধৈর্য্য ধরা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।" (বুখারী ও মুসলিম)

৫. ব্যবহারিক পরামর্শ:

১. ধৈর্য্য ধারণ করুন - এটি একটি পরীক্ষা, আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন। ২. নামায ও দুআতে মনোযোগী হোন - আল্লাহর কাছে সাহায্য চান। ৩. মাদরাসার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাথে পরামর্শ করুন - যিনি আপনার অবস্থা বুঝতে পারবেন। ৪. নিরাপদ বিকল্প না থাকা পর্যন্ত ঘর ছেড়ে যাবেন না - তবে চেষ্টা করুন নিজের জন্য একটি নিরাপদ ও শরয়ী পরিবেশ তৈরি করার। ৫. বিয়ের জন্য দুআ করুন - আল্লাহর কাছে ভালো জীবনসঙ্গী প্রার্থনা করুন।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

"আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে বোঝা চাপান না।" (সূরা বাকারা: ২৮৬)

আপনার জন্য দুআ রইল যে, আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য্য ধারণের তাওফীক দান করুন এবং আপনার অবস্থার উন্নতি করুন। আমীন।


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.