শরীর চুলকানো ফলে কিছুক্ষণ পর স্বচ্ছ তরল বের হয়, তা কি নাপাক?

Taharah Purity · Hanafi

Question No: 5144
Questioner: sajjatul Islam
Question Asked: 08 Sep 2026, 02:37 PM
Reviewed & Published: 08 Sep 2026, 07:03 PM
Views: 19
Tokens: 2,182
This answer is according to the 'Hanafi' school of thought.
This answer was reviewed and published by .

Question

শরীর চুলকানো ফলে কিছুক্ষণ পর স্বচ্ছ তরল বের হয়েছিল যা গড়িয়ে পড়েনি গোসল শেষে সাথে সাথে আমি গামছা দিয়ে মুছে ফেলি এবং সেই গামছা দিয়েই না ধুয়ে আমি পুরো শরীর মুছে ফেলে এখন আমার শরীর বা কাপড় কি নাপাক হয়েছে

Answer

উত্তর

প্রশ্নের সারসংক্ষেপ:
আপনি গোসল করেছেন। গোসলের পর শরীর চুলকানোর কারণে কিছুক্ষণ পর স্বচ্ছ তরল (মযী) বের হয়েছে যা গড়িয়ে পড়েনি। আপনি সাথে সাথে গামছা দিয়ে মুছে ফেলেছেন এবং সেই গামছা দিয়েই না ধুয়ে পুরো শরীর মুছে ফেলেছেন। এখন জানতে চান, আপনার শরীর বা কাপড় নাপাক হয়েছে কি না?


উত্তর:

আপনার শরীর চুলকানোর ফলে নির্গত স্বচ্ছ তরলটি যেহেতু গড়িয়ে পড়েনি, সেহেতু আপনার শরীর বা কাপড় নাপাক হয়নি; বরং তা সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রয়েছে।

১. তরলটি পবিত্র হওয়ার কারণ: হানাফী ফিকহের অকাট্য মূলনীতি হলো—শরীর থেকে নির্গত রক্ত, পুঁজ বা এ জাতীয় কোনো স্বচ্ছ তরল তখনই নাপাক (নাজাসাত) হিসেবে গণ্য হয় এবং ওযু ভঙ্গ করে, যখন তা নিজ স্থান থেকে প্রবাহিত হয়ে বা গড়িয়ে ক্ষতস্থানের মুখ অতিক্রম করে । যেহেতু আপনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তরলটি গড়িয়ে পড়েনি, সেহেতু শরীয়তের দৃষ্টিতে তা নাপাক নয় বরং পবিত্র ।

২. গামছা ও শরীরের হুকুম: যেহেতু নির্গত তরলটি পবিত্র ছিল, সেহেতু সেটি মোছার কারণে আপনার ব্যবহৃত গামছাটি নাপাক হয়নি। আর নাপাক নয় এমন গামছা দিয়ে পুরো শরীর মোছার ফলে আপনার শরীর বা কাপড় নাপাক হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।

৩. ফিকহী দলীল: ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন ক্ষতস্থান থেকে সামান্য পরিমাণ তরল বের হয় এবং তা মুছে ফেলা হয়, তখন যদি ঐ তরল নিজ অবস্থায় ছেড়ে দিলে গড়িয়ে পড়ার মতো না হয়, তবে তা দ্বারা পবিত্রতা নষ্ট হয় না। সুতরাং আপনার শরীর এবং কাপড় উভয়ই পবিত্র এবং আপনার গোসল ও নামায সম্পূর্ণরূপে সহীহ আছে ।

সূত্র (কিতাব ও পৃষ্ঠা নম্বর):

  • দরসুল ফিকহ (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ৩৮৪-৩৮৫।
  • দরসুল ফিকহ (২য় খণ্ড): পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫ এবং ৮৪-৮৫।
  • ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী (১ম খণ্ড): পৃষ্ঠা ১১।
  • নূরুল ঈযাহ: পৃষ্ঠা ৩২।

والله أعلم بالصواب


This site is protected by reCAPTCHA and the Google Privacy Policy and Terms of Service apply.